EXCLUSIVE NEWS

গলায় আটকে থাকা হাড় বের করে কেউটে সাপকে বাঁচালেন এই যুবক

 

বরাবরই প্রকৃতির প্রাণ নিয়ে তার চিন্তা ভাবনা। বাসা ভেঙে পরে যাওয়া পাখিদের রক্ষা করা কিংবা পথের কুকুর বা আঘাত প্রাপ্ত হনুমানকে বাঁচানোই হোক। পশুপাখিদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা সেই ছোটবেলা থেকেই। এভাবেই প্রকৃতির এই প্রাণগুলির সচেতনতার সঙ্গে হাওড়ার পাঁচলার সন্তু খাঁড়ার জড়িয়ে পড়া। গত সপ্তাহে একটি মাঠের ধারে কিছু বাচ্চা খেলতে গিয়ে একটি কেউটে সাপকে নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকতে দেখে। সঙ্গে সঙ্গে তারা খবর দেয় তাদের প্রিয় দাদা সন্তুকে। তারা জানতো সন্তু একজন স্নেক রেস্কিউয়ার।

 

সন্তু ওই বাচ্চাদের মুখে সাপের কথা শুনেই সহকর্মী বন্ধু রাজকে নিয়ে চলে যায় সাপটিকে বাঁচাতে। অভিজ্ঞতার জোরে সে বুঝতে পারে সাপটি নিশ্চয়ই এমন কিছু খেয়েছে, যে কারণে সাপটির জীবন সঙ্কটের মুখে। পরীক্ষা করার পর বুঝতে পারা যায়, গলায় আটকে থাকা খাবারের টুকরোর জন্যই সাপটির ওই পরিস্থিতি। দ্রুত অপারেশন করে সাপটিকে বাঁচানোর অন্য উপায় ছিল না। তাই অস্ত্রোপচার করে কয়েকটি বড় হাড়ের টুকরো বের করে সন্তু সাপটিকে বাচায়। তাদের পরিচর্যায় পাঁচ ফুটের কেউটে সাপটি এখন সুস্থ।

 

সন্তু আমাদের জানান, গ্রাম বাংলার বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় সাপ যে বিশেষ ভূমিকা পালন করে তা এখনও অনেক মানুষের কাছে অজানা। অনেক কুসংস্কারের বেড়াজালেও বন্দী গ্রামের মানুষ। ইতিমধ্যেই তিনি বিভিন্ন জায়গায় সাপ উদ্ধার করেছেন এবং মানুষকেও সাপ সম্বন্ধে সচেতন করেছেন। তিনি আরও বলেন, যদি সাপ এবং মানুষ উভয়ের অস্তিত্ব বিপদের মুখে পড়ে, তাহলেই শুধুমাত্র তিনি সাপ উদ্ধার করেন। জঙ্গলে গিয়ে সাপ ধরাকে তিনি উচিৎ নয় বলেই মনে করেন। সাপ দেখলেই মেরে ফেলার প্রবণতার মানসিকতায় বদল আনতে এভাবেই লড়ছেন হাওড়ার যুবক সন্তু।

 

Promotion