EXCLUSIVE NEWS

পানাগড় লিটল ম্যাগাজিন মেলা ফলালো যুবচেতনার ফসল

 

পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড়ের বুকে প্রথমবারের জন্য অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পানাগড় লিটল ম্যাগাজিন মেলা। তাদের এবারের থিম বাক্য ছিল, “আসুন করি বই যাপন”। তবে শুধু বই যাপনেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয় এই লিটল ম্যাগাজিন মেলাকে। এটির মূল ইউএসপি ছিল গোটা উদ্যোগটি জুড়েই ছিলেন ছাত্র-যুবরা। তাই বলা যায় যুবসমাজের স্পর্ধার যাপন হয়ে থাকলো এই স্বাধীন উদ্যোগটি। যার সাক্ষী ছিলেন ৫০ টিরও বেশি পত্রিকার প্রকাশকরা, অনুষ্ঠানে হাজির থাকা অতিথিরা এবং আপামর পানাগড়বাসী। পানাগড় ছাড়াও গোটা বর্ধমান, কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাহিত্যপ্রেমীরা ভিড় জমালেন এই মেলায়।

কাঁকসা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে আঁকা প্রতিযোগিতা দিয়ে শুরু হল মেলার কর্মসূচি। কচিকাঁচারা উৎসবের মেজাজেই যোগ দিলেন অঙ্কন-লড়াইয়ে। আর সেই টানটান লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েই আয়োজকরা বাধ্য হলেন চতুর্থ স্থান পর্যন্ত পুরস্কার দিতে। প্রথম হলেন পায়েল গড়াই। দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ যথাক্রমে নাসিমা খাতুন, সুদীপ দত্ত এবং অঙ্কিতা সাউ।

 

এরপরেই বেলা ১২ টায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় পানাগড় লিটল ম্যাগাজিন মেলা ২০১৯-এর। উদ্বোধন করলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ঋজুরেখ চক্রবর্তী। এছাড়াও বিশেষ অতিথিরূপে হাজির ছিলেন দ্যুতিমান ভট্টাচার্য।

দ্যুতিমান ভট্টাচার্য তার বক্তব্যে তুলে ধরলেন বইকে বাঁচিয়ে রাখতে এই ধরণের স্বাধীন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা। তার কথায়, বই যাপন ছড়িয়ে পড়ুক পানাগড় লিটল ম্যাগাজিন মেলার মাধ্যমে।

প্রকাশ দাস মেলার আয়োজকদের প্রশংসা করে বলেন; শ্রম, প্রেম আর মনোযোগ যদি না থাকে তাহলে এরকম একটি সাহিত্য-উদ্যোগ কখনোই গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সমকালীন ভাবনার স্বীকৃতি হিসেবে মেলার উদ্যোক্তারা জ্ঞানী-গুণীজনকে বেশ কিছু পুরস্কারে সম্মানিত করেন। চিত্রকল্প পুরস্কার প্রাপক ছিলেন শুভাশিস গোস্বামী। যেখানে বই-চিত্র পুরস্কার দেওয়া হয় কৃষ্ণেন্দু মণ্ডলকে। পিনাকী ঠাকুর স্মৃতি পুরস্কার পেলেন পূরবী রায় এবং মূর্তিমান পুরস্কারে সম্মানিত কড়া হল অজিত দে-কে।

লিটল ম্যাগাজিন মেলায় যোগ দিতে এসেছিলেন বার্তা প্রকাশনের কর্ণধার সৌরভ বিশায়ি। তিনি এক্সক্লুসিভ অধিরথকে আলাপচারিতায় জানালেন, তাদের প্রকাশনীর অধীনে এই বছর কলকাতা বইমেলায় ১০৩ টি বই প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আরও জানান, কলকাতা কেন্দ্রিকতার বাইরে মফঃস্বলেও যে সুন্দর কাজ হতে পারে তারই উদাহরণ এই পানাগড় লিটল ম্যাগাজিন মেলা।

 

এরপর একের পর এক কবিতা পাঠ, সঙ্গীতানুষ্ঠান, ভাষাভিত্তিক সেমিনার, বাউল ও বাংলা ব্যাণ্ডের গানে অনন্যতায় ভরে উঠলো মেলা-প্রাঙ্গণ। এক নতুন শুরুর বার্তা দিয়ে গেল যুবমনের উন্মেষ হওয়া প্রাণগুলো। তাই পানাগড় লিটল ম্যাগাজিন মেলা হয়তো আরেকবার প্রমাণ করে দিয়ে গেল, নতুন মুখ হলেও কুর্নিশ করার মতোই ভাবতে শিখে গিয়েছেন বর্তমান যুবসমাজ।

Promotion