মরসুমী ফুল

“গর্ভকেশর আপনি জাগে তোমায় ছুঁলে”

 

লিখেছিলেন কিছু সাধারণ ছাত্রছাত্রী। যৌথবদ্ধতার ফসল হিসেবেই লেখা…                                                  আজ আর রাই রাত্রি প্রহর মালা গাঁথে না শ্যামের অপেক্ষায়, শ্যামও না। সাজু-রূপাইয়ের নকশী কাঁথা আজ আর খুঁজে পাওয়া যায় না। দু’জনের সেই গ্রামের মাঝের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে আজ কংক্রিটের ইমারত। ঘাসের ডগায় ডগায় একদিন যে প্রেম খুঁজে পাওয়া যেত তা আজ হারিয়ে গিয়েছে। সভ্যতার অগ্রগতিতে একদিন যে মানুষ ক্ষণিকের আনন্দঘন মুহূর্তকে দীর্ঘস্থায়ী করতে শিখেছিল, বিশ্বচরাচরের প্রতিটি রোমকূপে খুঁজে পেয়েছিল প্রেমের পরশ, যৌন মিলনের সুতীব্র বাসনা। মিলনের সুখানুভূতি থেকে একদিন যে সৃষ্টি করেছিল অনবদ্য সাহিত্য-শিল্পকীর্তি আজ তা শুধুই বইয়ের পাতায়। আজ দুই মিনিটে ম্যাগী আর পাঁচ মিনিটে প্রেম। টেডি বিয়ার আর চকলেটে প্রেম বিক্রি হয়।

“একটা দুটো সহজ কথা
বলব ভাবি চোখের আড়ে
জৌলুসে তা ঝলসে ওঠে
বিজ্ঞাপনে রং বাহারে।”

 

রিজওয়ানুর আর প্রিয়াঙ্কা পরস্পরকে ভালবাসত। রিজওয়ানুর খুন হয়েছিল। কারণ, দু’জন ভিন্ন(বিত্ত)শ্রেনীর মানুষের মধ্যে নাকি প্রেম হতে নেই! স্বপ্না আর সুচেতা পরস্পরকে ভালবাসতো। ওদের আত্মহত্যা করতে হয়েছিলো। কারণ, দু’জন সমলিঙ্গ মানুষের মধ্যে নাকি প্রেম হতে নেই! সদাহাস্যময়ী মিমিকে আত্মহত্যা করতে হয়েছিলো। কারণ প্রেম বা বিয়ে-না-করা মানুষদের নাকি বেঁচে থাকতে নেই! ভাবনা আর অভিষেক পরস্পরকে ভালবাসত। ভাবনাকে খুন হয়ে যেতে হয়েছিল। কারণ দু’জন ভিন্ন জাতের মানুষের মধ্যে নাকি প্রেম হতে নেই! বাবলি আর মনোজ পরস্পরকে ভালবাসত। ওদের দু’জনকেই খুন হয়ে যেতে হয়েছিল। কারণ দু’জন সমকৌমের মানুষের মধ্যে নাকি প্রেম হতে নেই! দানিস্তা আর সনু সিং পরস্পরকে ভালবাসত। ওদের দু’জনকেই খুন হয়ে যেতে হয়েছিল। কারণ দু’জন ভিন্নধর্মের মানুষের মধ্যে নাকি প্রেম হতে নেই! মেয়ের ‘লেসবিয়ানপনা ঘুচিয়ে বিসমকামী করে তুলতে’ দাদাদের হাতে ধর্ষিত হতে হয় প্রতি রাতে। এরকম আরও কতো কতো! লায়লা-মজনু রোমিও-জুলিয়েটের যুগে প্রেম করাটাই ছিলো অপরাধ। জাত-ধর্ম-বর্ণ-জাতি-লিঙ্গ-ভাষা-টাকাপয়সা…বিধির বাঁধন রূপ বদলে আজও উদ্যত প্রণয়ীদের সহবত শেখাতে আসে বজরং দল কিংবা আরএসএস। আসলে আমাদের মতোই আমাদের প্রেমও স্বাধীন নয়। আমাদের প্রেমের অধিকার নেই। তাই ১৪ ফেব্রুয়ারি হোক এক প্রতিবাদ দিবসের নাম। প্রেমের খোঁজেই চলুক এই প্রতিবাদ। এই মৃত্যুপুরীতে প্রাণের উৎসব তো আমরাই আনতে পারি। কারণ এই আকালেও “পরাগরেণু আপনি জাগে তোমায় ছুঁলে।”                                                                                                                                                              

 

Promotion