EXCLUSIVE NEWS

আমাদের সন্তানদের ট্রেন নয়, বিষমুক্ত জল-বাতাস চাই – বলছেন সিকিমবাসী

আনুমানিক দুই বছরের মধ্যেই খুব সম্ভবতঃ সম্পূর্ণ হবে সেবক-রংপো রেল লাইন। এই প্রজেক্ট পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সিকিমকে জুড়বে রেলপথে। যার ফলশ্রুতিতে মাত্র দু-ঘন্টায় পৌঁছনো যাবে সিকিম। কিন্তু এই স্বপ্ন কি সত্যিই সিকিমের উপকার করবে? নাকি বয়ে আনবে একরাশ দুঃস্বপ্ন? তাই নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিকিমবাসী জানালেন, বাইরে থেকে গুন্ডা এনে গায়ের জোরে কাজ শুরু করানোর চেষ্টা চলছে। কিছু স্থানীয় মানুষকেও বেশ কিছু টাকার লোভ দেখিয়ে ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে। তার আরও অভিযোগ, এই সূত্রেই ভালুখোপ গ্রাম যাওয়ার পথে মেল্লি গ্রামের উল্টোদিকে হাইওয়ের ওপর বেশ কয়েকটি জেসিবি মেশিন হাজির হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার।

প্রস্তাবিত ৪৪.৯৮ কিলোমিটারের এই রেলপথে টানেলই হবে ৩৮.৫৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের (১৪টি)। ব্রিজ সংখ্যা হবে ১৯। তিস্তাবাজারে ভূগর্ভস্থ স্টেশন হবে। কার্শিয়াং, দার্জিলিং, কালিম্পং, ইস্ট সিকিম ফরেস্ট ডিভিশন ও মহানন্দা ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারির বনাঞ্চল জুড়ে এই রেলপথ বিস্তৃত হবে। সরকারের দাবী, বন্যপ্রাণ এবং পরিবেশকে বিঘ্নিত করা হবে না কারণ মোট যাত্রাপথের ৮৫ শতাংশই টানেলপথ। সিকিমের সাধারণ মানুষ অবশ্য এতো সহজে অবশ্য ভুলতে নারাজ। ফেসবুক পেজগুলোতে তারা বলছেন, আমাদের সন্তানদের ট্রেন নয়, বিষমুক্ত জল-বাতাস চাই। ডিনামাইট, বিস্ফোরক দিয়ে মাইলের পর মাইল পাহাড় ফাটিয়ে টানেল তৈরি করলে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ।

অভিযোগ উঠছে রেলের বিরুদ্ধেও। মেল্লি গ্রামের মানুষের অভিযোগ রেলের কাছে না আছে ফরেস্ট ক্লিয়ারেন্স, না আছে গ্রামসভার অনুমতি। তাই মেল্লি গ্রামের মানুষ কাজ আটকে দিয়েছেন। তবে শুধুমাত্র নিজেদের মনের জোরে কতোদিন তারা ঠেকিয়ে রাখতে পারবেন জানা নেই।

 

Promotion