EXCLUSIVE NEWS

মুসলিমদের মতো দাড়ি রাখায় দমদমে হিংসার শিকার যুবক, হেনস্থা বান্ধবীকেও!

 

ভারতে থেকে যদি ছেলেদের দাড়ি রাখতে হয় তাহলে নিশ্চিত থাকুন সেটি যেন বিরাট কোহলি বা রণবীর সিংহের মতো পরিচিত কাটিং হয়। সেই স্টিরিওটাইপ কাটিংয়ের সঙ্গে না মিললেই আপনাকে ঘৃণ্য মুসলিম হিসেবে দেখা হতে পারে। এমনকি সঙ্গে যদি কোনও মহিলা থাকে তাহলে আপনার ওপর নীতি-পুলিশি হলেও অবাক হবেন না। কারণ ঠিক এরকমটিই ঘটেছে প্রগতিশীলতার স্বর্গরাজ্য কলকাতায়। উঠছে এমন অভিযোগ।

 

গত রবিবার কলকাতার বাসিন্দা জয়দীপ সেন তার বান্ধবী লিসা গাঙ্গুলীকে নিয়ে দমদম নাগেরবাজারের এক পানশালায় যান। সেখান থেকে ফেরার সময় রাত সাড়ে ন’টার দিকে তাঁরা আক্রান্ত হন। জয়দীপ এবং লিসা পানশালা থেকে বেরিয়ে এক জায়গায় বসেন। এক ব্যক্তি তাদের উপর নীতি পুলিশী চালান। অশালীন মন্তব্য ছুঁড়ে দেন তরুণীর দিকে। সেই সময় লিজা প্রতিবাদ করলে আরও কিছু স্থানীয় লোকজন ডেকে জয়দীপকে টেনে-হিঁচড়ে একটি বাঁধানো পুকুরের সামনে আনা হয়।

 

জয়দীপ জানান, এরপরই তাকে বেধড়ক পেটানো শুরু হয়। সেই সময় লিজার গায়েও ছেলেরা হাত তোলে বলে অভিযোগ। স্থানীয় নীতি-পুলিশরা তাদের নাম জানতে চায়। লিজা তার পুরো নাম বললে তাকে সরাসরি বলা হয়, সে কেন এক মুসলিম ছেলের সঙ্গে বেরিয়েছে? জয়দীপ তার পুরো নাম বলার পরেও তার দাড়ি দেখে মুসলিম পরিচয় চাপিয়ে মারধোর চলতেই থাকে। অবশেষে নিগৃহীত তরুণ-তরুণী পুলিশ ডাকার প্রস্তাব দেন। ঘটনাস্থলে কামারডাঙ্গা থানার পুলিশ পৌঁছোয়। মেডিকেল টেস্ট করিয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে আরেক প্রস্থ হেনস্থার স্বীকার হতে হয় তাদের। অভিযোগ তরুণ-তরুণীর পরিবারকে থানায় ডেকে পুলিশ ঘুষ নিয়ে কোনও প্রকার চালান না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ঘটনাটি লিসা তার ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করলে সেখানেও নানারকম খুন-ধর্ষণের হুমকি ভেসে আসে।

আরও দেখুন

BREAKING – ধর্মবিদ্বেষী গণপিটুনির শিকার হওয়া তরুণ-তরুণী দমদম থানায় করলেন এফআইআর, পুলিশ দিল সহযোগিতার আশ্বাস!

যদিও অভিযুক্ত সঞ্জীব সাহার বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ অন্য কথা বলছে। সঞ্জীব সাহার অভিযোগ তাকে ওই তরুণী নখের আঁচড় দেন। ওই যুগল তাদের গ্যারেজে ঢুকে পড়ায় তিনি ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন মাত্র। তবে সিসিটিভি ফুটেজটি সম্পূর্ণ নয়। দমদম থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছেন।

Promotion