EXCLUSIVE NEWS

কবিগুরুর নিজের হাতে তৈরি শান্তিনিকেতন প্রেস বন্ধ করছে কেন্দ্রীয় সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীত-পঞ্চাশিকা এই প্রেসে মুদ্রিত প্রথম বই। রবি ঠাকুরের গানের স্বরলিপি সংকলনটির প্রকাশের দায়িত্বে ছিলেন দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর। সময়টি ছিল ১৯১৮ সালের অক্টোবর মাস। তারপরে একে একে বহু ইতিহাসের সাক্ষী থেকেছে এই প্রেস। বিশ্বকবির নিজের হাতে তৈরি সেই শান্তিনিকেতন প্রেস এবার নোটিস দিয়ে বন্ধ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। খাতায় কলমে চালু থাকলেও কাজ হয় না যেখানে বেশ কয়েক মাস।

জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক সাতটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দিয়ে তাদের নিজস্ব প্রেস বন্ধ করতে বলেছে। সে তালিকায় নাম রয়েছে বিশ্বভারতীও। শতাব্দী প্রাচীন এই প্রেসে কর্মচারী ছিলেন ৩৯ জন। ২০১৮ থেকেই তাদের বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে বছরের শেষেই বন্ধ করে দেওয়া হয় প্রেসের কাজ। গ্রন্থন বিভাগের ডিরেক্টর অমৃত সেনকে চেয়ারপার্সন করে একটি দশজনের কমিটি গঠন করা হয়েছে বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে। ছাপাখানা নিয়ে বৈঠক হতে চলেছে আগামী ৫ আগস্ট। ছাপাখানার বাড়িটি ও যন্ত্রপাতির ভবিষ্যৎ কী, তা ঠিক হবে ওইদিনই। যন্ত্রগুলি নিলাম করা হতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে। ওই বিভাগের এক প্রাক্তন কর্মী বলেন, অন্য যে কোনও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে বিশ্বভারতীর এই ঐতিহাসিক প্রেস উন্নত। তাঁকে বহু বছর ওখানে কাজ করার পর অন্য বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে আক্ষেপও করেন তিনি।

তথ্য অনুযায়ী, ১৯১৭ সালের ৮ই জানুয়ারি আমেরিকার নেব্রাস্কা রাজ্যের লিঙ্কন শহরের বাসিন্দারা শান্তিনিকেতনের ছাত্রদের জন্য উপহার হিসেবে রবীন্দ্রনাথের হাতে তুলে দেন দ্য লিঙ্কন প্রেস নামের একটি মুদ্রণ যন্ত্র। যন্ত্রটির গায়ে খোদাইও করা ছিল সে কথা। সেই যন্ত্র শান্তিনিকেতনে এনে এই প্রেস চালু করেন রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং। এ হেন ঐতিহাসিক প্রেস বন্ধ হওয়ার খবরে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত প্রাক্তন ছাত্র থেকে বর্তমান আশ্রমিক সকলেই। কেউ বলছেন, এই ঐতিহাসিক প্রেসকে হেরিটেজ ঘোষণা করা উচিত ছিল। কারও মতে, অন্যান্য কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস থেকে ঐতিহাসিক ভাবেই এই প্রেস সম্পূর্ন আলাদা। শুধু মাত্র লাভ ক্ষতির হিসেবে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত এই প্রেসকে বন্ধ করা যায় কিনা, সেই প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।

Promotion