কলমের শক্তি

#পরকিয়া (শেষাংশ)

মেঘ,
যতবার ভেবেছি এবার আমি তোমাকে সম্পূর্ণভাবে চিনেছি তখনই তুমি আমাকে ভুল প্রমান করে বুঝিয়েছ যে, আমি তোমাকে বিন্দুমাত্র জানিনা। ভেবেছিলাম আমার চিঠির উত্তরে শুধুমাত্র অপেক্ষাই মিলবে, কিন্তু এক সপ্তাহ আগে তোমার একটি চিঠি হাতে এসে পৌঁছাল।
চিঠিতে দেখলাম তুমি বড়ই কৌতুহল বশতঃ ‘সর্বশেষ প্রাক্তন’ সম্বোধনের কারন জানতে চেয়েছো। আমি অস্বীকার করতে পারি না যে, আজ যে আমার অতি বর্তমান কাল আর সে আমার সাথে থাকবে না। কিন্তু আমার জীবন থেকে যাবার পর সে হবে আমার অবর্তমান, প্রাক্তন নয়। আমি জানি বর্তমান হিসাবে সে তোমার থেকে ভালো হলেও প্রাক্তন হিসাবে সে কখনও তোমার জায়গা নিতে পারবে না। এই জীবনে কেউ আর আমার প্রাক্তন হতে পারল না।
আচ্ছা মেঘ, আমরা যখন দুজনেই সাংসারিক হয়ে যাব পুরোপুরি ভাবে; নতুন সম্পর্ক, নতুন সংসার আমাদের আর একা থাকতে দেবেনা। সম্পূর্ণ অচেনা মানুষদুটি যখন আমাদের স্মৃতির চারপাশে বেড়া লাগাবে যেখানে দুজনের প্রবেশে হবে নিষেধাজ্ঞা জারী, তখন কি আমরা একে অপরকে ভুলে যাব?
তাহলে শোনো মেঘ,বছর তিরিশেক পর যখন আমাদের জীবন থেকে যৌবন বিদায় নেবে, তোমার প্রিয়তমা যখন তোমার উপর থেকে সমস্ত আকর্ষণ হারাবে,আমার বর্তমানের কাছে যখন আমি পুরানো হয়ে যাব, সম্পর্কের জটিলতায় এবং বাস্তবের কুটিলতায় যখন আমরা ক্লান্ত হয়ে যাব, সেই দিন আমাদের দেখা হবে মেঘ কোপাইয়ের তীরে। একটি জোৎস্নারাত, সঞ্চয়িতা, তুমি আর আমি, কোপাই আর এক মুঠো লাল পলাশ। সেইরাতে মেঘ ভিজব তোমার বৃষ্টিতে। সেইদিন না হয় আমরা পরকিয়ায় লিপ্ত হব। আসবে তো মেঘ?
ইতি,
তোমার না ভিজতে পারা স্বপ্নগুলো।

About the author

কৃষ্ণকলি

1 Comment

Click here to post a comment