মরসুমী ফুল

নাহুমসের কেকেই তৃপ্ত হয় মহানগরীর রসনার বাসনা

 

কোনও নির্দিষ্ট স্থান যখন হয়ে ওঠে গোটা এলাকার প্রাণকেন্দ্র তখন সেটির পিছনে মূলতঃ একটি ফ্যাক্টর কাজ করে থাকে। সেটি হল জায়গাটির কিছু নিজস্বতা এবং অবশ্যই প্রয়োজনীয়তা। মহানগরীর কেক সাম্রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র কিন্তু নিউ মার্কেটকে অনায়েসেই বলা যায়। আর এই শিরোপা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে অনেকটাই সাহায্য করেছে এক শতাব্দীপ্রাচীন ইহুদি কেকের দোকান। হ্যাঁ, নাহুমস আজ শুধু ব্র্যান্ডই নয়, তার থেকেও অনেক বেশি কিছু। পুরাতন একেবারে পেটের ভিতরে বসা ‘গোল বাজারে’ গেলেই নাহুমসের খোঁজ মিলবে। তবে এই দোকানের কেকে শুধু ইতিহাস মাখানোই নয়, রয়েছে সম্প্রীতির সুবাসও। এখানে কেকের কারিগররা মুসলিম, দোকানের মালিক ইহুদী যারা খ্রীষ্টান ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসবকে লক্ষ্য করে বিশেষ ধরনের কেক বিক্রি করেন।

 

 

এখানকার প্লাম কেকের স্বাদ চাখতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্রেতারা বারবার ছুটে এসেছেন এই কনফেকশনারিতে। এছাড়াও নাহুমসের রিচ ফ্রুট কেক থেকে গরম পুডিংয়ের স্বাদ ১১৫ বছর ধরে তিলোত্তমার রসনার বাসনা চরিতার্থ করে চলেছে। পূর্বতন হগ মার্কেটে আরও বহু নামিদামি কেকের দোকান থাকলেও নাহুমস থেকে গিয়েছে এক আলাদা জায়গায়। বড়দিন যতোই এগিয়ে আসে, রেশনের দোকানের ভিড়কেও ছাপিয়ে নাহুমসের ভিড়ও বাড়তে থাকে। দোকানের এক কর্মচারী জানালেন, ক্রিসমাসের এক সপ্তাহ আগে থেকেই ভিড়ের ঠ্যালায় সামান্য ফোনটুকু ধরারও ফুরসৎ পান না তারা।

 

তীব্র ব্যস্ততার মাঝে নাহুমসের বর্তমান কর্ণধার জেসিকা ব্যাপটিস্ট ক্রেতাদের ব্যালেন্স ফেরৎ দিতে দিতেই সময় দিলেন ‘এক্সক্লুসিভ অধিরথ’কে। তাদের কেক ভাণ্ডারে থাকা বিপুল বৈচিত্র্যের কথা জানা গেল তার থেকেই। ৪০০ গ্রাম ওজনের প্লাম কেকের দাম পড়বে ২৮০ টাকা। স্পেশ্যাল ফ্রুট কেকের জন্য পকেটের রেস্ত থাকতে হবে ৫০০ টাকা। এছাড়াও ৩৪০ টাকা দামেরও ফ্রুট কেক পাওয়া যাচ্ছে। এবার ধরা যাক, আপনার বাজেট অতি সামান্য কিন্তু নাহুমসের কেককে অন্ততঃ একবারের জন্য ছুঁয়ে দেখতে চায় আপনার জিভ। আজ্ঞে, তারও উপায় রয়েছে। মাত্র ৩৫ টাকাতেই মিলছে স্লাইস পাম কেক। নাহুমস থেকে পাততাড়ি গোটানোর আগে জেসিকা ব্যাপটিস্ট দিলেও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তার পূর্বপুরুষরা এক শতাব্দী আগেও যে পদ্ধতি এবং রেসিপি ব্যবহার করতেন, আজও তার কোনও বদল ঘটেনি।

 

 

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন থেকে শুরু করে বিশ্বযুদ্ধ,  দেশভাগ থেকে সবুজ বিপ্লব। সবই দেখেছে নাহুমস। তবে এতো কিছুর পরেও ইহুদি সাহেবের কেকের দোকানটি কিন্তু তার আভিজাত্য বজায় রেখে রয়ে গিয়েছে একইরকম। এই দোকানের কেক মানুষ শুধু জিভ দিয়েই নয়, চিনেছে নস্টালজিয়া দিয়েও। তাই কলকাতায় বড়দিনে কেকের প্রসঙ্গ উঠলে নাহুমস ছাড়া অন্য কোনও নাম অনেকেই ভাবেন না।

চিত্র ঋণ – চাঁদ কুমার ঘোষ

Promotion