EXCLUSIVE NEWS

শিল্পীর মহিমা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছে মাথা নত করলো, দেখুন ভিডিও!

 

কোনো এক কবিতায় লিখেছিলাম, “মফঃস্বল থেকে তুলে আনা আলাদিন।” আজ্ঞে হ্যাঁ, আজ যার কথা বলতে চলেছি সে আমাদের রূপকথার আশ্চর্য প্রদীপের আলাদিনের মতোই রোমাঞ্চকর। যার দুটি কিশোর হাতের ছোঁয়ায় ঘটে চলছে বিস্ময়, গড়ে উঠছে নতুন নতুন মাটির মূর্তি। নদীয়া জেলার মফঃস্বল শহর শান্তিপুরে এমনই এক বিস্ময় বালকই রয়েছে। এক ব্যবসায়ী পরিবারের সবচেয়ে কনিষ্ঠতম সদস্য সে। কখনও হাতে ধরে কেউ তাকে মাটির প্রতিমা গড়তে শেখায়নি। ছোট বেলায় বেশ অসুস্থ থাকায় হাত অসাড় হয়ে আসতো। ডাক্তার মাটির ক্লে দিয়ে কিছু বানাতে বললে ও সেই নিয়ে খেলতে শুরু করে রোজ। তারপর ধীরে ধীরে প্রতিভার বিচ্ছুরণের শুরু সেখান থেকেই। অবশ্য পরে কুমোরটুলিতেও মাটির প্রতিমা গড়া দেখে তার মনেও শখ জাগে। তারপর হাল আমলের ইউটিউব ঘেঁটে একটু একটু করে মাটির তাল নিয়ে শুরু করে মূর্তি গড়া। প্রথমে যদিও সে তার চেষ্টায়ব্যর্থ হয়। তবে বছর দেড়েক পর তার হাতের ছোঁয়ায় যেন অদ্ভুত প্রাণ পায় প্রতিমাগুলি। ক্লাস নাইনের ছাত্র সৌজন্য ভৌমিকের শখ এখন এটাই।

দিনের অধিকাংশ সময়ই সে বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় বসে রোদ-ঝড়-জল উপেক্ষা করে গড়ে চলেছে দুর্গা, কালী, জগদ্ধাত্রী, গণেশ, মুঠোফোনের স্ট্যান্ড, গাছ আরও কতো কিছু। অসুস্থতা অনেকটা কাটিয়ে উঠলেও কানে এখনও শুনতে বেশ অসুবিধা হয়। এমনকি সৌজন্যের কথাও জড়িয়ে যায়। তবুও দু’চোখ ভরে স্বপ্ন দেখেই চলে এই কিশোর। ভবিষ্যৎে আর্ট নিয়েই পড়াশোনা করতে চায়। তবে বর্তমানে সৌজন্য শান্তিপুরেরই এক মৃৎশিল্পীর থেকে অল্পবিস্তর প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। একদিকে যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে বাবা-মায়েরা ছেলেমেয়েকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইঁদুর দৌড়ে ছোটাচ্ছে। ঠিক এমনই এক পরিস্থিতিতে সৌজন্যের পরিবার ওকে সবসময় উৎসাহ দিয়ে চলছে ওর স্বপ্নপূরণের জন্য।

 

Promotion