Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
এসএনএফ - এমনও হয়েছে আমরা নিজেদের গানের লিরিক্স ভুল গেয়েছি, দর্শক ঠিক গেয়েছে! - Exclusive Adhirath
মেঘে ঢাকা তারা

এসএনএফ – এমনও হয়েছে আমরা নিজেদের গানের লিরিক্স ভুল গেয়েছি, দর্শক ঠিক গেয়েছে!

কলকাতার একটি নামী রক কনসার্ট চলছে ২০১৮ এর সেপ্টেম্বরে। সেই মুহূর্তে একটি বাংলা ব্যান্ড মঞ্চে গান গাইছে। নাহ, কোনও বিখ্যাত কভার সং তো নয়ই, সেদিন দরশকাসনে বসে হলফ করে বলতে পারি গানটি একেবারেই শুনিনি। কিন্তু আমি না শুনলেও, ইতিমধ্যেই শুনেছেন হাজার হাজার মানুষ। তা নাহলে কি গানের সুরে অডিয়েন্স গলা মিলিয়ে মাথা ঝাঁকাতে পারে? ব্যান্ডটির নাম এসএনএফ। তাদের সঙ্গেই আজ আলাপ করালাম ‘এক্সক্লুসিভ অধিরথ’ এর ওয়েব-পর্দার দর্শকদের সঙ্গে…

তোমাদের ব্যান্ডের নাম এসএনএফ কেন?

ব্যান্ডের নাম এস এন এফ হওয়ার কারণ,আমি প্রথমে যখন  ২০১৬-তে শুরু করি তখন সোলো সেট-আপ হিসেবে এগিয়েছিলাম। তারপর সময়ানুক্রমে একের পর এক মেম্বাররা জুড়ে যায়। সোলো থেকে আস্তে আস্তে বুবলা, দীপ, অতনু, সায়ন্তন একে একে বন্ধুরা আসে। শুরু হলো ‘সৌম্যদীপ অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’র যাত্রা। পরে আমাদের শ্রোতারা সরলীকরণের উদ্দেশ্যে ছোট করে ‘এসএনএফ’ হিসেবে আমাদের ডাকতে থাকে। আমাদের কাছে খুব ক্যাচি মনে হয়েছিল, সহজেই রিলেট করতে পারে বলেই আমারা ঠিক করি এই নামেই পরিচিত হবো।

ব্যান্ডে ধরে নেওয়া হয় যে সাধারণত সকলের ভূমিকাই সমান থাকবে। অথচ এখানে নামের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে সৌম্যদীপই সর্বেসর্বা!

কথাটি আংশিকভাবে ঠিক।আমরা কাজটা দু’ভাবে ভেঙে নিয়েছি,বাকিদের ভূমিকা লাইভ স্টেজ হ্যান্ডলিংয়ে অনেক বেশি। কোন গিটার লাইন যাবে, কোন সাউন্ড কীভাবে ব্যালেন্সড হবে, কোন মনিটর কিভাবে শোনাবে এসব দিকে বুবলা, দীপ, সায়ন্তন, অতনু অনেক বেশি তৎপর। আর আমি লেখালেখিগত দিক, অর্থাৎ একটা লেখার কী মানে বোঝাচ্ছে, তার তাত্ত্বিক বিশ্লেষনটা কী বা কোন সুরটা বেশি গ্রহণযোগ্য, নতুন গান তৈরি করা এগুলো সামলাই।

তবে নতুন কোনও গান এলে আমি ওদের প্রথম শোনাই – ওরাই সবুজ সঙ্কেত দিলে এগিয়ে যাই। হ্যাঁ, এটা সত্যি যে প্রথমদিকে এসএসএফে আমিই সর্বেসর্বা ছিলাম। তবে ওরা আসার পর ব্যাপারটি পূর্ণতা পেতে শুরু করলো।

 

 

কোন ধারার গান এসএনএফ করে থাকে?

সাধারণত, আমরা গানে কোনও ভেদাভেদ বা জ‍্যরভিত্তিক শ্রেণীবিভাজন করিনা। আমরা মনে করি সবরকম গান নিয়ে ঘাটলে তবেই আরো বিস্তার বাড়বে আমাদের। লালন থেকে লেনন আমরা প্রতিক্ষেত্রেই ছাপ রেখে যেতে চাই।

আমরা সাধারনতঃ সব সাউন্ডস্কেপকেই এক্সপ্লোর করতে চাই কমবেশি। যেমন ‘সানগ্লাস’ অ্যালবামে পাঁচটি গান রয়েছে। ‘সানগ্লাস’ এবং ‘অপমৃত্যু’ অল্টারনেটিভ রক সাউন্ড। তেমনভাবেই ‘রাতজাগা পাখির দল’ অনেকটা কান্ট্রি – ভারতীয় সুর ঘেঁষা। ‘আপোস’ ও ‘অন্য ঠিকানা’ আবার পপ রক গোছের। যথার্থ বাণিজ্যিক গান বলা যায়। ‘ব্লকলিস্ট’ বলে একটা শর্ট-ফিল্মে সুপ্রতিম ‘অন্য ঠিকানা’ গানটা ব্যাবহারও করেছে। সব রকমের গান মিলিয়ে মিশিয়ে আমরা অ্যালবাম প্ল্যান করি। মানুষ তার মুড অনুযায়ী বেছে নিক তার পছন্দমত গান।

আপাতত এখন আমাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ফেরেস্তা” র কাজ করছি। প্রথম গান ‘জ্বলুক প্রত্যয়’, একটি ইন্সপাইরিং নাম্বার, সফট রক সাউন্ডের ওপর। আবার আমাদের সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া গান ‘তুমি নেই’ বেশ সাইকেডেলিক ঘরানার গান। কোনও বাঁধনে আমরা নিজেকে বাঁধতে চাইনা। তাই আমাদের জ‍্যরের পাশে লেখা এক্সপেরিমেন্টাল।

গানের বিষয় হিসেবে কোন টপিকগুলো তোমাদের মগজে ধাক্কা মারে?

যেহেতু এসএনএফের সব গানই আমার লেখা, তাই এক্ষেত্রে বলতে পারি আমার কাছে কোন স্পেসিফিক টপিক নেই গান লেখার জন্যে। গানের বিষয়বস্তু হিসেবে যা দেখছি চোখের সামনে সেটাই তুলে ধরি। যেমন এই আমাদের ঘষটে যাওয়া জীবনটা, এই ভাঙা শরীরটা, ক্লান্ত বিছানাটা, প্রেমিকার চলে যাওয়াটা, সূর্য ডুবে যাওয়া থেকে শুরু করে সিরিয়ায় সিরিয়াল বোম্বিং সবই টুকটাক উঠে আসে গানে। একটা মানুষ, একটা পশু, একটা কাগজ অথবা একটা প্রাণহীন বস্তু যা খুশি গানের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

“তোমায় খুব ভালোবাসি”, “আমি তোমায় ছাড়া থাকতে পারছি না”,”তোমার চোখের মায়া”,’চাঁদ’, ‘ফুল’, ‘তারা’ সেই একই চর্বিত-চর্বণ ভেঙে বেরিয়ে আসছি। ভাবনার স্ফুরণ ঘটছে, বিবর্তন হচ্ছে আমাদের। লেখাতে সেই ছাপ খুব আবশ্যিকভাবেই উঠে আসে।

যেমন,”নিঃস্পৃহ এই চাহিদায় তোমায় ছুঁয়ে ফিরে আসা, প্রাপ্তি স্বীকার সহবাসে, সময় আমার সর্বনাশা” এই লাইনে যেভাবে ভালোবাসাকে দেখছি, “চোখের পাতা যখন আমার আবার ছোঁবে তোমায়, সেই মরমিয়া হাতের সোহাগ অহেতুক আস্কারায়” এখানে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে, সঙ্গে আমরাও। বরাবরই চেষ্টা করবো যেন লিরিক্স আমাদের শ্রোতাকে ভাবায়। তবে এমনও কিছু করবো না যেটার মানে দুর্ভেদ্য হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ ভাববে যে খুব একটা বিশাল কিছু লিখেছে কিন্তু বুঝতেই পারছে না, এরকম দরকার নেই। মানুষ রিলেট করতে পারবে এরকমই লিরিকস থাকবে আমাদের পরবর্তী গানে।

এক্ষেত্রে অনেকে জিজ্ঞেস করে, সৌম্যদা গান শোনার সময় সুর বেশি গুরুত্ব পায়, না অ্যারেঞ্জমেন্ট, না লেখা?  আমার ক্ষেত্রে লেখার ভাব বেশি। লিরিসিস্টের গুরুত্ব আমার কাছে সবচেয়ে বেশি, তারপর সুর যেটা গানের শরীর এবং যথাক্রমে অলঙ্করণ অ্যারেঞ্জমেন্ট। তবে লেখা হলো গানের আত্মা। লেখা ভালো হলে আমার কাছে গানটার প্রতি একটা আলাদা টান আসে।

 

একটি সফল ব্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে কি প্রতিভা আর টিমওয়ার্কটাই কি যথেষ্ট? তোমরা কি মনে করো?

একদমই যথেষ্ট না। অন্ততঃ এই যুগে তো নয়ই। আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে হলে উত্তরটা হতো হ্যাঁ। এখন কিছু করতে গেলেই আগে টাকার দরকার। শুধু টাকাও নয়, ভালো মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিও দরকার। গানের মূল্যায়ন পরে হয়, আগে একটা ঝকঝকে ভিডিও চাই।

আমার মনে হয় অনেক তথাকথিত খাজা গান, (নাম নিচ্ছিনা) যেগুলো খুব মধ্যমেধার লেখা, আর বাজার চলতি সুর প্রায় তিরিশ থেকে চল্লিশ লক্ষ ভিউ পাচ্ছে শুধুমাত্র টাকার প্রয়োগে। কারণটা হলো ওরকম ভাবেই প্রোমোট করা হচ্ছে গানগুলিকে। পুরুলিয়ার ডাবল মিনিংয়ের গানগুলি, ভোজপুরি গান বা ধরুন ‘অপরাধী’ র কথা। যেটি এই মুহূর্তে ২৭৬ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে (সম্ভবতঃ এখনও পর্যন্ত বাংলা গানের সবচেয়ে বেশি)। আমি ওপেনলি বলছি এই গানগুলোর কোনও ভিত্তি দেখতে পাইনা। আমার মনে হয় এগুলো ন্যূনতম মনে রাখার মতনও কাজ নয়। কিন্তু আমি বলতে পারি এমন অনেক আর্টিস্ট বা ব্যান্ডের কথা যাদের গান আমাদের নিয়মিত শোনা উচিত। অথচ তারা লাইমলাইট থেকে যোজন দূরে,শহর ছাড়ছেন প্রকৃত মূল্যায়নের অভাবে। যেমন,চন্দননগরের ব্যান্ড ‘ক্রস রোডস’,ওদের অ্যালবাম ‘আয়না’ তে কী ভালো ভালো গান রয়েছে, অথচ শ্রোতারা নেই তাদের পাশে।’নেভার আস্ক আস’, ‘সাসপেন্ডেড ফিফথ’-এর মতো ব্যান্ড সারভাইভ করে না। আরও অনেক অনেক আর্টিস্ট আজ কলকাতা ছেড়ে বাহিরমুখী।

আমাদের মতো অনেক স্ট্রাগলিং ব্যান্ড বা আর্টিস্ট আছে যারা ভালো কাজ করছেন। ‘হাফ মেজর’, ‘রু এবং সংবিগ্ন পক্ষীকুল’,  ‘ব্যাড ট্রিপ’,  ‘শুয়োপোকা’,  ‘প্রলয়’,  ‘অর্ঘ সেন,  ‘তমাল এন্ড ট্রিপ’, ‘আদিল এন্ড পালোমা’,  ‘আলো’,  ‘অ্যানি আহমেদ’,  ‘সুদীপ্ত পাল’,  ‘গ্যানাস্কোপ’,  ‘রনি রাষ্টস্ট্রীট’, ‘কবির আর শিবা’ এবং আরো আরো নতুন প্রজন্ম কাজ করছে সঠিক ডেডিকেশন নিয়ে। কিন্তু যথাযথ এক্সপোসার নেই। আবার কিছু গান আমাদের খুব প্রিয় সেগুলো ভালো ভিউস টানছে,’হয়নি আলাপ’ বা ‘আজো তাকে মনে পড়ে’ উল্লেখযোগ্য।

আগে, প্রথম সারিতে মানুষ রাখতো প্রতিভা, লেখার চিন্তাভাবনা, মানুষের মনন দর্শন এগুলোকে। এখন ওইগুলো প্রথম সারিতে নেই। এখন মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি, তারপর পাবলিসিটি স্টান্ট এগুলোই প্রধান। স্যান্ডি সাহার ভিডিওতে এক কোটি ভিউ হবে অথচ আমরা যতোই ভালো গান লিখি ১৫ হাজার ভিউ হবে। মানুষের কাছে স্টান্ট ব্যাপারটা এখন খুব ম্যাটার করছে, জনপ্রিয়তাও ম্যাটার করছে। যতজন শুনেছে তার অনেক বেশি মানুষ শোনার দাবিদার নতুনদের গান। কিন্তু আমাদের কাছে ৩-৪ লাখ খরচ করে মিউজিক ভিডিও বানানোর টাকা নেই। তারপর টিভিতে প্রোমোট করার ক্ষমতা নেই। একটা বড়ো ব্যানারের নিচে যাওয়ার সুযোগ নেই।  আমরা তো পুরোটাই আমাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে করি। আমাদের যা যা ভিডিও আছে সব ইউটিউবেই। তবে আমরা ধীর লয়েই এগোচ্ছি। একেকটা সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠলে নিচে তাকিয়ে সাফল্যটা বোঝা যায়। রাতারাতি সাফল্য রাতারাতিই চলে যায়। আমরা চেষ্টা করছি যতোটা কোয়ালিটি প্রোডাক্ট মানুষকে দেওয়া যায়।

এখনও যেমন ‘শহরের উষ্ণতম দিনে’,  ‘বেলা বোস’, ‘হলুদ পাখি’, ‘একলা ঘর’, ‘ধাঁধার থেকে’ এই সমস্ত গানগুলো একবার শুধু মুখে নিতে হয়। আর কিছু বলার দরকার পড়েনা। বাকিটা আমাদের সামনে ছবি হয়ে ভেসে উঠে। এরকম মাইলস্টোন গান খুব কম জন্মাচ্ছে তা নয়, কিন্তু এখন ডিমান্ড এর থেকে সাপ্লাই বেশি। প্রতিদিনই তিন থেকে পাঁচটা করে গান বেরোচ্ছে, এর মধ্যে ভালো বা খারাপ বাছার সময় মানুষের নেই। ফলে যা সহজলভ্য তাই গিলছে মানুষ।

অনেক গান আছে আমি নাম নিয়ে নিয়ে বলতে পারি যেগুলো দাবিদার অনেক বড় সুযোগের। “নিশান” বলে একটা গান আছে তাতে একটা লাইন রয়েছে। “হবে রাস্তা পাখির নামে, শহরের নাম দেবো রোদ, কে শেখাবে মরণ মানে ছাই, কে শেখাবে আগুন মানে আলোর আদিম প্রতিশোধ।” কী অসাধারণ লাইন!  কবীর সুমনের কথা মনে পড়ে যায় এসব শুনলে। এটা নয় যে,”ঘুরে ফিরে সেই একই কথা” এরকম একটা গান হয়েছে, তার পরে আর গান হয়নি। গান হচ্ছে কিন্তু মানুষের কাছে পৌঁছনোর মিডিয়ামটা কমে যাচ্ছে। ‘তমাল অ্যান্ড ট্রিপ’-এর একেকটা গান অসাধারণ। ফিল্মের ক্ষেত্রেও কোয়ালিটি প্রোডাক্টের কাজ রয়েছে। এক্ষেত্রে ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিউজিকের জয় কোথায় আমি বলতে পারি। যেমন ‘হুডখোলা কবিতারা’ তাদের রাফ রেকর্ডিং ‘রাজকুমারীর গান’ বা ‘তোমাকে বুঝিনা প্রিয়’ গানগুলো ইউটিউব থেকে সিনেমায় এলো তখন এক একটা গান মাইলস্টোন হয়ে গেল। ভিউস এর ছড়াছড়ি, রাতারাটি স্টার হলেন প্রসেন, দীপাংশু, রিতম সেনরা। তার মানে কী, সিনেমাটা একটা মিডিয়াম। ঘরে ঘরে টিভিতে রেডিওতে পৌঁছে যাচ্ছে ‘কিচ্ছু চাইনি আমি’ বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলের মুখে মুখে ঘুরছে। এভাবেই ইন্ডিপেন্ডেন্ট গানগুলো সিনেমাতে ব্যবহার করা হচ্ছে, জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে। আমাদের গানগুলোও লার্জ স্কেল পাবলিসিটি পাওয়ার ক্ষমতা রাখে, শুধু সুযোগ আসেনা।

এক্ষেত্রে একটি মজার ঘটনা বলি, আমাদের একটি গানের সুর সিনেমায় ইউজড হয়, তবে সেটা আমাদের না বলে। একটি বিখ্যাত বড়ো সংস্থা, সেই সংস্থার একটি লিডিং ফিল্ম যেটি ২০১৮’র শেষের দিকে রিলিজড হয়। আমি কারোর নাম নিতে পারবো না এখানে কিন্তু খুব তারা ইন্ডাস্ট্রির বড়ো মাথা। আমাদের একটি গান আছে ‘আপোস’ যার হুকলাইনসহ আরও বেশ কিছু অংশ হুবহু মিলে গিয়েছে। ইন্সপিরেশন আর কপির মধ্যে পার্থক্য আছে সেটা বুঝেই বলছি। আমি তখন ডিরেক্টরকে ফোন করি, তার উত্তর ছিল “সুর তো সেই সা থেকে সা অবধি, মিলে যেতেই পারে।” আমরা ভেঙে পড়িনি, তবে আমরা চেষ্টা করছি লার্জ স্কেলে পৌঁছানোর। আমাদের সে ক্ষমতা আছে বলে মনে করি।

এখনও পর্যন্ত কী কী উল্লেখযোগ্য কাজ করেছো?

আমাদের বেস্ট এখনো দিতে বাকি,উল্লেখযোগ্য কাজ বলতে ২০১৬-তে প্রথম দুটো সিঙ্গল বেরোয়।খুব ভালো সাড়া পাই। হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই গানের লাইনগুলো শ্রোতারা দিতে থাকেন। গান বাজনাটাকে আমি এগিয়ে নিয়ে যাবো সেরকম কিছু ভাবিনি। এটা জাস্ট নিজের খেয়ালেই করেছিলাম। করার পরে দেখলাম ফট করেই গানটা হাইপ পেয়ে গেলো। তারপর বাংলা রকের অডিও লেবেলের আন্ডারে একটা অ্যালবাম বের করি, ‘সানগ্লাস’ ।মোট পাঁচটি গান রয়েছে। অ্যালবামটির 500 ফিজিক্যাল কপি প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে সোল্ড আউট হয়ে গিয়েছিল। এরপরে আমাদের লাইভ শোয়ের জন্য চাপ তৈরি হয়।”এবেলা” তে ফ্রেশ সাউন্ড হিসেবে ছবিও বেরোয়।

আগামী কোন কোন কাজ মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে?

সম্প্রতি ‘তুমি নেই’ মুক্তি পেল। আমাদের সবার উত্তেজনা যেটা নিয়ে খুব উঁচু জায়গায়, সেটি হল আমাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ফেরেস্তা’। এটি আগামী দীপাবলির সময়ে মুক্তি পাচ্ছে। এছাড়াও আমরা কভার্স গানের একটি সিরিজ করবো।কিছু কোলাবরেটিভ প্রজেক্টেও কাজ করছি।

কিছু গানকে আমরা কভার করবো নিজেদের মতো করে। সেটা এভারগ্রীন গান হতে পারে অথবা নতুন গানও হতে পারে। যেমন ‘সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়’। কাল্ট গান কভার করলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসে, এরকম সমালোচনা পাই যে গানটা এভাবে হলো, অন্য ভাবে করা হলো না কেন? তাও সাহস করে করেই ফেলি। আমাদের ইউটিউবের ভিডিওগুলোতে লাইক যেমন পাই, তেমনিই কিছু ডিসলাইকও পাই। এতে অসুবিধা নেই। এটাও তো দরকার। তবে আমাদের মূল ভিত্তি বাংলা অরিজিনাল গান। আমাদের মোট গানসংখ্যা আপাতত চুরাশি, আস্তে আস্তে বার করবো বাকি গান।

কিছুদিন আগেই রিলিজড ‘তুমি নেই’ নিয়ে কী বলবে?

“তুমি নেই” র ভিডিওটা “এসএনএফ” র প্রোডাকশন হাউস থেকেই তৈরি হল। এটাই প্রথম প্রচেষ্টা আমাদের। দীপ ডিরেক্ট করলো। রেহান, জেরি, অতনু, শান্তনু সবাই সাহায্য করলো। অন্যান্য ভিডিওর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এই ভাবনা। অডিয়েন্সকে জায়গা দিয়েছে নিজের মতো করে ভাবার জন্যে। এটাতে খুব বিমূর্ত চিন্তা রয়েছে। অদ্ভুত রকমভাবে এই ভিডিওটা আমাদের একটা ট্রিপ দেবে।

নিচেই ইউটিউব লিংক রয়েছে, দেখে নিতে পারেন গানটি।

 

তোমাদের যে আগামী কাজগুলো আসতে চলেছে, সেগুলো কেন মানুষ শুনবেন?

বাংলা ভাষায় নিজেরা গান করছি,এটা আমাদের প্রধান গর্ব।

গুড মিউজিক, গুড লিরিকস আর কোনো কারণ নেই এই দুটো ছাড়া। মানুষ কানেক্ট করতে পারবে ভালো মিউজিক আর ভালো লিরিক্স। তিন লাখ টাকা দিয়ে একটা ঝাঁ-চকচকে ঘরের মধ্যে দু’জন স্বল্পবসনা নারী নাচছে, আমাদের কাছে এটা করার ক্ষমতা নেই। ক্ষমতা থাকলে ওই তিন লাখ টাকা দিয়ে আরো গান বানাতাম। আমাদের ড্রিম ভিডিও যদি বলা হয় কোনো একটা, তাহলে আমি বলবো মেঘদলের ‘এসো আমার শহরে’। এরকম একটা কাজ করার ইচ্ছে আছে।

আজকাল ‘ফিউশন’ কথাটা বেশ শোনা যাচ্ছে। এই ব্যাপারে তোমাদের মত কি?

ফিউশন মানে হলো মিলমিশ। মানে দুটো জ‍্যর একসঙ্গে মেশাচ্ছি। এখনও পর্যন্ত যে আমরা ফিউশন নিয়ে খুব একটা কাজ করেছি তেমনটা নয় তবে ভবিষ্যতে ইচ্ছে আছে।আমরা ‘প্রলয়’-এর সঙ্গে একটি রাজস্থানী ফোক নিয়ে কাজ শুরু করছি। প্রোজেক্টে পাশ্চাত্য ঘরানার সঙ্গে কিছু ভারতীয় ঘরানার বাদ্যযন্ত্রের ফিউশনের প্রভাব আছে।

ধরা যাক একটা বাংলা ব্যান্ড যাদের পরিচিতি তাদের এলাকার বাইরে সেরকম নেই। এরকম কোনো ব্যান্ডের কাছে নিজেকে টিকিয়ে রাখার অক্সিজেন কী হতে পারে?

কাজ করে যেতে হবে। শুধু কাজ করে যেতে হবে। নিজের আত্মাকে খাবার দেওয়ার জন্য করতে হবে। বড়দের সম্মান দিতে হবে, সবার থেকে শিখতে হবে। কে কী দেবে আর কী দেবে না এটা ভাবলে চলবে না।

সত্যি কথা হলো ভিউজ ম্যাটার করেনা তোমার নিজস্ব শ্রোতার কাছে। চল্লিশ লোকের সামনে কভার গাওয়ার থেকে চার হাজার লোকের সামনে নিজের গান গাওয়া অনেক তৃপ্তির। আমরা লাইভ শো-তে এখনো অবধি হিন্দি লারেলাপ্পা চালু করিনি। চেষ্টা করবো যতদিন এভাবে সারভাইভ করা যায়। ২৭৬ মিলিয়ন ভিউজ ‘অপরাধী’ গানের, কই আমার কাছে তো লোকটা কোনোদিন শ্রদ্ধা পায়নি। অথচ মাত্র ২০০ ভিউজ আছে একটা ‘ক্রশরোডস’ ব্যান্ডের গান। ওদের জন্য কোথাও না কোথাও একটা শ্রদ্ধা আছে।  আমরা রাতারাতি সাফল্যের উপর বিশ্বাস করিনা। আর সবচেয়ে বড়ো কথা লেগে থাকলে হবে। প্যাশনটা ধরে রাখাই বড়ো কথা। সাফল্যটা যে কোনও ভাবেই তোমার কাছে আসতে পারে। তাই কাজ করে যাও, জ্বলুক প্রত্যয়।

যারা নতুন ব্যান্ড গড়ছে তাদের উদ্দেশ্যে কি বলতে চাও?

আমরা নিজেরাও নতুন, পথ খুঁজে হাঁটতে বেরিয়েছি।

তবে আমি বলবো,কোয়ালিটি মিউজিক শোনো। সবকিছু শোনো, বাংলা ব্যান্ড মানে নির্দিষ্ট ধরণের গানই করতে হবে তেমনটা নয়। পার্টিকুলার কোনো ব্যান্ড না। হিন্দি সিনেমার গান শোনো, টলিউডের গান শোনো, হলিউডের গান শোনো।রক, জ্যাজ, মেটাল, পপ, হিপহপ সব শোনো। জন মেয়ার, জেসন মারজ, বব ডিলান, গানস এন্ড রোসেস, জেমস ব্লান্টরা রয়েছেন। আরও অনেক অনেক ওয়েস্টার্ন শিল্পীদের পাশাপাশি রূপম ইসলাম, কৌশিক চক্রবর্তী, তিমির বিশ্বাস, ফকিরা, পৃথিবী, লক্ষীছাড়া, ঈশান থেকে শুরু করে হেমন্ত মুখার্জি, সুধীন দাশগুপ্ত, মান্না দে, জয় সরকার, লোপামুদ্রা মিত্র, নচিকেতা চক্রবর্তী, কবীর সুমন, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত প্রত্যেকটি বাংলাভাষার শিল্পীকে শুনতে হবে। তাহলেই বাংলা ভাষায় দক্ষতা, সুরের বুনোট অনেক অনেক তাগড়া হবে। শোনা বাড়াতে হবে।

এখানে সমালোচনা করার লোক অনেক, তোমাকে কোনো ভাবেই এগোতে দেবেনা। কিন্তু তোমাকে এগিয়ে যেতেই হবে সব প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে।

অতিরিক্ত সফট ওয়ার নির্ভরতা কি গানের ক্ষতি করছে?

সফটওয়্যার কিন্তু একটা দারুন জিনিস। আমি কিন্তু অসাধারণ মনে করি। আমি আমার ‘গুরু’ বলতে যাকে মনে করি তিনি এ আর রেহমান। রেহমান সাহেব একটা ইনস্টিটিউশন। ওনার প্রথম গান থেকে শুরু করে শেষ অবধি, এমনকি তামিল ডিস্কোগ্রাফির প্রত্যেকটা কাজ আমি ফলো করি। আমি শুধু একটাই কথা বলতে পারি যে রেহমান সাহেব প্রচন্ড সফটওয়্যার নির্ভর সাউন্ড বানান। একটা অ্যালবামে যে কত রকম সাউন্ড রাখেন আমিও জানিনা। সফটওয়ার ব্যবহার যে খারাপ সেটা নয়।এই টেকনোলজি ভালো ভালো ট্রিপ দেয়।

কিন্তু এবারে কথা হলো যে, একটা মানুষ গান গাইতে পারছে না অথচ অটোটিউন ব্যবহার করে তাকে দিয়ে গান গাওয়ানোর কোন মানে নেই।প্রযুক্তির অপব্যাবহার। রাহুল দ্রাবিড় অথবা সলমন খানকে দিয়েও গান গাইয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেকটা লাইনে পিচ সংশোধন গানটিকেই মেরে ফেলছে।

রিয়্যালিটি শো কি শিল্পী তৈরি করে নাকি তারকা তৈরি করে?

রিয়্যালিটি শো-তে প্রত্যেক বছরই,প্রায় একই গান বিভিন্ন শিল্পীর মুখে শুনতে পাই। রিয়্যালিটি শো থেকে বেরিয়ে এখন আর কেউ সেভাবে সারভাইভ করছেন না কিছু ব্যতিক্রম বাদে। শো জেতার পর এখন এককালীন একগাদা টাকা পাওয়া যায় যা দিয়ে নতুন স্টার্ট আপ করা যায় আর আজীবন কভার গেয়ে লাইভ শো এর কন্ট্রাক্ট পাওয়া যায়।

সত্যি কথা বলতে আমরা আমরা নিজেদের গান গাইতে চাই। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। নিজেদের গান গাওয়া যাবে এরকম কোন রিয়ালিটি শো হলে আমরাও অংশগ্রহণ করবো।

প্রশ্নটা হচ্ছে নির্দিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলের ট্যাগ না থাকলে কি শিল্পীরা সত্যিই বৈষম্যের শিকার হচ্ছে?

সেটাই তো বোঝাতে চাইছি যে, সারেগামাপা থেকে বেরোনো শিল্পী যখনই নৈহাটিতে শো করতে যাচ্ছে তখন তখন তার পেমেন্ট হয়ে গেল একলাখ। কিন্তু হয়তো ওই যোগ্যতার শিল্পী যারা নিজেদের গানকে নিজেরা লিখে নিজেরা সুর করে গান করছে তখন তাদের স্বীকৃতি নেই।

মাসের পর মাস পরিশ্রম করে গান লিখে সুর করে রিলিজ করছে এলবাম। তাদের জন্য অডিয়েন্সের পয়সা বেরোয় না, নেগোসিয়েশন চলে। আমরা শো করতে ২৫ হাজার টাকা নিই। অনেকেই বলে দাদা পাঁচ হাজার কমান। কিন্তু ওইখানে যদি একটা ‘সারাগামাপা’ খ্যাত স্টার আসেন যে অন্যের গান গাইছে, সেখানে পরিস্থিতিটাই বদলে যায়।

শিল্পী হিসেবে সমাজের প্রতি কি দায়বদ্ধতা তোমাদের রয়েছে বলে মনে করো?

আমি মনে করি আমাদের ব্যান্ডের কেউ বিতর্কিত ব্যাপারগুলোর মাঝে না জড়াক। আমাদের কাজ মানুষকে গান শোনানো। আমাদের কাজ ভাবানো, বিতর্ক করা নয়।এরককম উদাহরণ আমাদের কাছে আছে অনেক।

একজন পাঠিয়েছে যে আগামীকাল তার পরীক্ষা। ‘জ্বলুক প্রত্যয়’ শুনে সে অণুপ্রেরিত হচ্ছে এবং জড়তা কাটিয়ে উঠছে। এমন মানুষও দেখেছি যারা বলেছেন এতদিন ধরে রিকোভার করতে পারছিল না, কারণ হৃদয় ভেঙেছিল। ‘অন্য ঠিকানা’ শুনে নিজেকে অনেকটাই চিনতে পেরেছেন, নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন। একটি মেয়ে বাড়ির বেশ কিছু সমস্যায় জর্জরিত হয়ে হাত কাটেন প্রায়ই। সেই মেয়ে পরে জানান, ‘রাতজাগা পাখির দল’ শুনে উদ্বুদ্ধ হয়ে এখন কলকাতায় এসে পড়াশুনা করছে। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বলতে গেলে, আমরা আমাদের গান দিয়ে মানুষকে ছুঁয়ে যেতে পারি। সেই চেষ্টাই করবো একশো শতাংশ। ইচ্ছে আছে একটা ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরি করার, আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ‘এসএনএফ স্কোয়াড’এ দু’শো জনেরও বেশি মানুষ রয়েছেন যারা আসলে এসএনএফ পরিবারেরই অখণ্ড অংশ। তাদের নিয়েই এগোব আমরা। স্বাধীন সঙ্গীতকে তারা ছড়িয়ে দিচ্ছেন মানুষের মধ্যে।

গানকে ঘিরে আপনাদের স্বপ্ন কি?

কদিন আগে বইমেলায় বাংলা রকের স্টলে গিয়েছি, আমাদের একটা সিডি বেরিয়েছে যেখানে রূপম ইসলাম, তমাল এন্ড ট্রিপ, প্রলয়, অর্ঘ্র গানের পাশাপাশি এসএনএফেরও একটা গান আছে, ‘জ্বলুক প্রত্যয়’। ঘটনাচক্রে তখনই নির্দিষ্ট গানটা চলছে স্টল থেকে আর আশেপাশের ছেলেমেয়েরা গানটায় জোরে জোরে গলা মেলাচ্ছেন। আমিও ওদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে গাইলাম। অনেকেই কিন্তু জানেনা এই গানটা আমার তৈরি। কতোটা খুশি হয়েছিলাম তা বলে বোঝানো যাবে না।

আমরা শো করলে চেষ্টা করি কভার্সের পাশাপাশি অন্তত ৪টি নিজেদের গান গাওয়ার। যখন দেখি কালো মাথাদের ভিড় আমার গানের লাইন আমরা ভুল গাইলেও ওরা ঠিক গাইছে চোখ ভিজে যায়। হুগলী উইমেন্স কলেজে শো করতে গিয়ে “অপমৃত্যু” না গাইতে পারার জন্যে আমাদের স্টেজ থেকে নামতে দেওয়া হয়না। ওখানকার শ্রোতারা অর্গানাইজারদের সঙ্গে ঝামেলাই করে ফেলেন।

আমার পরিচয়ে হোক সেটা মুখ্য নয়, গানটা যেন স্বীকৃতি পায় এটাই লক্ষ্য। আমরা আরো লার্জ অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছতে চাই, এটাই স্বপ্ন। আমাদের গানগুলো যেন পশ্চিমবঙ্গ বা তার বাইরে মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে পারি । সবশেষে বলবো,বাংলা ভাষায় গান গেয়ে পেট চালাতে চাই। একটাই স্বপ্ন আমাদের।

Promotion