মরসুমী ফুল

চলছে খোঁজ নতুন বছরের ডায়েরির, সঙ্গে দোসর ক্যালেন্ডার

 

ভাষা আমাদের মনের ভাব প্রকাশের প্রধান এবং প্রথম বাহন। ঠিক সেরকমই ডায়েরি ও ক্যালেন্ডারও যে আমাদের রোজনামচায় নিত্য প্রয়োজনীয় সঙ্গী একথা অনস্বীকার্য।মধ্যপ্রাচ্য থেকে যাত্রা শুরু করা ক্যালেন্ডার ও ডায়েরি ধীরে ধীরে মিশে গিয়েছে আমাদের রোজকার জীবনের মজ্জায়। চন্দ্রগুপ্তই হোন বা কনিষ্ক, ক্যালেন্ডারের গুরুত্ব ঠিকই উপলব্ধি করেছিলেন তাঁরা। অন্যদিকে হিটলার থেকে জন লেননের কাছে ডায়েরি ছিল জীবনের বিশ্বস্ত সঙ্গী। বিখ্যাত ব্যক্তিত্বই শুধু নয়, আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই ডায়েরি এবং ক্যালেন্ডার একটি আলাদা জায়গা দখল করে রেখেছে। প্রাচীনকালের সব দৃষ্টান্তগুলি বাঁচিয়ে রাখতে গুহায় আঁকা ছবি বা লেখায় বিপুল পরিশ্রম করতে হতো। যুগের উন্নতিতে ডায়েরি ও ক্যালেন্ডার বোধ হয় সে কষ্টই মোচন করেছে। মহানগরীর বুকে ডায়েরি-ক্যালেন্ডারের খাস তালুক হল নিউমার্কেট। নতুন বছর যতো এগিয়ে আসে, ততোই মানুষ খোঁজ করেন হরেক রকমের ডায়েরির। আর পয়লা জানুয়ারির মধ্যে একটা ক্যালেন্ডার যদি না পাওয়া যায় তাহলে মনটা খুব খুঁতখুঁত করে। তাই বর্ষপঞ্জী এবং দিনপঞ্জীর সুলুক-সন্ধান জানতে পূর্বতন ব্রিটিশ আমলের হগ সাহেবের বাজারের বাইরের ফুটপাথই অন্যতম ভরসা।

 

 

স্থানীয় দোকানি অমিত কর্মকারের সম্ভারে ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০০ টাকার ব্র্যান্ডেড, কেতাদুরস্ত ডায়েরি রয়েছে। খোঁজ পাওয়া গেল খাঁটি চামড়ার কভারওয়ালা ডায়েরিও। তাঁর দোকানে বেশ কিছু ঝোলানো ক্যালেন্ডারও চোখে পড়ল। অন্যদিকে বাহাদুর খানের কাছে মধ্যবিত্তের নাগালে থাকা ১২৫ বা ১৭৫ টাকা রেঞ্জের ডায়েরি মিলবে। আবার তার পণ্যসম্ভারে উঁকি দিচ্ছে নাইটিংগেল বা ইন্ডিয়া টুডের মতো নামীদামী ব্র্যান্ডও। বাঙালির চিরাচরিত দেবদেবীর ছবি আঁকা ক্যালেন্ডারের পাশেই শোভা পাচ্ছে মনীষীদের ছবি সম্বলিত বর্ষপঞ্জি।

 

মাত্র ১০০ টাকায় যদি বিশাল আকারে ভগবানকে পেতে চান তাহলে আপনাকে আসতেই হবে কাফি হুসেনের দোকানে। বিশালাকার ভগবানের ছবি আঁকা সুদৃশ্য ক্যালেন্ডার তিনি বেচছেন ১০০ টাকায়। সেখানেই নজর কাড়লো ঘড়িওয়ালা টেবিল ক্যালেন্ডার। পকেটে সামান্য রেস্ত থাকলেই কিনে ফেলা যায় নতুন বছরের এই সামগ্রী। দাম নিয়ে চিন্তার কোনও অবকাশই নেই, মাত্র ৭০ টাকা। বাজার চলতি মাপের ক্যালেন্ডারের বিকোচ্ছে ১০ টাকা। যদি কেউ ৫০ বা ১০০টি অর্ডার করেন তাহলে প্রতি পিস দাম পড়ছে ৮ টাকার মতো।

 

 

জীবনের সোনালি মুহূর্ত, প্রেমিক-প্রেমিকার ঝগড়া, মা-বাবার ওপর অভিমান, কোনও কিছু না পাওয়ার হতাশা; সবই বিশ্বাস করে আমরা যে বন্ধুদের বলতে পারি তার মধ্যে অন্যতম ডায়েরি। চলতি সময় যতোই যান্ত্রিক হোক না কেন! ডায়েরি ও ক্যালেন্ডার কিন্তু বিলুপ্ত হয়নি, হওয়া সম্ভবও নয়। সাহিত্যিকদের বিখ্যাত সব সৃষ্টির প্রমাণ তাদের ডায়েরিই। আর ক্যালেন্ডারের কথা বলতে গেলে বাড়ির পুজো-পার্বণ থেকে শুরু করে নানা অনুষ্ঠানের তারিখ, পূর্ণিমা-অমাবস্যা এসবই আমাদের জানতে সাহায্য করে ক্যালেন্ডার। যুগ যতোই আধুনিক আর যান্ত্রিক হোক, দিনের শেষে আমাদের রোজনামচা, না বলা বেদনা এবং যা অপ্রকাশ্য তা সবই কিন্তু স্থান পায় ডায়েরিতে। একইভাবে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ-ট্যাবের দাপটেও বাড়ির বড়রা নানান দৈনিক হিসেব রাখতে ক্যালেন্ডারে দাগিয়ে রাখেন। কাজেই নতুন বছরের শুরুতে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে গেলে আপনাকে ঢুঁ মারতেই হবে নিউমার্কেট চত্বরে। রাস্তার দু’পাশে ঢালাও পসরার মাঝে দামদর করে কিনে নিতে পারবেন আপনার রোজনামচার বিশ্বস্ত সঙ্গীদের।

 

Promotion