Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
সুতপা দত্ত দাশগুপ্ত - একাধারে গায়িকা ও কবি - Exclusive Adhirath
মেঘে ঢাকা তারা

সুতপা দত্ত দাশগুপ্ত – একাধারে গায়িকা ও কবি

একনামে সবাই তাঁকে চেনেন শ্রীরামপুরের আখনা গার্লসের ইংরেজী শিক্ষিকা হিসেবে। কিন্তু এই গুণী শিল্পী জীবনের পথে পেরিয়েছেন অনেক মাইলফলক। তিনি সাক্ষী নানান শৈল্পিক অভিজ্ঞতার। সেই কথাই তিনি জানালেন ‘এক্সক্লুসিভ অধিরথ’ এর পাঠকদের। 

আপনি একাধারে কবি ও গায়িকা। তবুও গুরুত্বের বিচারে কোন সত্ত্বাটিকে এগিয়ে রাখবেন?

মূলতঃ শিল্পী সত্ত্বাটিকেই অগ্রাধিকার দেবো। যেহেতু গান আমার জীবনের শুরু থেকেই ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। তাই গায়িকা হিসেবে পরিচিতি পেতেই বেশি পছন্দ করবো। লেখা এবং কবিতা আমার শখ। কাউকে তা পড়ানোর সাহস পেতাম না। হঠাৎ একদিন এক বিখ্যাত সম্পাদক পড়ে ভালো বললেন বলে এগুলি বাইরে এলো। এ প্রসঙ্গে কবি রামকিশোর ভট্টাচার্যের কথাও বলবো। তিনিও কবিতা লেখার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। কিন্তু গান আমি ক্লাস ফোর থেকে শিখছি এবং ক্লাস সিক্স থেকে আমি ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’তে গাইছি। তাই গানের ব্যাপারে আমি যথেষ্টই আত্মবিশ্বাসী।

আপনার এই গান চর্চার শুরুটা কীভাবে?

গানের শুরু আমার মা মিনতি দত্তের হাত ধরে। সাংসারিক দায়িত্ব সামলেও মা সুচিত্রা মিত্রের রবীন্দ্রসঙ্গীতের আসর শুনতেন। সেই মা-ই একদিন হারমোনিয়াম কিনে আমায় সারেগামা শেখানো শুরু করেন। মায়ের উৎসাহেই তপতী চট্টোপাধ্যায়ের কাছে আমার হাতেখড়ি। দিলীপ কর্মকার যিনি এই মুহূর্তে বিশ্বভারতীর সঙ্গীতভবনে আছেন, ওনার কাছে আমি পিওর ক্লাসিক্যাল শিখেছি। বর্তমানে খেয়া চট্টোপাধ্যায়ের কাছে নজরুল গীতি, অতুলপ্রসাদী, ভজন এবং আধুনিক শিখছি।

গান ও কবিতা ছাড়া আর কী কী করেন আপনি?

পেশাগত ভাবে আমি একজন শিক্ষিকা। শ্রীরামপুর গার্লস হাই স্কুলে আমি ১৬ বছর ধরে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করছি। আমি পথশিশু বা স্কুল ড্রপ-আউটদের নিয়ে যারা কাজ করেন সেইসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছি। বিক্রমশীলা সংগঠনের সঙ্গে রয়েছি। ‘প্রোগ্রেসিভ টিচার’ নামক একটি ম্যাগাজিন বেরোয়। শিক্ষামূলক বিষয় নিয়ে কাজ করেন তারা, সেখানেও পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে তাদের সামাজিক গবেষণায় বহুবার অংশ নিয়েছি।

এখনকার দিনে একজন শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে গেলে প্রতিভাটাই কি যথেষ্ট?

এখনকার দিনে বা তখনকার দিনে বলে নয় কিন্তু। আমি মনে করি প্রতিভা হল সেই বিচ্ছুরণ যাকে কোনোভাবেই চেপে রাখা যায় না। অবশ্য শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক অনেক ফ্যাক্টর কাজ করে। তবে প্রতিভা না থাকলে কোনোভাবেই এগোনো সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠা বিষয়টিকেও ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যেতে পারে। এখন ‘প্রতিষ্ঠা’ বলতে আপনি কী বোঝেন? রোজগার করাটাকে আপনি প্রতিষ্ঠা বলবেন? নাকি সন্তুষ্টির জায়গাটিকে আপনি প্রতিষ্ঠা বলবেন? বছরে আমি চারটি অনুষ্ঠান করে যে সন্তুষ্টি পাই, তাতে আমার অর্থনৈতিক লাভ যদি নাও হয়, তাহলেও সেটা আমার কাছে কিন্তু প্রতিষ্ঠাই হল।

কী কী কাজ এখনও পর্যন্ত আপনি করেছেন?

কাজটুকুই করেছি, মানুষের কাছে কতোটা পৌঁছতে পেরেছি সেটা জানি না। ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’তে শিল্পী হিসেবে ক্লাস সিক্স থেকে আমি কাজ করছি। শিশুমহলে আমি ছিলাম, তারপর ‘কিশলয়’ অনুষ্ঠানে চলে যাই যেটি বৃহস্পতিবার বিকেলে হতো। তারপর সেখান থেকে আমাকে পাঠানো হয় যুববাণীতে যেখানে দীর্ঘ ৫ বছর অনুষ্ঠান করেছি। তারপর তো পারিবারিক কারণে আমাকে রেডিওতে কাজ বন্ধ করতে হয়। পরবর্তীকালে আকাশবাণীর ‘বিদ্যার্থীদের জন্য’, ‘ক্লাসরুম’ অনুষ্ঠানে শিক্ষিকা হিসেবে অংশগ্রহণ করেছি। ‘শিকড়ে মাটির গন্ধ’ বলে ফোক নিয়েও একটি অনুষ্ঠান করি। দূরদর্শনে বিভিন্ন সময়ে আমন্ত্রিত হয়েছি। ‘পাটনা রবীন্দ্র পরিষদ’ রাবিন্দ্রীক ভাবনা নিয়ে কাজ করেন। তারা হলেন অবাঙালী বেল্টে  সদস্যসংখ্যার দিক দিয়ে বৃহত্তম সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। তাদের অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেছি। পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্রে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ওপর অনুষ্ঠান করেছিলাম। তারপর ওদের শিল্পী হিসেবেই কটকে ৬৬ তম ধনুর্যাত্রা মহোৎসব। এটি হল দেশের বৃহত্তম ওপেন থিয়েটার অনুষ্ঠান। রাত ৩ টের সময়ও প্রায় তিন হাজার মানুষ দর্শকাসনে ছিলেন। সেখানে আমরা লোকগীতির ওপর গীতি-আলেখ্য পরিবেশন করি। রাজস্থানের মধুবন রেডিওতে আমাকে একটি সাক্ষাৎকার এবং অনুষ্ঠানের জন্য ডাকা হয়। ‘সুখ নির্দেশিকা’ ছিল অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু। অর্থাৎ কী করে আপনি ক্লাসের মুডকে একটি হ্যাপী মুডে নিয়ে যেতে পারবেন? পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তরের রাজ্য এবং জেলা স্তরের বহু অনুষ্ঠানেই আমি অংশ নিয়েছি। বাংলা সঙ্গীত-মেলায় অংশ নিতে পারাটা আমার কাছে অবশ্যই গর্বের। দেশের প্রধান বিচারপতি কলকাতায় এসেছিলেন। সেই সময়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমি ‘জন-গণ-মন’ এর পাঁচটি স্তবকই গেয়েছিলাম। গত বছর আমার মেন্টরশিপে জেলা কলা উৎসবে আমার স্কুলেরা ছাত্রীরা প্রথম স্থান অর্জন করে।

কবি হিসেবে সানন্দা, কবিতা জগৎ, ত্রিপুরার দৈনিক সংবাদ, বাংলাদেশের ভারত-বিচিত্রা, দৈনিক আজাদি ইত্যাদিতে আমার কবিতা একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে।  আন্তর্জাতিক হ্যাম রেডিওর ভারতীয় শাখার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছি। ২০১৭-য় হায়দ্রাবাদে ‘রিচ ইন্ডিয়ান কালচারাল হেরিটেজ’ অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রকের একটি ২১ দিনের ট্রেনিং ক্যাম্পে যোগ দিই। আমি হুগলী জেলার একমাত্র শিক্ষিকা-প্রতিনিধি ছিলাম। এরপরেই মার্কিন মুলুকের ফুলব্রাইট কমিশন যারা শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয় ইউনেস্কোর সঙ্গে কাজ করেন, তারা আমাকে আমন্ত্রণ জানায়। কিন্তু পারিবারিক কারণেই যেতে পারি নি।

শিল্পী হিসেবে আপনার জীবনে টার্নিং পয়েন্ট কী ছিল?

শিল্পীর জীবনে একটা বড় পাওনা হল তার কাজের স্বীকৃতি। এটি পেলাম ‘এডুকেশনাল এবং কালচারাল কনট্রিবিউশন’ হিসেবে। কর্ণাটক রাজ্য সরকারের তরফে আমাকে সম্মানিত করা হয়। রাজ্যপাল বিশাল ভরদ্বাজ আমার হাতে ‘টিচারস ট্রোভ’ ট্রফি তুলে দেন। সারা ভারতের মোট ৩০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল। রাজ্য সঙ্গীত অ্যাকাদেমি থেকে ভজনের জন্য খুব অল্প বয়সে পুরস্কার পেয়েছিলাম। সেটিও জীবনের অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।

কোন কোন শিল্পীর গান, লেখনী এবং জীবনবোধ আপনাকে টানে?

মান্না দে, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের গানের একনিষ্ঠ ভক্ত। কাজী নজরুল ইসলাম শুধু ব্যাক্তি হিসেবেই নয়, সাহিত্যিক হিসেবেও তার বিভিন্ন দিকগুলি আবিষ্কার করতে চাই। তাই আমার বর্তমান গুরু খেয়া চট্টোপাধ্যায় এবং পূরবী দত্তের গায়কী, শিক্ষা এবং পরিবেশন আমাকে টানে। কবি হিসেবে বলতে গেলে আমি জয় গোস্বামীর কবিতার বড় ভক্ত। তাছাড়া সমর সেন, বিনয় মজুমদারের কবিতাও ভালো লাগে। তীর্থঙ্কর মৈত্রের লেখনী আমাকে টানে। আমার বর্তমান গুরু খেয়া চট্টোপাধ্যায় এবং আমাকে তবলায় সঙ্গত করেন নিশীথ চট্টোপাধ্যায়; এনারা আমার সঙ্গীত জীবনকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছেন।

কী কী ধারার গান আপনি গেয়ে থাকেন এবং কী বিষয়ের ওপর কবিতা লেখেন?

আমি মূলতঃ নজরুল গীতি গাইলেও অতুলপ্রসাদী, আধুনিক গানও শিখছি। বাইরের রাজ্যে আমার নিজের রাজ্যকে যখন প্রতিনিধিত্ব করেছি তখন ভক্তিমূলক গানই গেয়েছি। মধুবন রেডিওতে গাওয়ার সময় আমি নজরুলের কিছু ভক্তিমূলক গান আমি হিন্দিতে অনুবাদ করেও গেয়েছি।

কবিতার বিষয় ভীষণভাবেই জৈবনিক এবং ভালোবাসা। এর বাইরে খুব একটা বেরোতে পারছি না। ভালোবাসা বলতে বৃহত্তর অর্থেই বোঝাতে চাইছি। যেমন প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা বা বন্ধুত্বের মধ্যে যে অনুচ্চারিত ভালোবাসা থাকে সেগুলিও আমার কবিতার বিষয়।

কবিতা কি সোশ্যাল নেটওয়ার্কের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে? কবিতার বইয়ের প্রতিও মানুষের আগ্রহ কমছে, এটার কারণ কী?

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক তো আমার কাছে পজিটিভই মনে হয়। কারণ আমার পরিচিতির অনেকটাই জুড়ে রয়েছে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক। আগে কবিতার আলাদা মঞ্চ ছিল ম্যাগাজিনগুলি। এখন সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও কিন্তু অনেক মানুষের কাছেও পৌঁছনো যায়। তাহলে তো ক্ষতি নেই কিছু।

আমার মনে হয় কবিতা ব্যাপারটি মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে না বেশ কিছু দুর্বোধ্যতার জন্য। কবি যেভাবে ভাবছেন, সেই ভাবনার লেভেলের সঙ্গে পাঠকের ভাবনার লেভেল যাচ্ছে না। রবীন্দ্রনাথের যে দার্শনিক কবিতা রয়েছে তাও কি সকলের কাছে সমান ভাবে গ্রহণযোগ্য? একটা ট্যাবু হয়ে যাচ্ছে যে, “কবিতা, ওরে বাবা কিছুই বুঝি না”। স্বল্প পরিসরে রূপকার্থে অনেক কথা বলতে হয়। তাই সেখানে বুঝতে না পারার ফলে বই কেনার ক্ষেত্রে বিমুখতা তৈরি হয়।

সুস্থ সংস্কৃতি কি ক্রমশঃ হারিয়ে যাচ্ছে?

এটা কিন্তু ভীষণভাবেই ব্যাক্তির ওপর নির্ভর করে। সংস্কৃতি বিষয়টিকে আমরা কীভাবে দেখবো? আমরা কি শিকড়ের সঙ্গে জুড়ে থাকবো? নাকি সেগুলি থেকে আরও দূরে সরে যাবো? আমি মনে করি আমার দেশের সংস্কৃতিকেই যদি আরও পল্লবিত করার চেষ্টা করি তাহলে কখনোই আমাদের ঐতিহ্য কোনোদিনই হারাবে না।

এখন সংস্কৃতির সংজ্ঞা আমার কাছে কী? রুচিশীলতা, মননশীলতা, তার সঙ্গে রয়েছে নান্দনিকতা। নজরুল ইসলাম, হাওয়াইয়ান সুরকে ব্যাবহার করে লিখেছেন, “দূর দ্বীপবাসিনী, চিনি তোমারে চিনি”। তো এখানে তো সংস্কৃতির হানি হচ্ছে না। কারণ এটাও সংস্কৃতি চর্চা। সৃজনশীলতা যদি নান্দনিকতার সঙ্গে মিশে যায় তবে তার থেকে আর বড় পাওয়া হয় না।

রিয়্যালিটি শো কি শিল্পী তৈরি করে নাকি তারকা তৈরি করে?

রিয়্যালিটি শো-তে যে গানগুলি হয় তা শোনার থেকেও অনেক বেশি দেখার। আমি মহম্মদ রফির একটি লাইভ অনুষ্ঠানের ভিডিও দেখেছিলাম, “বড়ি দূর সে আয়ে হ্যায়, প্যায়ার কে তোফা লায়ে হ্যায়”। তখন গান শোনার বিষয় ছিল। তবে আজকাল রিয়্যালিটি শো-তে গায়িকারা আর গায়িকা থাকছেন না। কী শাড়ি পড়লাম, কীভাবে মেক-আপ করলাম, তারপরে গানটা শোনার বিষয়। তাই তারকা হয়েই তারা একরকম গাইতে আসছেন। এখন শিল্পী হওয়াটা পুরোপুরি সাধনার বিষয়। মান্না দে বা মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় গানকে নিয়ে যেভাবে এগিয়েছেন, সাধনা না থাকলে কোনোভাবেই তা সম্ভব হতো না।

নির্দিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলের ট্যাগ না থাকলে শিল্পীরা বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছেন। এই ব্যাপারে আপনি কী বলছেন?

একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে আমার প্রোফাইল জমা দিতে গিয়েছিলাম। সেখানকার এক কর্তাব্যাক্তি আমাকে বলেছেন, “এখনও কোনও চ্যানেলে আপনি করেন নি?” দীর্ঘদিন আকাশবাণীর শিল্পী হয়েও আমাকে এই কথা শুনতে হয়েছে। তাই চ্যানেলের ট্যাগের ওপর আজকাল অনেক কিছুই নির্ভর করছে।

গান ও কবিতাকে ঘিরে আপনার উপলব্ধি কী?

গান হোক বা কবিতা যে কোনও মাধ্যমই হল সৃজনশীলতার প্রকাশ। তবে সব ক্ষেত্রেই জীবনকে ভালোবাসা এবং জীবনের সঙ্গে থাকাটা জড়িয়ে থাকে। আমি মনে করি, এর ফলে সৃজনশীলতার সার্থক প্রকাশ ঘটে।

আপনার খারাপ এবং ভালো অভিজ্ঞতা কিছু রয়েছে?

ভালো অভিজ্ঞতা অবশ্যই কর্ণাটক সরকারের কাছে পুরস্কার পাওয়ার ঘটনা। সেখানে মোট ১৫০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এসেছিলেন গোটা দেশ জুড়ে। তাদের মধ্যে প্রথমে ১২০ জনকে সম্মানিত করা হল। তখন আমরা ৩০ জন যারা স্বীকৃতি পেলাম না তখন খুবই অসম্মানিত বোধ করছিলাম। ভাবছিলাম যে ডাকা হল কেন? তারপর ঘোষণা হল, আমাদের বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হবে, যা আমার জীবনের একটি আনন্দঘন মুহূর্ত।

গত বছর আমরা স্কুল থেকে স্টেট কালচারাল ফেস্টিভ্যালে গিয়েছিলাম অংশ নিতে। ভীষণ ভালো পরিবেশনা ছিল আমার ছাত্রীদের। অন্বেষা সূর বলে আমার এক ছাত্রী মঞ্চে মাদলও বাজিয়েছিল। অসম্ভব ভালো গান ছাত্রীরা গেয়েছিল। বিচারক থেকে দর্শক সকলেই আমাদের অনুষ্ঠানের পর অভিনন্দন জানান। কিন্তু একটি টেকনিক্যাল সমস্যার জন্য একেবারেই খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল আমাদের। আমাদের পরিবেশনার যে ভিডিওটি অনুষ্ঠানের আগে পাঠানো হয়েছিল সেটির মান সঠিক না থাকায় আমারা কোনও র‍্যাঙ্ক পাই নি। এটি আমার জীবনের একটি বিষাদময় মুহূর্ত।

শিল্প আর দর্শন এরা কি পরস্পরের হাত ধরাধরি করে চলে?

অবশ্যই, শিল্প আসলে একটি বহিঃপ্রকাশ। যা তোমার অন্তরে থাকে তা হল শিল্পের প্রতি তোমার ভালোবাসা এবং সৃজনশীলতা। স্বাভাবিকভাবেই তা জীবনের হাত ধরে চলে। আর জীবন মানেই তো দর্শন।

প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কি শিল্পের ক্ষতি করছে?

খানিক হলেও করছে। গানকে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে পিচ সংশোধন করা হচ্ছে। এখানে সাধনার জায়গাটা ক্ষতিগ্রস্ত খানিক হবেই।

একজন শিল্পী হিসেবে আপনার স্বপ্ন কী?

শিল্পের সঙ্গে সাধনার মাধ্যমে যুক্ত থাকা। শেখার কোনও শেষ নেই। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শেখা সম্ভব। আর সেটাকেই শিল্পিত ভাবে পরিবেশন করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াটাও একটা স্বপ্ন।

একজন শিল্পী হিসেবে সমাজের প্রতি কী দায়বদ্ধতা রয়েছে?

অবশ্যই রয়েছে, কারণ মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। শিল্পী এবং শিক্ষিকা হিসেবেও মনে করি, যদি পিছিয়ে পড়া কিছু মানুষকেও জীবনের মূলস্রোতে আনতে পারি তাহলে সেটাও আমি সার্থকতা বলেই মনে করবো। শিল্পী হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছনো মানেই নান্দনিকতার একটা দিক খুলে দেওয়া, সেটাও আমার কাছে একটা আশা-আকাঙ্খার জায়গাই বটে।

Promotion