মরসুমী ফুল

ক্যাথলিন-নাহুমসের জমজমাট কেকের বাজারে নিঃশব্দে লড়াই দিচ্ছে বাঙালি মল্লিক!

 

এসেছে শীত, গায়ে লেগেছে হিমের পরশ। তবে শীত মোটেও একা একা চলে আসেনি। সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে উৎসব। আর বড়দিন যে বাঙালির প্রানের উৎসব এ আর নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না। পার্কস্ট্রিট, বো ব্যারাক, নিউমার্কেট সহ গোটা তিলোত্তমা বড়দিনকে স্বাগত জানানোর জন্য সেজেছে সান্তা ক্লজ, ক্রিসমাস ট্রি আর রঙিন বাতির আলোয়। বড়দিন মানেই তো এগুলোই। উঁহু, কিছু কি বাদ চলে যাচ্ছে তালিকা থেকে? একদম, ঠিক ধরেছেন, কেক! যেটি ছাড়া আসলে বড়দিনের স্বাদটাই বিস্বাদ। কলকাতায় কেক মানেই তো সেই নিউ মার্কেট। বড়দিনের কেকের স্বাদ নিতে তাই আপনাকে আসতেই হবে কেকবিলাসের অন্যতম পীঠস্থান নিউমার্কেট। গরম কেকের গন্ধে চারিদিক যেন ম ম করছে। নাহুমস, ক্যাথলিনের মতো একের পর এক নামী-দামী ব্যান্ডের আঁতুড়ঘর এই জায়গা। যদিও সেই আঁতুড়ঘরে টিকে থেকে অবিশ্বাস্য লড়াই দিচ্ছে বাঙালি কেকের দোকান মল্লিক কনফেকশনার্স।

 

নাক আর জিভ বরাবরই বাঙালির একটু বেশি সক্রিয়। ভোজনরসিক বাঙালির কাছে উপলক্ষ্য একটা হলেই হল। আর সারাবছর তাদের এই রসনার বাসনা পূরণ করে আসছে মল্লিক কনফেকশনার্শ। কলকাতার কেক মানচিত্রে নাহুমসের পাশাপাশি মল্লিকের কেকও সমানভাবে জনপ্রিয়। অন্যান্য কেক থাকলেও মূলত ফ্রুট কেকের টানেই বাঙালিরা আসেন মল্লিকের দোকানে। শুধু বাঙালি বললে ভুল বলা হবে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী তথা বহু বিদেশীরাও জিভের স্বাদ পূরণ করতে আসেন পাঁচ প্রজন্মের এই দোকানটিতে। ১৮৭৪ সালে ইনিংস শুরু। এই মুহূর্তে তাদের স্কোর ১৪৫ নট আউট। হগ মার্কেটে যুগের পর যুগ ধরে রমরমিয়ে ব্যবসা করে আসছে মল্লিক কনফেকশনার্স। গঙ্গা-রূপনারায়ণের বুক দিয়ে অনেক জল বয়ে গেলেও মল্লিকের কেকের স্বাদ একই রকম রয়ে গিয়েছে। এই স্বাদেই বাঙালি মজে থাকে সারা বছর।

 

তাকের মধ্যে সাজানো রকমারি কেক আপনাকে হাতছানি দেবে বৈকি। আপনার সাধ্যের মধ্যেই হবে স্বাদ পূরণ। ফ্রুট কেক পাবেন মাত্র ৭০ থেকে ২৩০ টাকার মধ্যেই। সারাবছর মল্লিকের কেকের স্বাদ নিতে আসা মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। তবে বড়দিনের আগের এক সপ্তাহ প্রায় মাছি গলার জায়গাটুকুও থাকে না, জানালেন দোকানেরই এক কর্মচারী। বড়দিনে কেক, হগ মার্কেট আর বাঙালি মিশে গিয়েছে একসঙ্গে ওতপ্রোতভাবে। ঠিক যেভাবে কলকাতার ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গিয়েছে মল্লিক কনফেকশনার্স।

Promotion