মরসুমী ফুল

জাঁকালো ঠাণ্ডায় উষ্ণতার ঠিকানা এখন ওয়েলিংটন স্কোয়ার!

 

“এই যে শীতের আলো শিহরিছে বনে, শিরীষের পাতাগুলি ঝরিছে পবনে, তোমার আমার মন খেলিতেছে সারাক্ষণ এই ছায়া-অলোকের আকুল কম্পনে, এই শীত-মধ্যাহ্নের মর্মরিত বনে।” গরমে হাঁসফাঁস করার অধ্যায় শেষে একটু শীতের আমেজ পেতে হা-পিত্যেস করে বসে থাকে এই বাংলার মানুষজন। অবশেষে উত্তুরে হাওয়ায় পারদ নামার দোসর হয়ে আসে শীত। কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে শুরু হয় সকাল। ঘাসে ঘাসে,পাতায় পাতায় শিশির কণার উপস্থিতি। ঠান্ডায় জবুথবু গোটা বঙ্গ। এই ঠান্ডার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ে গরম পোশাক কেনার হিড়িক। ডিসেম্বর এলেই কলকাতার ওয়েলিংটন স্কোয়ারে একটি মেলা জমে ওঠে। আর এটা হয়তো বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই মেলা গরম শীত পোশাকের।

 

নেপাল, ভুটান বা বিহার থেকে আসা ব্যাবসায়ীরা সোয়েটার, উলের চাদর, শাল, জ্যাকেট, মাফলার, মাংকি টুপি সহ রঙ- বেরঙের রকমারি গরম পোশাকের পসরা দিয়ে সাজান ছোট দোকানগুলি। অবশ্য বিক্রি ও চাহিদার নিরিখে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই মহিলাদের শ্রাগ, পশমের টপ, কল্কা আঁকা বা চেক প্রিন্টের চাদর, স্টোল, লং স্যুট। বাচ্চাদের মন জয় করতে উপস্থিত জ্যাকেট স্যুট, উলের পোশাক এবং ঠাণ্ডার হাত থেকে মাথা বাঁচানোর টুপি। গোটা ডিসেম্বর-জানুয়ারী জুড়েই শীত বস্ত্রের সন্ধানে উপচে পড়া ভিড়ের দেখা মেলে। আবালবৃদ্ধবনিতা সকলের মনের মত শীত বস্ত্রের চাহিদা মেটে সেখানে।

 

১৭৫-৬৫০ টাকার মধ্যে পাবেন আপনার মনের মত গরম পোশাকগুলি। আবার একটু বেশি দামের গরম পোশাকের খোঁজ করলে তারও সন্ধান মিলবে। বিহার থেকে আসা মহম্মদ রহমাতুল্লা জানালেন, ১০০০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকা রেঞ্জের মধ্যে মিলবে ব্ল্যাঙ্কেট। সুদূর নেপাল থেকে এসেছেন বিনয় থাপা। তার দোকান ঘুরে জানা গেল ৩২০ টাকা আপনার পকেটের রেস্ত থাকলেই কিনতে পারবেন বাহারি শাল। ভুটানি জিগমে ওয়াগডুর দোকানেও ঢুঁ মারতে পারেন। তবে খরচ একটু বেশিই পড়বে। তিনি জানালেন তার দোকানে যে কোনও ধরণের শীতপোশাকের রেঞ্জই শুরু হচ্ছে ৪৫০ টাকা থেকে।

 

তবে একটা কথা পরিষ্কার, আপনার আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী সব ধরণের চাহিদা মেটানোর ক্ষমতা এই অস্থায়ী তিন মাসের বাজারের রয়েছে। তাই এই হাড়কাঁপানো শীতে গায়ে গরমের সান্নিধ্য পেতে আপনাকে আসতেই হবে ওয়েলিংটন স্কোয়ারের এই গরম পোশাকের মেলায়।

Promotion