মরসুমী ফুল

এ বইমেলার মধ্যে আছে আরেকটি বইমেলা, হেঁটে দেখতে শিখুন!

 

ইতিমধ্যেই জমজমাট বাঙালির সাধের বইমেলা। যদিও সেখানে ঘটেছে সংস্কৃতির রদবদল। এখন অনেকেই বই কিনতে নয়, বরং খেতে আসেন। ডিজিট্যাল যুগে আর সেভাবে বই-ম্যাগাজিন কেনার দরকার পড়ে না। অনেকেই পিডিএফ ফাইলের ই-বুক ডাউনলোড করে নেন। তবে এসবের মধ্যেই বদলায়নি শুধু একদল ছেলেমেয়ের স্বপ্ন দেখার নাছোড়বান্দা ইচ্ছে। এদের দেখা পাবেন লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নের ২০৭ নম্বর টেবিলে।

 

এছাড়া কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন কলেজের ছেলেমেয়েরা স্বাধীনভাবে নিজেদের বক্তব্য রাখার জন্য একটি পত্রিকা বের করেছেন যেটির নাম ‘সিইউ স্পিকস’। শাসকদল পরিচালিত ইউনিয়নের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধতাই তাদের ভাবনাকে রসদ জুগিয়েছে। তারা মনে করেন দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা ভাবনা এবং আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তারাই ‘চলমান কলরব’ নামক একটি পত্রিকা উদ্যোগ শুরু করেছিল। মূলতঃ হোক কলরবের পরবর্তী সময় বিভিন্ন স্বাধীন ভাবনাকে একজায়গায় করার উদ্দেশ্যেই এটির পথ চলা শুরু হয়। সেটিও এই বছর পাওয়া যাচ্ছে। সমাজে মেয়েদের কথা বলার জায়গা অনেকটাই সীমিত। সেই কথা বলার জায়গা হিসেবেই ‘প্রতিধ্বনি’ ম্যাগাজিনের আত্মপ্রকাশ। এটি ম্যাগাজিনটির দ্বিতীয় বছর। এছাড়াও তাদের সম্ভারে রয়েছে ‘অপরাজিত’, ‘পালা-পাব্বণ’-এর মতো লিটল ম্যাগ।

 

ছাত্রছাত্রীদের তরফে সায়ন বলেন, দেশজুড়ে যা পরিস্থিতি; সেখানে পড়ুয়ারাই এগিয়ে আসছেন। কাজেই ছাত্রছাত্রীরা যখন নতুন করে বাঁচবার ডাক দিচ্ছে, তারই অংশ হিসেবে আমাদের প্রচেষ্টাকে দেখা হোক। কলকাতা এবং শহরতলীর অধিকাংশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা এতে সামিল। স্বাগত বলেন, আসলে বই বিক্রির ব্যাপারটিই উঠে যাচ্ছে। যতই সব কিছু ডিজিট্যাল হয়ে যাক না কেন, বইয়ের এক ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। একটি বইয়ের পেছনে প্রচুর শ্রম ও জ্ঞানের জোগান লুকিয়ে থাকে। আমার নিজেরই পিডিএফ মাধ্যমে বই পড়তে অস্বস্তি হয়। বইয়ের গুরুত্ব হারিয়ে যাওয়া মানুষের চলমানতার ইতিহাসে একটি বড় ক্ষতি। ঠিক সেই জায়গা থেকেই আমাদের এই উদ্যোগ। তাই এবারের বইমেলায় আপনাকে কষ্ট করে খুঁজে নিতে হবে এই বদলানোর স্পর্ধা দেখা ছেলেমেয়েদের, অথবা তারাই খুঁজে নেবে আপনাকে। হয়তো যেভাবে বন্ধুরা নিজেদের খুঁজে নেয় আর কি!

চিত্র ঋণ – বুনো মাধব

 

Promotion