Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
PROMOTIONAL Interview - SMP Photostory Creator - Exclusive Adhirath
PROMOTIONAL

PROMOTIONAL Interview – SMP Photostory Creator

কী ধরণের ছবি সংক্রান্ত কাজ আপনারা করে থাকেন?

আজকাল মার্কেটে যে ধরণের প্রফেশনাল কারণে ছবি তোলার জন্য ফটোগ্রাফারকে ডাকা হয়, সেই ধরণের প্রায় সবরকম কাজই আমরা করে থাকি। এখনকার বিয়েবাড়িতে যে এক্সক্লুসিভ ওয়েডিংয়ের ছবি তোলা, মানে আগের দিনগুলির মতো ওই পাড়ার স্টুডিওর মতো কয়েকটা ধরা-বাঁধা ছবি তুলে বেরিয়ে যাওয়া নয় অবশ্যই। আমরা ক্রিয়েটিভ অ্যাঙ্গেলের ছবি তুলি। অন্নপ্রাশন, জন্মদিন এগুলির ছবি এবং ভিডিও তুলে অ্যালবাম করে দেওয়া হয় এবং ভিডিও সিনেম্যাটিক স্টাইলের হয়ে থাকে। ছবির অ্যালবামের সাইজ থাকে ৩৬/১২ ইঞ্চি। এছাড়াও প্রোডাক্ট শ্যুট, যে কোনও ধরণের কালচারাল ইভেন্ট, অ্যাড ইত্যাদির জন্যও আমরা ছবি তুলি। কেউ হয়তো মডেলিং করতে চান, সেক্ষেত্রে পোর্টফোলিও আমরা করে থাকি। অর্থাৎ ফটোগ্রাফি সংক্রান্ত যে সকল কাজকর্ম হয়ে থাকে সেগুলি সবই আমরা আমাদের এসএমপি ফটোস্টোরি ক্রিয়েটর এই ব্যানারে করে থাকি।

আপনাদের কাজের অভিনবত্ব কোথায়? কেন মানুষ আপনাদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন বা ভবিষ্যতে করাবেন?

যে যে কারণে পাড়ার স্টুডিওতে না গিয়ে লোকে আমাদের কাছে আসেন তার কারণগুলি বলছি। এখনকার দিনে মানুষ ছবি নিয়ে ভীষণই খুঁতখুঁতে হয়ে পড়েছেন। মানুষ এখন চান নানা ধরণের অ্যাঙ্গেল যেগুলি দেখলে মন ছুঁয়ে যাবে। এই ধরণের ছবি আমাদের মতো ব্যানাররাই তুলে থাকেন। বাজেট অনুযায়ী আমাদের একাধিক ফটোগ্রাফার থাকেন। একটি হল ট্র্যাডিশনাল ফটোগ্রাফার, যারা মূলতঃ এদিকে তাকান, ছবি উঠছে এসব বলে চিরাচরিত অ্যাঙ্গেলে ছবি তুলে থাকেন। আরেক প্রকার ছবি তোলা হয় যেগুলিকে ছবির পরিভাষায় বলা যেতে পারে ক্যানডিড। মানে যাদের ছবি তোলা হচ্ছে তারা নিজেরাও জানেন না যে তাদের কোন মুহূর্তকে আমরা বন্দী করে ফেললাম। পরে তারাই অবাক হয়ে বলেন, “এই মুহূর্তটা ধরতে পেরেছ? কী করে ধরলে?” কিছু ছবি বা ভিডিও হয় প্রি-ওয়েডিং শ্যুট অথবা বিবাহিত যুগলকে আলাদা আলাদা পোজ দিয়ে ছবি তোলানো হয়। এই ধরণের ছবি যারা নতুন নতুন মার্কেটে কাজ করতে এসেছেন বা পাড়ার স্টুডিও কোনোভাবেই করেন না। তারা এসে তাদের নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয় ছবিটুকু তুলেই চলে যান। কখন যে তারা ছবি তুলতে গেলেন আর কখন যে চলে গেলেন তার কোনও খোঁজই পাওয়া যায় না। তাছাড়া আগেকার দিনের যে বিয়েবাড়ির ভিডিও হয় সেগুলি আমরা করি না। একটানা কারোর ওপর ক্যামেরা ধরে আছে, তো ধরেই আছে। সেই একই প্যানপ্যানানি মিউজিক সহকারে সেই ভিডিও যার নিজের বিয়ে হয়ে সেই সাহস করে না দেখতে। আমাদের ভিডিও গুলি খুবই ইন্টারেস্টিং ভাবে তৈরি করা হয়। সিনেমা দেখতে বসলে যেমন মানুষ উঠে পালিয়ে যান না, আমাদের কাজেও নানা ধরণের মুহূর্ত তুলে ধরে কাজ সম্পূর্ণ করি আমরা। সেই এক্সক্লুসিভ মুহূর্তের স্বাদ পেতে মানুষ আমাদের কাছে আসেন।

যে সব ক্লায়েন্টকে আমরা এই ভিডিও দিই, তার মজা করে পুরো ভিডিওটি দেখেই  ওঠেন। আমরা যখন অ্যালবাম দিই, তার আগে তো নমুনা দেখাতে যাই ক্লায়েন্টকে। সেই অ্যালবামে নানা ধরণের পেজ থাকে। গ্লসি, ম্যাট, সিল্কি, ফেদার, মেটাল সহ নানা ধরণের পেজ থাকে। ক্লায়েন্ট সেই পেজ ছুঁয়ে দেখেন কোন পেজে কীরকম ফিল পাওয়া যাচ্ছে। কোনটায় আলো রিফ্লেক্ট করছে, কোনটায় করছে না। আমাদের কাজের নির্দিষ্ট কোনও চার্জ নেই। সেগুলো নির্ভর করে কাজের ওপর, কাজের জায়গার দূরত্বের ওপর। যেমন ছেলের বাড়ি কতদূর, মেয়ের বাড়ি দূরত্ব তার ওপর বেশ খানিকটা চার্জ নির্ভর করছে। ধরা যাক, আমি যে শহরে থাকি সেই শহরেই পাত্রপাত্রীর বাড়ি। সেক্ষেত্রে খুব একটা যাতায়াত খরচ পড়ছে না। কিন্তু আমরা সময় খরচ করে আউট অফ স্টেশন কাজ করতে যাই তখন সেই খরচটা বাড়ে খানিক। প্রি-ওয়েডিং পার্ট যদি কেউ না করান তাহলে খরচ কমবে। ভিডিওতে তিনটি পার্ট থাকে। মূল ভিডিও, ট্রেলার এবং টিজার থাকে। এখন কেউ শুধু মূল ভিডিওটিই চাইলেন, তাহলে তার চার্জ কম পরে। এতে ক্লায়েন্টদেরও সুবিধা হয়। তাই সবসময় আমরা ক্লায়েন্টদের চাহিদা অনুযায়ী চার্জ করি। তাও মোটামুটি সিঙ্গেল সাইড একটি বিয়েবাড়ি কভার করতে শুরুটা ৩৫ হাজার দিয়ে হতে পারে। অথবা যদি একদিনের একটি অন্নপ্রাশন বাড়ি থাকে তাহলে সেটির অ্যালবাম এবং সিনেম্যাটিক ভিডিও নিয়ে ১৫ থেকে ১৮ হাজারের মধ্যে বাজেট থাকে। কালচারাল ইভেন্টের চার্জ পুরোটাই সময়ের ওপর নির্ভর করছে। ধরা যাক কেউ অনলাইন বিপণন সংস্থায় বিজ্ঞাপন দেবে। তো সেক্ষেত্রে তার যদি কোনও লেদার ব্যাগ পণ্যসামগ্রী হিসেবে থাকে তাহলে সেটির পাঁচ রকম ভিউপয়েন্ট থেকে ছবি তুলতে হয়। সেক্ষেত্রে একটি ব্যাগের ক্ষেত্রে আমরা ৭০ থেকে ৮০ টাকা চার্জ নিই। সেখানে গোল্ড অর্ণামেন্টসের শ্যুট থাকলে খরচ বেশি পড়ে। এবার কোনও প্রপস দিয়ে শ্যুট করাবে নাকি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডেই নর্মাল ছবি তোলা হবে তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। আগেও বলেছি, এখনও বলছি আমাদের চার্জ নির্দিষ্ট কিছু নেই। একটা অ্যাভারেজ আমি দিলাম।

তোমাদের কাজের চার্জ এতো বেশি কেন?

দেখুন, এটা বেশি চার্জ মনে হতে পারে, কিন্তু আদতে বেশি নয়। কারণ যে জিনিসপত্র আমরা আমাদের কাজে দিচ্ছি তার গুণমান বজায় রাখার একটি ব্যাপার রয়েছে। শ্যুটের আগে থেকে শুরু করে আপনাদের হাতে অ্যালবাম পৌঁছানো পর্যন্ত যে খরচ পড়ে সেটাই অনেক। সেখানে একটি ৩০-৩৫ হাজারের বিয়েবাড়ির কাজে লাভ খুব বেশি থাকে না। আর লাভটা সেই কারণেই কম রাখি যাতে আপনাদের হাই-কোয়ালিটির জিনিসটা দিতে পারি। আর এই মফঃস্বলে দাঁড়িয়ে সেটা বেশি মনে হতেই পারে। কারণ পাড়ার স্টুডিওরা মাত্র আট বা নয় হাজারে আপাঙ্কে ভিডিও এবং স্টিল ছবি বানিয়ে দিয়ে দেবে। সেই চার/ছয় সাইজের স্টিল ছবি প্লাস্টিকের ফাঁকে ফাঁকে ঢুকিয়ে দেবে। এক বছর যেতে না যেতেই সেগুলো আটকে গিয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের অ্যালবামগুলি বছরের পর বছর যেরকম রেখে দেবেন সেরকমই থেকে যাবে। এমনকি আমাদের পেজের গ্যারান্টিও থাকে দু’বছরের জন্য। যদি দু’বছরে পেজ নষ্ট হয়ে যায় আপনাকে সম্পূর্ণ একটি অ্যালবাম বিনামূল্যে বানিয়ে দেওয়া হবে। আমাদের যারা ভিডিও শ্যুট করেন তারা সেগুলি নিয়ে যথেষ্ট পড়াশুনা করেই ভিডিও শ্যুট করতে যান। যারা আমাদের ব্যানারের তলায় এডিট করেন, তারা সিনেমার এডিট করেন। নিশ্চয়ই তাদের চার্জ পাড়ার স্টুডিওর মতো হবে না। কলকাতায় অন্যান্য নামী ব্যানারের কাছে খবর নিয়ে দেখুন, সেক্ষেত্রে হয়তো বিয়েবাড়ির চার্জ শুরুই হয়তো ৭০ হাজার টাকা থেকে। সেই তুলনায় আমি যেহুতু নতুন এবং বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছতে চাই তাই আমার চার্জ সেই তুলনায় অনেকটাই কম।

 

আপনার মতে ছবির ক্ষেত্রে পেশাদারি জগতে সাফল্যের চাবিকাঠি কী?

সাফল্যের চাবিকাঠি সম্পূর্ণরূপেই বিশ্বাস। এতো টাকা খরচ করে আমাকে একটি কাজ ক্লায়েন্ট দিচ্ছেন। এখন ধরা যাক, একটি বিয়েবাড়ি। সেখানে ফটোগ্রাফারকে দায়িত্ব দিয়ে তাদের চিন্তা একেবারেই না থাকে। কারণ একটি বিয়েবাড়িতে কী মারাত্বক দায়িত্ব এবং টেনশন থাকে তা আশা করি সকলেই জানেন। এরপর যদি ফটোগ্রাফারকে নিয়েও টেনশন থাকে তাহলে তাকে কাজটি দিয়ে লাভ কী হল? আপনি তাকে যেই স্যাম্পেল দেখিয়েছেন সেই গুণমান যদি বজায় রাখতে পারেন তাহলে সেই ক্লায়েন্টও খুশি হবে এবং আপনিও সেখান থেকে আরও কাজ পাবেন। আরও একটি জরুরী বিষয় হল সময় জ্ঞান। যে সময়ে আপনাকে যেতে বলা হবে, সেই সময়ের খানিকটা আগেই পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। কারণ হতেই পারে সেখানে যাওয়ার পর আপনার প্রস্তুতির সংক্রান্ত নানা বিষয়ের দরকার পড়লো। আর অবশ্যই যেই সময়ে আপনার ডেলিভারী দেওয়ার কথা, অবশ্যই তার মধ্যেই সেটি দেবেন। কারণ তাদের একটা প্রত্যাশা থাকে যে এই দিনে আমার এই জিনিসটা আসবে। আপনি দেরি করলে তাদের আগ্রহও কমবে এবং মনে ক্ষোভও জমবে। তাই বিশ্বাস আর সময়জ্ঞান এগুলি ধরে রাখতে পারলে আপনার সাফল্য নিশ্চিত।

পেশাদারীত্বের দিক দিয়ে এই মুহূর্তে ফটোগ্রাফারদের গ্রাফ ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে?

এক্ষেত্রে একটি কথা বলতেই হচ্ছে। এতদিন মানুষ পাড়ার স্টুডিওর যারা বিয়ে বাড়ির ছবি তুলতে যেতেন তাদের ছাড়া আর কাউকেই চিনতেন না। কিন্তু বর্তমানে এই অনলাইন জগতের যুগে ফটোগ্রাফাররা একটা জাতে উঠেছে বলতেই পারেন। এখন ফটোগ্রাফির অনেকরকম কাজকর্ম হয়। এখন মিডিয়ার যুগ, মানুষ তার ব্যাবসা বা কাজের প্রমোশন করতে গেলে তার মিডিয়ার দরকার পড়েই। আর এই সব ক্ষেত্রেই চলে আসে ছবির বিষয়টি।

আরেকটি কথাও বলতে চাই। কিছু কিছু মানুষের জন্য এই প্রফেশনের গ্রাফটিও নিচের দিকে যাচ্ছে। কিছু মানুষ আছেন যারা ছবি নিয়ে পড়াশুনা করে সময় এবং অর্থ দুটোই ব্যায় করে কিছু শিখেই এই ফিল্ডে আসছেন। আগে তারা নিজেকে যোগ্য তৈরি করেন, তারপর কাজ করতে নামেন। অন্যদিকে, দেখা যায় পূজোর মার্কেটে অনেকের গলাতেই ডিএসএলআর ঝুলছে। তারপর আত্মীয়-স্বজনের বিয়েতে ছবি তুলে ফেসবুকে পেজ বানিয়ে দিয়ে দিলো। তারপর দাবি করলো, আমি ওয়েডিং ফটোগ্রাফার, আমাকে কাজ দিন। কোনও ক্লায়েন্ট যদি তাদের কাজ দেন কোনও ভাবেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন না সেই চিত্রগ্রাহক। এভাবে তো গোটা ফটোগ্রাফার জগতেরই ক্ষতি হয়। কারণ বিয়ে বা জন্মদিনের মতো উৎসবগুলি কিছুতেই রি-টেক হয়না। সেখানে আবার করে সেই ছবি তোলানো সম্ভব নয়। তাই যারা সত্যিই জীবিকা নির্বাহ করেন এই পেশাতে তাদের পেটেই শেষ পর্যন্ত লাথিটা পড়ে। এই ধরণের মানুষের জন্যই ফটোগ্রাফারদের গ্রাফ ওঠে এবং নামে।

এসএমপি ফটোস্টোরি ক্রিয়েটরের স্বপ্ন কী?

এখন প্রফেশনাল জীবনে সবাই টাকা কামানোর কথা ভাবে। আমি তা ভাবি না, এটা বললে মিথ্যা বলা হবে। তবে তার বাইরেও আমি ভাবি, আমি যাতে সবার সুবিধা মতো বাজেটে তাকে কাজ দিতে পারি, সেই জায়গায় পৌঁছে যাক আমার ব্যানার। একজন গরিব মানুষও যেন আমার কাজ অ্যাভেল করতে পারেন। এসএমপি ফটোস্টোরি ক্রিয়েটরকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে চাই যাতে সবার এটি পছন্দ হয় এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে কাজটি। ফটোগ্রাফি জগতের একটি পরিচিত ভাবনা হলো, এই তো অ্যালবাম যা দু’দিন পড়েই আর কেউ দেখবেন না। এই ভাবনাটাই বদলে দিতে চাই। আমরা এমন আঙ্গেলে কাজ করতে চাই যাতে ছবি এবং ভিডিও মানুষের বারবার দেখতে ইচ্ছে করে। সেই ছবি দেখলেই যাতে সেই ঘটে যাওয়া মুহূর্তগুলির কথা মানুষের মনে পড়ে যায়। এভাবেই নতুনত্ব সহকারে আমরা আমাদের কাজ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছি।

 

 

Promotion