EXCLUSIVE NEWS

৩০ টাকায় স্পোকেন ইংলিশ, সুখেন্দু স্যারের হাত ধরে গ্রাম-বাংলা দেখছে পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইংরেজির গুরুত্ব এবং চাহিদা বাড়ছে গোটা দেশেই। পশ্চিমবঙ্গও তাঁর ব্যাতিক্রম নয়। গোটা রাজ্য জুড়েই গজিয়ে উঠেছে হাজার হাজার স্পোকেন ইংলিশ শেখানোর কোচিং সেন্টার। কিন্তু নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে এই ধরণের প্রয়োজনীয় শিক্ষাও হয়ে যায় বিলাসিতার সামিল। বাংলার গ্রামীণ প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছয় না সেই শিক্ষার আলো। তাই চম্পাহাটির সুখেন্দু মুখার্জী নেমে পড়েছেন মুশকিল আসানে। মাত্র ৩০ টাকায় তিনি গ্রামের পর গ্রাম জুড়ে শিখিয়ে চলেছেন স্পোকেন ইংলিশ।

সময়টা তখন ২০০৫ সাল। স্কুল পড়ুয়া সুখেন্দু বায়োলজি টিউশনে ভর্তির জন্য গেলেন এক শিক্ষিকার কাছে। আর্থিকভাবে দুর্বল সুখেন্দুকে সেই শিক্ষিকা জানালেন, “আমি গরিবদের পড়াই না।” ব্যাস, সেখান থেকেই ঘুরলো জীবনের মোড়। এইচআইইএল প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কর্মযজ্ঞ শুরু করলেন কর্মযজ্ঞ। শুধু ইংরেজি ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলাই নয়, সেই সঙ্গে ইংরেজি ব্যাকরণের ভিত শক্ত করার দিকেও তাঁর রয়েছে শ্যেন দৃষ্টি। বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুর, সোনারপুর, চম্পাহাটি অতিক্রম করে তাঁর শিক্ষা ছড়িয়ে পড়েছে গৌড়দহ, বিদ্যাধরপুর, কালিকাপুরের মতো প্রত্যন্ত এলাকায়। ‘এক্সক্লুসিভ অধিরথ’কে সুখেন্দু মুখার্জী জানালেন, বাংলা মাধ্যমে পড়া নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরা ইংরেজি ভাষায় একটি চিঠিও লিখতে পারে না। ইংরেজির প্রতি এই দুর্বলতা কাটানোই আমার উদ্দেশ্য।

যদিও এই শিক্ষকের স্বপ্ন ৩০ টাকার বিনিময় তিনি হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীকে ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলতে দেখতে চান। তবুও শুধুমাত্র স্পোকেন ইংলিশ ক্লাসেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না এই শিক্ষক। পড়ুয়াদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মননও যাতে জাগ্রত হয় তাই সুখেন্দু স্যারের পথ হাঁটা একটু অন্য রাস্তায়।

গত ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর সংস্থার তরফে একটি শিক্ষামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তিনি। সেখানে তিনটি ক্ষেত্রে তাঁর পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয়। সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর, সামাজিক চেতনা এবং সাংস্কৃতিক কার্যকলাপের ভিত্তিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এমনকি অভিভাবকদের হাতেও তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার। ছাত্রছাত্রীদের হাতে পদক তুলে দেন পরিবেশ সচেতক সুমিত মন্ডল, তবলা বাদক তরুণ মুখোপাধ্যায়, আন্তর্জাতিক সিআইসি আধিকারিক প্রসেনজিৎ মিস্ত্রি, শিক্ষক অমিত কুমার সরকার এবং বিধায়ক নির্মল চন্দ্র মণ্ডল প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনায় বিশেষ ভাবে সহযোগিতা করেন স্নিগ্ধা মুখোপাধ্যায়, প্রদীপ্ত এবং তমালিকা মণ্ডল।

স্বপ্ন দেখানো এই শিক্ষক ফেরিওয়ালার এখানেই থেমে যাওয়ার কোনও ইচ্ছে আপাতত নেই। আরও অনেকটা রাস্তা তাঁর পেরোনো বাকি। জেলা থেকে রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে চান পড়ুয়াদের নয়নের মণি এই সুখেন্দু স্যার।

Promotion