Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
পূজোয় কী বার্তা দিলেন আমাদের চেনা-অচেনা মুখেরা? - Exclusive Adhirath
দুই বাংলার পুজো পরিক্রমা ২০১৮

পূজোয় কী বার্তা দিলেন আমাদের চেনা-অচেনা মুখেরা?

ছবি এডিটিং – শান্তনু মালিক

সঞ্জীব সরকার(অভিনেতা) –  উৎসবের কোনও ধর্ম হয় না। উৎসব মানে না কোনও বেড়াজাল। উৎসব হল মানুষের মনের সেই অনুভূতি যা দিয়ে মানুষ আসলে মানুষের পাশে থাকতে চায়, ভালবাসতে চায়। সেই ভালবাসাদের সেলাম, সেই পাশে থাকাকে কুর্নিশ। সুখ-দুঃখ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তবুও আমি চাইবো, অন্ততঃ পূজোর এই ক’দিনের জন্য দুঃখ হেরে যাক, সুখ জিতে যাক। পূজো ঘুচিয়ে দিক সব দূরত্ব।

শাপলা সপর্যিতা (কবি ও কথা সাহিত্যিক, বাংলাদেশ) – মানবজাতির এবং নিজস্ব কল্যাণ কামনা করে জগতের রীতি অনুসারে যার যার পারিবারিক অনুষঙ্গে আচরণীয় অনুষ্ঠাণের মাধ্যমে জ্ঞানের চর্চা মানুষের আদি ধ্যান।তারই ধারাবাহিকতায় নামাজ রোজা ঈদ,পূজা, বুদ্ধ পূর্ণিমা, ক্রিসমাস। একদিন জগতের কল্যাণে মানুষের অসাধ্য সাধনে নেমে এসেছিলেন দুর্গা। করেছিলেন অসুরের বিনাশ। তবু কিছুমাত্র অসুরের তান্ডবে অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে।আজও দেশে দেশে কালে কালে ঘুরে বেড়ায় অসুরের দল পালে ও পলকে। আমরা সুধীজন মুক্তমনা ধর্ম পরায়ণ মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান… শুভসৃষ্টি আর শুভদিনের অপেক্ষায়, বৃহত্তর মানবজাতি।বছর ঘুরে আবারও শুরু হতে চলেছে উৎসব। ঘরে ঘরে আনন্দের আয়োজন। উৎসর্গ আর উপসনার আনন্দযজ্ঞে দূর হোক সকল অশুভ কালো। জগৎ জুড়ে বিকশিত হোক সুন্দর, কাশফুলের মতো শুচি স্নিগ্ধ রূপে।শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে তাই সমগ্র মানবজাতির জন্য শুভকামনা জানাই। রাজনীতিহীন ধর্ম পালনের পথ প্রশস্ত হোক। পরিব্যাপ্ত হোক পৃথিবী জুড়ে সুন্দরের শুভ আলো।

তাপস বাপি দাস(মহীনের ঘোড়াগুলির ব্যান্ড সদস্য) – শ’ শ’ বছর ধরে চলে আসছে বাঙালির দুর্গোৎসব। মহোৎসব।। আমরা শুরু করে দিয়েছি উৎসবের জাঁকজমক, আলো, হৈ চৈ, প্যান্ডেলে, দেবী মূর্তি কত কিছু। বছরে একবার, মাত্র কদিন, তবু এক আগমনী থেকে পরের আগমনী, আমরা থাকি অপেক্ষায়। আসুন আমরা ভুলে যাই জতি, ধর্ম, বর্ণ, সবাই সবাইকে জড়িয়ে ধরে বলি “মা দুর্গা তোরই জয়। প্রত্যেকের জন্য আমরা আন্তরিক শুভেচ্ছা, ভালোবাসা, প্রণাম। আনন্দে ভরে উঠুক আমার আপনার সকলের জীবন – নমস্কার।

অরিত্র ভট্টাচার্য (পুরোহিত) – দুর্গা পূজো হল অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির বিজয় লাভ। মায়ের পূজোর দ্বারা আমরা প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে শান্তি, প্রীতি ও সুখ প্রার্থনা করবো। সকলে বিপদ-আপদ থেকে দূরে থাকুক। আমি চাই প্রতিটি মানুষ এই পূজোয় সম্মিলিত হোক। মায়ের আশীর্বাদ যেন সকলের ওপর বর্ষিত হয়। সকলে যেন ভালো থাকে, সুস্থ থাকে। সেই সঙ্গে আপনাদেরও শুভেচ্ছা, সমাজের সব স্তরের মানুষের বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই প্রয়াসটিও সুন্দর। মা আপনাদেরও শক্তি দিন।

হারু দাস(রিকশা-চালক) – মানুষ মানুষের প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ দূর করে ভালবাসায় জীবন ভরিয়ে তুলুক। বিজয়া দশমীতে সবাই সবাইকে কোলাকুলি করে অন্তরের ভালোবাসা আর শুভেচ্ছাটি যেন জানায়।

মৌলানা মহম্মদ শফিক কাজমি(শাহী ইমাম, নাখোদা মসজিদ) – দুর্গা পূজো বাংলার সব থেকে বড় উৎসব। এই বাংলার ঐতিহ্যই হল বিপদে প্রতিবেশীর পাশে থাকা, সাহায্য করা। বাংলার তামাম জনতার উৎসব এটি। তাই মানুষ যখন ঠাকুর দেখে ক্লান্ত হয়ে পড়বেন, সেই সময় অন্ততঃ তাকে জল দিয়ে সাহায্য করার আবেদন জানিয়েছি আমি আমার ভাইদের। আমার তরফ থেকে সমাজের প্রতিটি ধর্ম-বর্ণ-জাতির মানুষকে পূজোর শুভেচ্ছা।

পিয়ালী পাঠক(বাচিক শিল্পী) – সবাইকে শারদোৎসবের শুভেচ্ছা। সংস্কৃতির সঙ্গে থাকুন, গানের সঙ্গে থাকুন, কবিতার সঙ্গে থাকুন, নাটকের সঙ্গে থাকুন, নাচের সঙ্গে থাকুন। এই বছরের পূজোটা নাহয় বাছাবাছির নাই হোক, সকলের পূজো হোক। আসুন না, আমরা আমাদের তৃতীয় লিঙ্গের ভাই-বোনেদের নিজেদের করে ভাবি। বিধবা মানুষদের নাহয় নাইবা সরিয়ে রাখলাম সিঁদুর খেলা থেকে। আসুন না, ট্রান্সজেন্ডারদের নিজেদের দুর্গাপূজোয় সামিল করি। এটি তো আসলে নারী শক্তির উদযাপন। তাই ঘরের  স্ত্রী, কন্যা, মা তাদেরকে একা করে না দিয়ে, তাদের বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠিয়ে, কোলের কন্যাভ্রূণটিকে হত্যা না করে, নারী শক্তির উদযাপনের মধ্যে দিয়ে এবারের দুর্গাপূজো উদযাপনে মাতি। পতিতাপল্লীতে যারা রয়েছেন তাদেরকেও নারী শক্তির উদযাপনের শুভেচ্ছা। তারাও নারী, শুধু তারা একটি পেশা অবলম্বন করেছেন মাত্র, তাই তাদের আমরা যেন না ভুলি। কিছু নারী বাদ দিয়ে আনন্দ উপভোগ করা মানে, ভিতর ভাঙা প্রত্যয়। সবশেষে বলি, এই উৎসব কাছাকাছির, বাছাবাছির নয়।

মায়া(রূপান্তরিত কন্যা) – পূজো উপলক্ষ্যে আমার বার্তা একটিই। পূজো সব্বার জন্য। পূজোটা প্রতিটি মানুষের কাছে এখনও পৌঁছায়নি। খেটে খাওয়া মানুষ কতোটা পূজোর আনন্দ উপভোগ করেন সে বিষয়ে যথেষ্টই সন্দেহ রয়েছে। পূজোর ক’দিন যারা রাস্তায় না নামলে পেটের ভাতটুকুও জোগাড় করতে পারবেন না তাদের কাছেও যেন পূজোটা পৌঁছে যায়।

Promotion