EXCLUSIVE NEWS

ভ্যাক্স কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে নালিকুলবাসী, ন্যক্কারজনক ভূমিকা পুলিশের!

 

নালিকুলের ভ্যাক্স সেটিং কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া কেড়ে নিয়েছে এলাকাবাসীর রাতের ঘুম। এই দূষণের বিরুদ্ধেই গত ৩০ অক্টোবর নালিকুল ইলেকট্রিক অফিসের পাশের জনবসতির সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত পথ অবরোধ করেন। তারপর হরিপাল থানার পুলিশ গ্রামবাসীদের আশ্বাস দেন তারা এই ব্যাপারে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবেন। ইতিমধ্যেই কেটে গিয়েছে এক সপ্তাহ, স্থানীয়দের অভিযোগ সমস্যার বিন্দুমাত্র সুরাহা হয় নি। উল্টে পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকাতেই উঠছে প্রশ্ন।

এলাকার বাসিন্দা এবং দূষণে অসুস্থ যুবকের মা কনক দে জানান, পুলিশের ভ্যাক্স সেটিং কারখানার বৈধ কাগজপত্র দেখানোর কথা ছিল। তারপর পুলিশ তাকে ফোন করে জানায়, কারখানা চালানোর বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কারখানা মালিকদের কাছে। সুতরাং পুলিশ তাকে আইনী পথে লড়ার পরামর্শ দেয়। অভিযোগ গ্রামবাসীরা সেই কাগজ দেখতে চাইলে কিন্তু নানা টালবাহানায় তা এড়িয়ে যাওয়া হয় পুলিশের তরফে। অন্যদিকে এলাকাবাসীর সঙ্গে কারখানা মালিকদের একটি মিটিং আয়োজিত হয়। সেখানে গ্রামবাসীদের মূল দাবী ছিল কাস্টিং পোড়ানো এবং বর্জ্য হিসেবে প্লাস্টার অফ প্যারিস ফেলে জমিয়ে রেখে বায়ু দূষণও করা যাবে না। মোট তিন কারখানা মালিকের মধ্যে দু’জন এই শর্ত মেনেও নেন। যদিও বিকাশ দাস নামে আরেক মালিক কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করে দূষণ চালিয়ে যেতে থাকেন। বিকাশ দাসের কারখানার মালিক সাকুল্যে ৭ জন হলেও, তিনি একশো জনকে নিয়ে পাল্টা পথ অবরোধে নামেন। এমনকি পুলিশের পাও ধরেন প্রকাশ্যে। পুলিশ তারপর বন্ধ কারখানা খোলায়।

 

ভ্যাক্স সেটিং কারখানার প্রাণঘাতী দূষণের বিরুদ্ধে লড়ছেন নালিকুলের গ্রামবাসীরা

অভিযোগ ৬ নভেম্বর সারাদিন ধরে বিপুল পরিমাণে গ্যাস ছাড়া হয়। যার পরিণতিতে এক স্থানীয় যুবক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাঁধ এলাকার সাধারণ মানুষ কারখানায় চড়াও হলে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। প্রতিবাদী মেয়েদের গায়ে পুরুষ পুলিশকর্মীরা হাত দেন বলে অভিযোগ উঠছে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা সঙ্গে হাতাহাতি বেঁধে যায় পুলিশের। অল্পবিস্তর আহতও হন কিছু এলাকাবাসী। সর্বশেষ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী আজ বেলা ১১ টায় পুলিশের মধ্যস্থতায় হরিপালের ব্লক আধিকারিকের অফিসে সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে।

 

Promotion