Editorial

পিঠে-পুলির সেকাল-একাল!

 

কলমে ডাঃ প্রদীপ কুমার দাস

কোনও একটি উৎসবে মেতে না থাকতে পারলে উৎসবপ্রেমী বাঙালি রাতে ঘুম আসে না। রাত পোহালে পৌষ মাস শেষ হয়ে শুরু হবে মাঘ মাস। শীত দোলাচল চিত্তে রয়েছে। কখনোও উর্দ্ধগামী, কখনোও বা নিম্নগামী চিরাচরিতভাবে পৌষ সংক্রান্তি, যাকে মকর সংক্রান্তিও বলা হয়। গঙ্গাসাগরে ইতিমধ্যেই ঊষালগ্নে ঘড়ি ধরে ক্ষণ মিলিয়ে চলেছে অগনিত সাধু-সন্ন্যাসী লাখো মানুষের স্নানযাত্রা। সাধারণ মানুষের গভীর বিশ্বাস সাগরের পুণ্য স্নানযাত্রায় সারা জীবনের গ্লানি-দোষ সব ধুয়ে মুছে নতুন জীবন লাভ করবেন।

 

 

এই পৌষ পার্বণ উৎসবের আরও একটা মজার ব্যাপার হল পিঠে-পুলি উৎসব। ছোটবেলায় দেখেছি মা, ঠাকুমা, কাকিমাদের আগের দিন রাত জেগে শিল নোড়ায় ভেজানো চাল বেটে আরও অনেক কিছু মিশিয়ে নানা ধরণের পিঠে-পুলি তৈরী করতে। পিঠে যে কতো রকমের হতো সে বলার নয়। পোড়া পিঠে, পুর পিঠে, পাটিসাপটা, সরাই পিঠে, পুলি পিঠে, গোকুল পিঠে, পুলি, ক্ষীর পুলি, রসমালাই আর সকলের খুব প্রিয় মালপোয়া। এই মালপোয়াটা খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল সাড়ে চুয়াত্তর সিনেমায় ভানু বন্দোপাধ্যায়ের বলা ডায়লগ, “মাসিমা মালপুয়া খামু।”  থেকে। সেই সময় মানুষের মুখে মুখে ফিরতো ওই ডায়লগটি। আমাদের মা-ঠাকুমাদের সংস্কার ছিল পৌষ সংক্রান্তির দিনে সাগরে-নদীতে স্নান হোক বা না হোক, ছাদে ঘুড়ি উড়ানো হোক বা না হোক, বাড়ির প্রতিটি সদস্যকে তৈরী পিঠে-পুলি একটু না একটু খেতেই হবে। তা না হলে তার অমঙ্গল হবে। তার যদি পেট খারাপ বা অন্য কোনও ধরণের শরীর খারাপও হয় তবুও পিঠে-পুলির কিছুটা হলেও দাঁতে কাটতে হবেই। এমনই সংস্কারের ঘন মেঘে ঢাকা থাকতেন আমদের পূর্বসুরীরা।

 

বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতিতে মানুষ কিছুটা হলেও সংস্কারমুক্ত হতে পেরেছে ঠিকই। কিন্তু অন্য বিপদ এসে উঁকি মারছে সভ্যতার দোরগোড়ায়। পিঠে-পুলি বর্তমান নবীন প্রজন্মের পছন্দের তালিকায় না থাকায় তারা বেশি বেশি করে ঝুঁকছে ফাস্ট ফুড ও জাঙ্ক ফুডের দিকে যেটি একেবারেই সুস্থ শরীরের শত্রু। তাই পিঠে-পুলির উৎসব যতই সংস্কারাচ্ছন্ন হোক না কেন, তাতে থাকে হৃদয়ের ছোঁয়া। সেই সঙ্গে প্রাণের অনুভব আর হাতের পবিত্র স্পর্শ। সর্বোপরি সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।

চিত্র ঋণ – সুমন্ত বড়াল

 

Promotion