EXCLUSIVE NEWS

BREAKING – একেবারেই আগুন নয়, কেন ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে আমাজন? দেখে এলেন বাংলার অধ্যাপক!

গোটা পৃথিবী যখন আমাজনের অগ্নিকান্ড নিয়ে চিন্তিত তখন আমাজনের প্রকৃত পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরলেন ড: তাপস পাল। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের এই অধ্যাপক গবেষণার ডাক পেয়েছিলেন ব্রাজিলের রণডোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। পোর্টোভেলহো শহর থেকে যাত্রা শুরু করে তিনি আমাজনের জঙ্গলে কাটালেন ১৫ দিন। 
কিছুদিন আগেই বিশ্বের তামাম মিডিয়ার দৌলতে এই অগ্নিকান্ডের বীভৎসতার ছবি পৌঁছে যায় আমাদের কাছে। যদিও অধ্যাপক তাপস পালের দাবী, আমাজনের গহীন অরণ্যের একশো কিলোমিটার ভেতরেও বড় ধরনের ফরেস্ট ফায়ার সংক্রান্ত ক্ষতি দেখতে পাননি। তার আরও দাবী, মিডিয়ার দেখানো অধিকাংশ ভিডিওতেই কলাকৌশল থাকতে পারে। এমনকি থাকতে পারে কোন রাজনৈতিক অভিপ্রায়ও। আগুন একেবারেই লাগেনি সেটাও তার বক্তব্য নয়। তার মতে, আগুন দু’ভাবে লেগে থাকতে পারে। প্রথমত, স্বাভাবিক দাবানল। যেটির সৃষ্টি প্রাকৃতিক কারণেই হয়ে থাকে। আমাজনের আকৃতি প্রায় দুটি ভারতের ভৌগোলিক মাপের সমান। কাজেই সেখানে দাবানলের ফলে আগুন লেগেই থাকে সারা বছর। দ্বিতীয়ত, কোনও ভাবে অর্থনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগ। তাপস বাবুর ভাষায়, “এগুলি যদি হয়েও থাকে তবুও আগুনের জন্য আমাজন ধ্বংসের যে তত্ত্ব দাঁড় করানো হচ্ছে তা একেবারেই ভুল। আমাজন যদি এই মুহূর্তে সত্যিই বিপন্ন হয়ে থাকে তাহলে তার অন্যতম কারণ নদীগর্ভ থেকে অবৈধ সোনা উত্তোলন।”
আমাজনের জামিরা ও মাদিরা নদীর সার্ভে করার সময় তিনি বেআইনি সোনা উত্তোলক কারখানা নদীর বুকে দেখতে পেয়েছেন। সোনা উত্তোলনের সময় মাটির নিচে থাকা বেশ কিছু বিষাক্ত খনিজ পদার্থও বেরিয়ে আসে। যার প্রভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংসের রাস্তায় এগোচ্ছে গোটা এলাকার জলজ বাস্তুতন্ত্র। বোটো নামক একটি বিশেষ প্রজাতির মাছ এতো পরিমাণ ধরা হচ্ছে যে সেই প্রজাতিই আজ বিলুপ্তির পথে। সেই সঙ্গে আমাজন সংলগ্ন অঞ্চলে ব্যাপক হারে বেড়েছে প্লাস্টিকের ব্যবহার। 
আমাজনের সচেতনতা নিয়ে বাংলার এই অধ্যাপক বক্তব্য রাখেন রণডোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ফিমকা এবং রুরাল ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অফ রিও ডি জেনাইরোতে। উত্তর বঙ্গের সন্তান হিসেবে আমাজনের অভিজ্ঞতাকে মডেল হিসেবে প্রয়োগ করতে চান উত্তরবঙ্গের নদী বাঁচাও কর্মসূচিতে। তিনি মনে করেন, যে মডেলে আমাজন প্রকৃতির হাত ধরে বেঁচে আছে, বিশাল জলের ভান্ডার নিয়ে বয়ে চলেছে। ঠিক সেই মডেল উত্তরবঙ্গের শুকিয়ে যাওয়া নদীগুলিকেও প্রাণ ফিরিয়ে দিতে পারে। রণডোনিয়া সরকার ২০২০-তে আসন্ন পোর্টোভেলহো এক্সেপোয় ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ইতিমধ্যেই তাপসবাবুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

Promotion