EXCLUSIVE NEWS

পিএসসির দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাংলার ছাত্র-যুবরা আন্দোলনে, ছিনিয়ে নিলেন দাবী

সরকারি চাকরি ব্যাপারটি এখন সোনার পাথারবাটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু যেটুকু ছিঁটেফোঁটা পাওয়া যায় তার জন্য লড়াই করে মরে হাজার হাজার পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ হলে দেখা যায় হয়তো ৯৫০ ফাঁকা সিটের জন্য পরীক্ষা দিচ্ছেন প্রায় ১১০০০০০ জন। এরপরেও পরীক্ষার্থীরা বিশ্বাস রাখত পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ওপর। আর সেই পিএসসিই হয়ে উঠেছে দুর্নীতির আখড়া।

পিএসসির বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, কাট অফ না বলেই নিয়োগ থেকে শুরু করে স্বজনপোষণের গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই প্রশান্ত বর্মণ নামে এক পরীক্ষার্থী নাম ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস ২০১৭-এর প্রিলিমিনারির ফলাফল-তালিকায় ছিল না। তারপরেও আলাদা নোটিফিকেশন দিয়ে তাকে মেনস পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেয় পিএসসি। এহেন পরীক্ষার্থীর বাংলা ও ইংরাজিতেতে প্রাপ্ত নম্বর জাদু বলে রাতারাতি হয়ে যায় যথাক্রমে ১৮ থেকে ১৬৮ এবং ০ থেকে ১৬২। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরেও রেকর্ড নাম্বার পেয়ে সে ২০১৭ ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে! কিছুদিন আগেই জানা যায় উক্ত পরীক্ষার্থী শাসকদলের ঘনিষ্ট এক নেতার পরিচিত, যিনি পিএসসির সিক্রেট সেলের মেম্বারকে দিয়ে টাকার বিনিময়ে চাকরি করে দিচ্ছেন বিভিন্ন জনকে।

এই পরিস্থিতিতে গোটা রাজ্যের বিভিন্ন জেলার থেকে কয়েক হাজার বেকার ছাত্র-যুবরা গত বুধবার পিএসসি অফিসে জড়ো হয়েছিলেন এই প্রতারণার জবাব চাইতে। প্রথম দিকে পিএসসি তাদের কোনো কথা শুনতেই চায় নি বলে অভিযোগ। বৃষ্টিতেও ছাত্ররা জেদ ধরে অবস্থান চালাতে থাকে। এদিকে পুলিশের লাঠির ঘায়ে মাথা ফাটে এক আন্দোলনকারী ছাত্রের। অবশেষে পিএসসি কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবী মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

আন্দোলনরত ছাত্রদের দাবী ছিল,

১) ২০১৭ সালের ডব্লিউবিসিএস (এক্সিকিউটিভ) এর গ্রুপ সি ও ডি আবার রি-চেক কড়া হবে। ভুল ধরা পড়লে তালিকা থেকে বাদ যাবে।

২) ২০১৯ সালের ডব্লিউবিসিএস (এক্সিকিউটিভ) প্রিলিমিনারি পরীক্ষার কাট অফ এবং Answer kye প্রকাশ করতে হবে।

৩) ফায়ার সার্ভিসের কর্মী নিয়োগ পরীক্ষার ও খাদ্য দফতরের এসআই পরীক্ষার দুর্নীতির তদন্ত করবেন। ইতিমধ্যেই যে যে সেন্টার থেকে প্রশ্ন ফাঁস করা হয়েছে তাদের সেন্টারগুলি বাতিল করতে হবে।

৪)ডব্লিউবিসিএস (এক্সিকিউটিভ) পরীক্ষার প্রার্থীরা চাইলে তাদের ব্যক্তিগত নাম্বার জানতে পারবেন। (তবে এই ক্ষেত্রে প্রত্যেককে আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে।)

৫) পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, মোবাইল নিয়ে ঢোকা যাবে না। প্রশ্নপত্র সিল থাকবে।

এছাড়াও ২০১৭ সালের ডব্লিউবিসিএস (এক্সিকিউটিভ) গ্রুপ এ ও বি আদালতের তত্ত্বাবধানে আছে সমস্ত নথি আদালতে দেওয়া হয়েছে। তা নিয়ে তো আন্দোলন চলবেই।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, “আমরা আজ দিয়ে এসেছি কোন কথার খেলাপ হলে, আমরা আরো বড় আন্দোলনের দিকে যেতে বাধ্য হবে। সারার দেশের নেতা-দাদা -পুলিশ-পেয়াদারা যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলে ভুলিয়ে দিতে চাইছে আমাদের রুটি-রুজির অধিকার। কিন্তু আমরা লড়াই ছাড়ছি না!” জানা গিয়েছে পিএসসি তাদের ছয় দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মীকে শোকজ করেছেন।

Promotion