Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
১০ হাজার টাকার সন্দেশ নিয়ে লর্ড ক্লাইভ এসেছিলেন এই পুজো দেখতে!
দুই বাংলার পুজো পরিক্রমা ২০১৯

১০ হাজার টাকার সন্দেশ নিয়ে লর্ড ক্লাইভ এসেছিলেন এই পুজো দেখতে!

 

রাজবাড়ির সামনে এসে থামল সারি সারি জুড়ি গাড়ি। পিছনে সুসজ্জিত ফিটন। জুড়ি গাড়ি থেকে ডালার পর ডালা সন্দেশ নামছে। পিছনের ফিটন থেকে নামলেন এক গোরা সাহেব। হঠাৎ শোরগোল পড়ে গেল। এ যে স্বয়ং লর্ড ক্লাইভ সাহেব। পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজদৌল্লাকে হারিয়ে তিনি তখন কোম্পানির নয়ণের মণি। মহাসপ্তমীর সন্ধ্যে তখন, সকালেই রাজবাড়ির কামানের গর্জনে শুরু হয়েছে দেবীর পুজো। হাওড়ার আন্দুল রাজবাড়িতে সেই প্রথম দুর্গাপুজো। রাজবাড়ির বৈভবের খামতি নেই, খামতি আড়ম্বরেরও। সেই জৌলুসের পারদ আরও চড়ে গেল ক্লাইভের পদার্পণে। 

 

 

নিছক গল্পকথা নয়, ঐতিহাসিক সত্য। সময়টি ১৭৭০ সাল। আন্দুল-রাজ রামলোচন রায় সেবারই রাজবাড়িতে দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন। ক্লাইভের দেওয়ান রামলোচন ছিলেন পণ্ডিত মানুষ। আটটি মৌজায় ছড়িয়ে ছিল তাঁর জমিদারি। ক্লাইভের সুপারিশে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে পেয়েছেন ‘রাজা’ উপাধিও। সেই ক্লাইভের পরামর্শেই আন্দুল রাজবাড়িতে দুর্গাপুজোর সূচনা। তাঁর অনুগত ‘রাজা’কে উৎসাহ দিতে প্রথমবারের সেই পুজোয় হাজির ছিলেন লর্ড ক্লাইভ। সঙ্গে এনেছিলেন দশ হাজার টাকার সন্দেশ। দেবীর পাদপদ্মে নিবেদনের জন্য ১০৮টি পদ্ম ও এক হাজার টাকা প্রণামীও এনেছিলেন ইংরেজ সাহেব।

 

এখন আর সেই জৌলুস অবশ্য নেই। কৃষ্ণা-নবমী তিথিতে কল্পারম্ভ হওয়ার রীতি আজও চলে আসছে। সেই রীতি মেনে পুজোর বারো দিন আগেই বসে রাজবাড়ির পুজোর আসর। রাজবাড়ির মাঠে বসে মেলা। তবে বাঈজিদের সেই মুজরোর আসর আর বসে না। কিন্তু নতুন করে রাজবাড়ির সদস্যরা খোদ সামিল হন ধুনুচি নাচে। অষ্টমীর দিন রাতে এই ধুনুচি নাচ এক অনন্য পরিবেশের সৃষ্টি করে। এখনও রীতি মেনেই আট মণ মাটি দিয়েই তৈরি হয় একচালা প্রতিমা। বাহন সিংহের মুখ ও গলা ঘোড়ার মতো। মন্দিরের আদলে বর্তমানে এসেছে আধুনিকতার স্পর্শ। বেলোয়ারি ঝাড় নেই, লাগানো হয়েছে আধুনিক মানের ঝাড়বাতি। তবে রাজবাড়ির থামে লেগে থাকা ইতিহাস যেন ফিসফিস করে কথা বলে যায় আজও।

Promotion