Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
দরজায় কড়া নাড়ছে কালী পুজো, সরগরম পটুয়াপাড়া - Kali Puja Kumartuli
মরসুমী ফুল

দরজায় কড়া নাড়ছে কালী পুজো, সরগরম পটুয়াপাড়া

 

এখানে জাতপাত-ধর্ম-বর্ণ সব মিলে মিশে একাকার হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে শুধু একটিই সত্ত্বা। তা হল শিল্পী সত্ত্বা। কীভাবে? তা যদি দেখতে হয় আপনাকে অন্ততঃ একবার ঘুরে যেতেই হবে কুমোরটুলি। কারণ এই সেই আঁতুড়ঘর যেখানে মাটি কথা বলে। এখানে জীবন গতিময়। সৃষ্টির এক অবিরাম ধারা আজন্ম প্রবাহিত হয়ে চলেছে যেন। আর এখন কালী পুজো প্রায় বাড়ির উঠোনে এসে হাজির হয়েছে। তাই ব্যাস্ততা একেবারে তুঙ্গে প্রতিমা শিল্পীদের, সময় নেই দু’দণ্ড জিরোনোর।

 

হাতে সময় একেবারেই বেশি নেই, প্রতিমায় রঙ করার কাজ চলছে দ্রুত। ঠাকুর নিতে আসা শুরু হয় নি বটে, কিন্তু শুরু হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি। কুমোর পাড়ায় ঢুকতেই চোখে পড়লো সারি বেঁধে বিভিন্ন মাপের প্রতিমা রাখা র‍য়েছে রোদে। এক কুমোর ভাই জানালেন এখন আর রোদকে সেভাবে ভরসা করা যায়না। তাই আগুন জ্বালিয়ে শুকোনোর ব্যবস্থাও রাখতে হয়। আবার বহু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘প্লাস্টার অব প্যারিস’, তাই সেখানে শুকোনোর বালাই নেই।

 

হাজার তিনেক টাকা থেকে প্রতিমা শুরু হয়ে আড়াই তিন লক্ষ পর্যন্ত পৌছয় কালী প্রতিমার দাম। তবে গড়পড়তা তিরিশ বা চল্লিশ হাজারি প্রতিমাই বেশী। বড় দুই লাখি কালি বানাতে হলে আগে থেকে অগ্রিম দিয়ে বায়না করতে হয়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি সহ নানা কারণে মূর্তি দামও আগের থেকে কিছুটা বাড়াতে একরকম বাধ্যই হয়েছেন অনেক শিল্পী।

 

চা-খেতে ঢুকলাম একটি দোকানে। সেখানেই দেখা গেল মাটির ভাঁড়ে চা খাচ্ছেন অন্যান্য প্রতিমা শিল্পীরাও, করছেন নানা সুখ দুঃখের গল্প। সাজিয়ে নিচ্ছেন পরের দিনের পরিকল্পনা। দুর্গা পুজো, লক্ষ্মীপুজো পেরিয়ে এই সময় কুমোরটুলি ঘোরার একটি বাড়তি সুবিধা রয়েছে। এখন সেই অর্থে ট্যুরিস্ট-ফটোগ্রাফাদের ভিড় বেশী নেই। অথচ সেই আমেজ, মাটির গন্ধ, সেই তাড়াহুড়ো সবটুকু ষোলো আনাই বর্তমান।

 

 

চোখ আটকে গেল দুই বিদেশী ভদ্রলোককে দেখে। তারা শুধু কুমোরটুলির মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করছেন তাই নয়, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন শিল্পীদের কাজ। আলাপ জমাতেই জানা গেল সুদূর জার্মানী থেকে তারা ছুটে এসেছেন তিলোত্তমার ডাকে। তাদেরই একজন হলেন নিকোলাস। তিনি বললেন, প্রতিমা সাম্রাজ্য জুড়ে এক অদ্ভুত মাদকতা এবং রোম্যান্টিকতা তারা খুঁজে পাচ্ছেন। একই মূর্তি, কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন শৈলীতে গড়া যা তাদের মুগ্ধ করছে।

 

কলকাতায় ইতিমধ্যেই আত্মপ্রকাশ করেছে মুচিবাজার, উল্টোডাঙা, শ্যামবাজারের মতো বেশ কিছু মিনি কুমোরটুলি। তাই এখানকার ছোট খদ্দেরের সংখ্যা গিয়েছে কমে। উপরন্তু লক্ষ্মীপুজোর পর কালীপ্রতিমা তৈরির জন্য খুব স্বল্প সময়ই মেলে। এসবের মাঝেও কর্মচঞ্চল কুমোরটুলি প্রতিমার ডালি সাজিয়ে তৈরি আপনার অপেক্ষায়।                                                                                                                                                                             

চিত্র ঋণ – চাঁদ কুমার ঘোষ

 

Promotion