Edu-Tech-Trade

কেন দরকার আপনার সন্তানের কেরিয়ার কাউন্সেলিং? জেনে নিন!

 

কলমে আব্দুল হাই

আজকাল দেখা যায় মাধ্যমিকে একটু ভাল রেজাল্ট করতে পারলেই ছাত্রছাত্রীদের একাদশ শ্রেণীতে সায়েন্স পড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ পরবর্তী টার্গেট ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার। এই ধারণা একেবারেই সঠিক নয়। কারণ এই সময় যা স্থির করা হবে তাই সারা জীবনের সঙ্গী হবে। জোর করে কেউ সায়েন্স নিয়ে নিল, তার কিছু দিন পর গণিত আর বিজ্ঞানের রস হারিয়ে ফেললে তখন? তাই সাধু সাবধান! প্রতি বছর কতোই না ছেলেমেয়ে আইআইটি, মেডিকেল না পেয়ে আত্মহত্যা করছে। নামী দামী কলেজে ভর্তি হয়ে বিষয়ে আগ্রহ না থাকায় ক্লাসে ফেল করছে বা কোনও ক্রমে পাশ করছে। কেউ কেউ আবার সোনার হরিণ ধরার জন্য মরণপণ করে বছরের পর বছর কোটা বা দিল্লিতে নরক যন্ত্রণা ভোগ করছে। অথচ হয়তো এরা অনেক ভাল কবিতা লিখতে পারে, কেউ ভালো গান করতে পারে। কেউ বা হাজার জনের টিম লিডার হওয়ার ক্ষমতা রাখে। এগুলো নিছক গল্প নয়, আমার চোখে দেখা।

আরও পড়ুন

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের রূপকথার জগৎ বেঙ্গল ওয়েব সলিউশনের হাত ধরে এবার শ্রীরামপুরে

যেদিকে পড়ুয়ার প্রকৃত আকর্ষণ আছে সেদিকটি ভেবে চিন্তে তবেই বিষয় স্থির করা উচিৎ। সব সময় কোটিপতি হতে হবে এমন কোনও মানে নেই। দুনিয়াতে খুব বেশি টাকা না থাকলেও মানুষ বেঁচে থাকে। কিন্তু জীবনে সুখ না থাকলে তা মৃত্যুরও অধম। আর এই সুখের চাবিকাঠি নিজের কাজে মজা পাওয়া। আজ দুনিয়ার ৪৫% বা তার বেশি মানুষ নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেরিয়ারে উন্নতি করতে চাইলে শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যাই নয়। নিজের প্রবণতাকে অনুসরণ করা দরকার। কোন কাজই আসলে ছোট নয়। জেনে রাখুন, আজ বাথরুম পরিষ্কার করাও কোটি টাকার কর্পোরেট ব্যবসা। ভাবতে অবাক লাগলেও সত্যি।

আরও পড়ুন

উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ‘সিকিউরিটিজ অ্যানালিসিস’! কোথায় পড়বেন এই কোর্স? জেনে নিন।

ছোটবেলায় গ্রামের স্কুলে পড়ার সময় দেখেছি ছেলেমেয়েরা যথেষ্ট পড়াশুনা করেও চাকুরি পাচ্ছে। ফলে ভুগছে হতাশায়। পরবর্তীকালে প্রত্যন্ত গ্রাম ছেড়ে যখন শহরের বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে মিশতে শুরু করলাম, তখন থেকে আমার ভাবনাগুলোও পাল্টাতে থাকলো। বুঝলাম গ্রামের ছেলেমেয়েদের বেকারত্বের প্রধান কারন উদ্দেশ্যহীন পড়াশুনা। গ্রামের বেশিরভাগ ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোন টার্গেট বা ব্যাকআপ প্ল্যান থাকে না। এমনকি শহরের ছেলেমেয়েরাও এই সমস্যায় কম ভোগে না। আজ ইন্টারনেটের যুগেও ছাত্রছাত্রীদের কেরিয়ার সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নেই বললেই চলে। ভবিষ্যৎ নিয়ে শুধু সরকার আর সিস্টেমকে দোষারোপ করে এবং ইন্টারনেট, সোশাল মিডিয়ায় সময় কাটায়। আসলে এই জীবনযুদ্ধে জেতার জন্য তোমাকে সারা দুনিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।

 

কেরিয়ার গড়া একটা খুব বড় সাধনা। এই সাধনায় সিদ্ধি লাভের জন্য পরিবার, এমন কী গোটা দুনিয়ার বিপরীতেও সাঁতার কাটতে হতে পারে। একথা মানি যে কিছুটা দূর্নীতি-চক্রান্তও লেগেই থাকে। কিন্তু এগুলি অতিক্রম করেই জিতেছেন আইনস্টাইন বা  স্টিভ জোবস। আইনস্টাইন ভাল চাকুরি পেলে হয়তো আমরা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মতো মূল্যবান সম্পদকে হারাতাম। জোবস ক্যালিওগ্রাফার হলে হয়তো আমাদের পকেটে আইফোন শোভা পেত না। সবকিছু ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে ভিক্ষা না করে কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন। কঠোর বাস্তববাদী হয়ে অবাস্তবকে বাস্তব করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়াই হোক আমাদের মন্ত্র কাজ।

যোগাযোগঃআব্দুল হাই, কেরিয়ার দিশা

ফোন: +91 90930 61023

Email: [email protected]

 

Promotion