Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
পদ্মিনী দত্ত শর্মা - আমাজনের এক বেস্ট সেলার লেখিকার সাক্ষাৎকার - Exclusive Adhirath
প্রত্যাশার পারদ

পদ্মিনী দত্ত শর্মা – আমাজনের এক বেস্ট সেলার লেখিকার সাক্ষাৎকার

পদ্মিনী দত্ত শর্মা, এক কথায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এক লেখিকা। তার লেখা বই আমাজনের বেস্ট-সেলারও হয়েছে। তবে শুধুই লেখিকা বললে অবশ্যই তার বহুমুখী প্রতিভাকে অসম্মান করা হবে। তিনি একাধারে সমাজসেবী, কাউন্সেলর এবং শর্ট-ফিল্ম নির্দেশকও বটে। আসুন শুনি, তিনি ‘এক্সক্লুসিভ অধিরথ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোন এক্সক্লুসিভ তথ্য জানালেন?

প্রথম চারটি প্রশ্নের উত্তর আপনারা এই অডিওতে ্ক্লিক করলেই পেয়ে যাবেন।

এখনো পর্যন্ত আপনার কি কি বই প্রকাশিত হয়েছে?
‘Spice Up Your Marriage’ এই বইতে বিয়ে কেন ভেঙে যায়, তার কি কি কারণ, সবসময় লোকে ভাবে একজন তৃতীয় ব্যাক্তির জন্যই এটা হয়, কিন্তু তা নয়। এখানে আমি এই বিষয়েই বিভিন্ন ফ্যাক্টর নিয়ে আলোচনা করেছি।
দ্বিতীয় বইটি হল ‘Uncensored Revelations’। এটি একটি ১০০ টি কবিতার সমগ্র। এখানে কবিতাগুলি সবই অসম্পাদিত। কারণ আমার ভাবনাগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই লিখেছি,তাই নামকরণ হয়েছে Uncensored। সেখানে আছে আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই কেন, কাউকে ভাল লাগে কেন, সেগুলো ডিরেক্ট বলতে পারিনা কেন ইত্যাদি। আমি পাঠকদের কাছে প্রতিটি কবিতার তলায় একটি করে প্রশ্নচিহ্ন ছুঁড়ে দিয়েছি যাতে তারা ভাবেন কেন এরকম হয় আমাদের সাথে। তৃতীয় বইটি হচ্ছে ‘Five Hot Sizzlers’। এটি একটি ২০০ পাতার ছোট গল্পসমগ্র। এখানে প্রতিটি গল্পের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছেন মহিলারা। এখানে কিভাবে তারা অত্যাচারিত হয় এবং কিভাবে তারা তাদের স্ট্রাগল ওভারকাম করে সফল হন তা দেখানো হয়েছে। চতুর্থ বইটি আবার একটি কবিতার বই। এখানে সবই প্রেমের কবিতা যার নাম ‘Sensuous Love Poems’। পঞ্চম বইটি পাঠকদের অনুরোধে অভিভাবকদের ভূমিকা নিয়ে লেখা হয়েছে। বইটি হল ‘How to become best parents’। সেখানে আমি বাচ্চাদের সম্পর্কে বলেছি, তাদের কীরকম ব্যাবহার করা উচিত ইত্যাদি। পরের বইটিও আরেকটি কবিতা সমগ্র। কবিতা সমগ্র।আমি প্রতিদিন একটি করে কবিতা লিখি যত রাত ই হোক না কেন। তারপর সেগুলি বই আকারে প্রকাশিত হয়। আমার প্রতিটি বই আমাজন প্রকাশ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এর পরের বইটি একটি বিতর্কিত উপন্যাস ‘The Eternal Quest’। এখানে যে চরিত্রগুলো রয়েছে তাদেরকে কোনোরকম রাখঢাক ছাড়াই কাটাছেঁড়া করে দেখানো হয়েছে। বাস্তব জীবনের চরিত্রেরা যেমন হয় ঠিক সেরকম। এর সমাপ্তিতে আছে এক সাংঘাতিক টুইস্ট, যা না পড়লে বোঝা যাবেনা। ‘Deccan Chronicle’ এ আমি ধারাবাহিক ভাবে লিখতাম সেটিই হল পরবর্তী বইয়ের বিষয়বস্তু। আমাজন বলল, বই আকারে প্রকাশ করলে সবাই একসাথে পড়তে পারে। আমার নবম আর শেষ বইটি হল ‘Sleeping With The Arch Rivals’। নামটা পড়লেই মনে হবে এটি কোন একটি রোম্যান্টিক নভেল। স্লিপিং মানেই আমরা ধরে নিই কোনো বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে শোওয়ার কথা। কিন্তু এখানে আমি নামটা একটু অন্যার্থে ব্যবহার করেছি। আমাদের যে নানা রিপু রয়েছে। যেমন -রাগ, লোভ, ভয় ইত্যাদি। সেগুলো নিয়ে যে আমাদের সহবাস করতে হয় তাই লেখা আছে। এই হলো আমার নয়টি বইয়ের সারসংক্ষেপ!
প্রশ্ন: বেস্ট সেলার কি সবকটি বই হয়েছে??
উত্তর : ‘Spice Up Your Marriage’ প্রথম বেস্টসেলার হয়েছে এবং এখনও চলছে। দ্বিতীয় বেস্টসেলার হয়েছে ‘Five Hot Sizzlers’। এটি খুব জনপ্রিয় হয়েছে, দেশে বিদেশে এর সংস্করণ বেরিয়েই চলেছে। তারপর তালিকায় রয়েছে ‘How to become best parents’।
আমার কাছে যে লিস্ট আসে সেটায় দেখি যে শেষোক্ত বইটির একটা বিশাল চাহিদা আছে। আর ফোর্থ হোল ‘The Eternal Quest’। এটিও খুব পপুলার। আর যে নবম বইটি রয়েছে, সেটিও মনে হয় সব রেকর্ড ব্রেক করে দেবে।
এই যে পুরুষতান্ত্রিকতা বা নারীবাদীতা, এই ধরনের মানসিকতা কিভাবে দূর করা সম্ভব? আপনাকে কি এরকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে?
প্রথমত, আমি মনেই করিনা এটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কারণ এটা নিয়ে আমার সাথে অনেক সঞ্চালকদের সঙ্গেও তর্ক হয়েছে বহুবার। যখনি তারা বলেছেন মহিলারা সবসময় পুরুষদের দ্বারা অত্যাচারিত হন আমি তখনই বলেছি এটা কখনো হয়না। আমি যা দেখেছি, যখন একটি ছেলে বিবাহিত হয় তখন তার জীবন পুরোটাই পাল্টে যায়।
বিয়ের আগে সে তার মা-বাবার সাথে থাকে এবং বিয়ের পর পুরোটাই তাকে তার স্ত্রী পরিচালনা করে। বিয়ের পর মেয়েরা একটা গোটা এটিএম মেশিন পেয়ে যায়। বিয়ের পর সবসময় যে ছেলেরাই মেয়েদের অত্যাচার করে তা নয়, মেয়েরাও যথেষ্ট করে। কিন্তু এত নীরবভাবে তা করে যেটা বোঝার উপায় নেই। সুতরাং আমি একদমই মনে করিনা এটা  পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এবং ছেলেরাই সবসময় অত্যাচার করছে। আমি এটা একদম মানতে পারিনা কারণ আমি যাদের সাথে মিশেছি, আমার প্রচুর পুরুষ বন্ধু আছে এবং শুধু ভারতে নয়, এমন অনেক বন্ধু আছে যারা এই মুহূর্তে সমাজের শিখরে। আমি কখনো তাদের দ্বারা এক্সপ্লয়েট তো হইনি। তাদেরকে ছাড়া, তাদের সাপোর্ট ছাড়া আজকে আমি এই জায়গাতে দাঁড়াতে পারতাম না। আর আমি কখনো এরকম সমস্যার স্বীকার হইনি। আমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড কে বিয়ে করেছি এবং আমরা এখনও বন্ধু। আমরা এখনো প্রত্যেক বছর বেড়াতে যাই যেটি আমাদের কাছে মধুচন্দ্রিমার মতোই সুন্দর। তাই আমি বিশ্বাস করিনা সবসময় পুরুষরাই মহিলাদের এক্সপ্লয়েট করে।
একজন সফল লেখক বা লেখিকা হতে গেলে শুধু কি প্রতিভাটুকুই যথেষ্ট?
সফল লেখক বা লেখিকা হতে গেলে শুধু প্রতিভা দিয়ে কিছু হয়না। যথেষ্ট প্রতিভাবান পুরুষ বা মহিলাকে আমি দেখেছি যাদের লেখাগুলোতে শুধু ধূলো পড়েই থেকে যায়। তাদের লেখা কেউ ছাপেনা।
প্রথম কথা হচ্ছে লেখক বা লেখিকা হতে গেলে প্রচুর টাকার প্রয়োজন। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি এখানে প্রকাশকরা লেখকদের থেকে টাকা নেন। টাকা নেওয়ার পরেও ঠিক করে রয়্যালিটি দেন না। অনেক কষ্ট করে যদি কেউ লেখে, মানে ধরুন একটা বই লিখতে আমি যেটা দেখেছি, সেটা একটা সন্তান জন্ম দেওয়ার মতোই। আমার এই বইটা লিখতে আমার দশ মাস সময় লেগেছে।একটা বই লেখার পর আমাদের বারবার পড়ে পড়ে এডিট করতে হয়। সেক্ষেত্রে দেখেছি প্রচুর লেখক লেখিকার লেখায় খুব প্রতিভা থাকলেও তারা তা বের করতে পারেনা। কারণ তাদের টাকা নেই। তাই টাকা,যোগাযোগ থাকা দরকার। ঝুঁকি নেওয়ার একটা মানসিকতাও প্রয়োজন। এটার কোনোটাই যদি না থাকে তাহলে কখনোই সম্ভব না।
সাহিত্যিক হিসেবে আপনার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট কোনটা ছিল?
উত্তর : সাহিত্যিক হিসেবে আমার টার্নিং পয়েন্ট হলো যখন আমি ‘Times Of India’ তে সেরা ব্লগারের পুরস্কার পেলাম। এটা পাওয়ার পরেই আমার মনে হলো একটি কথা। আমার ছেলেও আমাকে অনুপ্রাণিত করে বললো, “তুমি এভাবে সময় নষ্ট না করে এটাকে বইয়ের আকারে প্রকাশ করো”। যাতে এটা দেশে বিদেশে সবার কাছে পৌঁছে যেতে পারে। সেখান থেকেই আমার প্রথম বইটি লেখা। এটাই আমার প্রথম টার্নিং পয়েন্ট। আমি ভাবিনি এটাতে এত ভালো সাড়া পাবো। বিয়ের উপর অনেক বই পড়ে আমি এই বইটা বের করেছি। আমার যেটা মনে হয়েছিল প্রত্যেক বইতেই লেখক খালি নিয়মনীতি সম্পর্কে বলে গেছেন। আমি সেই রাস্তায় না হেঁটে, পুরো কথোপকথন হিসেবে তুলে ধরেছি। তাই যেই পড়েছে তার মনে হয়েছে সে একটা গল্পের বই পড়ছে। সেইজন্য আমার মনে হয় এই বইটিই আমার সাহিত্য কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট।
বইয়ের প্রতি আগ্রহ কি দিন দিন মানুষের কমছে? সোশ্যাল নেটওয়ার্কের গণ্ডিতেই কি আমরা আটকে পড়ছি?
 আগে যে বই পড়ার প্রবণতা ছিল তা হল বই হাতে নিয়ে পড়বো। এখন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। কিন্তু এখনো কিছু সাহিত্যপ্রেমীদের দেখি বইমেলায় যারা এখনো ঝোলা নিয়ে নানা ধরনের বই সংগ্রহ করছেন।
আমরা চেনাজানা কিছু বন্ধু আছেন, বিশেষতঃ কোলকাতাতেই যারা দুপুর হলেই গোলপার্কের কোনো একটা মার্কেটে চলে যান বা কলেজস্ট্রীটে চলে যান। নানারকম সেকেন্ড হ্যান্ড বই কিনে নিয়ে আসেন। কিন্তু একটা বলার বিষয়, দেখেছি অনেকেই বই সংগ্রহ করে ঘর ভর্তি করেন, কিন্তু তার মধ্যে যে কতগুলো পড়েন সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। আমার যা মনে হয় এখন সবই নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি। ছোট ছোট ফ্ল্যাটে বই রাখার আর জায়গা থাকেনা।
সেজন্য লোকে এখন অনলাইন পড়তে পারেন। কোনো ইনভেস্টমেন্টও লাগেনা, ধূলো ঝাড়াঝুড়িরও ব্যাপার থাকেনা।
তাই বলা যেতে পারে বই পড়ার প্রবণতা কমেছে। তবে অক্সফোর্ড বুক স্টোর বা এমনি কোনো ক্রস ওয়ার্ল্ডে গেলে দেখা যাবে অনেকেই পড়ছে। তবে হ্যাঁ আগের মতো সেই প্রবণতা নেই। তবে এটার জন্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক কে আমি কিছুতেই দায়ী করতে পারছিনা। কারণ সত্যি বলতে আমার নিজের আজ যত পাঠক তাদের কিন্তু আমি ফেসবুক থেকেই পেয়েছি।
আমরা যেটাকে রিয়েল লাইফ বলি তার মধ্যে তথাকথিত আপনজনেরা কিন্তু এখনো অব্ধি আমার বই কেনেন নি, বা পড়ে দেখেন নি। যদি আমি কোনো পোস্ট করেছি সেটা হয়তো না পড়েই লাইক করে দিয়েছেন। আমার যারা ভার্চুয়াল জগতের বন্ধু, বিশেষ করে আমেরিকার বন্ধু, তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কারণ তারা বইটা পয়সা দিয়ে কিনে পড়ে এবং সেটার রিভিউ লিখেছে। কেউ কেউ কিনে পড়েছে কেউ কেউ কিন্ডলের মাধ্যমে পড়েছে। আমার কাছে সোশ্যাল মিডিয়াটা একটা ভীষণ পসিটিভ ডেভলপমেন্ট এবং আমি খুবই ফেসবুকের দ্বারা যথেষ্টই উপকৃত।
কাদের লেখা আপনাকে টানে? কাদের দ্বারা আপনি অনুপ্রাণিত হন?
উত্তর : আমি যেহেতু ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেছি তাই সেরকমভাবে বাংলা বই আমি পড়িনি। মায়ের চাপে হয়ত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পড়েছি।  বঙ্কিমচন্দ্র পড়েছি, শরৎচন্দ্রও পড়েছি। ছোটবেলায় লুকিয়ে লুকিয়ে দেশের সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, বিমল কর; এনাদেরকে পড়েছি যেগুলি ধারাবাহিকভাবে বেরোত।
কিন্তু অনুপ্রেরণা বলতে গেলে ওয়ার্ডসওয়ার্থ, ইলিয়ট, শেক্সপিয়ার প্রমুখ দ্বারা খুব প্রেরিত। আর ভারতীয় লেখক বলতে গেলে শোভা দে’কে ভীষণ ভালো লাগে। আমি শোভা দে’র মতো লিখতে চাই, ওনার মতোই হতে চাই।
সাহিত্য আর দর্শন কতোটা একে অপরের হাত ধরে চলে বলে আপনার মনে হয়?
সাহিত্য আর দর্শন ভীষণই জড়িয়ে। যে কোন লেখক সে যখন তার বই লেখেন তখন কিন্তু তিনি তার দর্শনটাকেই তার মধ্যে চাপানোর চেষ্টা করেন। যেমন আমি আমার প্রতিটা গল্পে দেখিয়েছি মেয়েদের অবশ্যই একটা স্ট্রাগল থাকে কিন্তু আমার দর্শন এটা যে, কোনও মহিলার জীবনে যত যুদ্ধ করেই জয় আসুক না কেন শেষ পর্যন্ত তাকে একজন পুরুষের হাত ধরেই তাকে জয়ী হতে হয়েছে। আমার মনে হয় সাহিত্য ও দর্শন খুবই জড়িয়ে। একজন সাহিত্যিককে তার দর্শন ভীষনভাবে প্রভাবিত করে।
আপনি একজন সাহিত্যিক বা শিল্পী। সমাজের প্রতি আপনার কি দায়বদ্ধতা আছে?
সাহিত্যিক হিসেবে কিনা জানিনা, কিন্তু মানুষ হিসেবে আমি মনে করি যে আমার প্রচুর দায়বদ্ধতা আছে। সেই কারণেই আমি অনাথ আশ্রমগুলোতে আমি যাই। আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় দিন, আমার ছেলের জন্মদিন ২১ ডিসেম্বর। আমি সেই দিনও বড় মাপের গাড়ি চড়া লোকেদের আমন্ত্রণ না জানিয়ে অনাথ আশ্রমে যাই, সেখানকার শিশুদের সঙ্গে গোটা দিন কাটাই। এটাও কিন্তু আমার ছেলেরই প্রেরণা।  যখন ওর পাঁচ বছর বয়স ছিল, তখন আমি ঘটা করে ওর জন্মদিন পালন করেছিলাম। তখন আমার ছেলে বলেছিল ওর নাকি এই জিনিসটায়, এত লোকজন এসেছে, এত  পারফিউমের গন্ধে বিরক্ত লাগছে। আমাকে তখন বলেছিল পরের বছর থেকে আমরা “মাদার টেরেসার ওখানে যাব”। ওর যখন ছ’বছর বয়স সেই আমাদের মাদার টেরেসার ওখানে যাওয়া শুরু, তারপর থেকেই অনাথ আশ্রম, বৃদ্ধাশ্রম যাওয়া শুরু।
ইংরাজিতেই আপনি মূলত লেখেন। কিন্তু পৃথিবীর অসংখ্য মানুষই ইংরেজি বোঝেন না। তাদের জন্য কি আপনার বইগুলি অনুবাদ করার ভাবনা আছে?
 হ্যাঁ, এই প্রশ্নটা আমাকে অনেকেই করেছেন। আমারও ইচ্ছে যাতে আমার বইগুলো ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়। যারা ইংরেজি বোঝেন না, তাদের জন্য বাংলা ও হিন্দিতে যদি অনুবাদ করা যায় তাহলে খুব ভাল হয়। এই নিয়ে কথাবার্তাও বলেছি। সমস্যা একটাই, যেহেতু আমি ভারতে খুব কম সময়ের জন্য থাকি সেহেতু পরিকল্পনা করার পরেও সেগুলো করা হয়ে ওঠে না। তবে এবার অবশ্যই করার ইচ্ছে আছে। আমার কিছু বই আমার অজান্তেই ফরাসী এবং স্প্যানিশে অনূদিত হয়েছে। সবই আমাজনের দয়া।
সাহিত্যিক হিসেবে আপনার স্বপ্ন কি?
সাহিত্যিক হিসেবে আমার স্বপ্ন হচ্ছে, আমি যাতে প্রত্যেক বছর একটা করে বই মানুষকে উপহার দিতে পারি। বেস্ট সেলার হওয়া বা না হওয়া আমার কাছে খুব বড় কৃতিত্বের ব্যাপার নয়। কারণ একটা বইকে বেস্ট সেলার করতে গেলে কী কী করতে হয় তার পদ্ধতি আমার জানা আছে, তাই বেস্ট সেলার হওয়াটা বড় কথা নয়। মূলতঃ আমি যেটা চাইছি সেটি হল আমার বই যাতে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় এবং তারা যাতে বইটা পড়েন। আমি একদম সহজ-সরল ইংরেজিতে লিখি, যাতে যারা পড়বেন তারা বুঝতে পারেন সহজেই। আমার বই যেন সত্যিই মানুষকে উপকৃত করতে পারে।

Promotion