কলমের শক্তি

তখন আঁধার ছিল – পর্ব ৬

–        সুমন, আমার শরীরটা ইদানীং ভালো যায় না।

বাড়ির সামনের উঠানে খরগোশগুলোকে আদর করছিলো সুমন। চারটা মাদি খরগোশ ইতোমধ্যে বাচ্চা দিয়েছে। তিনটা বাচ্চা এর মধ্যে মারাও গেছে। এই শীতে বাচ্চাগুলোর না টেকারই কথা। তারপরও সুমন ভেবেছিলো বাদামি মাদীটার বাচ্চাগুলো হয়তো বাচবে না। জন্মের পর থেকেই সেগুলো শীতে কাপছিলো। পাঁচ ছয়দিন পর থেকেই সেগুলোর মুখ দিয়ে কেমন যেন একটা ফেনা নিংড়ে নিচ্ছিলো। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে সুমন বাচ্চাগুলোর নিথর নিশ্চল দেহ আবিষ্কার করলো বাড়ির উঠানের কিনারাটায়। কাছেই বাদামি মাদীটা শান্ত হয়ে বসে ছিলো। সন্তানের প্রতি মায়ের মনের আকুলতা সব প্রাণীতেই দেখা যায়। নীল চোখগুলো যেনো চোখে ছলছল করছিলো ওর। হতে পারে এটা সুমনের চোখের ভ্রম। বাচ্চাগুলোকে চরে পুঁতে রেখে এসে বাড়িতে ফিরে দেখে তরু কেমন যেন অবসন্ন হয়ে চৌকিটার ওপর পড়ে আছে। মেয়েটা পোয়াতি হয়েছে। এই অবস্থায় যতটুকু যত্ন তার পাওয়া উচিত ছিলো ততটুকুর একভাগেরও ব্যবস্থা করে দিতে পারেনি সুমন। ভালো ফলমূল তো অনেক দূরের কথা মেয়েটাকে একটা নতুন কাপড়ও কিনে দিতে পারেনি সুমন। নিজে বাবা হওয়ার সুসংবাদটা পেয়েও যেনো ততটা খুশি নয় সুমন। অনাগত সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় এই কয়েকদিনের ওর বয়স যেনো বিশেক বছর বেড়ে গেছে। তার আয়রোজগার ঈদানীং আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে। এলাকার হিন্দু অবস্থাসম্পন্নরা প্রতিনিয়তই বাড়ি ছাড়ছেন। চরে লাগানো শাকসবজিগুলো নিয়ে হাটে সারাদিন বসে থেকেও সেগুলোর কোনো গতি করা যায়না। অর্ধেকের কম দামে সেগুলো বিক্রি করতে হয়। তাছাড়া, এলাকার  উঠতি বয়সের ছেলেপেলেগুলো ঈদানীং বেশ গজিয়ে উঠেছে। প্রায়ই হাটে এসে ঝামেলা করে। ঈদানীং মান্নাদের কিছু ছেলেপেলে বাজারের ঘরগুলো থেকে হাটবারে টাকা তোলে। এমনিতেই এই দিনে বাজারে কোনো জিনিসের ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। তার ওপর আবার এদের যন্ত্রণার কারণে ব্যবসাপাতি করে দুবেলা খাওয়ার বিষয়টিও এখন অনেক ঝামেলাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

–        সুমন, কি চিন্তা করো? একটু আসো না এইদিকে।

তরুর ডাকে আবার বাস্তবতায় ফেরে সুমন। প্রতিদিনের চিন্তায় তার কপালে ভাজের সংখ্যা যেনো বেড়েই চলেছে। ওদিকে সুমনের মা সুমনকে না বলেই কোথায় যেনো চলে গিয়েছে। জামালপুর আর কিশোরগঞ্জে দুই খালার বাড়িতে ও খোঁজ নিয়েছে। সেখানে ওর মা যাননি। এছাড়া আর কোথায় যেতে পারেন সেটাই সুমনের মাথায় আসে না। এ দুটো জায়গা ছাড়া তার মার আর যাওয়ার কোনো জায়গাই খুঁজে পায়না সুমন। ওর বাবা গত শীতে গত হয়েছেন। সুমন যখন খবরটা পেয়েছিলো তখন কেবল বাড়ির রোয়াকে খাবারের থালাটা নিয়ে বসেছে। ছুটে নিজের বাড়িতে গিয়ে সে দেখতে পায় ততক্ষণে তার বাবার দাফন সম্পন্ন হয়ে গেছে। একমাত্র ছেলের অজান্তে কিভাবে তার বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন হতে পারে সেটা বুঝতেই পারছিলো না সুমন। বাড়ির পেছনে বাবার কবরটার সামনে গিয়ে সেখানে তার বিধ্বস্ত মাকে দেখতে পায়। তার বড় দুই খালা বিলাপরত তার মাকে সামলাতে গিয়ে খাবি খাচ্ছিলেন। সুমনকে দেখে সুমনের মা যেনো আরও ক্ষেপে ওঠেন। ওর দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে চিৎকার করছিলেন-‘দেখ দেখ, মালোয়ানের ভাতার আইছে। আমার তানারে এই বদপুলাই খাইছে। আমার দুনিয়াটা শেষ কইরা দিলো হারামজাদায়। আমার লোকটা ওই ঘটনার পর থাইকাই ঝিম মাইরা ছিলো। হে তো আজকে মরে নাই, হে ঐ দিনই মরছে যেদিন তার জন্ম দেয়া পুলা এক মালু মাগিরে নিয়া চরের পাড়ে ঘর বানছিলো। আল্লাহ, আমার লোকটারে দেইখো। বেচারা তো মইরা মুক্তি পাইলো। এইবার এই জিন্দা লাশটার দিকে একটু নজর দেও খোদা। আমারে মুক্তি দেও তুমি।‘ বাবার কবরটায় একবারও হাত বুলিয়ে দেখতে পারছিলোনা সুমন। রাতটা বাড়িতে ফেরেনি সে। পুরনো কালীমন্দিরটার পেছনে সন্ধ্যাটা পার করে রাতের দিকে লুকিয়ে লুকিয়ে বাড়ির পেছনে আসে ও। বাবার কবরটার সামনে এসে কি যেনো হয়ে গিয়েছিলো সুমনের। বজ্রাহতের মতো বাবার কবরের উপর শুয়ে ছিলো। ভোরে হাশিম মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আজান শোনা গেলে দ্রুত উঠে ও বাড়ির আঙিনা থেকে বের হয়ে আসে। খানিক পরেই বাড়ির দরজা খোলার শব্দ পায়। বাড়ির দরজায় খালাকে দেখে সুমন আর ঐ জায়গাটায় দাঁড়ায় না। মা কোনোভাবে আবার দেখতে পেলে আবার ক্ষেপে যেতে পারেন। সেদিন বাড়ি ফেরে তরুর মুখটার দিকে তাকিয়ে আবার মার বিলাপের সুরে বলা কথাগুলো মাথায় ঘুরপাক হচ্ছিলো সুমনের। মাথাটা যেনো একটা ধাতব যন্ত্রণায় ভোঁ ভোঁ করছিলো। তরু একদৃষ্টে তাকিয়েই ছিলো তারদিকে। সুমনের ভাবলেশহীন মুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা চিন্তার একটা সমীকরণ দাড়া করাতে চাচ্ছিলো ও। শেষে ব্যর্থ হয়ে ও সুমনের পেটে একটা খোঁচা দিয়ে বলেছিলো-

–        কিগো সোয়ামী, কাল রাতে কই আছিলা? আমারে তো কিছুই কইলা না! নাকি অন্য কাউরে ভালোবাসছো আমারে রাইখা?

সুমনের মুখের গড়নটায় কোনো পরিবর্তন না দেখে তরুর এবার খানিক চিন্তা হয়। এত হাসিখুশি মানুষটা হঠাত করে কেমন যেনো মুষড়ে পড়েছে। সুমনের শক্ত মুখটার আরও কাছে ওর মুখটা এগিয়ে নেয়। ভালো করে তাকিয়ে দেখে সুমনের বিধ্বস্ত চেহারাটা। ওর চেহারার মানচিত্র জানান দিচ্ছে যে ওর উপর দিয়ে একটা ঝড় বয়ে গেছে। তরুর দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে বিছানায় কাত হয়ে শোয় সুমন। তরু একবার ভাবে সুমনকে আর ঘাটাবে না। কিন্তু পরক্ষণেই আবার তার মনের নদীতে ভিন্ন একটা স্রোত এসে ধাক্কা দেয়। সুমনের গা ঘেষে বিছানায় শুতে গিয়ে ককিয়ে ওঠে ও। আগেরদিন ছাগল দুটোকে চরে ছেড়ে দিয়ে আসার সময় পার্থরা ওর পিছু নিয়েছিলো। আগে তরুর দিকে কেউ চোখ তুলে তাকাবারই সাহস করতে পারতো না। কিন্তু এখন এলাকার ছোকরাগুলোও বাজে ভাষায় ওর দিকে টিটকারি করে। পার্থ এই এলাকার নসু ডাকাতের ভাতিজা। নসু ডাকাতের বাড়িতেই থাকে। ঈদানীং সাথে কয়েকটা উটকো ধরণের ছেলেপেলে নিয়ে ঘুরোঘুরি করে আর রাস্তায় কোনো উঠতি বা মধ্যম বয়সের মেয়েকে দেখলেই তাকে নানাভাবে উত্যক্ত করে। পার্থর সামনাসামনি হয়ে যাওয়ার পর ওর সাথের মিঠুন নামের ছেলেটা তরুর শাড়ির আঁচল ধরে টান দিয়েছিলো। তরু সবসময়ই প্রতিবাদী কণ্ঠের মেয়ে। কিন্তু সেদিন তার প্রাণশক্তি যেনো একদম নিভে গিয়েছিলো। মিঠুনের হ্যাঁচকা টানে তরুর শাড়ির বান যখন প্রায় খুলে আসছিলো তখন তরুর হাত পা যেন ঠান্ডা হয়ে আসছিলো। কোনো কথা না বলে ওদের গোলাকার বেষ্টনীটা থেকে কোনোরকম ছাড়া পেয়ে ও ছুটে আসছিলো বাড়ির দিকে। রাস্তায় একটা টুকরো মাটির দলা পায়ে লাগলে রাস্তার ওপর মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়েছিলো তরু। আবার উঠে কোনো একরকম বাড়ির দিকে ছুটে এসেছিলো ও। বাড়িতে এসে সুমনকে না পেয়ে ওর দুশ্চিন্তা যেনো ক্রমশই বাড়ছিলো। রাত যত গভীর হচ্ছিলো তরুর বুকের ধুকপুক যেনো ততই বাড়ছিলো। তার মনে হচ্ছিলো পার্থরা যেন উঠানের ডালিম গাছটার নিচে দিয়ে গুটি গুটি পায়ে হেঁটে হেঁটে আসছে। বা দরজাটার ওপাশে দাঁড়িয়ে হিংস্র নিশ্বাস ফেলছে।

সুমন এ সময়টা ঘুরে শুয়েছিলো তরুর দিকে। তরুর গোল চোখ দুটো যেনো ওর দিকে তাকিয়ে শতশত প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছিলো প্রতিটি সেকেন্ডে। তরুর দিকে তাকাতেই বুকের ভেতর সোমেশ্বরীর পাড়ভাঙ্গা ঢেউ যেনো কিছুটা শান্ত হয়। হঠাত তরুর চোখ বেয়ে নামতে থাকা একটা জলের ফোটা দেখতে পায় সুমন।

–        কি হইলো তরু? কান্দো কেন? কও আমারে।

তরু সুমনের দিকে তাকিয়ে থেকে কিছুই বলতে পারছিলো না। শুধু আলতো করে নিজের মুখটা গুঁজে দিয়েছিলো সুমনের প্রশস্ত বুকে। সুমনের বুকে জ্বলতে থাকা আগুনটা যেনো হঠাত করেই শান্ত হয়ে যায়। দীর্ঘ একটা সময়ের পর ও বুকভরে লম্বা একটা নিশ্বাস নেয়। ততক্ষণে সকাল পেরিয়ে দুপুর হয়ে এসেছে। শীতের দুপুরে অনধিকার চর্চা করা একটা রোদ ঠিকরে পড়ছিলো ওদের ঘরটায়। সুমন আরও একটু এগিয়ে গিয়ে তরুর জোড়া ফুলের মাঝের উপত্যকাটিতে মুখ গুজেছিলো। মৃদু চুম্বনে তরুর প্রতিটি লোমকূপে একটা বিপ্লবী বানের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছিলো। আরও একটু নিচে নামতে নামতে ওর নাভিসন্ধির কাছাকাছি এসে সুমন স্থির হয়েছিলো। মেদবিহীন তলপেটের হলদেটে নাভিসন্ধির গভীরতায় হারাতে হারাতে ওর দুঃখবিলাস জমে উঠেছিলো।

নিখিল পোদ্দার বসে আছেন সুমনদের চালাঘরটার সামনে। তার সাথে তার স্ত্রীও এসেছেন। উদ্দ্যেশ্য মেয়েকে বুঝিয়ে শুনিয়ে তাদের সাথে জলপাইগুড়ি নিয়ে যেতে রাজি করানো। তরুর মুখটার দিকে তাকিয়ে বারবার কথা হারাচ্ছেন নিখিল পোদ্দারের স্ত্রী। তার মুখের জৌলুস ইতোমধ্যেই হারিয়েছে। মুখের সাদাটে ফরসা রংটা এখন বদলে গিয়ে তামাটে হলুদ হয়েছে। শরীরটাও কেমন যেনো শুকিয়ে গেছে।

–        মারে, একটাবার আমার কথা শোন। আমাদের সাথে চল। সুমনরে তো আমরা মাইনাই নিছি। ওইখানে গেলে এইসব হানাহানির মধ্যে থাকন লাগবো না আর তোগোর। জীবন থাইকা সব ভয় দূর হয়া যাইবো। তুই কি তোর সন্তানটার ভালো একটা ভবিষ্যৎ চাস না?

মায়ের কথায় তেমন একটা গুরুত্ব না দিয়ে বাদামি খরগোশটাকে কোলে তুলে আদর করতে থাকে ও। মেয়ের ভাবলেশহীন এই মুখের দিকে তাকিয়ে তার মা তাকায় নিখিল পোদ্দারের দিকে।

–        মা শোন। ওইখানে আমরা সবাই মিলামিশা থাকতে পারবো। তোর মামারা ওইখানে সব বন্দোবস্ত করতাছে। জায়গার দামও খুব বেশি একটা না। এইখানকার জমিজমা বেইচা যা পাওয়া যাইবো তা দিয়া ওইখানে একটা ভিটা কিইনা আরও কয়েকটা ক্ষেতি জমিও কিনন যাইবো। সুমনরে নাহয় একটা ব্যবসায় লাগায়া দিলাম। তোর মামার বিশাল ধানচালের ব্যবসা। ওইখানে আপাতত কয়েকদিন হিসাবনিকাশ দেখাশোনার কাজ করলো। পরে ব্যবসাপাতি বুইঝা গেলে নিজেই একটা ব্যবসা দিলো।

–        আরে বাবা কেন বুঝোনা তোমরা! আমি এই ভিটা ছাইড়া কোনো দেশেই যাইতে রাজি না। আমার জন্ম হইছে এই দেশে, আমি এই দেশেই মরমু। নিজের বাস্তু থাকতে আমি কেন উদ্বাস্তু হয়া দেশে দেশে ঘুরমু।

ক্লান্ত কন্ঠে নিখিল বাবুর দিকে প্রশ্নগুলো ছুড়ে দেয় তরু। উত্তরে বলার মতো নিখিল বাবু কিছুই খুঁজে পান না। ঈদানীং এই কিছুই খুঁজে না পাওয়ার রোগটা নিখিল বাবুকে বেশ ভালোরকমভাবেই পেয়ে বসেছে। তরুর মা হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নাড়েন।

–        মারে, শেখের ব্যাটারা যা শুরু করছে তাতে কপালে সিঁদুর আর হাতে শাখা পলা নিয়া খুব বেশিদিন নিরাপদে বাইচা থাকা সম্ভব না। আর আমাগোর জন্য তো হিন্দুস্থানই হইতাছে। আমরা কেন এই পাকিস্তানে পইড়া থাকমু?

–        শাখা সিঁদুর পড়লে যদি শেখের ব্যাটারা কিছু কয় তাইলে পইড়ো না শাখা সিঁদুর! ওইগুলা দিয়া কি হয়? তোমার ভগবান এহন আছে কই? তারে কি বয়রাবাতিকে পাইছে? হে কি তোমার মনের কান্দন শুনে না?

মেয়ের কথার আর কোনো উত্তর খুঁজে পান না তার মা। কিই বা বলবেন। আসলে তারও এখন মাঝে মাঝে মনে হয় এসব শাখা পলা সব নিষ্ফল। ঠাকুরঘরের প্রকান্ড কালীমূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে মাঝে মাঝে তার সারা জীবন পূজা করে আসা এই মূর্তিকে কেবল মাটি আর কাঠের একটা শুষ্ক অবয়বই মনে হয়।

সুমনকে আসতে দেখে মুখ ঘুরিয়ে নেন তরুর মা। নিখিল পোদ্দার সুমনের সাথে হালকা কুশল বিনিময়ের কথা ভাবলেও তা আর করে উঠতে পারেন না। তার আগেই সুমন এসে তার পা ছুয়ে কদমবুসি করে। নিখিল পোদ্দার অবুঝ শিশুর মতো সুমনকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাদতে থাকেন। তরু অবাক হয়ে তাকায় তার বাবার দিকে। তার এই বিশ বছরের জীবনে আজ পর্যন্ত সে তার বাবাকে কাদতে দেখেনি। সুমন যেন নিখিল পোদ্দারের কান্নার কারণটা ধরতে পারে। তাই কিছু না বলে নিখিল বাবুকে বুকের মাঝে ধরে রাখে।

নিখিল বাবু আর তার স্ত্রী তরুকে নিয়ে চলে যাওয়ার সময় সুমন তাদের বড় সড়কটা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে এসেছিলো। এই সময়টা তরু শক্ত করে সুমনের হাত ধরে ছিলো। তার মনে হচ্ছিলো এই বুঝি সুমন ওকে ছেড়ে দৌড়ে জঙ্গলের ভেতর অদৃশ্য হয়ে যায়। একটা গরুর গাড়ি পেয়ে বেশ খানিক সময় নিয়ে দরদাম করে নিখিল পোদ্দার তার ভাড়া ঠিক করেন। গাড়িতে উঠার আগে হঠাত ঘুরে সুমনের দিকে এগিয়ে এসে তরু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ওকে। বেশখানিক পর তরুর বাঁধন থেকে যখন তরু ছাড়া পায় ও বুঝতে পারে ওর বুকের কাছে জামার একপাশ জুড়ে তরুর চোখের জল বাসা বেধেছে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে তরুদের চলে যাওয়া দেখতে দেখতে চোখ ঝাপসা হয়ে আসা সুমনের। গায়ের জামাটা খুলে চোখের সামনে এনে তাকিয়ে থাকে ওটার দিকে। হঠাত ওর চোখ থেকে লাফিয়ে পড়া দু ফোটা অশ্রুও তাতে যোগ দেয়। সস্তা দামের একটা হলদেটে সাদা জামায় আঁকা হতে থাকে দুই ধর্মের দুই জাতের দুই প্রেমপিয়াসুর অশ্রুলেখ।