EXCLUSIVE NEWS

যাদবপুরের বুকে জন্মভূমির বর্ণপরিচয় লিখলো ফ্যাসীবাদ প্রতিরোধের অক্ষর

 

“মিথ্যের সাগরে তুমি ঢেকে দেবে কতো? সত্য মাথা ফুঁড়ে উঠবেই পাহাড়ের মতো।” যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছিল এই ধরনের ব্যানার। ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল তাঁরা তিন দিনের জন্য। সে এক ভয়ানক যুদ্ধ। যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ছিল এ কে ৪৭ রাইফেলের থেকেও বিপজ্জনক, ক্ষেপণাস্ত্রের থেকেও শক্তিশালী। হ্যাঁ, তাদের অস্ত্র ছিল গীটার-ড্রামসের মতো বাদ্যযন্ত্র। সেই সঙ্গে মগজের মতো মারণাস্ত্র।  ফ্যাসীবাদের যমালয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এভাবেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক ফ্যাসীবাদ বিরোধী যাপন। তবে শুধুমাত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাই এটির আয়োজন করেন নি। তাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তিন দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের দায়িত্ব নেয় ফ্যাসিবাদ-বিরোধী লোক-সাংস্কৃতিক নাগরিক উদ্যোগ।

ফ্যাসিবাদ যেই সময়ে দাঁড়িয়ে সর্বগ্রাসী বিষ ছড়িয়ে দিচ্ছে সমাজের প্রতিটি অলিন্দে। ঠিক তখনই গান-কবিতা-নাটক গড়ে তুললো প্রতিরোধের ব্যারিকেড। ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হল পথনাটিকা উৎসব যার পোশাকি নাম দাস্তান-ই-রাস্তা। দ্বিতীয় দিন মঞ্চস্থ হয় ফ্যাসীবাদ বিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘কলরবের ঐকতান’। এতে অংশ নেন বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। সঙ্গে ছিল গণবিষাণের প্রতিরোধের গান।

অনুষ্ঠানের শেষ দিনে বন্ধুদের গান মাতিয়ে রাখলো হাজির দর্শককে। তাঁরা পরিবেশন করলেন মানুষের গান, মাটির গান। নির্ভীক কণ্ঠে তাঁরা তুলে ধরলেন ঘোর বাস্তবকে। “কাটে না আঁধার রাত, ঘরেতে ফুরালো ভাত!” এরপর জাতীয় খ্যাতিসম্পন্ন ম্যান্ডোলিন বাদক শুভম কাঞ্জিলালের তৈরি সুরের মূর্চ্ছনা বলে উঠলো বহু না বলা কথা। সব শেষে ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ নাটকটি দেখার বিশাল লাইন আরও একবার জানান দিয়ে গেল মানুষের উৎসাহ। এভাবেই  ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার অঙ্গীকারের উদযাপন শেষ হল।

 

Promotion