Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
শুভায়ু – কোন্নগরের এক পরিচিত সঙ্গীতশিল্পী - Exclusive Adhirath
মেঘে ঢাকা তারা

শুভায়ু – কোন্নগরের এক পরিচিত সঙ্গীতশিল্পী

 

এখনকার দিনে গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে শুধু প্রতিভাটাই কি যথেষ্ট?

প্রতিভার একটা আলাদা গুরুত্ব চিরকাল ছিল, আছে, থাকবে। সঙ্গীতের ক্ষেত্রে স্ট্রাগলটা অনেক বেশি, সুতরাং সেখানে আপনার সহজাত প্রতিভা থাকতেই হবে। ডারউইন বলে গিয়েছিলেন যোগ্যতমের উদ্বর্তন। সঙ্গীত ক্ষেত্রে ওই থিয়োরি শুধুমাত্র প্রতিভার ওপর দাঁড়িয়ে নেই। কোনও ক্ষেত্রে গায়কের গায়কী যতোটা নিখুঁত তার থেকে তার দেখনদারী অনেক বেশি নিখুঁত। এই সময়ে দাঁড়িয়ে মানুষ চটকদারীটাই বেশি দেখছেন। তবে একটা সময় গিয়ে সেই চটকের মুখোশ ভেঙে পড়ে। তাই এখনও পর্যন্ত আমি বিশ্বাস করি প্রতিভা এবং সাধনায়।

সঙ্গীতের জগতে পা রাখা কবে থেকে? গুরু কারা ছিলেন?

সঙ্গীতের জগতে পা রাখা যখন আমার বয়েস মাত্র পাঁচ বছর। আর পাঁচটা ছেলে মেয়ের মতোই এক্সট্রা-ক্যারিকুলার অ্যাকটিভিটিসের মতোই গান শেখা শুরু। প্রথম হাতেখড়ি রবীন্দ্রসঙ্গীতের মাধ্যমে দীপা মুখোপাধ্যায়ের কাছে। এরপর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে পাতিয়ালা এবং কিরানা ঘরানা শিখি দীপান্বিতা গাঙ্গুলীর কাছে। পরবর্তীকালে বিষ্ণুপুর ঘরানার তালিম নিই গুরু জয়ন্ত সরকারের কাছে। ভয়েস ট্রেনিং, লোকসঙ্গীত ও বিভিন্ন ঘরানার গান শিখি রাজকুমার রায়ের কাছে। বেহালায় সৌরভ দাসের কাছে আধুনিক গান এবং কিছুটা বর্তমান মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি অভিমুখী গ্রুমিং। গ্রুমিংয়ের ব্যাপারে সঞ্জয় সিং নামক এক পারকাসনিস্টও ভীষণভাবে সাহায্য করেছেন। এছাড়া রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীতের শিক্ষক-শিক্ষিকারা নানাভাবে পাশে থেকেছেন। উল্লেখযোগ্য ভাবে বলতে হয় সুজয় চন্দ্র এবং দেবলীনা সিংহ রায়ের কথা।

এখনও পর্যন্ত কী কী উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন?

২০১৪ তে স্বপ্নদীপ সেনগুপ্তের একটি শর্ট ‘ফিল্ম লাইট অ্যান্ড শ্যাডো’ মুক্তি পায়। এটি বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রশংসা পেয়েছে। এটির টাইটেল সং ‘আলো ছায়া’ আমার গলাতেই ছিল এবং আমার সহশিল্পী ছিলেন দেবলীনা ভাদুড়ি। কথা ও সুর দুটোই সৌমেন মুখার্জী। ২০১৭ সালের এপ্রিলে একটি চ্যানেলের লাইভ শো-তে পারফর্ম করি। এটিও আমার সঙ্গীত-কেরিয়ায়ের অন্যতম একটি মাইলফলক বলা যেতে পারে।

নির্দিষ্ট টিভি চ্যানেলের ট্যাগ না থাকলে সঙ্গীতশিল্পীরা বৈষম্যের স্বীকার হন কিছু ক্ষেত্রে। এ ব্যাপারে আপনার মত কী?

আমরা জানি গণমাধ্যম মানুষকে সচেতন করে। এক্ষেত্রে আমি গণমাধ্যমকে শিক্ষক হিসেবে ধরে নিচ্ছি। একটা ক্লাসে ফার্স্ট বেঞ্চে বসা ছেলেও যেমন রয়েছে, তেমনি লাস্ট বেঞ্চে বসা ছেলেও রয়েছে। একজন শিক্ষকের কর্তব্য পক্ষপাতহীন ভাবে সবাইকেই গুরুত্ব দেওয়া। এই ভূমিকা মিডিয়া পালন করছে না। ওদিকে তারা নামী চ্যানেলের রিয়্যালিটি শোয়ের শিল্পীদের খবর নিয়মিত কভার করে। আমাকে এরকমও শুনতে হয়েছে, “ভাই, আর কতদিন এসব ছোট জায়গায় থাকবে? অমুক বাংলা বা তমুক জলসার একটা ট্যাগ লাগাও, তবে না বুঝবো!” কিন্তু অমুক বাংলা বা তমুক জলসাই যে শেষ কথা নয়, এই সচেতনতার বড়ই অভাব।আয়োজকরা যখন অনুষ্ঠান আয়োজন করছেন তখনও দাবী উঠছে অমুক ব্যানারের শিল্পী চাই। তাই নির্দিষ্ট টিভি চ্যানেলের ট্যাগ না থাকলে সঙ্গীতশিল্পীরা মেরুকরণের শিকার হচ্ছেন।

কিছুদিন আগেই আপনাদের ওয়েব-মিডিয়ায় একটি লেখা লিখেছিলাম, ‘পর্দাপারের পর্দা উঠুক’। সেখানে আমি স্পষ্ট বলেছিলাম, কীভাবে অ্যারেঞ্জাররা আমাদের মতো নতুন শিল্পীদের বাধ্য করছেন তাদের সেট-আপে গান করাতে। শ্রীরামপুরেরই এক স্বনামধন্য লোকসঙ্গীত শিল্পী ‘এক্সক্লুসিভ অধিরথে’ সাক্ষাৎকারে বলেন, শিল্পীরা নিজেদের সেট-আপে যে গান গেয়ে থাকেন, অ্যারেঞ্জারদের সেট-আপেও তো সেই একই গান গাইবেন। তাহলে অ্যারেঞ্জারের সেট-আপে গাইতে সমস্যা কোথায়? আমি জানিনা, রাঘব দা নিজস্ব সেট-আপে যে গান গেয়ে থাকেন, তাঁকে অন্য সেট-আপে ফেলে দেওয়া হলেও তিনি তাই গাইবেন কিনা? রাঘব দা আজ পর্যন্ত অন্য সেট-আপে কাজ করতে যান নি। আজ আমি নিজের সেট-আপে অন্য গানের সঙ্গে আমার নিজস্ব গান ‘আলো ছায়া’ গাইতেই পারি। আরেঞ্জারের সেট-আপে আমি কি সেই সুযোগ পাবো? আমি কাউকে ছোট করতে চাই না। যিনি এই কথাটি বলেছেন, তিনি নিজেই বিগত বছরে পুজোর অনুষ্ঠানে দিল্লি যাওয়া বাতিল করে দেন ব্যান্ড পছন্দ না হওয়ায়। তিনিও তো নিজের গানগুলিই সেই অন্য সেট-আপেও গাইবেন, তাহলে তার সমস্যা কোথায় ছিল সেখানে?

বিষয়টি হল আশির দশকে ফুটবলের খেপ খেলা অনেক প্রতিভাবান ফুটবলারের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। আরেঞ্জারদের ভূমিকাও বর্তমানে খানিক সেইরকমই বলা চলে।

 

সঙ্গীতের ক্ষেত্রে আপনার টার্নিং পয়েন্ট কী ছিল?

২০১১ তে দূরদর্শনে ‘এতো সুর এতো গান’ নামক রিয়্যালিটি শো-তে আসাই আমার প্রথম টার্নিং পয়েন্ট। এছাড়া বিভিন্ন চ্যানেলে লাইভ শো করেছি।

কোন কোন ধারার গান আপনি গেয়ে থাকেন?

মূলতঃ বাংলা, হিন্দি, আধুনিক গান, খুব চলতি ভাষায় আমরা যেটাকে কমার্শিয়াল সং বলে থাকি। এছাড়া লোকসঙ্গীত এবং ব্যান্ড সং আমার বেশ ভালো লাগে গাইতে। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ফোকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু রাজকুমার স্যার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে দেবলীনা ম্যাডাম এদের কাছে ফোকের মাধুর্য উপলব্ধি করতে পারি। এই ব্যাপারে ভীষণভাবে অণুপ্রেরিত হয়েছিলাম কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের কাছে। মানকুন্ডু সৃষ্টি আর্ট অ্যাকাডেমিতে একটি গানের দল রয়েছে যার নাম সৃষ্টি লোক, যারা মূলতঃ লোকসঙ্গীত নিয়েই কাজ করেন। আমি সেখানে মেন্টর হিসেবে রয়েছি।

কোন কোন শিল্পীর গান, লেখনী ও জীবনবোধ আপনাকে টানে?

জীবনবোধ বলতেই প্রথমে মনে আসে মান্না দে এবং মহম্মদ রফির কথা। এনাদের যে জীবনদর্শন, জীবন-সায়াহ্ন পর্যন্ত নিজেদের চর্চার মধ্যে রেখেছিলেন তাঁরা। হীরক রাজার দেশে সিনেমায় চরণ দাস বলেছিলেন, “আমার যেই দিন থেকে জ্ঞান, সেইদিন থেকে গান”। গান তো এটাই, গানের প্রতি ভালোবাসা তো এটাই। বাঙালীর সবসময়ের চিন্তায়, মননে রবীন্দ্রনাথ তো রয়েছেনই। বর্তমান সময়ে নচিকেতা চক্রবর্তী বা কবীর সুমনের লেখনী যথেষ্ট টানে। আমি অনেকের কাছেই অপ্রিয় স্পষ্ট কথা বলার জন্য। আমার এই রোগটাও এসেছে এনাদের থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই। আর গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের কথা না বললে জীবনবোধের ব্যাপারটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আজকে আমরা ডিজিট্যালাইজেশন নিয়ে এতো কতা বলছি। উনি কিন্তু সত্তরের দশকেই বলে গিয়েছেন, ‘পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে স্যাটেলাইট আর কেবলের হাতে, ড্রয়িং রুমে রাখা বোকা বাক্সতে বন্দী’। শ্রীজাত দার লেখাও আমার ভালো লাগে।

সামনে কোন কোন কাজ মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে?

প্রমিথ গাঙ্গুলীর অরিজিনালসে একটি গান অতি সম্প্রতি গেয়েছি। গানটির নাম ‘কবিতার খাতা’ যেটি আগামী দিনে মুক্তি পেতে চলেছে।এছাড়া ‘এম ফর মিউজিক’ এর একটি সিঙ্গলসের কাজ আসছে। শুভব্রত সাহার একটি প্রোজেক্টেও আমাকে দেখতে পাওয়া যাবে।

অনেক গায়ক-গায়িকার মতো আপনারও কী মুম্বই যাওয়ার স্বপ্ন রয়েছে?

স্বপ্ন অবশ্যই রয়েছে, কিন্তু এই মুহূর্তে মুম্বই গিয়ে স্ট্রাগল করার কোনও প্ল্যান নেই। কারণ আমি একটি অত্যন্ত মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে। বহু ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতিতে পেশাদার ভাবে গান গাওয়ার স্বপ্ন দেখাটাই আসলে বিলাসিতার নামান্তর। তাই এভাবে আর্থিক ব্যাক-আপ ছাড়া সেখানে যেতে চাই না। যদি কোনও ভালো কাজের সুযোগ পাই তাহলেই যাবো মুম্বই।

মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে এই মুহূর্তে নতুনদের জায়গা ঠিক কতোটা?

একভাবে বলতে গেলে নতুনদের জায়গা অনেকটাই খুলে গেছে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে। ইউটিউব, অনলাইন স্ট্রিমিং, নানা প্রকার অ্যাপসের দৌলতে গান যখন-তখন মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। কিন্তু এর ফলে একটি জিনিস হয়েছে, গান-বাজনা কিছু কিছু ক্ষেত্রে খুব সস্তা হয়ে গিয়েছে। প্রতিযোগিতাও অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। সে দিক দিয়ে নতুনদের জায়গা থাকলেও তা খুব সংঘাতপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

গানকে ঘিরে আপনার কিছু ভালো এবং খারাপ অভিজ্ঞতা।

ভালো অভিজ্ঞতা অনেক রয়েছে গানকে ঘিরে। ২০১৭ তে ফেসবুকে একবার কথা হয়েছিল এক ভদ্রমহিলার সঙ্গে। তিনি বিবাহিতা, সংসারের চাপে গানবাজনা ছেড়ে দিয়েছিলেন। আমার গানের কিছু ইউটিউব লিংক তিনি চান, আমি তাঁকে সেগুলি দিই। আমার গা শোনার পর তিনি জানান, “আপনার গান শুনে আমার ধূলো জমে যাওয়া গানের ডায়েরিটা বের করে আমি আবার নাড়াচাড়া করছি”। আমি আজও সেই মেসেজটি স্ক্রিনশট তুলে সযত্নে রেখে দিয়েছি। ডিডি বাংলায় রিয়্যালিটি শোয়ের সময় স্বনামধন্যা শিল্পী প্রভাতী মুখোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। আমার গান উনি খুবই ভালবাসতেন। আমাকে বলতেন, “আমার অনেক কালেকশনস রয়েছে, তুই আমার বাড়িতে চলে আয়, তোকে কিছু দেবো”। এটা আমার কাছে বড় পাওনা।

গানকে ঘিরে গুটিকতক খারাপ অভিজ্ঞতার মধ্যে একটিই অন্যতম। আমি নাম করছি না, তিনি একজন নামজাদা গীটারিস্ট এবং আকাশবাণী কলকাতার ঘোষকের ভূমিকায় কাজ করছেন। তিনি ২০১৬ তে তার একটি শর্টফিল্মে গান গাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তিনি বাড়িতে এসে আমাকে গান তুলিয়ে যান। এমনকি স্টুডিওতে গিয়ে আমি ভোকাল টেকও দিই। এরপর বেশ কিছুদিন আমার সময় নষ্ট করার পর আমাকে জানানো হয় যে গানটি আমাকে দিয়ে গাওয়ানো হচ্ছে না।

২০১৫ সালেও একটি স্থানীয় অনুষ্ঠানে প্রচণ্ড হেনস্থা হই। স্টেজে গান করার সময় প্রচুর কটূক্তি শুনতে হয়েছিল।

রিয়্যালিটি শো কি শিল্পী তৈরি করে নাকি তারকা তৈরি করে?

শিল্পী তো তৈরি করেই না, উল্টে তারকা তৈরি করে। বরং আরও পরিষ্কার করে বলা ভালো, উল্কা তৈরি করে। যেটাকে তারা খসে পড়া বলি। তারাটিকে আমরা আসতে দেখি এবং তারপরেই সে খসে পড়ে, সব শেষ। এখন আমার এই কথা শুনে অনেকেই বলতে পারেন, যেহেতু আমি কোনও নামী ব্যানারের সঙ্গে যুক্ত নই তাই হতাশার জায়গা থেকে এসব বলছি। কিন্তু আমার মত, রিয়্যালিটি শো থেকে অরিজিৎ সিংহ, শ্রেয়া ঘোষালদের পেয়েছি। কিন্তু তারা কেউ রিয়্যালিটি শো-তে এসেই তারকা হয়ে যান নি। তাদেরকেও যথেষ্ট স্ট্রাগল করতে হয়েছে, উৎকর্ষতার জন্যই তারা আজকের জায়গায় পৌঁছতে পেরেছেন। হ্যাঁ, এটা সত্যি যে রিয়্যালিটি শো করে তারা প্রচুর শো পাওয়ায় তাদের একটি আর্থিক সম্বল তৈরি হয়ে যাছে। কিন্তু একজন শিল্পীর শেষ কথা কখনও ‘শো’ হতে পারে না। সেক্ষেত্রে তার শিল্পটাই শেষ কথা বলুক। এরকম অনেককেও দেখেছি, রিয়্যালিটি শো করলেও আজকে তাদের দিন কাটে মাচা শো করে।

অতিরিক্ত যন্ত্রনির্ভরতা কি সঙ্গীতের ক্ষতির কারণ?

স্টারমেকার বা স্মুলস অ্যাপের মাধ্যমে অনেকেই আজকাল গাইছেন। যন্ত্রের আধিক্যে গলাটাই হয়তো শোনা গেল না। নিজস্ব কম্পোজিশন যখন মুক্তি পায়, জগঝম্প অ্যারেঞ্জমেন্ট, হাজার খানা ইন্সট্রুমেন্ট বেজেছে। সেটার মানে হল, একটি ছোট শিশির মধ্যে এক হাঁড়ি ভর্তি দুধ ঢালতে গেলে কী হবে? অতিরিক্ত যন্ত্রনির্ভরতার ফলে তাই হবে।

গীটারে সঙ্গত করেছেন – হিমাদ্রি সেন

সঙ্গীতকে ঘিরে আপনার উপলব্ধি কী?

ভবা পাগলার গানের লাইন হল, “গানই সর্বশ্রেষ্ঠ সাধনা, লাগে না ফুল চন্দন মন্ত্রতন্ত্র লাগেনা”। কথাটা ২০১৮ তে দাঁড়িয়েও সত্যি কতোটা খাটে সে ব্যাপারে আমার অন্ততঃ সন্দেহ আছে। গানবাজনা বেশ কিছুটা সস্তার জায়গা হয়ে গিয়েছে। অনেককেই বলতে শুনি, মেয়ে পটানোর জন্য গান গাইছি বা গীটার বাজাচ্ছি। কিন্তু সঙ্গীত এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার জিনিসই নয়। কিন্তু বর্তমানে সস্তার মোড়কের আবরণে এমন কিছু জিনিস ছড়িয়ে পড়ছে যার ফলে ভালো গান সামনে আসতে পারছে না। একটি গান তৈরি হওয়ার ৬ মাস আয়ু, তার বেশি চলছে না। কারণ স্রেফ জৌলুসের জন্যেই সেটি সাময়িক হিট হয়েছিল। তাই গানকে বাঁচাতে হলে তাঁকে সাধনমার্গের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। সস্তার বিনোদনের বাইরে বেড়িয়ে গানকে ভালবাসতে হবে। তাহলে আমরা একদিন বলতে পারবো আমাদের ভারতবর্ষ সাঙ্গীতিক দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ।

একজন শিল্পী হিসেবে সমাজের প্রতি কী দায়িত্ববোধ রয়েছে? গানকে ঘিরে আপনার স্বপ্ন কী?

আমি মনে করি (GUN)বন্দুক থেকে গানের ক্ষমতা অনেক বেশি। ‘মিশন কাশ্মীর’ সিনেমায় শঙ্কর মহাদেবন একটি গান গেয়েছিলেন। আজকের ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গানটি খুব জরুরী। “সঙ্গীত মানে না ধর্ম জাত, সঙ্গীত মে জুড়ি কায়ানাত, সঙ্গীত কি না কোই জুবান, সঙ্গীত মে হ্যায় গীতা কুরাণ, সঙ্গীত মে হ্যায় আল্লাহ্‌ রাম, সঙ্গীত মে হ্যায় দুনিয়া তামাম”। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা সাম্প্রদায়িক প্রচার চোখে পড়ে। শুধু মাত্র মানুষকে বিনোদন দিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম নানা অবক্ষয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে। তাদের সেখান থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসাও আমাদের দায়িত্ব। আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আজ ক্লাস নাইন-টেনের ছেলে মেয়েদের বিভিন্ন নেশা করতে দেখা যায়, তাদের বকাঝকা করে কাজ হবে না। বরং তাদের যদি সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ছেড়ে দেওয়া যায়। একদিন হয়তো এরাই অন্ধকার মুছে নিজেরাই আলো হয়ে দিশা দেখাবে। আমি মনে করি ‘জীবনমুখী’ একটা বড় আদর্শ। কবীর সুমন বা নচিকেতার গান জীবন এবং তার অবক্ষয়ের কথাও বলে। জীবনমুখী গায়ক না হলেও গানবাজনাকে জীবনমুখী করে তোলাটাই আমার এক স্বপ্ন।

 

 

 

Promotion