Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
মনোজিৎ - লিলুয়ার এক ছ’তারা গানওয়ালা - Exclusive Adhirath
মেঘে ঢাকা তারা

মনোজিৎ – লিলুয়ার এক ছ’তারা গানওয়ালা

একটা সময় এরকম গিয়েছে, হুগলী জেলায় যেখানেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে তাঁর মধ্যে বেশ কিছু জায়গায় মঞ্চে দেখা যেতো এক তরুণ গায়ককে। যেরকম তাঁর দর্শন; তিনি না হিন্দু, না মুসলমান। একটাই ধর্ম তিনি সঙ্গীতশিল্পী। তেমনি সব রকম মঞ্চই ছিল তাঁর কাছে সমান। বলতে গেলে বাউলের মতোই সঙ্গীত ফেরি করে বেরিয়েছেন দিকে দিকে। কী বলছেন এই গায়ক? আসুন শোনা যাক।

সঙ্গীতের সঙ্গে রিলেশনশিপে কবে থেকে আছেন?

সঙ্গীতের সঙ্গে রিলেশনশিপে আছি মূলতঃ ১০ বছর ধরে। যখন আমি ক্লাস টুয়েলভে পড়তাম তখন থেকেই আছি।

কাদের কাছে শিখেছেন?

আমাদের এলাকাতেই প্রথম শিখতাম শমিতা দাসের কাছে। শ্রীরামপুরে স্বাতী মুখোপাধ্যায়ের কাছে আমি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নিয়েছি। পারিবারিক কিছু অসুবিধার জন্য মাঝখানে সঙ্গীত-প্রশিক্ষণ বন্ধ ছিল। বর্তমানে আমার গুরুজী হলেন বেলঘরিয়ার দুলাল দে।

এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কি কি কাজ করেছেন?

আমার প্রথম কাজ ছিল ২০১২ সালে। ‘বাস্তব’ বলে একটি গান আমাকে দিয়ে গাইয়েছিলেন মিউজিক কম্পোজার সৌমেন মুখার্জী। এটি একটি থিয়েটার গ্রুপের গান ছিল। ‘মজা’ নামক একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের সিনেমায় একটি স্যাড সং গেয়েছিলাম। সেটিরও কম্পোজার ছিলেন সৌমেন মুখার্জী। আমার এক পরিচিত ভাই অঙ্কুর আমাকে দিয়ে একটি গান গাইয়েছেন। গানটির নাম ছিল ‘স্মৃতিচারণ’। আমি এবং আমার এক সঙ্গীত সহকর্মী সায়ন্তন একসঙ্গে গানটি গেয়েছিলাম। ২১ জুন দিনটিকে বিশ্বসঙ্গীত দিবস বলা হয় এটি নিশ্চয়ই অনেকেই জানেন। ২০১৭ সালের ২১ শে জুন গীটার হাতে টুং টাং করতে করতে বেশ কিছু গানের কথা মাথায় খেলে যায়। আমি নিজেই বিশ্বসঙ্গীত দিবস নিয়ে একটি গান বানিয়ে ফেলি। গানটি আমার ইউটিউব চ্যানেল ২০১৭ এর ২৫ শে ডিসেম্বর ‘মনো টিউনস অফিসিয়াল’ থেকে মুক্তি পায়। গানটির নাম ছিল ‘হ্যাপী ওয়ার্ল্ড মিউজিক ডে’। গানটির ভিডিওগ্রাফি করেন প্রমিথ গাঙ্গুলী। মিউজিক প্রোডাকশনে ছিলেন অর্ণব চৌধুরি। মিক্সিং এবং মাস্টারিংয়ে ছিলেন রূপক তিওয়ারি। এই সাক্ষাৎকারটির শেষে আমি আপনাদের জন্য গানটি গেয়েছি, ভিডিওতে আপনারা দেখতে পাবেন। অতি সম্প্রতি আমি একটি ওয়েব মিডিয়ার থিম সঙ্গীতে কণ্ঠ দিয়েছি। কিছুদিনের মধ্যেই সেটি আপনারা শুনতে পাবেন।

সঙ্গীতকে পেশা করবেন এটা কবে থেকে ভাবলেন?

আমি যখন কলেজে পড়ি তখনও ভাবিনি যে সঙ্গীতকে পেশা করবো। কলেজের দাদা দিদিদের দেখতাম গান গাইতে। আমারও ইচ্ছে করতো গাইতে। ওদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে গীটার শিখি। কলেজের সোশ্যালেও গাই। কলেজের ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিমের সঙ্গে মানে NSS এর সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। সেখানেও অনেক গান গেয়েছি। কলেজ থেকে বেরোবার দু’বছর পর গানকে নিয়ে প্রফেশনাল ভাবনা মাথায় আসে। গৃহস্থালি বাংলা ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হই। এই ব্যান্ডের মূল বৈশিষ্ট্য আনকনভেনশনাল মিউজিক করা। ব্যাবহার করার পর যে জিনিসগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিই সেগুলো বাজনা হিসেবে ব্যাবহার হয়। গীটার ছাড়া আর কোনও কর্ড সাপোর্ট যন্ত্র নেই। যেমন কাঠের আসবাবপত্র, রঙের বালতি, কার্বাইডের ড্রাম ইত্যাদি ব্যাবহার হয়। এখানে হলাম আমি মেইন ভোকাল।

গানের জগতে কোন ঘটনাকে আপনার টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে করেন?

সেইভাবে বলতে গেলে গৃহস্থালির সঙ্গে কাজ করাটাই আমার টার্নিং পয়েন্ট। এখানে কাজ করা শুরু করার পরেই আমার অনেক পরিচিতি পাই, অনেক ফিডব্যাক পাই।

কোন শিল্পীর গান, লেখনী ও জীবনবোধ আপনাকে টানে?

একটা সময় ছিল যখন রূপম ইসলামকে ঘিরে পাগলামি করতাম, পাগলের মতো তাঁর গান শুনতাম। অন্যান্য ব্যান্ডের গানও শুনতাম। এছাড়া অনুপম রায় এবং শ্রীজাতর লেখা ও জীবনবোধ ভালো লাগে।

কোন কোন ধারার গান আপনি গেয়ে থাকেন।

গৃহস্থালিতে ফোক গান গাই। এছাড়াও আমি সফট রক, রবীন্দ্রসঙ্গীত গাই।

একজন গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে শুধু প্রতিভাটাই কি যথেষ্ট?

আমার মনে হয় প্রতিভা থাকলেই যথেষ্ট নয়। ভাগ্য এবং সোর্সও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এগুলো বাদেও আর্থিক পরিস্থিতিও অনেকটাই ফ্যাক্টর এখানে।

এক্সক্লুসিভ অধিরথ ওয়েব-মিডিয়ার পাঠকদের জন্য মনোজিতের এক্সক্লুসিভ কণ্ঠ

 

যারা গানের সঙ্গে যুক্ত তাদের অনেকেরই মুম্বই যাওয়ার স্বপ্ন থাকে। আপনারও কি সেরকম কোনও স্বপ্ন আছে?

মুম্বই যাওয়ার স্বপ্ন সেভাবে নেই। তবে সিনেমায় প্লে-ব্যাক করার ইচ্ছে আছে। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে যদি মুম্বই যেতেই হয় তাহলে যাবো। মুম্বই ছাড়াও বাংলা থেকেও অনেক সুযোগ আসতেই পারে।

সামনে কোন কোন কাজ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে?

আমার দু’একটি কম্পোজিশন রয়েছে যেগুলি আগামী ক্ষেত্রে আসতে চলেছে। একটি সেমি-ক্ল্যাসিকাল কম্পোজিশন রয়েছে। আমি এবং জ্যোতির্ময় ব্যানার্জী গানটির কথা লিখেছি। গানটির নাম এখনও ঠিক করা হয়নি।

১০ বছরের সঙ্গীত সফরে কী কী অভিজ্ঞতা আপনার হয়েছে?

ভালো খারাপ দুই ধরণের অভিজ্ঞতাই আছে। জীবনে খারাপটাকে বাদ দেওয়া যায় না। আমার মনে হয় মানুষের অভিজ্ঞতার বয়েস বাড়াই উচিৎ। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে টেনশনে কাঁপতে কাঁপতে কলেজে প্রথম পারফর্ম করাটাই ছিল প্রথম সেরকম অভিজ্ঞতা। একটি রেডিও চ্যানেলে আমাদের ব্যান্ড গৃহস্থালি কিছু বছর আগে ইন্টারভিউ দিয়েছিল সেটিও এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে আমি যখন প্রথম গীটার বাজাতে শিখেছি সেই সময়ের কথা। আমি পাড়ার মঞ্চে একটি অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে উথেছিলাম। মাত্র দুটি গান গাওয়ার পর আমাকে নেমে যেতে বলা হয়। আমি সেদিন প্রচণ্ডই অপমানিত বোধ করেছিলাম। এরপর ২০১৫ তে গৃহস্থালি ব্যান্ডকে পারফর্ম করতে ডাকা হয়। আমি লিড সিঙ্গার ছিলাম। সেদিনের সেই অপমানের জবাব আমি গানে গানে দিতে পেরেছিলাম। প্রচণ্ড ভালো দর্শকের ফিডব্যাক পেয়েছিলাম। সেদিন যারা আমাকে স্টেজ থেকে নেমে যেতে বলেছিলেন তারাই এদিন স্টেজ থেকে আমাদের নামতেই দিচ্ছিলেন না। এভাবেই খারাপ অভিজ্ঞতাকে ভালো অভিজ্ঞতায় রূপান্তরিত করতে পেরেছিলাম।

রিয়্যালিটি শো কি শিল্পী তৈরি করে নাকি কেবল তারকা তৈরি করে?

রিয়্যালিটি শো আমার মতে শিল্পী তৈরি করে না, বরং তারকাই তৈরি করে। কারণ রিয়্যালিটি শো হল একটি সস্তার জনপ্রিয়তা। আমার কাছে তো রিয়্যালিটি শো একটি ব্যাবসা, নামেই রিয়্যালিটি। কাজে কর্মে কোনও বাস্তবতা নেই। আমি বেশ কিছু রিয়্যালিটি শোর অডিশনে গিয়েছিলাম। চোখে ঘুম নিয়ে রাত জেগে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। আমার থেকে অনেক ভালো গায়ক জায়গা পায় নি রিয়্যালিটি শো-তে। উল্টে অনেক খারাপ গায়করা সুযোগ পেল। তাহলে সঠিক প্রতিভাকে এরা নির্বাচন করছে না। অন্য কোনও উদ্দেশ্য এখানে কাজ করছে। যারা রিয়্যালিটি শো থেকে সফল হয়ে বেরোন তাদের জীবনে সফল হতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। অনেকেই হারিয়ে যান ভবিষ্যতে। তাই রিয়্যালিটি শো সস্তার তারকা তৈরি করে। যদিও এর মধ্যেই অনেক প্রকৃত তারকাই উঠে আসেন। কিন্তু সেটা তারা স্ট্রাগলের মাধ্যমে উঠে আসেন, রিয়্যালিটি শো-র মাধ্যমে কিন্তু নয়।

মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে নতুনদের জায়গা এই মুহূর্তে কতোটা?

এই মুহূর্তে নতুনদের জায়গা খুবই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এখনকার সঙ্গীত বেশি টিকছে না। নতুন একজন শিল্পী উঠে এলে তিনি বেশিদিন টিকছেন না, আবার অন্য এক শিল্পী উঠে আসছেন তাঁর জায়গায়। শুধু দক্ষতা জায়গা করে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এখানে অনেক লবিও কাজ করে। তাই প্রতিভা না থাকা সত্ত্বেও অনেকে জায়গা পেয়ে যাচ্ছেন।

অতিরিক্ত যন্ত্রনির্ভরতা কি সঙ্গীতের ক্ষতির কারণ?

হ্যাঁ, আমার মনে হয় সব কিছুর একটা ভারসাম্য থাকা উচিৎ। অনেক সময় গায়কের কণ্ঠের চেয়ে বাজনার আওয়াজ বেশি হয়ে যায় যেটি শ্রোতারা পছন্দ করেন না। অতিরিক্ত যন্ত্রনির্ভরতার ফলে মূল নির্যাসটাই হারিয়ে যায়। এটা গানের পক্ষে একেবারেই ভালো নয়।

গানকে ঘিরে আপনার উপলব্ধি কী?

আমি গানটাকে ভালবেসে করি, আমার আত্মার পরিতৃপ্তি হয়। লোক আনন্দ পায়, আমি খুব খুশি হই। তাই মঞ্চে যদি দশটার জায়গায় আমাকে পনেরোটা গান গাইতে হয় আমি খুশিই হই। কারণ যাদের জন্য গাওয়া তারা কিন্তু আমার গান ভালোবাসছেন। এখনকার গান নিয়ে অনেকেই বলে থাকেন সুরের মধ্যে সেই ব্যাপারটা নেই। গানের সেই ওজনও নেই। হয়তো খানিকটা তাই। কিন্তু তাও অনেক ভালো কাজ হচ্ছে। তবে সস্তায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। স্টারমেকার বা স্মুলের মতো অ্যাপস নির্ভর হয়ে যারা গান জানেনই না, তারাও এসবের মাধ্যমে গান গেয়ে জনপ্রিয় হয়ে যাচ্ছেন।

নির্দিষ্ট টিভি চ্যানেলের ট্যাগ না থাকলে অনেক সময়ই শিল্পীরা বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছেন। এ ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?

এটা কিন্তু সত্যি হচ্ছে বহুক্ষেত্রেই। টেলিভিশন নামক বোকা বাক্সে মানুষ যখন কাউকে দেখে তখন সে রাতারাতি সেলিব্রিটি হয়ে যায়। এটা একেবারেই সত্যি ঘটনা। যখন আমি স্টেজে পারফর্ম করি, আমি অনেকটা ভালোও গেয়ে দিই, তাহলেও আমাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না। কারণ যেহেতু আমাকে টেলিভিশনে তারা দেখে নি। এই ট্যাগ না থাকলে মানুষের কাছে সেভাবে পৌঁছনোই যায় না। কিন্তু যার এই ট্যাগ আছে তাঁর প্রতিভা কম থাক, বেশি থাক সে মানুষের কাছে পৌঁছবেই এটা নিশ্চিত। এটা একটা মনস্তাত্বিক ব্যাপার বলেই আমার ধারণা।

একজন শিল্পী হিসেবে সমাজের প্রতি আপনার কি দায়িত্ববোধ রয়েছে?

মানুষকে শিল্পী হিসেবে আনন্দ দেওয়াও সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিছুক্ষণ হয়তো আমি তাদের ভালো রাখতে পারছি। আমি আমার কম্পোজিশনে চেষ্টা করি সামাজিক যে কোনও দিককে তুলে ধরার।

সঙ্গীতকে ঘিরে আপনার স্বপ্ন কী?

আমি নিজস্ব কাজ করতে চাই, কম্পোজিশন তো করছিই। প্লে-ব্যাক করার ইচ্ছে আছে। গান এমন একটা জায়গায় যাক যাতে সকলে গানকে সম্মান করুক। গানকে যারা বোঝেন তারাই শুধুমাত্র গানের জগতে আসুক। কারণ গানটা কোনও ছেলে খেলা করার জিনিস না, গানটা একটা সাধনা। আমি গান নিয়ে বাঁচি, গান ছাড়া বাঁচতে পারবো না। গানের কদর যেন সব সময় ওপরে থাকে। গান মানুষকে প্রভাবিত করুক এভাবেই যুগ যুগ ধরে।

 

 

 

Promotion