EXCLUSIVE NEWS

দিল্লি হিংসার উদ্দেশ্য আদৌ দিল্লি দখল নাকি বাংলা দখলের ছক? – উঠছে প্রশ্ন

 

অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দিল্লি হিংসার নিন্দায় মুখর গোটা দেশ। এই হিংসা পুরোটাই উদ্দেশ্য প্রণোদিত এই নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু এই ঘটনার কিছু চরিত্র যেমন ভাবাচ্ছে, ঠিক তেমনই কিছু প্রশ্নের মুখেও দাঁড় করাচ্ছে। মূলতঃ লালকেল্লার চাঁদনি চক লালবাত্তি থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে পূর্ব দিল্লির সীমা। এটি বস্তি এলাকা, স্বভাবতই ঘিঞ্জি এবং নোংরা। যদিও দিল্লির বিচারে এই জায়গাগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। এখানেই অবস্থিত ইন্টার স্টেট বাস টার্মিনাল, এখান থেকে উত্তর ভারতের প্রায় সব রাজ্যের বাস ছাড়ে। এই উত্তর-পূর্ব দিল্লিতেই অবস্থিত গান্ধীনগর, যা কিনা গোটা এশিয়া মহাদেশেই সবচেয়ে বড় রেডিমেড কাপড়ের মার্কেট হিসেবে ধরা হয়। আর এই গান্ধীনগরের অলিতে গলিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলে এক্সপোর্ট ফ্যাক্টরি। সোজা ভাষায় বললে বলা যায়, জামা কাপড় তৈরির কারখানা। কারখানাগুলি বেশিরভাগই বাঙালী মুসলিমদের। এখানকার যে পাঞ্জাবী, জৈন বা অন্য সম্প্রদায়দের কারখানা রয়েছে তাতে ৯০ শতাংশ কারিগরই বাঙালী। বেশিরভাগই বাঙালি মুসলিম। তারা পশ্চিমবঙ্গের, মুর্শিদাবাদ, মালদা, বীরভূম, সুন্দরবন অঞ্চল, তারকেশ্বর, হুগলী, মেদিনীপুরের বাসিন্দা। এই মানুষগুলির পাঠানো টাকায় পশ্চিমবঙ্গে তাদের বাড়িতে দু’বেলা উনুনে ভাত চড়ে। এছাড়াও রয়েছে সোনার-রূপো-তামার অলঙ্কারের কারিগর। পূর্ব দিল্লির আশি শতাংশ অর্থনীতির নির্ভর করে এই গান্ধীনগরের উপর।

 

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে দিল্লি হিংসার মূল কেন্দ্র শাহীনবাগ বা দিল্লির অন্যান্য অংশ কেন হল না? কারণ দিল্লি ভোটেও শাহীনবাগের প্রভাব পড়েছিল। কিন্তু শাহীনবাগে হিংসার প্রত্যক্ষ প্রভাবই পড়েনি। দিল্লির দখল নেওয়াই যদি হিংসাকারীদের মূল উদ্দেশ্য হয় তাহলে তারা দিল্লির সীমানা এলাকাগুলিকেই বেছে নিলেন কেন? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন, এই এলাকায় চারটি ট্রেনের জংশন স্টেশন এবং দুটি বড় বাস-টার্মিনাস অবস্থিত। ফলে হিংসা ছড়িয়ে দ্রুত ভিন রাজ্যে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব। মনে করে দেখুন, দিল্লির বাসিন্দারা হিংসার পর গণমাধ্যমগুলিতে যা বলেছিলেন তার সারমর্ম ছিল; বাইরে থেকে লোকগুলো এসে আমাদের মেরে চলে গেল। তাদের আমরা চিনিও না, কোনও দিন এলাকায় দেখিনি। বোঝাই যাচ্ছে, বাঙালি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাতে খুব হিসেব কষেই অশান্তি ছড়ানো হয়েছে। বাকি দিল্লির অন্য কোথাও তার ছোঁয়া মাত্র নেই। হিংসার অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে তাক করেছেন অনেকেই। যদিও বিজেপি এই দায় অস্বীকার করেছে। অতি সম্প্রতি দিল্লি ঘুরে আসা সাংবাদিক ও লেখক শুভেন্দু দেবনাথ আমাদের জানালেন এক সম্ভাবনার কথা। তার ধারণা, যেহেতু দিল্লির হিংসা উপদ্রুত এলাকার বাঙালি মুসলিমদের প্রায় ৯০% পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তাই তাদের স্থায়ী রুটি-রুজি বস্ত্র-শিল্পের সঙ্গেই জড়িয়ে, বাংলায় এই মানুষগুলির পরিবারও জড়িয়ে তাদের উপার্জনের সঙ্গে। বিজেপি খুব সম্ভবতঃ সেই জায়গাতেই আঘাত হেনেছে। কারণ এই মানুষগুলির মধ্যে শিক্ষার হার অত্যন্ত কম। আর তাই রুটি-রুজি নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করে এই মানুষগুলিকে গেরুয়া শিবিরের ভোটব্যাঙ্কে পরিণত করা সম্ভব। যেভাবেই হোক, এই প্রবাসী বাঙালিরা দিল্লির জীবিকা ছেড়ে বাংলায় আসতে চাইবেন না। কারণ বাংলায় শিল্প বা চাকরির অবস্থা কতোটা খারাপ তা বোঝার জন্য কোনও বিশেষজ্ঞেরও দরকার নেই। কাজেই জোর করে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে তারা দিল্লির মাটি আঁকড়েই পড়ে থাকবেন। সেটাকেই কাজে লাগানোর চেষ্টায় বিজেপি, এমনটাই মনে করছেন শুভেন্দু। তবে দিল্লি হিংসার কারণ যাই হোক না কেন, দিল্লির প্রবাসী বাঙালিরা সফট টার্গেটের হিটলিস্টে ছিলেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

 

 

Promotion