EXCLUSIVE NEWS

ভ্যাক্স সেটিং কারখানার প্রাণঘাতী দূষণের বিরুদ্ধে লড়ছেন নালিকুলের গ্রামবাসীরা

 

নালিকুল ইলেকট্রিক অফিসের পাশের জনবসতিতে প্রায় আড়াইশো দরিদ্র দিনমজুর মানুষের বাস। অভিযোগ ওই জনবসতির ঠিক পাশেই রয়েছে ভ্যাক্স সেটিং কারখানা, যার ভয়ানক দূষণ গ্রামবাসীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। পিডব্লিউডি’র জমির ওপরেই অবস্থিত কারখানাগুলোয় মূলতঃ ইমিটেশন গয়না তৈরি হয়। মোমে গয়নার ডিজাইন বানিয়ে তা দিয়ে প্লাস্টার অব প্যারিসের ছাঁচ গড়া হয়। তারপর তাতে তামার কোনও সস্তা সংকর ধাতু ঢেলে গয়না প্রস্তুত হয়। এই কারখানায় মূলত দু’ধরণের বর্জ্য তৈরি হয়। প্রথমতঃ সংকর ধাতু গলানোর ধোঁয়া, যাতে মিশে থাকে গন্ধক এবং তামার অক্সাইড। এছাড়াও থাকে কার্বন মনোক্সাইডের মতো শ্বাসরোধী বিষাক্ত গ্যাস। দ্বিতীয়তঃ প্লাস্টার প্যারিসের গুঁড়ো, যা ফুসফুসে জল জমানো রোগ ডেকে আনে। এই দূষণের বিরুদ্ধেই গত বুধবার সাধারণ গ্রামবাসী ১২নং রোডের উপর স্বতঃস্ফূর্ত পথ অবরোধ করেন।

 

এলাকার বাসিন্দা ৮০ বছরের আরতি ঘোষ জানান, যারা এই কারখানা বানিয়েছেন তাদের রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসন, সব মহলেই রয়েছে যোগসাজশ। যেহেতু এই ধরণের কারখানায় বিপুল পরিমাণ দূষণ হয়। কাজেই দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিষদের কোনও অনুমতি বা ছাড়পত্র এদের নেই বলেই আমাদের ধারণা। কারণ জনবসতির কাছে এরকম কারখানার অনুমতি সরকারী তরফে পাওয়া অসম্ভব। স্বাভাবিক ভাবেই এটি দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার, টাকা পয়সা ছড়িয়ে এরা এই ব্যবসা করছেন। যে বিষাক্ত ধোঁয়া বেরোয়, তা মূলতঃ রাতের দিকে চুল্লির মাধ্যমে ছাড়া হয়, যাতে সহজে মানুষ বুঝতে না পারেন। এই মুহূর্তে এই শ্বাসরোধী ধোঁয়ায় ১২ জন অসুস্থ হয়েছেন। শ্বাসকষ্ট, বমি, অনিদ্রা দেখা গিয়েছে। যুবক-যুবতীদেরও ক্রনিক অ্যাস্থমা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকরাও এই অসুস্থতার জন্য দূষণকেই দায়ী করেছেন। দিনের ২৪ ঘণ্টাই কারখানায় চলে শব্দ দানব। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মানুষ সমস্যা সমাধানের জন্য ছোটাছুটি করলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। তবে আরতি দেবীর বক্তব্য, কারখানার বৈধ কাগজ থাকলেও তাদের দূষণের জন্য শরীর খারাপ হচ্ছে, এই সত্যিটি এড়াবার জায়গা নেই।

 

অন্যদিকে হরিপাল থানার পুলিশ জানিয়েছে, কাগজ ছাড়া তাদের পক্ষে কোনও বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। যদিও তারা ঘটনার তদন্ত দ্রুত শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিষদের বৈধ কাগজ রয়েছে কী না? অথবা ব্যবসাটি বৈধ কী না এসব তারা খতিয়ে দেখবেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত কারখানা মালিকের একজন  কমল বাগ কথা বললেন, ‘এক্সক্লুসিভ অধিরথ’এর সঙ্গে। তার বক্তব্য, মেশিন যদি চালাতে না দেওয়া হয় তাহলে তারা কী খাবেন? উপযুক্ত কাগজ পত্র রয়েছে কিনা জানতে চাইলে কমলবাবু যুক্তি দেন, কাগজ থাকলেই কি দূষণ চলে যায়? উল্টে তার অভিযোগ এলাকায় নাকি আরও পনেরোটি ভ্যাক্স সেটিং কারখানা রয়েছে, সেগুলি বহাল তবিয়তে জনবসতির পাশেই চলছে। যদিও তিনি স্বীকার করে নেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিষদের কাগজ নেই, তারা সেটি করিয়ে নেবেন। সেই সঙ্গে সরকারও কিছু বিকল্প ভাবুক, জানালেন তিনি।

Promotion