EXCLUSIVE NEWS

পুরুলিয়ার অযোধ্যাবাসীরা আরও একবার সামনে আনলেন প্রকৃতি ধ্বংসকারী ঠুরগা প্রকল্পের সত্যতা

 

গত বছর ঠুরগা পাম্পড স্টোরেজ প্রোজেক্টের জন্য একটি পাহাড়ি নদী ঠুরগা, একটি আস্ত জঙ্গল এবং ১৭টি গ্রামের মানুষের উচ্ছেদ-সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে আসে। ইতিমধ্যেই পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে ঘটে চলা এই জনবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন সেখানকার গ্রামবাসীরা। গত ২ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে অযোধ্যা পাহাড়ে পরিবেশ বিধ্বংসী ঠুরগা প্রকল্পটি চলে যায় বাতিলের খাতায়। ইতোমধ্যেই রাজ্য সরকার এবং বিদ্যুৎ-বন্টন কোম্পানি কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আগের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আপিল করেছে। জাস্টিস কৌশিক চন্দ ও সঞ্জীব ব্যানার্জির ডিভিশন বেঞ্চে এই শুনানি চলছে। আগামী ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারী টানা শুনানি চলার কথা এই মামলার গভীরতা ও গুরুত্বের কারণে।

এদিকে ‘অযোদিয়া বুরু বাঁচাও আন্দোলন সংহতি মঞ্চ’র তরফে কলকাতা প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন। বুধবার বিকেলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির ছিলেন অযোধ্যার গ্রামবাসী নকুল বাস্কে, সুশীল মুর্মু। উপস্থিত ছিলেন এই লড়াইয়ের অন্যতম সাথী মাঝি পরগণা জুয়ান মহলের পুরুলিয়া জেলার সভাপতি রাজেন টুডু। এনারা প্রত্যেকেই তুলে ধরেন কীভাবে রাজ্য সরকার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চাপিয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ গ্রামবাসীদের চোখে ধূলো দিয়েছে। ‘অযোদিয়া বুরু বাঁচাও আন্দোলন সংহতি মঞ্চ’র হয়ে সৌরভ প্রকৃতিবাদী গণমাধ্যমের মাধ্যমে পুরুলিয়ার আদিবাসীদের প্রকৃতি বাঁচানোর যুদ্ধের কথা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আবেদন রাখেন। তিনি আরও জানান, পুরুলিয়ার অযোধ্যাবাসীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ এই মুহূর্তে বিপন্ন। কারণ পরপর দু’বার নানা অজুহাতে পুলিশ এই আন্দোলনের পাশে থাকা পরিবেশ-প্রেমীদের সেখানে যাওয়ার সময় আটক করেছেন।

 

 

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পরিবেশ আন্দোলন কর্মী সুমন এবং কলেজ ছাত্রী জয়শ্রী। পরিবেশ কর্মী ইমন বলেন, হাতি এবং মানুষের মধ্যে ইদানিং সংঘাত বেড়েই চলেছে। এর আগেও পুরুলিয়ায় বামনী নদীর ওপর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ফলে প্রচুর হাতি বাসস্থান হারায়। কাজেই এরকম ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে এই পরিবেশ ধ্বংসের ফলশ্রুতি হিসেবে। যাদবপুর এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ পড়ুয়াদের তরফে যথাক্রমে অরিত্র এবং সায়ন এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানান।

 

 

 

Promotion