বিশেষ অবশেষ

পার্কে যাবি তো?

চিত্র ঋণ – গৌর মালাকার

সেদিন কলেজ থেকে ফেরার পথে বৃষ্টিকে বললাম বৃষ্টি পার্কে যাবি? ও বলল পার্ক! কেমন একটা ক্লান্তভাবে বলল, তবে যাওয়ার মন নেই এমনটা নয়, আসলে ও ক্লান্ত ছিল। সেদিন ছিল তার পিরিয়ডের প্রথম দিন। কিছু বললো না সে, অনেকক্ষণ চুপ করে থাকার পরেও কিছু বলেনি। কিন্তু পার্কের কাছে আসতেই ও বলল কিরে যাবি না, আমি যদিও পেরিয়ে যাচ্ছিলাম। তারপর টিকিট কাটি, প্রবেশ করি। একটা জায়গা করে বসলাম দুজনে, ও ক্লান্ত, মাথা নামিয়ে দিল আমার কোলে, আমি হাত বোলালাম তার চুলে, কপালে, মাথায়। কিছুক্ষণ থাকার পর সন্ধ্যে হবার মতো হলো, বলে রাখা ভালো পার্কটা বড়োদের। নিয়ম মেনেই ঠোঁটেরা ঠোঁট ছুঁয়েছে, কেউ আরও কিছুটা কাছে এসেছে, কেউবা গল্প করছে আর গায়ে হাত রেখেছে ইত্যাদি যা কিছু স্পর্ধিত প্রয়াস খোলা রাস্তায় তার সবটাই পার্ক জুড়ে নির্দ্বিধায় চলছে। আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম তা, সন্ধ্যে নেমে পড়ল ফিরতে হবে এবার। ফেরার পথে বৃষ্টি বলল আচ্ছা মেঘ ওই যে ওরা দুজন কত ভালো করে কাছে ছিল আমরা কেন এলাম না? তাহলে কী আমরা বন্ধু? কি উত্তর দেব ভেবে পাচ্ছিলাম না, কিছুক্ষণ থেমে থেকে আমি বললাম হুম আমরা তো বন্ধুই আর কাছেই তো ছিলাম, তোর চুল নেড়ে দিলাম, মাথায় হাত বোলালাম তুই ক্লান্ততা কাটালি থামিয়ে দিয়ে বৃষ্টি বলল আর তুই?
আমি তোর ক্লান্ততা মোছার চেষ্টা করলাম, আচ্ছা শোন ওরাও যেমন নিজেদের ছুঁয়েছিল আমিও তো তোকে ছুঁয়েছি তা যেভাবেই হোক…. ও থামিয়ে দিয়ে বলল আসছি রে বাড়ি এসে গেছে , হুম বাই ।

শেষ বাই বলল যখন আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়েছিলাম, মনে হলো—
“এভাবেই কত প্রেম ভাঙা-গড়া হয়
পার্কে প্রেমিকা বন্ধু থাকে না বোধহয়!!”