EXCLUSIVE NEWS

BREAKING – শ্বাসকষ্টে ভোগা নালিকুলবাসীর জয়, ভ্যাক্স সেটিং কারখানাকে অবৈধ ঘোষণা দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের

 

নালিকুলের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের গল্প এটি। আসলে খেটে খাওয়া মানুষ ঠিকই জানে খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট। তাই শ্বাসকষ্টে ভুগেও তারা প্রথমে কারখানা বন্ধের দাবি করেনি। ভ্যাক্স সেটিং কারখানার মালিকের হাতে পায়ে ধরে চলেছে বছর তিনেকের অনুরোধ-উপরোধ পর্ব। যদিও গ্রামবাসীদের কাতর আর্জি অনুরোধ কিছুতেই মেনে নেয় নি মালিকপক্ষ। গ্রামের লোকের কথা পার্টি থেকে পঞ্চায়েত কেউই কানে নেয়নি একপ্রকার। রাতের পর রাত কারখানা থেকে বেরোনো বিষাক্ত প্রাণঘাতী ধোঁয়ায় ছটফট করেছেন এলাকাবাসী। যদিও সেখানকার তিনটি কারখানাই ছিল অবৈধ।

ভ্যাক্স কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে নালিকুলবাসী, ন্যক্কারজনক ভূমিকা পুলিশের!

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য অক্টোবর মাসের শেষ থেকেই গ্রামবাসী এই দূষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তলার কাজ শুরু করেন। পুলিশের হাতে নিগৃহীত হওয়ার পরেও তাদের আন্দোলন জারী থাকে। গ্রামবাসীদের মূল দাবী ছিল কাস্টিং পোড়ানো এবং বর্জ্য হিসেবে প্লাস্টার অফ প্যারিস ফেলে জমিয়ে রেখে বায়ু দূষণও করা যাবে না। ইতিমধ্যেই এক মিটিংয়ের মাধ্যমে দুই কারখানা মালিক এই শর্ত মেনে নেন। যদিও বিকাশ দাস নামে আরেক মালিক কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করে দূষণ চালিয়ে যেতে থাকেন। ৬ নভেম্বর বিপুল পরিমাণে গ্যাস ছাড়ার কারণে এক যুবক অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে দাঁড়ায়। বৃহস্পতিবার গ্রামবাসীরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের অফিসে হাজির হন। সেখানে অভিযুক্ত কারখানা মালিকের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত হয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি। ফলতঃ পর্ষদের আধিকারিকরা কারখানাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। খুব দ্রুতই দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশনামা স্থানীয় থানা, ব্লক আধিকারিক এবং ইলেকট্রিক অফিসে পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। গ্রামবাসীদের তরফে জয়ন্তী মাজি জানান, দীর্ঘ রোগ ভোগ এবং কষ্টের জীবন থেকে মুক্তি দিল এই রায়। তাদের মুখে রক্ত তোলা টাকার বেশিরভাগটাই শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য করাতে খরচ হবে না, এটুকুই শান্তি।

 

Promotion