মেঘে ঢাকা তারা

নাইল ভট্টাচার্য্যি – স্বপ্ন দেখি, দুই বাংলার বিদ্বেষ অবসান

নাইল ভট্টাচার্য্যি কে? চিত্র নাট্যকার? গীতিকার ও সুরকার? নাকি চলচ্চিত্র পরিচালক?

নাইল ভট্টাচার্য্য সবার প্রথমে গীতিকার ও সুরকার। কেননা গান লেখা ও সুর করা দিয়ে আমার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রকৃত পথ চলা শুরু হয়‌। তবে ছোটবেলা থেকে আমি কখনোই ভাবি নি যে গান লিখব, সুর রচনা করবো বা পেশা হিসেবে সঙ্গীতকেও একদিন ভাববো।
আমার জীবনের সবকিছুই পরিকল্পনা করে হয়নি। ‌ চলচ্চিত্র জগতে আমি তথ্যচিত্র পরিচালনার মাধ্যমে শুরু করেছিলাম , সেটাও আমার ছোটবেলা থেকে প্রেরণা নয়। এখন চলচ্চিত্র পরিচালনা বা সহ পরিচালনার কাজ করছি। পাশাপাশি গল্প লিখছি চিত্রনাট্যে লিখছি। এভাবেই ভালো লাগার জায়গাগুলোকে ভালোবেসেছি। তবে আমি আমার ভালোলাগার অন্য দিকগুলোকে সঙ্গীতের পরেই রাখবো।

কীভাবে শুরু হল শিল্পের সঙ্গে ঘর বাঁধা?

১৯৯৩ সালের শেষের দিক। সেপ্টেম্বর মাসে নচিদার মানে শিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তীর ‘এই বেশ ভালো আছি’ অ্যালবামটি মুক্তি পেয়েছে। সবার মতো আমিও ভীষণভাবে তার গানগুলো শুনে ইন্সপায়ার্ড।  বার বার গেয়েই চলেছি। হঠাৎই ইচ্ছে হলো যে নিজেও তো চেষ্টা করে দেখি। দেখি না ওনার মতো গান লিখতে পারি, কিনা সুর দিতে পারি কিনা! ব্যাস তখনকার একটা তোলপাড় করা ঘটনাকে নিয়ে গান লিখলাম। একটা মজাদার র‍্যাপ গান। গানটা নিয়ে সরাসরি নচিদার সঙ্গে দেখা করতে চলে গেলাম ওনার বেলগাছিয়া রেলওয়ে আবাসন কোয়ার্টারে। তখন উনি ওখানে থাকতেন।
গান শোনালাম নচিদাকে। জয়দা, ঋত্বিকদা, প্রদীপদার সঙ্গেও আলাপ হলো। বেশ কিছুদিন নচিদার সঙ্গে সময় কাটিয়ে ছিলাম। নচিদার সঙ্গে থাকতে থাকতে আমার মধ্যে গানের এক অসাধারণ স্পৃহা এল। নচিদা আমাকে গায়ক শ্রী শুভেন্দু মাইতির সঙ্গে দেখা করতে পাঠিয়েছিলেন।তাই আমার সূচনাটা মানে আমার সঙ্গীত জগতে বসত করার ইচ্ছে বা এমন কি এই লেখালিখি অনেকটাই নচিদার প্রভাব। নচিদাই আমাকে বলেছিলেন জয় গোস্বামীর কবিতা পড়তে।

আজকে যে সামান্য লিখতে পারি, ভাবতে পারি, বিন্যাস করতে পারি; সেখানে ওই মানুষটার অবদান অনস্বীকার্য।
এছাড়াও আমি আমার জীবনে আরো কয়েকজনকে ভীষণভাবে মানি। প্রসঙ্গান্তরে সে কথায় আসবো। এরপর লেখালিখি চলতে লাগলো। গান লেখা, সুর দেওয়ার পাশাপাশি অনেক কিছু ভাবতে চাইতাম। গল্প লেখার চেষ্টা করতাম, কবিতা লেখার চেষ্টা করতাম। তবে আমার অনেক কিছু প্রাপ্তি হয়েছে এই দশকে। এখন হয়তো কিছু পারি।

কী কী উল্লেখযোগ্য কাজ এখনও করেছেন?

আমার উল্লেখযোগ্য কাজ বলতে, এই বছরেই ‘দেখো কি কান্ড’ নামে একটি ওয়েব সিরিজের দুটি গল্পের ডিরেকশন ও স্ক্রিপ্ট লেখা। এটা এক ভদ্রলোকের ৮০ বছর আগে বাংলাদেশে ফেলে আসা অতীতের স্মৃতি বিজড়িত উজ্জ্বল শৈশবকে তুলে ধরার গল্প। অভিনয় করেছেন পরান বন্দ্যোপাধ্যায় , অরুণ গুহ ঠাকুরতা , অশোক ভাদুড়ী,
প্রভাস সরকার, জোৎস্না মজুমদার এবং বেশ কিছু শিশু শিল্পী। এর বাইরে আমি করেছি ও করে চলেছি কয়েকটি তথ্যচিত্র। জনপ্রিয় ও বিশ্ব বিখ্যাত কমিকস সাহিত্যিক নারায়ন দেবনাথকে নিয়ে ‘গল্পে ও আঁকায় শ্রী নারায়ন দেবনাথ’ এই বছরই মুক্তি পাবে। আমাদের প্রিয় শ্রদ্ধেয় সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে ‘শীর্ষে শীর্ষেন্দু’ সেই তালিকায় রয়েছে।

ভারত ও বাংলাদেশের তারকাঁটা সীমানার দুপারের মানুষের বহমান আবেগের উপর ‘সীমানা প্রবাহ’ তথ্যচিত্র, বাংলার যাত্রাপালা নিয়ে ‘যাত্রাপথে’ এই সব কটি প্রজেক্টে আমার সহ-পরিচালক দেব গোস্বামী। উনি একাধারে
এডিটিং , কালার কারেকশন, বিজিএম, ফলি ইত্যাদি ভূমিকা পালন করেছেন। আরো অনেকেই আমার সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশের একটি চলচ্চিত্র ‘ঢাকা 2040’ এ অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের ভূমিকায় ছিলাম।
এই মুহূর্তে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছি ‘নটী বিনোদিনী’তে। সেপ্টেম্বরে সেই কাজ শুরু হবে।
এছাড়াও কিছু শ্রুতি নাটকের প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।

শর্ট ফিল্ম না সিনেমা, কোথায় নিজেকে বেশি খুঁজে পেয়েছেন?

দুটি বৃত্তই আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। শর্ট ফিল্ম তার স্বল্প পরিসরে খুব কম সময়ের মধ্যে সমাধানে নিয়ে যায়, একটা জীবন দর্শন দেখিয়ে দেয়। সিনেমার মধ্যে অনেকটা বিন্যাস থাকে; শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা লং জার্নির প্রতিফলন দেখতে পাই। অনেক মোচড় থাকে।
তবে শর্ট ফিল্মের মধ্যে শর্ট জার্নিতে আমি একটা দর্শন তুলে ধরতে পারি। সেইজন্য শর্টফিল্মে নিজেকে বেশি খুঁজে পাই। তবে বর্তমানে সিনেমার পরিচালনায়ও প্রচন্ড আগ্রহী আমি।

আপনার কাজে সামাজিক ইস্যুর প্রতিফলন কতোটা জায়গা পায়?

আমার কাজগুলোতে সামাজিক প্রতিফলন এখনও পর্যন্ত রয়েছে এবং আজীবন থাকবে। ২০১০-এ একটি গান লিখেছিলাম ‘সামান্য রক্তের বিনিময়’। কথা ও সুর আমার; কণ্ঠে আমি ও আমার বন্ধু সন্দীপ। ‘রূহ মিউজিক’ থেকে প্রকাশিত একটি অ্যালবামের মধ্যে, অনেকগুলি গানের সংকলনে এই গানটি ছিল। অনেকেই শুনে প্রশংসা করেছেন। বহু ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প এই গানটি চালানো হয়।

এছাড়া আমি বৃক্ষরোপণের ওপরে বা মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের ওপর কিংবা আরও অনেক সামাজিক ইস্যুর নিয়ে গান লিখেছি, সুর দিয়েছি। ইচ্ছে তো আছেই সেগুলো রেকর্ড করে ভিডিও অ্যালবাম করার। আমার এই ওয়েব সিরিজটির গল্প দুটি বাচ্চাদের গল্প যা সামাজিক ইস্যুর প্রতিফলনকেই দেখিয়েছে। আর নিজের লেখা গল্পগুলো তো আছেই, যেমন একটা গল্প লিখেছি ‘ফেরা’ নাম দিয়ে। নারী পাচার নিয়ে সেটা লেখা। সামাজিক ইস্যুর ভাবনাগুলোকে নিয়ে বরাবরই যত্নবান থাকতে চাই।

শর্টফিল্ম থেকে কি আরও বৃহত্তর জায়গায় অভিনেতা-অভিনেত্রী বা পরিচালকের উত্তরণ সম্ভব?

অবশ্যই সম্ভব। যিনি ভালো ভালো শর্ট ফিল্মে নিজের ছাপ রাখতে পারেন, মানুষের হৃদয় জয় করতে পারেন; তিনি পরিচালক হোন আর অভিনেতা-অভিনেত্রীই হোন। ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে তিনি নিজেকে অবশ্যই ভাবতে পারেন ও প্রমাণ করতেই পারেন।

টেকনিক্যালি অভিনয় করে বেরিয়ে যাওয়া, নাকি চরিত্রের মধ্যে প্রবেশ করে চরিত্র হয়ে ওঠার চেষ্টা করা, কোনটি একজন অভিনেতা/ অভিনেত্রীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত?

চরিত্রের মধ্যে প্রবেশ করে অভিনেতা অভিনেত্রীর অভিনয় করা উচিত। ভুলে যাও তুমি অভিনয় করছো। সোহাগদির সঙ্গে কয়েকটা দিন সময় কাটিয়েছি। সোহাগদির থেকেই শিখেছি অ্যাক্টিং করবো না বিহেভ করবো। একবার চরিত্রের মধ্যে ঢুকে পড়লে তখন নিজের থেকেই অভিনয় বেরিয়ে আসে। তবে হ্যাঁ, টেকনিক্যাল জায়গাগুলো অবশ্যই জানা দরকার। কীভাবে দাঁড়াবো, লাইট অ্যান্ড শ্যাডো কতটা আসছে, এটা একজন ডিরেক্টর আমাকে তো অবশ্যই বলবেন। পাশাপাশি আমাকেও জানতে হবে। মানে ভিজুয়ালাইজেশন সেন্স যার যত বেশি ভালো হবে, অভিনয়টা আরও বেশি করে ফুটবে। এ প্রসঙ্গে বলে রাখি, প্রত্যেক অভিনেতা-অভিনেত্রীর গ্রুপ থিয়েটারে যুক্ত থাকা খুবই প্রয়োজন।

শিল্পী হিসেবে কোনটি আপনার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, মুহূর্তের ডাক নাকি এক্সপেরিমেন্টের তৃষ্ণা? 

দেখুন, আমি কোনও পরিকল্পনা করে কোন কিছু করিনি। মুহূর্তের ডাকে সাড়া দিয়েছি অবশ্যই। কিন্তু দীর্ঘ এক্সপেরিমেন্টে বিশ্বাস করি। আজকে আমি গান লিখি সুর দিই; পাশাপাশি দশ বছর ধরে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নিয়েছি। তার মানে এই নয় যে আমি একজন বিরাট গায়ক হব। কিন্তু এই সামান্য সুরবোধ তৈরি করার জন্য আমাকে তো শিখতেই হয়েছিল। অভিনয়ের জগতেও তাই। এখনও আমি শিক্ষার্থী। এক্সপেরিমেন্টের তৃষ্ণা প্রবল।

মানুষ এখন কী ধরণের কনটেন্ট পছন্দ করছেন বলে আপনার মনে হয়?

আজকে গ্লোবালাইজেশনের যুগ। মুঠোফোনে মানুষ বিশ্ব চরাচর ঘুরে বেড়াচ্ছে। কাজেই মানুষের তো এখন মনের চাহিদা সাংঘাতিক ভাবেই বেড়ে গিয়েছে ও যাচ্ছে। তাই যে কোন বিষয়‌ই হোক না কেন তা মানুষকে নতুন ভাবে ভাবায়। তবে সাময়িক ওই সব বস্তা পচা সুড়সুড়ির গল্প একটা সময়ের পর বেশিরভাগ মানুষের অরুচির তালিকায় পৌঁছে যাবে। মানুষ চালিয়েই বন্ধ করে দেবে। আর আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষকে ভালো ভালো কনটেন্ট উপহার দিয়ে যাওয়া। ভালো কনটেন্ট, সামাজিক গল্প সব সময় মানুষ নিয়েছে ও নেবে।

এই মুহূর্তে ইন্ডাস্ট্রিতে নতুনদের জায়গা কতোটা? 

এই মুহূর্তে ইন্ডাস্ট্রিতে নতুনদের জায়গা অবশ্যই রয়েছে। তবে নতুনদের তো অনেক ঝড় ঝাপটা সামলাতে হয়। বিশেষ করে মেয়েদের। তবে হাল ছাড়লে চলবে না, লড়াই করে যেতে হবে।

 

আপনার মুম্বই যাওয়ার ইচ্ছে কি রয়েছে?

মুম্বই যাওয়ার ইচ্ছে আমার আছে। খুব কাছ থেকে দেখতে চাই ওরা কীভাবে কাজ করে। কারণ ওখানে ওরা প্রচন্ড পেশাদারিত্ব বজায় রাখে। কাজের আদর্শ পরিবেশ। তবে নিজের ভালোবাসার শহর ও কেরিয়ারের জন্য কলকাতাই আমার প্রথম পছন্দের।

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে কি হারিয়ে যাচ্ছে একতারার টংকার? একতারা কি বর্তমানে শুধুমাত্র স্টাইল আইকনে রূপান্তরিত হয়েছে?

লোকগীতির চর্চা বেড়েছে। শহরে যুবক যুবতী লোকগীতির উদ্দামতায় মাতছে। বেশ ভালোই গাইছে।
আগে একতারা দোতারায় হতো, এখন পাশাপাশি বিদেশি যন্ত্রানুষঙ্গ ব্যবহৃত হচ্ছে। হয়তো এতে মৌলিকত্ব ব্যাহত হচ্ছে।  কিন্তু ফিউশন মিউজিক, বা নতুনভাবে ফোকের অ্যারেঞ্জমেন্টগুলো অন্যরকম লাগে। ভালোও লাগে শুনতে; অস্বীকার করবো না। মৌলিক সুর তো মৌলিকই হয়।
তবে এটাও ঠিক আজকাল একতারা অনেক উদীয়মান শিল্পীর কাছে স্টাইল আইকনে রূপান্তরিত হয়েছে। তারা একতারা, দোতারা কে ঘর সাজানোর মতো সাজিয়ে রাখেন।
কী জানেন, একতারা দোতারার এই যে টঙ্কারের প্রাণ অনন্ত কালের। যতোই আমরা যুগোপযোগী হই না কেন, আমরাও পরবর্তী উত্তরসূরি; আমাদের নিজেদের জন্য একে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাই লোকগীতি যারা করেন শহুরে শিল্পীরা, তাদের গিটারের বদলে শুধুমাত্র একতারা বাজিয়েও গান গাওয়া উচিৎ বলে মনে করি।

রিয়্যালিটি শো কি শিল্পী তৈরি করে নাকি তারকা তৈরি করে?

অস্বীকার করবো না, রিয়েলিটি শো থেকে অনেক শিল্পী, অনেক প্রতিভাই এসেছেন। তারকাও হয়েছেন।
কিন্তু অনেক পরিচিত নামী শিল্পী রয়েছেন যাদের রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চের দরকার পড়েনি। রিয়েলিটি শো ছাড়াই তারা তারকা হতে পেরেছেন। বর্তমানে অনেক উদীয়মান প্রতিভা আছেন, যারা কোন রিয়েলিটি শোতে গান করেননি। ‌ কিন্তু যথেষ্টই ভালো গান করেন এবং অবশ্যই নামি শিল্পী। তবে আজকের দিনে টিভি চ্যানেলের মঞ্চকেও গুরুত্ব না দিয়ে দেখার কোনও অবকাশ নেই।

আমার আপনার দেশ এখন দাঁড়িয়ে এক ফ্যাসিস্ট আগ্রাসনের মুখে। এই পরিস্থিতিতে অন্ততঃ সাংস্কৃতিকভাবে হলেও মানুষ জোট বাঁধতে পারছেন না কেন?

জোটবদ্ধ হতে পারছেন না কারণ মানুষ এখন দ্বিধাবিভক্ত।  নিজেদের অর্থনৈতিক ভাবনার জন্য, রুজি রুটির জন্য, রাজনৈতিক সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তির জন্য, নানা কারণে ফ্যাসিস্ট আগ্রাসনে, ধর্মীয় মেরুকরণে নাম লিখিয়ে নিচ্ছেন।
মানুষ আসলে ভয় পাচ্ছেন। এই আগ্রাসনকে প্রতিহত করার সাহস ও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন। নিজেকে ও নিজের পরিবারকে বাঁচানোর প্রচেষ্টায় ইচ্ছা হোক আর অনিচ্ছায় হোক, যৌথবদ্ধ হয়ে উঠতে পারছেন না।

সফটওয়্যারের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা কি শিল্পের ক্ষতি করছে?

সফটওয়্যার প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়াটাকে স্বাভাবিক দৃষ্টিতেই দেখি। এতে ভালোই হচ্ছে। এখন তো সফটওয়্যারে ডিজিটাল রেকর্ডিং হয়। আগে অ‌্যানালগ রেকর্ডিং হতো। উন্নত প্রযুক্তির যুগ এখন। তাই প্রযুক্তির সহায়তা নিতে বাধা কোথায়?
তবে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে কোন বেসুরো গায়ক বা গায়িকা অটো টিউনিং করে গান গাইতে চেষ্টা করলে তার প্রচেষ্টার মধ্যে ফাঁকি ধরা পড়বে। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান প্রযুক্তির সব সময় স্বাগত। প্রশ্নটা হলো তাকে কী রকম ভাবে কাজে লাগানো হবে?

কোন কোন শিল্পীর কাজ ও জীবনবোধ আপনাকে টানে?

সঙ্গীতের ক্ষেত্রে যাদের আমি কিছু মানুষকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। নচিকেতা চক্রবর্তী, কবীর সুমন, বাংলা ব্যান্ড দোহার, ভূমি ব্যান্ডের সৌমিত্রদা এবং আরো অনেকেই। লেখালেখির জগতে বা সাহিত্যে কবিতায় নারায়ণ দেবনাথ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, জয় গোস্বামী। অভিনয়ের জগতে শ্রী পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় প্রমূখ আমার কাছে পরম শ্রদ্ধেয়। এনাদের কাজ তথা জীবনবোধ আমাকে ভীষণভাবে ভাবায় ও অনুপ্রাণিত করে।

আড়াই দশকের শিল্প সফরে কিছু ভালো বা খারাপ অভিজ্ঞতা।

নয়ের দশকে আমি লেখালেখি শুরু করি। এই যে দীর্ঘ সময়, এটা যেন ঠিক নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়া করা।  হ্যাঁ, এর মধ্যে ভালো খারাপ নানা মিশ্র অভিজ্ঞতা হয়েছে। যেমন আমার নিজের হাতে গড়া একটি বাংলা রক ব্যান্ড ছিল ‘এন্ডলেস’। নামটা আমার নিজেরই দেওয়া। যে কোনদিনও এন্ড হবে না। যখনই আমাদের উৎসাহ ফুরিয়ে আসবে, শুধু নামটার কথা ভেবে নিজেদেরকে সবসময় উদ্বুদ্ধ করব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তো ‘এন্ডলেস’ বন্ধ হয়ে গেল। আসলে সমমনস্ক না হলে যা হয়।  আবার হয়তো একদিন ‘এন্ডলেস’ শুরু হবে। সে আশায় দিন গুনছি।
আমার অত্যন্ত প্রিয় কালিকাপ্রসাদ দা আকস্মিকভাবে চলে যাওয়া খুবই কষ্ট পেয়েছি। ‘সীমানা প্রবাহ’ তথ্যচিত্র করার সময় বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

তবে ভালো অভিজ্ঞতা এতো বেশি হয়েছে, অজস্র মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি; তাই খারাপ অভিজ্ঞতাগুলো মনের মধ্যে বেশি স্থায়ী হয়নি। আমার প্রিয় কালিকাপ্রসাদ দার ভালোবাসা ও আশীর্বাদ, প্রিয় কমিকস সাহিত্যিক নারায়ণ দেবনাথ, প্রিয় সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, অভিনেতা পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, অরুণ গুহ ঠাকুরতা, চপল ভাদুড়ি প্রমুখের আশীর্বাদ ও ভালোবাসা পেয়েছি। আমি সত্যিই সৌভাগ্যবান। এছাড়াও, এই যে ওয়েব সিরিজের শ্যুটিং করলাম দশ দিন ধরে। আমাকে প্রত্যেকেই সহযোগিতা করেছেন! আমি সবার প্রতি সবিশেষ কৃতজ্ঞ।  আমার ফেসবুকের যারা বন্ধু রয়েছেন তারাও আমাকে যথেষ্ট ভালোবাসেন, সাপোর্ট করেন।

স্বপ্ন কী?

স্বপ্ন দেখি, বাংলা ভাষায় এফএমে বাজবে গান,
স্বপ্ন দেখি, কলকাতায় শিল্প জোয়ার বান।
স্বপ্ন দেখি, বিবিধ মাঝে মিলন মহান,
স্বপ্ন দেখি, ভালোবাসা হোক মনের পরিধান।

স্বপ্ন দেখি, হাত ধরেছে হিন্দু মুসলমান,
স্বপ্ন দেখি, ঘুম ভেঙে আজ বাঙালি নতুন প্রাণ।
স্বপ্ন দেখি, দুই বাংলার বিদ্বেষ অবসান,
স্বপ্ন দেখি, গাইছে সবাই,’গাহি সাম্যের গান’।

 

 

Promotion