EXCLUSIVE NEWS

BREAKING – সরস্বতী পুজোর আবেগকে কাজে লাগিয়ে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি? কী বলছেন গ্রামবাসীরা?

 

হঠাৎই গত ২৭ জানুয়ারি রাত থেকে একটি ডিজিটাল পোস্টার ফেসবুকে ঘুরতে দেখা যায়। যার বক্তব্য হরিপাল ব্লকের বলাইবেড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজোর অনুমতি দেয়নি মসজিদ কর্তৃপক্ষ। এমনটিই নাকি জানিয়েছেন স্কুলের দিদিমণি। খুব দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায় এই পোস্টার। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হরিপাল থানার পুলিশ মোতায়েন হয় ঘটনাস্থলে।
আমরা যোগাযোগ করলাম এলাকার দুই গ্রামবাসীর সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হিন্দু বাসিন্দার থেকে জানা গেল বেশ কিছু তথ্য। সরস্বতী পুজো কেন বন্ধ করা হয়েছে, সেই প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে প্রথমেই তিনি দিলেন অবাক করা উত্তর। তার বয়ান অনুযায়ী, বিগত ৩৫-৪০ বছর ধরেই বলাইবেড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনও সরস্বতী পুজো হয় না। কোনও এক বছর গ্রামেরই এক হিন্দু ছাত্রের গায়ে হাত দেন তৎকালীন প্রধান শিক্ষক। সেই ছাত্রের পরিবার স্কুলে চড়াও হয়ে প্রধান শিক্ষককে হেনস্থা করে। প্রধান শিক্ষক বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যান। তখন থেকেই সরকারি স্কুলে পুজো হয়না। পাশাপাশি মসজিদের সঙ্গে স্কুলের জমির মাপজোখ সংক্রান্ত আইনী বিবাদ চলছে বহুদিন ধরেই। ২০১৭ সালে নতুন করে এই সমস্যা মাথাচাড়া দেয়। এক্ষেত্রে গ্রামেরই দুই ব্যক্তি উসকানি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। উল্টে তার পাল্টা বক্তব্য, যদি সরস্বতী পুজো করাই উদ্দেশ্য হতো, তাহলে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানে সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করা যেত। কিন্তু নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি এবং রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য জোর করে স্কুলে প্রতিমা ‘ফেলে’ দিয়ে যাওয়া হল। কাজেই সরস্বতী পুজো হওয়ার ক্ষীণ আশাটুকুও আমরা হারালাম। এই মুহূর্তে হিন্দু সংহতি মঞ্চের একটি পথ অবরোধ সেখানে চলছে, তাতে গ্রামের সবাই কি সামিল হয়েছেন? এর উত্তরে তিনি জানান, খুব বেশি হলে ৫ জন হয়তো গেছেন। ইতিমধ্যেই ফেসবুকে সরস্বতী পুজো নিয়ে এরকম রাজনীতিকে ধিক্কার জানিয়ে পোস্ট পড়তে শুরু করেছে।
গ্রামেরই আরেক বাসিন্দা খোকন মন্ডল সাফ জানান, যে দু’জন ব্যাক্তি সাম্প্রদায়িক উসকানি দিচ্ছেন তাদের নাম বনমালী ধাড়া এবং মহানন্দ ধাড়া। গ্রামের সব হিন্দুরা জোর করে সরস্বতী পুজো ওই বিদ্যালয়ে করাতে চাইছেন মোটেই এমনটি নয়। খোকন মন্ডলের কথায় উঠে আসে এই গ্রামে ইসলামিক জলসা অথবা হিন্দুদের যজ্ঞ দুই সম্প্রদায়ের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণেই এতোদিন হয়ে এসেছে। সম্প্রতি দু-তিন বছর ধরে সেখানে ছড়িয়ে পড়ছে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প। তিনি এও জানান, বছর দুয়েক আগে এলাকার কিছু স্কুলের মাঠে ইসলামিক জলসা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে খোকন মণ্ডলের কথায়, প্রশাসনের মধ্যস্ততায় শান্তিপূর্ণভাবেই তারা বিষয়টিকে সেবার মিটিয়ে নিয়েছিলেন। ওপর মহলে যে হিন্দুত্ববাদীরা  স্কুলের মাঠে ধর্মীয় প্রোগ্রাম না করার দাবী জানান, ভাগ্যের পরিহাসে তারাই স্কুলে সরস্বতী পুজোর জন্যে জোর করছেন। অন্যদিকে হরিপাল থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Promotion