Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
সৌম্য দে - গ্ল্যামারে অবিশ্বাসী শ্রীরামপুরের এক নৃত্যশিল্পী - Exclusive Adhirath
মেঘে ঢাকা তারা

সৌম্য দে – গ্ল্যামারে অবিশ্বাসী শ্রীরামপুরের এক নৃত্যশিল্পী

শ্রীরামপুরেরই এক নৃত্যশিল্পী সৌম্য দে। শুধু শিল্পীই নন, হোলি হোম স্কুলে তিনি নৃত্য প্রশিক্ষকও বটে। সেই সঙ্গে সামলান সেন্ট্রাল ডান্স একাডেমী অফ শ্রীরামপুরের দায়িত্বভার। এতোকিছুর পরেও কিন্তু তাঁর বিন্দুমাত্র অহঙ্কার নেই। এক্সক্লুসিভ অধিরথের প্রতিবেদককে তিনি তাই অবাক চোখে বলেন, আমার ইন্টারভিউ নেওয়ার কারণটাই তো বুঝলাম না। তবে তিনি তাঁর জীবন দিয়ে নাচ সম্পর্কে যা বুঝেছেন, শিখেছেন তাই হুবহু তুলে ধরলেন আমাদের ওয়েব পর্দায়।

নাচের জগতে আপনার পা রাখা কীভাবে?

২০০০ সালের আগে একটি মধ্যবিত্ত বাড়ির ছেলে নাচ করবে এই জায়গাটা খুব একটা পরিষ্কার ছিল না। তাই নাচের প্রতি আমার ভালোবাসা থাকলেও কোনও ভাবে আমি ওই নাচের স্কুলে ভর্তি হই নি। আমি সাংস্কৃতিক জীবন শুরু করেছিলাম মূকাভিনয় দিয়েই। এক সময় মূকাভিনয়ের স্যার এখান থেকে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছিলেন তখন আমার দলটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। তখন আমার একটি দিদির ছোট্ট দলে নাচ করার সুযোগ হয়। তবে আমি শিখে নাচ করা এবং না শিখে নাচ করার ফারাকটা বুঝতে পারছিলাম। তারপরেই আমি নাচের স্কুলে ভর্তি হলাম।

আপনার গুরু কারা ছিলেন?

একদম প্রথমেই বীজ বপন বলে যদি কোনও ব্যাপার থেকে থাকে তাহলে সেটি হলেন তুলিকা মান্না। তারপর তনুশ্রী শঙ্করের ছাত্র অভিজিৎ মাহাতোর কাছে শিখি। খুব অল্পদিনের জন্য প্রশিক্ষণ পেয়েছিলাম স্বপ্না ব্যানার্জী বসাকের কাছে। পরবর্তীকালে ওনার সঙ্গে সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল পিসি-ভাইপোর সম্পর্ক। এনারা ছাড়াও শিখেছি আদিত্য মিত্রের কাছে।

ঠিক কবে থেকে ভাবলেন নাচকেই আপনি পেশা হিসেবে নেবেন?

২০০০ সাল থেকে আমার গ্রুপ আহিরী, এ গ্রুপ ফর পারফর্মিং আর্টস। প্রথমে কিছু করা যাক, এই ভাবনা-চিন্তা থেকেই শুরু করি। তারপর আস্তে আস্তে বাইরে যাওয়া যখন শুরু হয় তখন খরচের একটা ব্যাপার চলে আসে। দ্বিতীয়তঃ একটা ব্যাপার থেকে যায়। যারা নাচ করতে আসে তাঁরা কী জন্য আসবে? একটা খরচ তো আছেই। তাই ২০০৬ থেকে আমরা পেশাদারী ভাবে কাজ করতে শুরু করি।

কী কী ধারার নাচ আপনি মূলতঃ করে থাকেন?

মূলতঃ সমকালীন এবং সৃজনশীল নৃত্য। যেটাকে নাচের ভাষায় কনটেম্পোরারি ডান্স স্টাইল বলে। শাস্ত্রীয় নৃত্যকে ভেঙে এবং সমকালীন ডান্স ফর্ম থেকে ভেঙে নিজস্ব একটা ধারা তৈরি করেছি। সেটা হয়তো খুব বিখ্যাত নয় বা অনেকেই জানেন না। কিন্তু আমি আমার মতো কাজ ফর্ম করে থাকি। যেটা অনেক সময়ই অন্য ধারার সঙ্গে মেলে না।

ধরা যাক, একই বয়সের দুটি আলাদা সন্তান। একজন কিছুই পাচ্ছে না, আরেকজন সব ভালো কিছু পাচ্ছে। এটা আমি আমার ডান্স ফর্মে দেখানোর চেষ্টা করি। আরেকটি বিষয় হল সমপ্রেম। আমি কীরকম সাজগোজ করবো? আমি তো আমার মতো জীবন চালাবো। কিন্তু কোনও কোনও সময় সমাজ আমাকে দেখিয়ে দিচ্ছে এই ভাবে আমাকে চলতে হবে। তাহলে এটা কি ব্যাক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হচ্ছে না? তাই ওদের কথা বলে আমার একটি প্রোডাকশন আছে যেটি দেশে এবং খুব সামান্য হলেও বিদেশে সমাদৃত। ওই আকাশ, বাতাশ, ফুল, তারা, চাঁদ নিয়ে কথা বলার জন্য অনেকেই আছে। আমার মনে হয় আর্ট ফর্ম খুব ভালো একটি হাতিয়ার প্রতিবাদের এবং তোমার বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। আমি রাস্তা দিয়ে একটা মিছিল করে যেতেই পারি কিন্তু সেটা কতজনের মনে থাকবে? কিন্তু সেই বক্তব্যই যদি আমি পথনাটিকা অথবা নাচ অথবা গানে-কবিতায় তুলে ধরি? তাহলে সেটা কিন্তু মানুষের গভীরে পৌঁছবে।

এখনও পর্যন্তও কী কী উল্লেখযোগ্য কাজ করেছো?

স্রষ্টার কাছে তাঁর সব সৃষ্টিই উল্লেখযোগ্য। অবশ্যই আমার ছোট বড় অনেক কাজই আছে। কিন্তু যেটা মানুষের কাছে সমাদর পেয়েছে সেটি হল, ২০১৫ তে  সেন্ট্রাল ডান্স একাদেমি অফ শ্রীরামপুরের জন্ম। আমাদের মনে হয়েছিল এক ছাদের তলায় না এলে নৃত্যশিল্পীদের ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো জায়গায় থাকবে না। আমার শহরে পরিকাঠামোগত দিক দিয়ে খুব সুন্দর পরিবেশ আছে বলে মনে হয় না। বিপ্লব একদিনে হয়তো আসবে না। কিন্তু সব শিল্পী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন আসবেই। কাজকর্মের সূত্রে নানা জায়গায় যেতে হয়। সেখানে গিয়ে দেখেছি একদল শিখে করছে, আরেকদল ভুল শিখে করছে। এই ভুল শেখাটাকে সরানোর জন্য আমরা ওয়ার্কশপ করে থাকি।

 

কেন মনে হল নৃত্যের মাধমেই আপনার বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন?

আমার মা গান গাইতেন। জিনগত দিক দিয়ে বললে হয়তো সংস্কৃতির ছোঁয়াটা সেখান থেকে এসেছে। এটা ছাড়া বলতে গেলে নাচ আমার কাছে অত্যন্ত সহজাত একটি ব্যাপার। আমি যতক্ষণে কলম চালাতে পারবো অথবা কিছু বলতে পারবো, ততক্ষণে আমি শারীরিক ভাষা দিয়ে সেই বক্তব্যকে অনেক তাড়াতাড়ি প্রকাশ করতে পারবো। তাই তুমি যাতে সহজাত, সেটা দিয়েই তুমি তোমার বক্তব্য প্রকাশ করো।

১৮ বছরের দীর্ঘ পথচলায় আপনার অভিজ্ঞতার কথা জানান।

দেশের বাইরে অনুষ্ঠান করতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। আন্দামান বিচ ফেস্টিভ্যালেও পারফর্ম করেছি।

তবে মন ছুঁয়ে যাওয়া একটি অভিজ্ঞতার কথা বলবো। ২০০০ সালের শুরুতে যখন নাচের জগতে পা রাখি তখন সেটা বাড়ির লোক মেনে নিতে পারে নি। তারপর পথ চলতে চলতে হঠাৎ ঠিক করা হয় আমাদের দলের সকলকে নিয়ে একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান করবো। তখন আমার নিজের পোশাক সেরকম কিছু না থাকায় ধার করে ড্রেস কিনে কোনওরকমে সামলানো হয়। বাড়ির লোকও সে অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিলেন। রাতে যখন বাড়ি ফিরে শুলাম তখন শুনতে পেলাম বাবা মাকে কিছু বলছেন। বাবা বললেন, “ও তো ভালোই নাচে। ওকে বলে দিও ও যেন আর পোশাক ধার না করে, আমি ওকে কিনে দেবো”। এক শিল্পী হিসেবে পরিবারের সাপোর্টটা একটা বড় প্রাপ্তি ছিল। কিছুদিন আগে একটি অনুষ্ঠানে আমার থিম ছিল বাচ্চাদের ওপর মানসিক চাপ। যেহেতু মূকাভিনয় দিয়ে আমার কেরিয়ার শুরু তাই থিয়েটারের প্রতিও আমার প্রেম আছে। তারই চাপ পড়েছিল উক্ত প্রযোজনাটিতে। এরপর আমার এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়। কাকতালীয় ভাবেই তাঁর মা-বাবা মূক ও বধির। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলে যে তাঁর মা-বাবার ইশারার ভাষা খুঁজে পেয়েছে আমার কাজে। এটা আমার কাছে ভালো প্রাপ্তি।

খারাপ অভিজ্ঞতাও আছে। ছোটবেলার একটি ঘটনার কথা বলছি। শ্রীরামপুরেই একটি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে নৃত্য প্রতিযোগিতায় আমার যোগ দেওয়ার কথা। অনুষ্ঠানের দিন দশেক আগে জানানো হয় অনুষ্ঠানটি হবে না। পরে জানতে পারি আমাকে দেখতে সুন্দর নয় বলে আমাকে বাদ দেওয়া হল। এই ঘটনা অহরহ ঘটছে। যাদের দেখতে সুন্দর তারাই লাইম লাইটে আসতে পারবেন। যারা সুন্দর নয় তাদের জন্য পড়ে রইল ছোটখাটো ব্যাক-স্টেজের কাজ। এই বৈষম্যের তীব্র বিরোধিতা করছি। হ্যাঁ, নান্দনিকতার একটা ব্যাপার-স্যাপার অবশ্যই আছে। তাহলে বড় বড় যে ডিরেক্টর রয়েছেন তারা এমন ভাবেই বিষয়টি ভাবুন যাতে সকলেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সুযোগ পান।

সেন্ট্রাল ডান্স একাডেমী অফ শ্রীরামপুরের সম্পাদক হিসেবে কী বার্তা দিতে চান?

এখন গানের লোকেরা এক হয়ে ভালো কাজ করতে পারে। নাটকের লোকেরা এক হয়ে ভালো কাজ করতে পারে। তাহলে নাচের মানুষরা এক হবে না কেন? আমি আমার মতো ভাবছি। আমার পাশের পাড়ার নৃত্যশিল্পী অন্য কিছু ভাবছেন। প্রত্যেকেরই চিন্তা ভাবনা আছে কিন্তু তা বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়িয়ে। আমাদের উদ্দেশ্য এই ভাবনা-চিন্তা গুলো এক করে একটা বড় কোনও চিন্তা করা। এর ফলেই ভবিষ্যতের শিল্পীকে ভালো কিছু দিয়ে যেতে পারবো।

এখন কলকাতায় যে ওয়ার্কশপ হয়ে থাকে সেখানে এখানকার অনেকেই যেতে পারেন না। দূরত্ব এবং যাতায়ত খরচও আছে। সেখানে আমাদের উদ্দেশ্য বছরে অন্ততঃ একটি নাচের কর্মশালা করা যেখানে মফঃস্বলের শিক্ষার্থীরা ভালো কিছু পেতে পারে। একটা এমন অনুষ্ঠান করা যেখানে এক ছাদের তলায় বিভিন্ন নাচ দেখাতে পারে। কারও যদি খামতি থাকে তাহলে তা শুধরে দেওয়া। কেউ ভালো কিছু করলে তাঁর থেকে শেখা। এইভাবে এখানকার সাংস্কৃতিক পরিকাঠামোগত মানের উন্নয়ন ঘটাতে চাই। একদিনে তো এটা হবেনা, কিন্তু আমরা শুরু করেছি।

নৃত্য আর দর্শন এরা কি হাত ধরাধরি করে চলে? আপনার কী মত?

প্রত্যেক শিল্পীরই নিজস্ব দর্শন আছে। সে তাঁর মতোই পৃথিবীটাকে দেখে। আমি যদি খুব সমাজ-সচেতন হই তাহলে আমার কাজে সামাজিক জিনিসপত্রের ছাপ পড়বে। আমি প্রকৃতিপ্রেমী হলে আমার প্রযোজনায় আকাশ-পাখি-গাছের প্রতিফলন দেখা যাবে। তবে ভালো দর্শনবোধের অভাব চোখে পড়ছে। আমি আমার মধ্যে নিজেকে সঙ্কুচিত রাখছি। চারপাশের কোনও খবর রাখছি না। আমরা গতানুগতিক কাজকর্ম করতেই পছন্দ করি। যেই মেইনস্ট্রিম কাজকর্মের বাইরে যেই ভাবছি বাঙালি সঙ্গে সঙ্গেই গেল গেল রব তুলবে। আমি গুরুর কাছে যেটা শিখেছি সেটাই শেখাচ্ছি। না আছে তাঁর মধ্যে নিজেকে সংস্কার করার চিন্তা ভাবনা, না আছে সেটাকে আরও ঘষে মেজে চর্চা করার ইচ্ছে। তাই মনে হয় সেই দর্শনবোধটা প্রায় হারাতে বসেছে।

আপনি বলেছেন, মূকাভিনয় দিয়ে আপনার কেরিয়ার শুরু হয়েছিল। তাই নাচের ক্ষেত্রে থিয়েটারের প্রভাব কতোটা?

আমি আমার ভাবনাকে গল্পের মধ্য দিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছাই। আমি যদি শুধুমাত্র নৃত্যের মাধ্যমে সেটাকে পৌঁছতাম তাহলে যে পরিশ্রম দরকার তা সবসময় হাতের কাছে পাওয়া যায় না। যেহেতু মূকাভিনয় দিয়ে আমার কেরিয়ার শুরু হয়েছিল এবং নাটকের প্রতি আমার এক বিশাল মোহ আছে। তাই আমার প্রোডাকশনে শুধু নাচ নয়। নাচ, গান, অভিনয় সবকিছুর কোলাজ করে দর্শকের কাছে পাঠাই।

আপনি গ্রাম ও শহর দু’জায়গাতেই যান পারফর্ম করতে। কোনও ফারাক কি চোখে পড়ে?

যেটা চোখে পড়ার মতো বিষয় তা হল ভালো প্রতিভা গ্রামেও আছে। কিন্তু ভালো গুরু না থাকায় সেখানে নাচের মান পড়ছে। আমাদের কলকাতার কোনও সংগঠন স্বেচ্ছায় গ্রামে গিয়ে কাজ করে না। ফলে যেখানে মূলত অন্ধকার সেখানে আলোটা গিয়ে পৌঁছায়ই না। মানুষকে সচেতন করার জন্য যে মিছিলগুলো হয় সেগুলির কথা যদি ধরি। সেগুলো বড় রাস্তা দিয়ে চলে যায়। যে গলির ভেতর সচেতনতা পৌঁছনো উচিৎ সেখানে কোনও আলো যায়ই না। শহরের তুলনায় গ্রামের নাচের শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট পরিমাণে গ্রুমড নয়। সমস্ত গুরুকে তাই আমার বার্তা, আপনারা যেমন আপনাদের প্রতিষ্ঠানে ভালো ছেলে-মেয়েদের শেখাচ্ছেন, তেমনি গ্রামের জন্যেও কিছু ভাবুন। তাতে সেখানকার প্রতিভারা লাইমলাইটে আসতে পারবে। আমরা যত্নবান হচ্ছি না বলেই সেই প্রতিভারা হারিয়ে যাচ্ছে যার জন্য দায়ী থাকছি আমরা এবং বড় বড় গুরুরা। এরই সঙ্গে দর্শকেরও ফারাক আছে। গ্রামের মানুষ যেমন শহরের শিল্পীদের অনুষ্ঠান দেখতে পান না। তাই তারা টিভি দেখে সব কিছুই বিচার করেন। নাম করেই বলছি, মেদিনীপুর অঞ্চলে এমন কিছু অনুষ্ঠান হয় যা প্রকাশ্যে আনার মতো নয়। যদিও এই করে অনেক শিল্পীর আয় হয়, কিন্তু সেগুলি একেবারেই ভালো অনুষ্ঠান নয়। এখন ভাল-খারাপ অনুষ্ঠান এই বোধ দর্শককে কে দেবে? সেটাও আমাদেরই দিতে হবে, সেই দায়বদ্ধতা নিতান্তই আমাদেরই।

একজন নৃত্য শিল্পীর ভবিষ্যৎ কী?

সরকারী তরফে নৃত্যশিল্পীদের কিছু আশ্বাস দেওয়া আছে। কিন্তু কীভাবে তা পাওয়া যায় আমার জানা নেই। অনেক প্রকল্প রয়েছে তবে কীভাবে তা বাস্তবায়িত হবে তাও জানা নেই। শিল্পীর ভবিষ্যৎ একটাই। অনেক দিন গুরুর কাছে শিখে ওই দোকান খুলে বসার মতো নিজস্ব প্রতিষ্ঠান খুলে বসলাম। সেখান থেকেই বাকি জীবনটা কাটালাম। আসলে নৃত্যশিল্পীদের টাইম-স্প্যান খুবই কম হয়। আমি সত্তর বছর পর্যন্ত নাচ করতে পারবো না। তাই বলে কী ব্যতিক্রম নেই? কিন্তু ব্যতিক্রম উদাহরণ হতে পারে না। বড়জোর পঞ্চাশ থেকে ষাট বছর পর্যন্ত আমি পারবো। তাই আমার মতে, নৃত্যশিল্পীর ভবিষ্যৎ আসলে অন্ধকার।

নাচকে ঘিরে আপনার উপলব্ধি কী?

একটি মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে নিজেকে ডান্সার ভাবা চরম বিলাসিতা ছাড়া কিছুই না। পাশাপাশি এটাও ঠিক অনেক বেশি কাজ হচ্ছে। অনেক নাচের সুযোগ আছে। টেলিভিশনের ফলে নাচ ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। আমি খারাপ ভালো প্রসঙ্গে না গিয়ে বলতে পারি কাজের পরিধি বেড়েছে। মানুষ ভাবতে শুরু করেছে উকিল, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারের পাশাপাশি একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবেও সন্তানকে তৈরি করা যেতে পারে।

কোন কোন নৃত্যশিল্পীর কাজ ও জীবনবোধ আপনাকে টানে?

আমি মূকাভিনয় শিখতে যাই শক্তিশেখর চক্রবর্তীর কাছে। তিনি আমাকে শিল্পী হিসেবে কী করা উচিৎ সেই জ্ঞান দিয়ে গেছেন তা আমি আজন্মকাল ভুলবো না। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডান্স গ্রুপ ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা আদিত্য মিত্র সদ্য প্রয়াত হয়েছেন। নাচ মানে কি শুধুই কয়েকটি ভঙ্গিমা আর গানের সঙ্গে হাত পা নাড়া? আমার কাছে সেটা নয়। সামাজিক দিকগুলোকে মেরামত করার একটা হাতিয়ার। সেটাও আমি তাঁর থেকেই পেয়েছি। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল অন্যতম লোকনৃত্য প্রশিক্ষক বটু পালের কাছে নাচ শেখার। উনি গ্রামে-গঞ্জে থেকে টুসু, ভাদু, ছৌ এই ধরণের নাচ তুলে এনেছিলেন। এখানে বলে রাখি লোকনৃত্য এবং লোকসঙ্গীতের সঙ্গে নৃত্য দুটো সম্পূর্ণ আলাদা। এখন ধরা যাক, ময়না ছলাৎ ছলাৎ। এটি একটি লোকগান। এবার এর সঙ্গে নাচলেই কি সেটা লোকনৃত্য হয়ে যাবে? লোকনৃত্য হল সারি, ছৌ এগুলো। আমার এক বন্ধু রায়বেঁশে নিয়ে কাজ করে। এগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। বাংলায় এই গ্রামীণ নাচগুলো ভীষণ আড়ম্বরহীন নাচ, সেরকম ভালো কস্টিউমও নেই। টিভির প্রতিও আমার অভিযোগ যে তারাও এগুলোকে সেভাবে পাত্তা দেন না।

নৃত্যশিল্পী হিসেবে আপনি কী কী কৌশল অবলম্বন করেন? অনুশীলনই বা কীভাবে করেন?

অনেক বড় বড় গুরুরা আছেন। আমি সেখানে একেবারেই ক্ষুদ্র। আমার কাছে প্রধান বিষয় হল বেসিক একটি জ্ঞান। যে আমি কীভাবে মঞ্চে দাঁড়াবো? সোজা হয়ে দাঁড়াবো? কোন দিকে তাকাবো? আমরা প্রচুর মুদ্রা জানি, তাল জানি, কিন্তু কীভাবে দাঁড়াবো সেটাই আমরা অনেকেই ভুলে যাচ্ছি। আমিও চেষ্টা করছি পরবর্তী প্রজন্মকে এটা শেখানোর? আমি কীভাবে কথা বলবে, কীভাবে মিশবে? পরবর্তীকালে নৃত্যশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে তাহলে সেই ছবিগুলোকে কীভাবে নাচের মাধ্যমে দেখাবে? একটা দর্শনবোধ দেওয়া। এটা আমি চেষ্টা করে থাকি।

বেশিরভাগ অনুষ্ঠানেই নাচকে জায়গা দেওয়া হয়। আপনি কি মনে করেন নাচকে ভালবেসেই তারা অনুষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত অরেন? নাকি এটা স্রেফ বিনদনের দায়ে করেন?

দীর্ঘ দিন নাচের সঙ্গে থাকার ফলে অনেকরকম আয়োজকের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। একদল আয়োজক যারা মনে করেন এটি অত্যন্ত প্রাচীন একটি আর্ট ফর্ম, একে বাঁচিয়ে রাখা দরকার। তারা সেই সম্মান দিয়ে নাচকে তাদের অনুষ্ঠানে সেই জায়গায় রাখেন। আরেক প্রকার আয়োজক আছেন যারা খুব সস্তায় বিনোদনের জন্য নাচকে তাদের প্রোগ্রাম লিস্টিতে রাখেন। ধরা যাক স্বাধীনতা দিবসে একটি অনুষ্ঠান হচ্ছে। চলো একটা নাচের দলকে ডেকে নাও। তারা সারাদিন অমানুষিক পারফর্ম করলো। দিনের শেষে পাঁচশোটি টাকা এবং টিফিনের প্যাকেট নিয়ে বাড়ি চলে গেল। আয়োজকরা লাইটকে টাকা দিতে পারছেন, প্যান্ডেলকে টাকা দিতে পারছেন। তেমনি একটা ভালো প্রযোজনার জন্য শিল্পীকেও তো টাকাটা দিতে হবে। সেটাই তারা দিচ্ছেন না।

নাচ কি গানের কথার আক্ষরিক অর্থ ধরে হওয়া উচিৎ? নাকি ভাবগত অর্থ ধরে হওয়া উচিৎ?

যখন আমি পারফর্ম করবো তখন আমি তো নিজের দর্শন দেখাবো। তখন মাথায় রাখতে হবে আমার দর্শনের সঙ্গে যিনি গানটি লিখেছেন তাঁর দর্শনের সংঘাত বা ক্ল্যাশ হচ্ছে না তো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিল্পীরা পড়াশুনা না করেই এগিয়ে যান এই ক্ষেত্রে। আমি বলবো আক্ষরিক অর্থ নয়, ভাবার্থ বুঝেই তা নাচে প্রয়োগ করা উচিৎ। একটি অনুষ্ঠানে আমাকে বিচারক হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যদিও বিচার করার ক্ষমতা আমার একেবারেই নেই। সেখানে একটি মেয়ে রবীন্দ্রনাথের অত্যন্ত পরিচিত গানের সঙ্গে একটি মেয়ে নাচছিলো। সেখানে গানের একটি লাইন হল “আমার সুরগুলি পায় চরণ, আমি পাইনা তোমারে”। যখন সেই জায়গাটি এলো মেয়েটি পায়ে হাত দিল। নাচ শেষে আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম তুমি পায়ে হাত দিলে কেন? সে বলল ‘কেন চরণ মানে পা’। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কে বলেছেন? সে জানালো স্যার বলেছেন। আমি বললাম, ঠিকই বলেছেন কিন্তু এখানে চরণ বলতে গান বা কবিতার লাইনকে বোঝানো হয়েছে। এরকম অনেক ভুলভ্রান্তি আমরা করে থাকি। আমি একজন সাধারণ নৃত্য অনুরাগী। আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে রবীন্দ্র নৃত্য কী? এখন রবীন্দ্রভারতীতে একরকম নৃত্যায়ন হয়, বিশ্বভারতীতে অন্যরকম হয়। তাহলে আমি সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি কোনটাকে রবীন্দ্রনৃত্য বুঝবো? এটা গুরুদের কাছে আমার প্রশ্নও বটে।

নাচের রিয়্যালিটি শো কি শিল্পী তৈরি করে নাকি তারকা তৈরি করে?

আমার মনে হয় তারা কিছুই করে না। সস্তায় একঘণ্টার একটা বিনোদনের অনুষ্ঠান করে শুধু। আমি কোনও রিয়্যালিটি শোর বিরুদ্ধে নই। তাদের আরও সমৃদ্ধি হোক এটাই চাই। কিন্তু প্রচুর রিয়্যালিটি শো থেকে যে এতো শিল্পী বেরোচ্ছেন তারা কোথায়? তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কেন? শুধু নাচ জানলে তোমার চলবে না, তোমাকে ভল্ট খেতে জানতে হবে, লাফাতে জানতে হবে। প্রতিযোগীর পরিবার খুব গরিব, বাবা রিক্সা চালাচ্ছেন এগুলো দেখিয়ে আবেগ উস্কে দেওয়া। এগুলোর তো কোনও দরকার নেই। এসবের ফলে নাচ তাঁর ভাষা হারাচ্ছে। আমার মনে হয় একটি ডান্স ফর্ম শরীরে বসাতে লাগে সারা জীবন। টিভিতে দেখা যায় অল্প সময় অনেক নাচ শিখে ফেলে প্রতিযোগীরা। একটা কৌটোতে অনেক খাবার জোর করলে চেপে ধরলে যা হয় আর কী। এটা আমার ব্যাক্তিগত মত।

নির্দিষ্ট টিভি চ্যানেলের ট্যাগ না থাকলে বেশ কিছু ক্ষেত্রে নৃত্যশিল্পীরা বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছেন। এ ব্যাপারে আপনি বলবেন?

প্রথম প্রশ্নই করা হয়, আপনার অমুক চ্যানেলে যোগাযোগ আছে। দেখলাম, অমুক স্যারের কাছে অমুক ছেলে বা মেয়েটি অমুক চ্যানেলে চান্স পেয়েছে। আমার মেয়ে পাবে তো? আমার সন্তান যেন ভালো নৃত্য শিল্পী হয় এটা প্রতি দশজনে মাত্র এক জন বলে থাকেন। অধিকাংশই ওই টিভির গ্ল্যামারের প্রতি আকৃষ্ট হয়েই নাচ শিখতে ভর্তি হন।

একজন নৃত্য প্রশিক্ষক হিসেবে নতুনদের কী পরামর্শ দেবেন?

শেখো, যতোটা পারো শেখো। একটা সময়ের পরে নিজেই বুঝতে পারবে কোনটা ভালো কোনটা খারাপ? শিল্পী তৈরি হওয়ার থেকে আগে ভালো অডিয়েন্স হও। ধরা যাক, একটি অনুষ্ঠানে চারটে নাচের উপস্থাপনা রয়েছে। প্রথম নাচ হল, দর্শক খানিক কমলো। দ্বিতীয় নাচ হল লোক আরও কমলো। আমার ছেলেমেয়ের নাচ যেই শেষ আমি চলে যাচ্ছি। অন্যের ছেলেমেয়ের নাচের কোনও গুরুত্বই আমার কাছে নেই। তাই আগে ভালো দর্শক তৈরি হও। তারপর ভালো শিল্পী হবে, নাকি ডাক্তার হবে, নাকি উকিল হবে তোমার জীবনই তোমাকে পথ দেখাবে।

আপনি প্রায় ১৫ বছর ধরে নাচ শেখাচ্ছেন। দেড় দশক আগে শিখতে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এখন শিখতে আসা ছেলেমেয়েদের মানসিকতার কী পার্থক্য চোখে পড়ে?

প্রথমত সময়। আগে যারা শিখতে আসতো তাদের সময় ছিল, নাচের প্রতি নিষ্ঠা ছিল। আমি মানছি জীবন অনেক বেশি গতিময় হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের এখন সময় তো নেই-ই, সেইসঙ্গে নাচের প্রতি নিষ্ঠা কমেছে। আমি কাউকেই ছোট করছি না। আসলে এটা তো কম্বো প্যাকেজের যুগ। তোমাকে ভালো অঙ্কন শিখতে হবে, আবৃত্তি শিখতে হবে, ভালো গান গাইতে হবে, পড়াশুনাতেও প্রথম হতে হবে। সময় কোথায়? আর টেলিভিশন দেখে তো নাচ শিখতে আসে সব। তাই ধর তক্তা মার পেরেকের মতো সব গল্প। আমাদের কিছু করার নেই, আমি তো তাদের বলতে পারছি না যে শেখাবো না। কারণ এটাই তো আমাদের উপার্জন। সময়, মূল্যবোধ, গুরুর প্রতি সম্মানে অনেক ফারাক আছে। আগে গুরুর কাছে নাচ শিখতে ভর্তি হতাম। আর এখন নাচের ক্লাস জয়েন করছি। এই দুটির মধ্যে ভাবনাগত অনেক পার্থক্য রয়েছে।

অতিরিক্ত প্রযুক্তি নির্ভরতা কি নাচের ক্ষতি করছে?

আগেকার দিনের নাচে নৃত্য ভাবনা ও শৈলীর ওপরেই জোর দেওয়া হয়। কিন্তু এখন লাইট, পোশাক, স্টেজ ব্যাকগ্রাউন্ড, কোনও কোনও ক্ষেত্রে এলইডি স্ক্রিন। সবটা নিয়েই নাচের অনুষ্ঠান হয়। সেই জন্য নাচ তাঁর মূল জায়গা থেকে একটু একটু সরছে। ফলে নাচের অবস্থা ভবিষ্যতে আরও খারাপ হবে বলেই আমার ধারণা।

নাচকে ঘিরে চারপাশের এতো জাঁকজমক, জৌলুস এগুলোর ফলে কি নাচ তাঁর মাধুর্য হারাচ্ছে?

নাচের মাধুর্য হারাচ্ছে তো বটেই। প্রচণ্ড জাঁকজমক চলে আসায় নাচ তাঁর ভাষা হারাচ্ছে। আমরা একটা প্রোডাকশন করতে গেলে প্রচুর লাইট, বিশাল স্টেজ, ঝকমকে কস্টিউম করলাম। কিন্তু নাচটা কোথায়?

একজন শিল্পী হিসেবে সমাজের প্রতি আপনার কী দায়বদ্ধতা রয়েছে?

সমাজের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা বলতে বোঝায়, একটা ভালো সমাজ তৈরি করা। এটা তো একদিনে হবে না। আগে আমি নিজে ভালো শিখবো, তবে তো অন্য কাউকে শেখাবো। আসলে আমরা নিজেরা ভালো করে শিখি না। এভাবেই আর্ট ফর্মটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

আমি যে শহরে বাস করি, এটা ভাষার শহর, অক্ষরের শহর এবং ঐতিহাসিক শহর। শ্রীরাপুর বিগত কয়েক বছর ধরে একেকটা নতুন অলঙ্কারে সাজছে। অন্যান্য ভালো শহরের মতো প্রায় সব সুযোগ-সুবিধা পায় আমার শহর। কিন্তু একটা দগদগে ঘায়ের মতোই আমার শহরে একটি ভালো অনুষ্ঠানের হল নেই। আমরা কোনও বহিরাগত শিল্পীকে যখন শ্রীরামপুরে নিয়ে আসি তখন অত্যন্ত লজ্জায় পড়তে হয়। একটা ভালো হলের ন্যূনতম যা কিছু থাকা দরকার সেরকম হল নেই এই শহরে। আরেকটা কথাও বলে রাখছি। যদি কেউ সেন্ট্রাল ডান্স একাডেমী অফ শ্রীরামপুরের সহযোগিতা চায় আমরা সবার আগে ছুটে যাবো।

বাংলায় নাচের বর্তমান পরিস্থিতি কী?

সবটাই টিভিমুখী এবং ধীরে ধীরে নাচের মান পড়ছে। ভারতের সব জায়গার নিজস্ব শাস্ত্রীয় নৃত্য আছে। তেমনি বাংলার নিজস্ব শাস্ত্রীয় নৃত্য আছে যার নাম গৌড়িয় নৃত্য। রংচঙে নাচের জগতে এগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। শিখে নাচ করার থেকেও ইঁদুরদৌড়ে আমরা অনেক বেশি আগ্রহী হয়ে পড়ছি।

আপনি যে শহরে থাকেন সেখানকার নাচের পরিবেশ কী রকম?

“রাজা তোর কাপড় কোথায়?” এটা বলার মতো ভালো দর্শকের বড় অভাব। মূল্যবোধের অভাব। আমি ভালো কাজ করছি, আমার থেকেও ভালো কাজ কেউ করছে কিনা সেটা দেখার প্রয়োজনও বোধ করছি না। আমরা নিজের থেকে বেরিয়ে অন্য ধরণের কিছু দেখছি না। বড় আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছি।

মফঃস্বলে থাকার ফলে কী সুবিধা বা অসুবিধার সম্মুখীন আপনাকে হতে হয়?

প্রতিনিয়ত একটা বৈষম্যের সম্মুখীন তো হতেই হয়। সকল গুরুদের সম্মান জানিয়েই বলছি, বেশিরভাগ বড় অনুষ্ঠানে যারা অংশগ্রহণে যায় তারা বেশিরভাগ মফঃস্বল থেকেই যায়। কিন্তু লাইমলাইটে তারা আসতে পারে না। সেটা শুধু নির্দিষ্ট কিছু পদবীধারীদের জন্যই বরাদ্দ থাকে। এতে আমার আপত্তি আছে। যদি যোগ্যতা ভাগ করতে হয় তাহলে সেটা সকলের মধ্যে ভাগ করো। মফঃস্বলের শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট গ্রুমড না এবং তাদের গ্রুম করার চেষ্টাও কেউ করে না। ফলে অন্ধকারটা কাটে না।

কিছু সুবিধাও আছে। মফঃস্বলে থাকার জন্য অতোটা কর্মব্যস্ততা আমাদের মধ্যে ঢুকে যায় নি। তাই কেউ চাইলে নাচের মধ্যে মনোনিবেশ করলেও করতে পারে। যেটা অন্য বড় শহরে খানিক মুশকিলই হতো।

নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে প্রতিভাটাই কি যথেষ্ট?

এটা বিতর্কিত প্রশ্ন। নানা জন নানা মত দেবেন। কিন্তু আমি বলবো, প্রতিভাটাই কিন্তু বর্তমান সমাজে যথেষ্ট নয়। আমি খুব ভালো নাচ করি। কিন্তু আমাকে যথেষ্ট পরিমাণে সুন্দর দেখতে নই, আমার চেনা জানা নেই, আমার টাকাপয়সা বিশেষ নেই। প্রতিভার অবশ্যই দরকার, সেটা ছাড়া কিছুই হবে না। কিন্তু প্রতিষ্ঠা পেতে গেলে প্রতিভার পাশাপাশি এগুলোও ভীষণ জরুরী।

নাচকে ঘিরে আপনার স্বপ্ন কী?

নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছা তো সবারই থাকে, আমারও রয়েছে। কিন্তু আমি কোনও দিন লাইমলাইটে যেতে চাই না। আমি একেবারেই উচ্চাকাঙ্ক্ষী নই। আমার ইচ্ছে আছে এমন একটা দিন এ শহরের বুকে নেমে আসুক যেদিন শ্রীরামপুরের সব শিল্পী একসঙ্গে, একই ছাদের তলায় অনুষ্ঠান করবে। সব ফর্মের শিল্পী থাকবেন, কেউ বাদ যাবেন না। নাচের যাত্রা তো শেষ হয়ে যায়নি, এখনও চলছে। তাই এভাবেই তর্কবিতর্কের মাধ্যমে আরও কিছু জানা দরকার। তাই বড় গুরুরা মাঝে মধ্যে এসে যদি কর্মশালা করান তাহলে মফঃস্বলের ছেলে মেয়েদের, আমার মতো শিল্পীরাও উপকৃত হন।

বিশেষ সহযোগিতা – হোলি হোম স্কুল কর্তৃপক্ষ

Promotion