Editorial

মালদায় বিদ্রোহের বসন্ত মিথ্যাবাদী শিক্ষাব্যাবস্থার বিরুদ্ধে

 

নিজেকে এদেশের একজন ছাত্র বলতে লজ্জাই লাগে মাঝে মাঝে। কেন্দ্রীয় সরকারী MHRD তত্ত্বাবধানে থাকা একটা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৬ বছর পড়ার পর ছাত্ররা জানতে পারে, তাদের কোর্সের কোনো অ্যাফিলিয়েশান নেই। প্রচুর আন্দোলনের পর যাও বা ডিপ্লোমা সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করা গেল, তারপর জানা গেল সেই সার্টিফিকেটের কোনো দামই নেই। মানে সরকারী একটা কলেজ সার্টিফিকেট দিল, কিন্তু সেটা নিয়ে কোনো সরকারী চাকরীই পাওয়া যাবে না। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই হাত তুলে নিয়েছে, কেন্দ্রও কোনও উচ্চবাচ্য করছে না।

ছেলেগুলোর ছ’ ছটা বছর নষ্টের দায় কি দেশের এই অদ্ভুত সিস্টেম নেবে? কী করবে এরা? লাগাতার ১৭০ ঘন্টা অবস্থান করেছে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে। কলেজ কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সহমর্মিতার জায়গা থেকে এটাকে দেখার বদলে ছাত্র-ছাত্রীদের নামে মিথ্যে কেস দিয়েছে। ফোন করে থ্রেট দেওয়া হচ্ছে। তবু তারা লড়েছেন কারণ লড়াই ছাড়া আর কোনো রাস্তাই খোলা নেই।
হ্যাঁ বলছিলাম না লজ্জা লাগে, কারন প্রতিবাদ করতে করতে তারা এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে নিজের মাথার চুল কেটে ন্যাড়া হয়ে প্রতিবাদ করছে এই “শাইনিং ইন্ডিয়া” তে। এ লজ্জা রাখি কোথায়। পাশে দাঁড়ান এদের। সব কিছুর একটা সীমা থাকে তো।সরকারের হুঁশ না ফিরলে তার গালে দুটো থাপ্পড় মেরে হুঁশ কি করে ফেরাতে হয় সেটা সি.ইউ দেখিয়েছে, যাদবপুর দেখিয়েছে, মেডিক্যাল দেখিয়েছে, প্রেসিডেন্সি দেখিয়েছে। মালদার গনি খান চৌধুরি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজও দেখাচ্ছে।
গত সোমবার মালদায় GKCIET-এর প্রতারিত ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ সভায় পাশে ছিল কলকাতা, বর্ধমান, যাদবপুর এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা।

Promotion