Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
শাপলা সপর্যিতা - কাঁটাতার কি মন বা রক্তের বাঁধন আলাদা করতে পারে? - Exclusive Adhirath
প্রত্যাশার পারদ

শাপলা সপর্যিতা – কাঁটাতার কি মন বা রক্তের বাঁধন আলাদা করতে পারে?

আপনি একাধারে কবি ও কথা সাহিত্যিক। তবুও গুরুত্বের বিচারে কোন সত্ত্বাটিকে এগিয়ে রাখবেন? 

 আমি আমার কথা সাহিত্যিক সত্ত্বাটিকে নিয়েই  ভাবি, কাজ করি আর স্বপ্ন দেখি। আমার কবিতা লেখা নিয়ে কোনো স্বপ্ন বা কাজ নেই। সত্যিকার অর্থে যে সব কথাগুলোকে লোকে কবিতা নামে ভাবে তা আদতেই আমার কিছু ভাবনা। হাতে গোনা কিছু বাদ দিলে বাকি কোনোটিই কবিতা নয়।

আপনার এই সাহিত্যচর্চার শুরুটি কীভাবে হল?

চর্চাটি আসলে ছিলই ভেতরে ভেতরে। বহুকাল ধরেই। আজ লিখছি বলে তো আজই বা সমসাময়িক এতো এতো পড়া সম্ভব নয়। সাহিত্য চর্চার সবচেয়ে বড় অংশটুকুই কিন্তু পড়া, এটা আশা করি যে কেউ মানবেন। আমার ছোটবেলা প্রচুর বই পড়বার মধ্যে দিয়ে কেটেছে। মা পড়তেন বই কিনে। আমি যখন যে বই পড়বার সময় নয় তখন সে বই পড়াতাম চুরি করে। দেবদাস পড়েছি ক্লাস ফাইভে উঠতে উঠতে ৫ বার। শহীদুল্লাহ কায়সারের ‘সংশপ্তক’ উপন্যাস পড়ে ‘ছেনালী মাগি’ শব্দটার অর্থ খুঁজতে গেছিলাম সেজো ভাইর কাছে। বুঝতেই পারছেন কত অল্প বয়সে পড়ার শুরু। কাজী আনোয়ার হোসেনের ‘মাসুদ রানা’ আর রোমেনা আফাজের ‘দস্য বনহুর’ পড়তাম পড়ার বইয়ের নিচে লুকিয়ে লুকিয়ে। এভাবে আরিয়ানা ফাল্লাচি, এরিক মারিয়া রে মার্ক, এলেচি আমাদি পড়েছি ক্লাস এইট নাইন বা টেনে পড়াকালীন সময়েই। শরৎচন্দ্র তখনই প্রায় অর্ধেক পড়া শেষ। মানিক, তারাশঙ্কর এসবও পড়া শেষ প্রায় ১২ ক্লাস শেষ করতে করতে। শীর্ষেন্দু এক সময় হয়ে উঠলেন প্রিয়। পড়তে থাকলাম তাকেও।রবীন্দ্রনাথকে খুব ঘেঁটে ঘেঁটে পড়েছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য পড়তে এসে। রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস পড়াতেন প্রণম্য শিক্ষক সৈয়দ আকরাম হোসেন। রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ পড়াতেন বেগম আক্তার কামাল আপা। এরা দুজনও রবীন্দ্রপ্রেমে ইন্ধন যুগিয়েছিলেন বলতে দ্বিধা নেই। সাথে গান শুনতাম খুব। সারাদিনই পড়ছ্‌ অঙ্ক করছি, লিখছি কিন্তু ক্যাসেটে গান চলছে। সারাদিন ধরে চলছে বাড়িতে কোনো না কোনো গান। আর কবিতা আবৃত্তির সংগঠনের সাথে কাজ করবার সুবাদে দীর্ঘ কাল কবিতা পড়েছি অসংখ্য যা বলে শেষ করা যাবেনা। তখন, কবিতা ঘেঁটেছি, ছিঁড়েছি,খুঁজেছি, মরেছি আবার বেঁচেছি। তারপর বন্ধ্যা ১৪ বছর। ওই সবকিছুইর কারণেই এভাবেই নতুন করে শুরু ২০১৫ সালে। যখন জাতীয় দৈনিকগুলিতে আমার লেখা প্রকাশ হতে থাকলো। প্রথম প্রথম লিখেছি দৈনিক সংবাদে। সাহিত্য সম্পাদক ওবায়েদ আকাশের অনুরোধে সৈয়দ শামসুল হকের ‘পরাণের গহীন ভিতর’ এর উপর একটি আলোচনা প্রথম প্রকাশ হয় দৈনিক সংবাদে। তারপর আবার তারই অনুরোধে ‘একুশের পটভূমি’ আর নির্মলেন্দু গুণের জন্মদিনে তারই কবিতার উপর কিছু লেখা প্রকাশ করেন তিনি। তখনও গল্প লিখতে পারিনি পূর্ণাঙ্গ কোনো। তিনিই প্রথম গল্প লিখতে দিলেন। দেখি অনায়াসে লিখে ফেললাম ’নহন্যিয়া’। তিনি পছন্দ করলেন প্রকাশও হলো। তারপর মুক্তিযুদ্ধের উপর গল্প ‘ভ্রান্তপথ’ ছাপলেন।ভোরের পাতা তখন গল্পের জন্য ধরে বসলেন শ্রদ্ধেয় অগ্রজ উপন্যাসিক আলমগীর রেজা চৌধৃরী। প্রকাশ পেল গল্প ‘কাজল ছুঁয়ে প্রেম’ পরে চিন্তাসূ্ত্র অনলাইনে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু চেতনার উপর একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করলেন সম্পাদক নূরুল হক। সবাই গ্রহণ এবং পছন্দ করতে লাগলেন আমার লেখার ধরণ। বর্তমান সময়ের বিশেষ একজন কবি কাজী নাসির মামুনের দুটো কবিতার বইর উপর দুটি প্রবন্ধ লিখবার পর সেগুলো ভীষন পাঠকপ্রিয়তা পাবার পর আমার মনে হতে লাগলো আমি বোধহয় খানিকটা লিখতে শিখেছি। তখনও পুরোদমে মৌলিক সাহিত্য লিখিয়ে নই কিন্তু। আমি যখন ৯-৬ টা অফিসের কাজের ফাঁকে এই সব প্রবন্ধ লিখছি তখনই উপন্যাস লিখবার জন্য তাগাদা দিতে লাগলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাসুদুজ্জামান। তার কারণেই প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস ‘টাইম মেশিন’ লেখা হয় অফিসে বসেই। যেটি কলকাতার আত্মজা পাবলিশার্স প্রকাশ করেছে।আর পাশাপাশি তো সমাত্মজীবনী নারী – ‘আ হান্ড্রেড ফেসেস অব ওম্যান’ তো চলছেই দু’বছর ধরে।তাই সাহিত্য চর্চার শুরু যদি বলেন তবে আমি বলতে চাই সেই শরৎ আর দেবদাস পড়া থেকেই এর শুরু। আমি এভাবেই জানি……..

‘এক্সক্লুসিভ অধিরথ’ এবং ‘বার্তা লাইভ’-এর যৌথ নিবেদন এই ভিডিওটি দেখুন…

কী কী উল্লেখযোগ্য কাজ এখনও পর্যন্ত আপনি করেছেন?

আমি মনে করি আমার উল্লেখ করবার মতো কাজ দুটি। প্রথমটি সৈয়দ শামসুল হকের ‘পরাণে গহীন ভিতর’, নির্মলেন্দু গুণের সামগ্রিক কবিতা, রফিক আজাদের ব্যক্তিগত জীবন ও কবিতা নিয়ে আলোচনা। দ্বিতীয়টি, কাজী নাসির মামুনের কবিতার বইদুটো নিয়ে আলোচনা। এ কাজগুলো অগ্রজ বোদ্ধা সাহিত্যিক এবং সম্পাদকদের কাছে আমার গ্রহণযোগ্যতা তৈরী করেছে। পাঠকেরা বুঝতে পেরেছেন ‘এ মানুষ না জেনে না পড়ে লিখতে আসেনি’। দ্বিতীয়টি সমাত্মজীবনী, ‘নারী – আ হান্ড্রেড ফেসেস অব ওম্যান’। এর শব্দ এবং ভাষা, ঘটনা বলবার ধরণ, কাহিনীর সত্যতার প্রতি আমার ঐকান্তিক ভালোবাসা পাঠককে আমার নিকটবর্তী করেছে ভীষনভাবে। এর কাহিনীতে যারা যারা আছেন যারা নিজেরাই এর চরিত্র। লেখাও পড়ে চলেছেন তারা। অতএব মিথ্যা লেখার সুযোগ এখানে নেই একেবারেই।

আপনার লেখায় বহুমুখীনতা লক্ষ্য করা যায়। কোনও নির্দিষ্ট লেখকের প্রভাবান্বিত বলে আপনাকে চিহ্নিত করা যায় না। তারপরেও একজন লেখক মাত্রই কোনও একজনের লেখা ভালবাসেন বা আদর্শ মানেন। লেখালেখির জগতে আপনার সেরকম অনুপ্রেরণা বা আদর্শ কে?

আমি ধ্যান করি প্রায় সারাটি ক্ষণ। আমার মাথার ভেতরে প্রতি সেকেন্ডে চলতে থাকে বুনন। প্রাত্যহিক জীবনের যন্ত্রণাকে আপন করে বুকের গভীরে রাখি। এরাই আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়ে চলে। কবিতা গল্প কিংবা উপন্যাসের অন্তরালেও এর সকলেই প্রবহমান। আমি সত্যিকার অর্থেই কোনো লেখকের বা সাহিত্যিকের প্রভাবাান্বিত নই।

তবে আমি আগাগোড়াই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভক্ত। কেবল তার লেখা নয়; তার জীবনযাপন পদ্ধতি, আভিজাত্য, ধ্যান, প্রেম, প্রত্যক্ষণ, বিরহ, জনসেবা, চিন্তার বিস্তার, সমাজ সংস্কার, পদ্মা নদীর বুকে তার বোট এসব কিছুই আমাকে ভীষন রকম আলোড়িত করেছে সারাটি জীবন। কিন্তু সেটি অন্তরালে। বাস্তবিক সাহিত্যের ক্ষেত্রে আমি খুব অনুভবের কাছাকাছি, তাই সবকিছুকেই নিয়ে আসতে চাই। তাই বেদনার শব্দ, আভিমানের বাক্য কিংবা আক্রোশের আঘাত এসবই আমি একেবারে অনুভবের ধারে কাছে খুঁজে নিয়ে লিখি। অনুভবের সর্বোচ্চ প্রকাশক শব্দযৌগ আর বাক্য আমি নিজের মতো করে তৈরী করি। নিজস্ব গদ্য কথন তৈরী করি, যাকে কোনো বিশেষের সাথে মেলানো যাবেনা।

 

এই মুহূর্তে দুই বাংলারই বড় সমস্যা ধর্মীয় মৌলবাদ। কীভাবে এর মোকাবিলা করা যেতে পারে?

ধর্মীয় মৌলবাদ দুই বাংলার নয় বরং সারা পৃথিবী জুড়েই মারাত্মক একটি সমস্যা। এটি একটি আন্তর্জাতিক ব্যধি। দিনে দিনে তো প্রকট হয়ে দাঁড়াচ্ছে।আর মোকাবিলার কথা যদি বলেন তাহলে বলবো, মোকাবিলা তো আমরা করছিই। করছি না? বাংলাদেশে অভিজিতকে দিন দুপুরে শাহবাগে মেরে ফেলল। হুমায়ুন আজাদ স্যারকে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়, দীপনকে ‘জাগৃতি’র অফিসে, ‘শুদ্ধস্বর’ প্রকাশনীর টুটুল ভাই মারাত্মক আহত হয়ে দেশছাড়া। তসলিমাকে দেশছাড়া করা হলো। তবুতো আমরা লিখছি। চিৎকার করছি। এই সবইতো মোকাবিলাই। সাধারণ মানুষতো একেবারেই উগ্র নয়। সেটা এপার বাংলা বলুন আর ওপার বাংলাই বলুন। ধর্ম তো একটি ব্যাক্তিগত আইন। এখানে তো কারোর কিছু বলবার নেই। আমার ঘরে আমি কি দিয়ে ভাত খাব সেটা মাছ ভাত নাকি পান্তা সেটি তো আমার একান্তই ব্যক্তিগত। এ নিয়ে অন্য কেউ কিছু বলে নাকি? ধর্ম পালনও তো তাই। সব ধর্মেই মানব মঙ্গল আর শান্তির কথাই বলা আছে। সবাইকে যার যার  মতো করে ধর্ম পালনের অধিকার দিতে, ধর্ম পালনের আয়োজনে বাঁধা না দিতেই তো বলা আছে। তবুও তো মারাত্মক এক ঘা ছড়িয়ে পড়ছে।

কাঁটাতার কি সত্যিই দুই বাংলাকে আলাদা করতে পেরেছে?

না। কাঁটাতার কি মন বা রক্তের বাঁধন আলাদা করতে পারে? পারেনা। কাঁটাতার দুই বাংলাকে সত্যিই আলাদা করতে পারেনি। এটা আমার বিশ্বাস। আর এই চ্যালেঞ্জটিই ছুড়ে দিয়েছেন কে যেন একটি কথায়……….ঠিক এই মুহূর্তে হুবুহু মনে করতে পারছিনা। মর্মার্থটি এমন যে ‘মাটি ভাগ না করে ভাগ করতে যদি হয় তবে আকাশ ভাগ করে দেখাও।’ অর্থাৎ শাশ্বত সংস্কৃতি মায়া বাঁধন ভালোবাসা একের জন্য আর একজনের প্রাণের কান্না কাঁটাতার দিয়ে আলাদা করা সম্ভব নয়।

ভারতীয় উপমহাদেশ অনেকটা এগোলেও নারীদের ক্ষেত্রে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পারিবারিক এবং সামাজিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আপনি কীভাবে স্বাধীনচেতা লেখিকা হয়ে উঠলেন?

এ তো আসলে দৈবের অধীন এক বিষয়। আমি গত চারবছর আগেও জানতাম না এভাবে লিখবো বা লিখতে পারবো। কিন্তু পারিপার্শ্বিক আবহ যেন বিধাতাই গড়লেন। আর যে বেদনার সমুদ্র-মাঝে আমাকে তিনি নিক্ষেপ করলেন তা থেকে প্রতিনিয়তই কেবল সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে অন্য আর কিছু করা যায়না আসলে। পারিবাারিক সীমাবদ্ধতা তো ছিলই মারাত্মক। সামাজিক অপবাদতো নারীকে অপদস্থ করবার প্রধান হাতিয়ার এ সমাজে। জিঘাংসাও যে এর মধ্যে নেই তাই বা অস্বীকার করি কি করে। আমি যখন প্রথম দিকে সিরিয়াসলি লিখতে এলাম, সেটা ২০১৫ সাল। খুব মন দিয়ে রান্না করা ঘর গোছানো বাচ্চা লালন-পালন করা, স্বামীর পাশে পাশে সকল বিপদ আপদে বটগাছের মতো ছায়া দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নারীটি হঠাৎ হয়ে উঠলো উদভ্রান্ত। দুই পুরুষ শিক্ষিত পুরুষতন্ত্রের সব চৌদ্দটি বছর ধরে আমার উপর জাঁকিয়ে বসলো। তবু সার্বিক মঙ্গল কামনায় সব মেনে নিলাম। কিন্তু সমস্ত তান্ত্রিক অসুস্থতা দায়িত্বহীনতাগুলো যখন আমার কন্যাদের উপরও নেমে এলো। তখন আমার তান্ডব ঝড়ের মতো শক্তিশালী। আমাকে তখন আমার চারপাশ কেবলই পদানত করতে চাইলো আরও কঠিন গেরোতে। আমি তাতে আরও বেশি পরাক্রান্ত হয়ে উঠলাম। তার জন্য একমাত্র সুযোগ্য হাতিয়ার পেলাম একমাত্র লেখাকেই। চুরি হয়ে গেল আমারই ঘর থেকে ছোটবেলা থেকে লেখা তিনটি ব্যক্তিগত ডাইরী। সাতটি টিভি নাটকের পান্ডুলিপি আর ১৩টি পর্বে সমাপ্ত একটি অ্যাকশন ড্রামার পান্ডুলিপি। হার্ড কপি তো নেই-ই এদিকে সফট কপিও উধাও। আমি ভাবলাম যে লিখতে পারে তার কতগুলো লেখা হারালে কিছু যায় আসেনা। আরও কয়েক লক্ষ লেখা আমি লিখে ফেলতে পারি। আমি দেখতে চাইলাম এ সমাজ এ তন্ত্রফন্ত্র আমাকে কতটা দাবিয়ে রাখবে। আমি আমার কন্যাদের নিয়ে একা হয়ে গেলাম। কোনো পুরুষ কিংবা সমাজের এইসব নোংরা আবর্জনার বাইরে আমি একা……আমি লিখতে থাকলাম….আর ঠিক করলাম কাউকে কেয়ার করবো না এই পথে। যা যা সত্য তাই তাই লিখবো। আমি আর কম্প্রোমাইজ করিনি এ পথে, কাউকে। এভাবেই শাপলা সপর্যিতা নামে এক স্বাধীন মানুষ স্বাধীনচেতা লেখকের জন্ম।

এখনকার দিনে একজন শিল্পী বা সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে গেলে প্রতিভাটাই কি যথেষ্ট?

নাহ, যথেষ্ট নয়। প্রতিভার সাথে কঠোর ধ্যান শ্রম আর একাগ্রতার দরকার একাল-সেকাল সর্বকালেই। যে কোনো শিল্পই বলুন আর সাহিত্যই বলুন প্রথমে একজন ভালো মানুষ হবার দরকার। শিল্প নিজেকে নিজের সামনে দাঁড় করায়। সেখানে নিজের চেহারা পরিষ্কার না দেখা গেলে ধ্যান মুশকিল। ধ্যান না হলে শিল্প দুরূহ। এ এক মারাত্মক আত্মদর্শন।

সাহিত্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে আপনার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট কী ছিল?

প্রবন্ধগুলো আর ‘নারী’ এ দুটোই টার্নিং পয়েন্ট। এর আগে ব্যক্তিজীবনের টানা পোড়েন।

কবিতার বইয়ের প্রতি কি মানুষের আগ্রহ দিন দিন কমছে? কবিতা কি ক্রমশঃ সোশ্যাল নেটওয়ার্কের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে?

আমি বলবো তাই। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে কিছু কিছু লোক কবি হয়ে উঠছে। ছন্দ না জেনে লিখছে। ভাষার প্রয়োগ, ভাষার ক্রমবিকাশ বিবর্তন এসব না জেনেই যা তা শব্দ ব্যবহার করছে। প্রাণে প্রাণে যোগ হচ্ছে না কবিতা। অথচ বই বের হচ্ছে বছরে চারটি পাঁচটি করে। মিডিয়া কভারেজ দিচ্ছে। ছবি আর কবিতে একাকার কবিতা। অন্যদিকে প্রকাশকরা সকলে ব্যবসায়ী হয়ে উঠছেন। কারও দায়বোধ নেই সাহিত্যের এই ব্যাপক আর বিশাল মাধ্যমটির জন্য। ফলতঃ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে কবিতা।

সুস্থ সংস্কৃতি কি ক্রমশঃ হারিয়ে যাচ্ছে?

এটা ঠিক নয়। সংস্কৃতি তো আসলে একটি ব্যাপক বিষয়। এর শুদ্ধতা হারানোর সুযোগ নেই। যেমন ধরো আমার যে ভূপ্রকৃতিতে জন্ম সেই অনুযায়ীই তো আমার ভাষা, পোষাক, খাবার, আচার-আচরণ, উৎসব-পার্বন, ভাষা; তাইনা। এটাই তো আমার সংস্কৃতি। তাই সুস্থ সংস্কৃতি হারানোর সুযোগ নেই। তবে হ্যাঁ, সংস্কৃতি ক্রমান্বয়ে ঋদ্ধ হয়। নানা দেশের নানা লোকের সংস্পর্শে নতুন কিছু এসে যোগ হয়। দীর্ঘ দিন আচরণের ফলে সেটি একসময় নিজস্ব সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়ায়।আর অপসংস্কৃতি বলে যে শব্দটা সেটা ঝরে যায়, হারিয়ে যায়, পচে যায়, গলে যায়। বাকি যেটুকু থাকে সেটুকুই শুদ্ধ।

সাহিত্যকে ঘিরে আপনার ভালো ও খারাপ অভিজ্ঞতা।

ভালো অভিজ্ঞতা এটাই বলবো যে আমার প্রথম প্রকাশিত লেখাটিই গ্রহণীয় এবং আদরনীয় হয়েছে লেখক সম্পাদক ও পাঠকের কাছে। যদিও সেটি ছিল একটি প্রবন্ধ। সবচেয়ে আনন্দের অভিজ্ঞতা হলো যখন আত্মজা পাবলিশার্সের প্রকাশক অরুণাভ চট্টোপাধ্যায় বাংলাদেশে এলেন আমার লেখা নিতে। তখনও তাকে চিনি না। ফেসবুকেও তার সাথে কোনো পরিচয় নেই। সৃজন অনলাইনের সম্পাদক পারমিতা চক্রবর্তী আমাকে ফোন নম্বর দিয়েছিলেন শুধু। প্রথম দেখায় যখন জানতে চাই তিনি আমাকে জানলেন বা চিনলেন কি করে? তার উত্তরে তিনি বলেছিলেন ‘আমি আপনার নারী লেখাটি নিয়মিত পড়ি’।

আর খারাপ বলতে আমি কিছু মানিনা সাহিত্যের ক্ষেত্রে। যা যা অপছন্দের বা লোকের ভ্রুকুটি বা কটুক্তি বা অভিসন্ধি তার সবই আমার লেখাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। তাই সকলেই আমার প্রণম্য, সব শত্রুকেই আমার সৃষ্টির অণুপ্রাণ মনে করি।

সাহিত্য ও দর্শন এরা কি পরস্পরের হাত ধরাধরি করে চলে?

হুম, এটা অস্বীকার করবার উপায় নেই। সাহিত্য ও দর্শন যখন হাত ধরে চলে তখনই কেবল চিরায়ত সাহিত্য সৃষ্টি হয়। বাকি সব কালের জলে ধুয়ে যায়।

একজন শিল্পী হিসেবে সমাজের প্রতি আপনার কী দায়বদ্ধতা রয়েছে?

একজন শিল্পীর দায়বদ্ধতা অনেক। যত সহজে তিনি মানুষের কাছে যেতে পারেন কিংবা তার কথা যত সহজে মানুষ গ্রহণ করে অন্যের ক্ষেত্রে তা নয়। তবে সবাই তো আর সবটুকু নিয়ে চলতে বা লড়তে পারে না। আমি কেবল পৃথিবীর সকল নারী যেন মানুষ হয়ে উঠতে পারে তার পথ দেখিয়ে যাব। এই দায়টা আমি খুব বেশী ফিল করি।

সাহিত্যকে ঘিরে আপনার স্বপ্ন কী?

এমন অনন্য একটি লেখা লিখতে চাই যা পড়ে শত শত বছর লোকে কাঁদবে। এই আমার স্বপ্ন। পৃথিবীর প্রতিটি নারী নিজের যোগ্যতার সবটুকু ব্যবহার করতে পারবে এই আমার স্বপ্ন। প্রতিটি নারী চলার পথে পুরুষকে স্বামী নয়, প্রভু নয়, বন্ধু বা সাহায্যকারী হিসেবে পাবে এই আমার স্বপ্ন।

 

Promotion