Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
পৃথিবীর কৌশিক, কৌশিকের নগর সংকীর্তন - Koushik Chakraborty Interview
প্রত্যাশার পারদ

পৃথিবীর কৌশিক, কৌশিকের নগর সংকীর্তন

 

এই মুহূর্তে বাংলা মৌলিক গানের এক অন্যতম মুখ কৌশিক চক্রবর্তী। ইনি ‘পৃথিবী’ এবং ‘কৌশিক ও নগর সংকীর্তন’ নামক দুই সঙ্গীত-পরমাণু বোমার জন্ম দিয়েছেন। বলা বাহুল্য, তার এই সঙ্গীত-বোম দ্বারা সৃষ্ট সেই ভালো লাগার যন্ত্রণা অন্ততঃ এই প্রজন্মের অনেকেই ভুলবেন না। আমরা একেবারে পৌঁছে গিয়েছিলাম বাংলা মৌলিক গানের এই নব্য আঁতুড়ঘরে।

পৃথিবী কেমন আছে? 

পৃথিবী বেশ ভালোই আছে, নানান কাজের মধ্যেই রয়েছে। অ্যালবামের কাজ চলছে। সব মিলিয়ে ভালোই রয়েছে পৃথিবী।

‘পৃথিবী’ নাকি ‘কৌশিক ও নগর সংকীর্তন’? কোনটি আগে আপনার কাছে?

এটি একেবারেই আপেক্ষিক একটি জায়গা আমার কাছে। দুটিই আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি। দুটি দল তৈরির ক্ষেত্রেই আমার এক বিরাট ভূমিকা রয়েছে। সেক্ষেত্রে যদি গুরুত্ব হিসেবে চিহ্নিত করতে হয় তাহলে আমি এভাবে জাস্টিফাই করতে চাই। পৃথিবীর কৌশিক, কৌশিকের নগর সংকীর্তন।

শুরুর দিকের স্ট্রাগলের ছুরির আঘাতে পৃথিবীর অস্তিত্ব কতোটা বিপন্ন ছিল? সেখান থেকে সাফল্যের ক্লাসরুমে কীভাবে পৌঁছল পৃথিবী?

শুরুর দিকে প্রত্যেকটি মানুষকেই স্ট্রাগল করতে হয়। একটি শিশু যখন জন্মায়, জন্ম থেকেই তাকে স্ট্রাগল করতে হয়। নানান লড়াই-সংঘাতের মুখোমুখি আমাদেরও হতে হয়েছে। কখনও দল ভেঙেছে, কখনও দল গড়েছে। কখনও ব্যান্ড সদস্য ছেড়ে চলে গিয়েছে, এমনভাবেই ছেড়ে গিয়েছে যেখান থেকে কোনও দিন ফেরার কথাই নেই। তাই চড়াই-উতরাই বা চূড়ান্ত সাফল্য, সবটাই আমরা পৃথিবীর ক্ষেত্রে দেখেছি। পৃথিবীও একদিন শিশু ছিল। সেখান থেকে তাকেও বড় হতে হয়েছে। এই বড় হওয়ার পথটি নিশ্চয়ই কারোর কাছেই মসৃণ থাকে না, আমরাও ব্যতিক্রম নই। প্রচুর মানুষ চিনেছি, রাস্তা চিনেছি। তারপর আজকে আমরা অবস্থান করছি এই জায়গায়।

 

পৃথিবীর আগামী কোন কাজ মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে?

পৃথিবীর অনেকগুলি কাজই লাইনড-আপ। পৃথিবীর আগামী অ্যালবাম ‘চ্যাপ্টার ফোর’ তার সমস্ত গান তৈরি। মুক্তি কবে পাবে তা এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে ২০২০-এর শুরুর দিকের কোনও এক সময় রিলিজ করতে পারে। তবে তারও আগে বিরাট কিছু এক উপহার অপেক্ষা করছে পৃথিবী দর্শক-শ্রোতাদের জন্য। সেটা আপাততঃ সারপ্রাইজ থাক।

একটি  সফল বাংলা ব্যান্ড হতে গেলে কি প্রতিভা আর টিমওয়ার্কই যথেষ্ট?

সম্মিলিত লড়াই এবং প্রত্যেকের আলাদা আলাদা লড়াইও থাকে। দুটিই আসলে গুরুত্বপূর্ণ। কনসার্ট বা রিহার্সাল হোক, এই যে শেখাটা; এটিও দরকারী। একজন ব্যক্তি যতো ধারালো হবে, তার দলও ততো ধারালো হবে। শুধু প্রতিভা আর টিমওয়ার্কই নয়, তার সঙ্গে আনুষাঙ্গিক ব্যাপারও জড়িয়ে রয়েছে। এখনকার পরিস্থিতিতে ইন্ডাস্ট্রির কিছু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগও প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৃথিবীর ক্ষেত্রে যখন কেউ ছেড়ে গিয়েছে দল, তখন কিন্তু টিমওয়ার্কই পৃথিবীকে জিইয়ে রেখেছে।

 

ব্যক্তি কৌশিকের কোন কাজগুলি শ্রোতারা উপহার পেতে চলেছেন?

ব্যক্তি কৌশিকের একের পর এক কাজ রয়েছে অপেক্ষায়। আমি একটি বই লিখছি, কবে সেটি রিলিজ করতে পারবো জানিনা। যদিও সেটি ঠিক বই নয়, খানিক ডায়েরির মতোই বলা যায়। এটিকে বলা যেতে পারে বিরূপাক্ষর ডায়েরি। তাছাড়াও ‘বীরুস্কোপ’ বলে আমার এক ফোরাম আসছে। এখানে সব ধরণের আর্ট ফর্মকে একটি প্ল্যাটফর্মের তলায় আসার আহ্বান জানানো হবে। আপাততঃ এটি পরিকল্পনার স্তরেই রয়েছে। এটি দেখছে আমার সুযোগ্য ছাত্র দেবাদিত্য। আগামী বছর ‘এবং কৌশিক’-এর থেকে ‘শেষ কবিতা’, ‘শহরের গান’ সহ বেশ কয়েকটি গান মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।

পৃথিবীর প্রেমের গানগুলি বিয়োগান্তক কেন? পৃথিবী কি তাহলে প্রেমের পজিটিভ দিককে অস্বীকার করে?

গানগুলির শেষ দিকে যদি শোনা হয়, তাহলে দেখা যাবে সেখানে কিন্তু পজিটিভ উত্তরণের পথ রয়েছে। সুতরাং, আমরা প্রত্যেক মানুষই নেগেটিভ চিন্তার মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে একসময় পজিটিভকে খুঁজে নিই। হয়তো আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে বিয়োগান্তক বিষয়টি একটু বেশি-ই। তাই এটি বারংবার উঠে এসেছে। তবে পজিটিভ উত্তরণের রাস্তাটির কথাও বলে দেওয়া রয়েছে। ‘ক্লাসরুম’ গানটিও যদি শুধুমাত্র কোনও বন্ধুত্বের গল্প না হয়, সেখানেও কিন্তু একটি প্রেম-ভালোবাসার জায়গা তুলে ধরা যায়। এখানে পজিটিভ দিক সে এখনও বন্ধু, প্রেমিক বা প্রেমিকার জন্য এখনও অপেক্ষা করছে।

রিয়্যালিটি শো কি শিল্পী তৈরি করে? নাকি তারকার জন্ম দেয়?

রিয়্যালিটি শো অবশ্যই তারকা তৈরি করে না। এটি ক্ষণিকের তারকার জন্ম দেয়। দশ বছর আগে কোনও নির্দিষ্ট নামজাদা রিয়্যালিটি শো-তে কে প্রথম হয়েছিল কেউ বলতে পারবে না। কিন্তু ‘পৃথিবী’ রিয়্যালিটি শো থেকেই তৈরি। সেক্ষেত্রে একটি মজার বিষয়, অধ্যাবসায় এবং টিমওয়ার্ক। যা আমাদের ‘ক্ষণিকের তারকা’ হতে দেয় নি। যেমন অন্বেষা, যিনি আসলে রিয়্যালিটি শোয়েরই ফসল। তিনি কিন্তু এখনও তার সাফল্যের ধারাকে তিনি অব্যাহত রেখেছেন। আরও বড় উদাহরণ অরিজিৎ সিংহ। তিনিও রিয়্যালিটি শো থেকেই উঠে এসেছেন। তার অধ্যাবসায় আজকের অরিজিৎ সিংহকে তৈরি করেছে। তাও আমি বলবো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্ষণিকের তারকারই জন্ম দেয় রিয়্যালিটি শো।

 

ঠিক কোন স্বপ্ন নিয়ে ‘কৌশিক ও নগর সংকীর্তন’ শুরু হয়?

তখন ২০০৯ সাল। আমার কিছু ছাত্র এবং বিশিষ্ট ভাইদের নিয়ে একটি কনসার্ট করি। এটির নাম ছিল ‘নগর সংকীর্তন ও সংবিগ্ন পাখিকূল’। ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’কে শ্রদ্ধা জানিয়েই এটি হয়। দক্ষিণ কলকাতার বিজয়গড়ের নিরঞ্জন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোট ৩০ জন অংশগ্রহণ করে। পরবর্তীকালে এটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারিনি, সবাই ছিটকে যায় নানাদিকে। তারপর ২০১৪ সালে এটি নতুন করে সংগঠিত হয়। ‘নগর সংকীর্তন’ নামের এক ইউটিউব প্রোজেক্ট শুরু হয়, যেখানে বাংলা গানকে এগিয়ে চলার কাজ আবার শুরু হয়। ইতিমধ্যেই ‘পৃথিবী’র অ্যালবামের কাজের জন্য ‘নগর সংকীর্তন’ কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। আমার কিছু ভক্ত এবং বন্ধু-বান্ধব একদিন এক প্রস্তাব দেয়। তাঁরা বলে আমরা এই ‘নগর সংকীর্তন’-এর গানগুলি লাইভ পারফরম্যান্স করার কথা কেন ভাবছি না? মানুষ মেলায় প্রথম ‘নগর সংকীর্তন’কে গাইতে ডাকা হয়। সেই সময়ে ‘কৌশিক’ নামটি ‘নগর সংকীর্তন’-এর সঙ্গে জুড়তে ভয় পাচ্ছিলাম। ভাবছিলাম ‘পৃথিবী’ যেখানে রয়েছে, সেখানে ওই নাম জুড়লে মানুষ কী ভাববে? তখন ‘কৌশিক অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ হিসেবেই শুরু করি। ঢোল-হারমোনিয়াম সহযোগেই শুরু করেছিলাম। বাকিটা ইতিহাস! ‘কৌশিক ও নগর সংকীর্তন’-এর গান শুনতে চাওয়ার এই যে বর্তমান চাহিদা, তা আমার কাছে প্রাপ্তি।

লোকসঙ্গীত গাইতে গেলে কি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শেখার প্রয়োজন রয়েছে? 

অবশ্যই, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রাথমিক ব্যাকরণ সারেগামাপাধানিসা, সানিধাপামাগারেসা। এই সাত সুরকে তো শিখতেই হবে। আমাদের সাঙ্গীতিক শিক্ষা যেভাবে হয়েছে, সরগম দিয়ে শুরু করে রাগাশ্রয়ী গানে গিয়েছি। আমার গুরু ছিলেন চন্দ্রশেখর রায়, আমি লোকসঙ্গীতের ছাত্র ছিলাম। আমি এখনও এক গুরুর কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নিই। তাই মনে করি, প্রত্যেকটি মানুষেরই শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নেওয়া জরুরী, সে যে কোনও গানই হোক না কেন।

নির্দিষ্ট টিভি চ্যানেলের ট্যাগ না থাকলে সঙ্গীতশিল্পীরা আজকাল বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। কী বলবেন?

আমাদের সঙ্গে প্রথম অবস্থায় একটি বেসরকারী মূলতঃ সঙ্গীত পরিবেশক চ্যানেলই ট্যাগড ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে আমরা কোনও চ্যানেলেরই ট্যাগড হয়ে যাওয়া শিল্পী হয়ে যেতে পারিনি। বাংলা ব্যান্ডের ক্ষেত্রে যদিও এই ট্যাগড হয়ে যাওয়ার কোনও প্রাসঙ্গিকতাই আসলে নেই। একটা ভয়ঙ্কর মনোপলি চলে বাংলা ব্যান্ডের জগতে। মিডিয়াও বাংলা ব্যান্ড হিসেবে বোঝে সিনিয়র প্রজন্মের কিছু ব্যান্ডকেই। তার পরের প্রজন্ম কিংবা তারও পরের প্রজন্মও যে বাংলা ব্যান্ড হিসেবে রয়েছে, এটা তারা ভাবতেই চায় না। যখন আমরা শুরু করেছিলাম সেই সময়ের ব্যান্ডের মধ্যে এই মুহূর্তে পৃথিবী-ঈশান যথেষ্ট পরিমাণে কাজ করছে। তাছাড়া প্রাচীর, ইনসমনিয়া, স্রোত সহ আরও অনেকেরই নাম শুনেছিলাম। তাদের অনেকেরই খোঁজ নেই। কেউ কেউ শুনলাম আমূল ভাষা বদলে ফেলে হিন্দি হয়ে গিয়েছে। আমাদেরও পরবর্তী প্রজন্মের থেকে আবার কিছু কিছু ভালো দল উঠে এসেছে, তারা আজ ভালো কাজ করছে।

 

‘চাঁদ উঠেছিল গগনে’ এই রবীন্দ্র সঙ্গীতে অশ্লীল শব্দ প্রয়োগে এক নতুন ভার্সন তৈরি হয়েছে। এটি নিয়েই আপাততঃ সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল। একটি নামজাদা কলেজ-ফেস্টে এক শিল্পীর গলাতে কিংবা ইডেন গার্ডেনসের বুকে গোটা গানটির ভিডিও ভাইরাল। কী চোখে দেখছেন গোটা ব্যাপারটি?

এটি তো অসভ্যতা, নোংরামো! কারোর সৃষ্টিকে আমি এভাবে কুৎসিত করে দিতে পারি না। ধরা যাক, গুপি গাইন-বাঘা বাইনের একটি সংলাপ আমূল বদলে তাতে আমি তিন-চারটি খিস্তি বসিয়ে দিলাম। এভাবে যদি আমি নিজেকে এক পোস্ট-মডার্ন কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাহলে সেটি সবচেয়ে বড় মূর্খামি। এই বিশেষ ব্যক্তিটিকে আমার কোনও দিনই সুস্থ বলে মনে হয়নি। আমরা এটি নিয়ে বেশি পাত্তা দিচ্ছি। মানুষটি এই ভিডিও গুলিই ফেসবুকে ছেড়ে পয়সা উপার্জন করে চলেছে। হতেই পারে তার নিজস্ব দর্শন আছে, সে শিক্ষিত। কিন্তু ওই ভদ্রলোক আজ যদি আমার গানে এরকম শব্দ পরিবর্তন করেন, মানুষের সামনে ওনাকে একটি চড় মেরে আমি বসিয়ে রাখবো। মানুষের প্রতি মানুষের বিদ্বেষ থাকতেই পারে। তাই বলে মানুষের সৃষ্টির প্রতি এতো বিদ্বেষ? তুমি যদি আজ একটি কবিতা লেখো, সেই কবিতার দুটি লাইন নিয়ে অশ্লীল গালি দেওয়া হয়, তুমি কি মেনে নেবে? বলিহারি আজকের প্রজন্ম! তাঁরা এই জিনিসকে অ্যালাও করছেই বা কী করে? রবীন্দ্রনাথ কারোর বাবার সম্পত্তি নয়, উনি সার্বজনীন। আমিও একসময় ওনার গান গাইতে ভয় পেতাম। কিন্তু রবি ঠাকুরকে যতো বুঝতে পারলাম, ততো বেশি জীবন-দর্শনকে বুঝতে পারলাম। কাজেই শিল্পের অপমান আমি মেনে নেবো না।

কোন কোন শিল্পীর সৃষ্টি ও জীবনবোধ আপনাকে প্রভাবিত করে?

আমার এই পঁয়ত্রিশের কোটা পেরোনোর পর গান নিয়ে আমার দর্শন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। গানবাজনার এক সার্বজনীন আবেদন রয়েছে। বেশ কিছু শিল্পী যাদের আমি কোনওদিন শুনিনি তাদেরকেও শুনতে লাগলাম। যেমন রবীন্দ্রনাথকে শেষ তিন-চার বছর খুব বেশি করেই শুনেছি। কী সুন্দর মিউজিক্যাল সেন্স, কী সুন্দরভাবে রাগের আশ্রয় নিয়েছেন, এগুলি সবই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে সলিল চৌধুরীর কাজ আমাকে নাড়া দেয়। আমি ওনাকে আমার অলিখিত গুরু হিসেবে মানি। রবিশঙ্করকেও  আমি শেষ বেশ কিছু বছর। আমি একটি ফিউশন ব্যান্ডেরও সদস্য। তাল বাঁ সঙ্গীতের ব্যবস্থাপনা নিয়ে কী কী করা যেতে পারে তা রবিশঙ্করের থেকে অনেকেই শিখতে পারবেন নিঃসন্দেহে। আর শেষে যার কথা বলবো, তিনি হলেন সত্যজিৎ রায়। ইনিও আমাকে ভীষণ প্রভাবিত করেছেন।

“যতো নির্বাচন আজ ভাগাড়ে যাক আমি জন্ম নেব আগুনে”। বর্তমান সময়ের সঙ্গে এই গানের কতোটা মিল খুঁজে পান?  

খুব সোজা ভাষায়, আলু-পেঁয়াজের দাম যে হারে বেড়েছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এগুলি সবই সিস্টেমের তৈরি করে দেওয়া। আজকের এই রোদ্দুর রায়, সেটিও সিস্টেমেরই তৈরি করা। তুমি যেখানেই তাকাও একটি ক্রাইসিস দেখতে পাবে। আজ সোস্যাল মিডিয়াও একটি ক্রাইসিস। তোমার জীবনে আমি এমন কিছু একটা দিয়ে দেবো, সেটি নিয়েই তুমি নিশ্চিন্ত থাকবে। তুমি আর অন্য যেগুলো নিয়ে ভাবা দরকার, সেগুলো নিয়ে ভাবা বন্ধ করে দেবে। আমার কলেজ জীবনে আমিও ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে ছিলাম। সেখানে দেখলাম নিজের সিস্টেমের মধ্যেই চলছে অরাজকতা। স্টুডেন্টস ইউনিয়ন কলেজের স্বার্থে কথা না বলে নির্দিষ্ট দলের স্বার্থে কথা বলছে। এই ঘুণপোকার বিরুদ্ধেই গানটি লেখা হয়েছিল। অনেকেই গানটি শুনে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ভেবে ফেলে। যদিও গানটি এক নকশাল আবহে তৈরি। আমরা একেবারেই সেটি ভেবে তৈরি করিনি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল সিস্টেমের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সামনে নিয়ে আসতে। তবে বর্তমান সময়ের সঙ্গে মারাত্বক মিল খুঁজে পাই গানের লাইনটির, ভবিষ্যতেও থাকবে সেই মিল।

গান নিয়ে তিন দশকের যাত্রা পথে অনেক কিছু পেয়েছেন। আর কী কী পাওয়া বাকি রয়েছে?

আমি প্রফেশনাল মিউজিক করছি ২০০২-০৩ থেকে। আমার প্রচুর কিছুই পাওয়ার কথা ছিল। নিজের থেকেও এবং পারিপার্শ্বিক যারা রয়েছে তাদের থেকেও অনেক কিছুই পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেসব আমি পরিপূর্ণ ভাবে পাইনি। কিন্তু যেটি পেয়েছি অগাধ ভালোবাসা। গালাগালি মানুষ এখনও দেয় এবং নিয়ম মাফিক দেয়। মানুষের ভালোবাসা আর মা-বাবার আশীর্বাদ পেয়েছি। ভালোবেসে অনুষ্ঠান করতে ডাকেন অর্গানাইজাররা, এটিও একটি পরম প্রাপ্তি। কারণ আমরা শিল্পীরা বেঁচে থাকি তাদের ডাকেই। যদি অনুষ্ঠান না করতাম, তাহলে বেঁচে থাকতাম না। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির পরিসংখ্যান করতে গেলে তা আর শেষ হবে না।

 

 

 

 

Promotion