জগতের বাহার

কোটা…মরুদেশের কাছাকাছি – শেষ পর্ব

” ও বক বক বক বকুম বকুম পায়রা তোদের রকম সকম দেখে , মুখ টিপে যে হাসছে ভোরের আকাশটা দুর থেকে।” কোটা ব্যারজে পৌঁছে যে দৃশ্য দেখলাম তাতে নিজের মনেই এই গানটিই গুনগুন করে গেয়ে উঠলাম। সুবিশাল দিগন্তবিহীন চম্বল নদীর অন্তহীন জলরাশি! কোটা ব্যারেজটি এই চম্বল নদীটির’ই উপর নির্মিত। নদীর কিনারে অজস্র পায়রার একচ্ছত্র সাম্রাজ্য ! চারিদিকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। এত পায়রা একসাথে আমি কখনো দেখিনি। অনেকেই ওদের দানাপানি দিচ্ছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর লাগল যেটা সেটা হল, পায়রাগুলো মোটেই মানুষকে ভয় পায় না! মানুষের পায়ে, কাঁধে, গায়ে দিব্যি বসছে, ডানা ঝাপটাচ্ছে! কি সুন্দর গর্বিত যুবতীর মত গ্রীবা হেলিয়ে সারা ঘাট চষে বেড়াচ্ছে। উড়ছে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। অতো পায়রার মধ্যে দিয়ে হাঁটতে গিয়ে আমিই বরং যেন একটু ভয় পেয়ে যাচ্ছি।

এবার কোটা ব্যারেজ নিয়ে দু চার কথা বলি। এটি চম্বল ভ্যালি প্রজেক্টের চতুর্থ প্রকল্প ও রাজস্থানে’র একটি অন্যতম জল সংরক্ষণ কেন্দ্র। ব্যারেজটি ২৭,৩৩২ স্কোয়ার কিলোমিটার জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এর সঙ্গে আছে কোটা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। বর্ষার সময় ব্যারেজে’র গেটগুলি দিয়ে তীব্র গতিতে বেরিয়ে আসা জলরাশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষন করে। গোধূলি লগ্নে পড়ন্ত সূর্যের লাল আভা জলরাশির উপর পড়ে অনির্বচনীয় এক সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। পর্যটকরা এই নৈঃস্বর্গিক সৌন্দর্যের সাক্ষী হতে ও বুকভরে একটু টাটকা বাতাস নিতে সান্ধ্য ভ্রমণে এই ব্যারেজে আসেন।

 

ব্যারেজের এক প্রান্তে রয়েছে এক বহু প্রাচীন শিব মন্দির। শিবলিঙ্গ এখানে চতুর্মুখী, যা সচরাচর দেখা যায় না। একরাশ ভালোলাগা ও ফুরফুরে মন নিয়ে ফের অটোতে বসলাম। এবার চললাম কোটার গণেশ নগরে ঐতিহাসিক মন্দির “খাড়ে গণেশ”-এর উদ্দেশ্যে। চম্বলের তীরে এই মন্দিরটির গায়ে স্থাপত্য ও কারুকার্য দেখেই বোঝা যায় বহু প্রাচীন এটি। গর্ভগৃহে গণেশে’র মূর্তিটি ৬০০ বছরের পুরনো। সাধারণত আমরা জানি গণেশ ঠাকুর বসে বসে বা অর্ধশায়িত হয়ে পুজো নেন। এই মন্দিরটির বিশেষত্ব হলো যে এটি ভারতের একমাত্র গণেশ মন্দির যেখানে ভগবান গনেশ দাঁড়িয়ে পুজো নিচ্ছেন। রুপোর তৈরি এই সুন্দর প্রাচীন মূর্তিটির ফটো তোলা নিষেধ । কিন্তু আমি ফটো তোলার লোভটুকু সামলাতে পারলাম না। গর্হিত কাজটা অনিচ্ছা সত্তেও শেষ পর্যন্ত করেই ফেললাম। এই অপরাধটুকু আশা করি, আপনারা নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন। মন্দির সংলগ্ন উদ্যানে একটা ছোটো কমলালেবুর গাছও চোখে পড়ল! দলে দলে ভক্তদের ভিড়! অটো ওয়ালার কাছে শুনলাম যে এখনকার লোকেদের ‘খাড়ে গনেশে’র উপর অগাধ বিশ্বাস। এখানে ভক্তি ভরে পুজো দিলে তিনি নাকি ভক্তের মনস্কামনা নাকি অবশ্যই পূর্ণ করেন।

বিকেল ৫ টা। এবার অটো আমাকে নিয়ে চলল সেভেন ওয়ান্ডার্স পার্ক। আমার আজকের শেষ দর্শনের স্থান। সেভেন ওয়ান্ডার্স পার্ক যাওয়ার পথে একটা ছোট্ট কাজ সেরে নিলাম। রাজস্থান সরকারের দোকানে এলাম এখনকার বিখ্যাত কোটা শাড়ী কিনতে। খুব অমায়িক ব্যবহার এখনকার ব্যবসাদারদের। কলকাতা থেকে এসেছি আর সেই সঙ্গে বাঙালি শুনেই সাদর অভ্যর্থনা পেলাম। অজস্র চোখ ধাঁধানো সুন্দর সব কোটা শাড়ি একটার পর একটা দেখিয়ে গেল। কোনটা ছেড়ে কোনটা নেব বুঝতেই পারছিলাম না। এইসময় মায়ের অভাবটা খুব বেশী করে বোধ করছিলাম। অনেক ভেবেচিন্তে মায়ের ও আমার জন্য দুটো শাড়ি পছন্দ করে নিলাম। কোটার এই স্মৃতিটা সঙ্গে থাকবে চিরকাল।

পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের প্রতিরূপ বা রেপ্লিকা দেখতে চলার পথে যথেষ্টই উত্তেজনা অনুভব করছিলাম। সন্ধ্যে নামার আগেই পৌঁছে গেলাম সেভেন ওয়ান্ডার্স পার্কে।বিকেলের আলো তখনও খানিকটা রয়েছে। ভেতরে ঢোকার আগে টিকিট করলাম। টিকিটের দাম খুব বেশি নয়, মাত্র ২০ টাকা। প্রবেশপত্র পাওয়ার পর ভেতরে ঢুকে চোখ জুড়িয়ে গেল। সামনে চম্বল নদীর অনন্ত জলরাশি! নদীর ধারে বিশাল জায়গা জুড়ে পার্কটি বানানো হয়েছে। চারিদিকে নরম সবুজ ঘাসের গালিচা। মাঝে মাঝেই নদীর ধার থেকে আসা এক ঝলক ঠান্ডা হাওয়া শরীর মন তরতাজা করে দিচ্ছে। নরম ঘাসের উপর খালি পায়ে হাঁটতে শুরু করলাম। এক এক করে রেপ্লিকা বা প্রতিরূপগুলি দৃষ্টিগোচর হতে লাগল। আমার মুগ্ধতা ক্রমশই বেড়ে যেতে লাগল। আমাদের অনেকেরই হয়তো সৌভাগ্য হয়না অথবা সাধ্যে কুলোয় না পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের দু-একটিও সামনাসামনি চাক্ষুষ করার। অথচ যা বিস্ময়কর, যা সুন্দর, যা স্বপ্নাতীত তার প্রতি মানুষের অদম্য আকর্ষণ চিরকালই সীমাহীন। তাই যদি আপনি সপ্ত আশ্চর্যের প্রতিরূপ দেখে আনন্দ পেতে চান তাহলে বলবো এই পার্কটি একান্তভাবেই আপনার জন্যই বানানো হয়েছে । কলকাতার ‘ইকো পার্কে এই ধরনের রেপ্লিকা বা প্রতিরূপ আছে। কিন্তু আকারে বা উচ্চতায় এখানকার এই প্রতিরূপগুলি আরো অনেক বড়। তাই চললাম দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে।

প্রথমেই যে প্রতিরূপটি চোখে পড়ল সেটি হল কলোসিয়াম। সত্যিই বিস্ময়ই বটে! আসল কলিসিউম এর সাথে তেমন পার্থক্য চোখেই পড়বে না, শুধুমাত্র একটু উচ্চতার তফাত ছাড়া। কিন্তু দেখতে হুবহু একই রকম। প্রকৃত কলোসিয়াম রয়েছে ইতালির রাজধানী রোমে। এটি ছিল রোমান সাম্রাজ্যের একটি ভগ্নপ্রায় বিশাল স্টেডিয়াম। সম্রাট ভেস্পাসিয়ান এটি পুনঃনির্মাণ করেছিলেন । 72 খ্রীস্টাব্দে এর নির্মাণ কার্য্য শুরু হয় ও ৮০ খ্রীস্টাব্দে শেষ হয়। এটি ফ্ল্যাভিয়ান অ্যাম্ফি-থিয়েটার নামেও পরিচিত। প্রায় ৫০ থেকে ৮০ হাজার লোকের একসঙ্গে বসার জায়গা ছিল স্টেডিয়ামটিতে। প্রাণভরে কলোসিয়ামের রেপ্লিকা দেখার পর এগিয়ে গেলাম পরবর্তী প্রতিরূপ দেখার জন্য। সত্যি সত্যিই আমি যেন এখন বহু প্রাচীন ইতিহাসের আবর্তের মধ্যেই একাকার হয়ে গেছি !


গোটা পার্কটা নানারকম গাছপালায় ভরা। গাছগুলির ভেতর থেকে ভেসে আসছে নীড়ে ফেরা নানারকম পাখির কলতান। পার্কের মাঝে রঙ্গিন জলের ফোয়ারা! পুরো পরিবেশটাই কেমন যেন স্বপ্নময়! অন্যদিকে নদীর কিনারে বেশ কিছু বসার জায়গা রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পার্কটিতে দেশী বিদেশী পর্যটকের ভিড় লক্ষ্য করার মত। মোটামুটি সবাই প্রায় ফটো তুলতে ব্যস্ত।

হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম প্রেমের স্মৃতিসৌধ তাজমহল এর সামনে। অবিকল একই একরকম দেখতে! শুধু আকারে সামান্য ছোট। আসল তাজমহল আমি দেখেছি তাই তুলনাটা করতে পারছি। আর একটা বড়ো পার্থক্য হল যমুনা নদীর অনুপস্থিতি। আগ্রার তাজমহলের অনেকখানি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে যমুনা নদী এটা অস্বীকার করার উপায় নেই । নকল তাজমহলকে নিয়ে অবশ্য নতুন করে আর কিছু বলার নেই ।

পরবর্তী যে রেপ্লিকা’টি দেখে মোহিত হয়ে গেলাম তা হলো  ক্রাইস্ট দ্য রিদিমার। এটি যীশু খ্রীস্টের স্ট্যাচু। আসল স্টাচুটি আছে ব্রাজিলের রিও ডি জেনাইরোতে । কর্কোভাদো  পর্বতের প্রায় ২৩০০ ফুট উপরে এই মূর্তিটি নির্মাণ করা হয়েছে। পৃথিবীর উচ্চতম আর্ট স্ট্যাচুর মধ্যে এটি একটি । স্ট্যাচুটি বানিয়েছিলেন ব্রাজিলের ইঞ্জিনিয়ার হেইতর দা সিলভা কোস্টা। এটির নির্মাণকাল ১৯২২-১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ। মুর্তিটির উচ্চতা ১৩০ ফুট এবং প্রস্থে ২৮ ফুট। প্রতিরূপটি অবিকল আসল স্ট্যাচুর মতই। পাহাড়ের উপর দু’হাত দু’দিকে প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছে। মন ভরে দেখে নিলাম। এমন বিখ্যাত মূর্তি দেখার সৌভাগ্য হয়তো আর পাওয়া যাবে না! চটপট কয়েকটা ছবি ক্যামেরা বন্দী করলাম।

এরপর কিছুটা এগোতেই চোখে পড়ল ত্রিকোণাকৃতি বিশাল পিরামিড। বুঝলাম এই সেই গ্রেট পিরামিড অফ গিজা, পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের আরো একটি। এই প্রথম আমি সামনাসামনি কোন পিরামিড দেখছি। আসল পিরামিডটি বহু প্রাচীন , মিশরে ২৫৮০-২৫৬০ খ্রীস্ট-পূর্বাব্দে নির্মিত হয়েছিল। আসল পিরামিডের মতোই এই রেপ্লিকা পিরামিডটিও লাইমস্টোন ও গ্রানাইট দিয়ে বানানো। মনে হচ্ছে আমিও যেন মিশর দেশের বালিয়াড়ির মধ্যে দাড়িয়ে সামনাসামনি প্রত্যক্ষ করছি প্রাচীন ইতিহাসকে।

এরপর যেটি দেখলাম সেটা দেখে মুখ থেকে একটাই শব্দ বেরিয়ে এল “বাহ্”। প্যারিসের আইফেল টাওয়ার। একদম অবিকল একই রকম দেখতে। সত্যিই শিল্প-ভাস্কর্যের তারিফ করতেই হয়। দেখতেই থাকলাম বেশ কিছুক্ষন। প্যারিসের এই বিখ্যাত টাওয়ারটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৮৮৭ সালে, শেষ হয় ১৮৮৯ তে। এটি তৈরি করেছিলেন গুস্তাভে আইফেল। ওনার নাম অনুসারেই টাওয়ারটির নামকরণ হয়। তবে এই রেপ্লিকা টাওয়ার কিন্তু শুধুমাত্রই প্রদর্শনের জন্যই তৈরী করা হয়েছে। এর ভেতরে প্রবেশ করা যায় না।

হাঁটতে হাঁটতে একটু ক্লান্ত হয়ে গেছি।পাঁচ মিনিট বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। নদীর পাড়ে, বসার জায়গায় গিয়ে একটু বসলাম। চম্বলের উপর একটা লোহার ভাসমান ব্রিজ করা হয়েছে। ব্রিজে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষন প্রবাহমান জলের ধারার দিকে তাকিয়ে রইলাম। শরীর মন বেশ কিছুটা সতেজ হয়ে গেল। পা বাড়ালাম পরবর্তী রেপ্লিকাটির দিকে। এবার দেখলাম লিনিং টাওয়ার অফ পিসা বা পিসার ঝুলন্ত মিনার। দুটো টাওয়ারকে পাশাপাশি রেখে দিলে চেনা মুশকিল কোনটা আসল। আসল টাওয়ারটি ইটালির নগর পিসাতে রয়েছে। টাওয়ারটির উচ্চতা ৫৬.৮৬ মিটার। প্রায় আটতলা বাড়ির সমান। টাওয়ারটির একদম উপর তলায় বিশাল একটি ঘণ্টা আছে। টাওয়ারটির বিশেষত্ব হল এটি সামনের দিকে বেশ কিছুটা হেলে থাকে। বেশ কয়েকবার এটির পুনঃসংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু এটিকে কখনোই সোজাভাবে দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি। এটিই এই গম্বুজটির বিশেষত্ব ।  রেপ্লিকাটিও ঠিক একইভাবে নির্মিত হয়েছে।

মুগ্ধতার রেশ কাটিয়ে এবার এগোলাম পরবর্তী ও শেষ রেপ্লিকার দিকে। প্রথম থেকে শেষ রেপ্লিকা পর্যন্ত পার্কটি বোধ হয় ৩ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে তৈরী। দূর থেকেই দেখতে পাচ্ছিলাম স্ট্যাচু অফ লিবার্টির মূর্তিটি। কাছে আসতেই আবার একরাশ মুগ্ধতা। ঠিক যেন বইয়ের পাতায় দেখা সেই একই ছবি, অসামান্য শিল্পকলা। আসল নকলের  ভেদাভেদ মুছে গেছে।  আসল স্ট্যাচু অফ লিবার্টি আছে নিউইয়র্কে। এটি নির্মিত হয় ১৮৮৬ সালের ২৮ সে অক্টোবর। নয় বছর লেগেছিল এটি বানাতে। এই স্ট্যাচুটি হল রোমান দেবী লিবেরটাসের মূর্তি, যাঁর একহাতে উচু করে ধরা মশাল আর অন্যহাতে বই। বইটিতে আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস এর তারিখ (৪ জুলাই, ১৭৭৬) রোমান হরফে লেখা আছে। স্ট্যাচুটি হল আমেরিকার স্বাধীনতার প্রতীক। সেই স্বাধীনতার স্মারক হিসাবে বন্ধু দেশ ফ্রান্স, বন্ধুত্বের স্মারক হিসাবে এই মূর্তিটি আমেরিকাকে উপহার দেয়। স্ট্যাচুটির উচ্চতা প্রায় ২২ তলা বাড়ির সমান। স্ট্যাচুটি’র মাথার মুকুট পর্যন্ত পৌঁছতে ৩৫৪ টি সিড়ি অতিক্রম করতে হয়। স্ট্যাচু অফ লিবার্টি’র পুরো নাম Liberty Enlightening the World। স্ট্যাচুটিকে স্বাধীনতার দেবী মানা হয়। রেপ্লিকার এই রোমান দেবীকে মনে মনে প্রণাম জানালাম । সার্থক হল আমার পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্য দেখা। বেশ কয়েকটা ছবি তুলে নিলাম। নাহ, এখানে ছবি তোলার কোনো বাধা নিষেধ নেই। একই জায়গায় পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের প্রতিরূপ দেখে সত্যিই ভীষন পরিতৃপ্ত আমি। কারণ এই সপ্ত আশ্চর্যের আসল রূপ দেখার সৌভাগ্য কোনোদিন হবে কিনা জানিনা। তবে যা দেখলাম তা নিঃসেন্দহে আমার মনকে সমৃদ্ধ করেছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহই নেই।

এবার ফেরার পালা। সন্ধ্যে নেমে এসেছে অনেক আগেই। সেভেন ওয়ান্ডার্স পার্ক আলোয় আলোকিত হয়ে সেজে উঠেছে। কি দারুন মায়াময় পরিবেশ। মায়া কাটিয়ে বেরিয়ে আসতেই হল। অটোতে যেতে যেতে ভাবতে লাগলাম আজ সারাদিনের কথা। কোটার ঘণ্টা গোটা কয়েকের যাত্রাতে কত কী দেখলাম! এই কয়েকটা ঘণ্টা আমার স্মৃতির অ্যালবামে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা থাকবে। যেতে যেতে কবিগুরুর কয়েকটা লাইন মনে পড়ছিল খুব। কবি যথার্থই বলেছেন,

” বহু যুগ ধরে, বহু ক্রোশ দূরে
বহু ব্যয় করি, বহু দেশ ঘুরে,
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা,
দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু,
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া,
একটি ধানের শীষ এর উপর,
একটি শিশির বিন্দু।”

 

Promotion