EXCLUSIVE NEWS

ভারত সরকারের খাতায় এই আদিবাসী গ্রামটির নাম আজও ‘পাকিস্তান’!

 

কী? শিরোনাম দেখে চোখ কপালে উঠলো? তা অবশ্য হওয়ারই কথা! খোদ ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থিত এই আজব গ্রাম। নাহ, গ্রামে থাকেন না কোনও পাকিস্তানী। তবুও স্বাধীনতার সাত দশক পেরিয়েও ভারত সরকারের খাতায় এই গ্রামের নাম ‘পাকিস্তান’।

আদিবাসী সমাজের উন্নয়নে একের পর এক গবেষণা করে চলেছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ তাপস পাল। হিমাচল প্রদেশ পুরুলিয়া, ঝাড়খণ্ড, বীরভূমে, আন্দামান, আসাম, বক্সা, মেঘালয়ের আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর গবেষণার অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যেই তার হয়েছে। পূর্ণিয়া জেলার শ্রীনগর ব্লকের সিন্ধিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত এলাকায় আঠেরোটি সাঁওতাল পরিবার নিয়ে ‘পাকিস্তান’ গ্রাম এখনও রয়েছে ভারতের বুকে। গ্রামের মুখিয়ার সাথে তাপস বাবু কথা বলার পর জানতে পারেন, তাদের গ্রামকে কেউ পাকিস্তান গ্রাম বলুক তারা তা পছন্দ করেন না। দেশের প্রতি তাদের রয়েছে অগাধ ভালোবাসা। রয়েছে নিজেদের আদিবাসী সমাজের প্রতি চরম শ্রদ্ধা। তাই গ্রামের নাম ‘পাকিস্তান’ বদলে তাঁরা ‘বীরসা নগর’ রাখতে চেয়েছেন। এখানে মোট জনসংখ্যা প্রায় দু’শো জন। সাক্ষরতার হার ৩৫% হলেও গ্রামে নেই কোনও বিদ্যালয়। নদীর পাড়ে দারিদ্রতার ছবি নিয়েই এরা রয়েছে বেঁচে। স্কুল শিক্ষার জন্য যেতে হয় তিন কিলোমিটার দূরে সিন্ধিয়া গ্রামে। হাঁস, মুরগি, গরু, মহিষ পালন ছাড়াও কৃষিকাজ, মাছ এবং পাখি শিকারই হল তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন। স্বচ্ছ ভারত মিশনের শৌচালয় বানানোর কর্মসূচি নেই কোনও বাড়িতেই।

 

গ্রামবাসীরা চান পাকিস্তান নামক নাম থেকে মুক্তি। গ্রামের নাম পাকিস্তান কেন এই বিষয়ে জানতে চাইলে তাপস বাবু বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভের পূর্বে পূর্ণিয়া জেলা ছিল মুসলিম অধ্যুষিত গ্রাম। দেশ ভাগের পর এই গ্রামের মুসলিমরা পূর্ব পাকিস্তান চলে গেলেও তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে গ্রামের নাম ‘পাকিস্তান’ থেকে গিয়েছে। তবে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক, সে ব্যাপারে আদিবাসী সমাজও ওয়াকিবহাল। একই সঙ্গে তারা নিজেদেরকে সরকারি খাতায় ‘পাকিস্তান’ নামক শব্দ থেকে উদ্ধার হতে চান। অধ্যাপক তাপস পাল গ্রামটির দারিদ্রতা দূরীকরণ, আদিবাসী সমাজের চিন্তাকে মর্যাদা দিতে এবং তাদের চাহিদাকে সরকারের সামনে তুলে ধরতে চান।

 

Promotion