মরসুমী ফুল

আলোর ফোয়ারায় ভেসে চন্দননগরে হল জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জন!

 

জমজমাট জগদ্ধাত্রী আরাধনার পর দশমীতে মাকে বিদায়ের পালা। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় আলোর ঝরনাধারায় ঝলমল চন্দননগর। প্রাক্তন ফরাসি উপনিবেশে বিসর্জনের শোভাযাত্রার মিছিল শুরু হয়ে যায় বিকেল নামতেই।  বিসর্জনের পর বিভিন্ন বারোয়ারি তাদের প্রতিমার কাঠামো জল থেকে তুলে নিয়ে যায়। রেখে দেয় পরের বছরের জন্য। যদিও তার আগে যে শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা গঙ্গার বুকে বিসর্জনের জন্য এগিয়ে যায়, সেই শোভাযাত্রা দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল নামে রাস্তার দু’পাশে।

এবার চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ধরা পড়ল নানা বিষয়। আমাদের ঘুড়ি ওড়ানোর মতো শখ ফুটে উঠেছে আলোর ফুলঝুরিতে। কোথাও আবার আলোর মালায় দাপট দেখিয়েছে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। কেউ আবার শোভাযাত্রা সাজিয়েছেন রূপকথায়। এমনই নানা ভাবনা বিসর্জনেও চন্দননগরকে তার নিজ ঐতিহ্যে উজ্জ্বল করে রাখল। এভাবেই আলোয় ভরা শোভাযাত্রার সারি গুটি গুটি পায়ে এগোল গঙ্গার দিকে। বিসর্জনের ভিড়ে মোটেও অবহেলিত ছিল না পেট পুজো। রাস্তার পাশে ফাস্ট ফুডের দোকানেও সমানতালে চলেছে বিকিকিনি।

 

বিসর্জন বিষাদে বিষণ্ণ ফরাসডাঙ্গার মন। চোখের নিমেষেই শেষ হয়ে গেল চার দিনের মারকাটারি মজা। তবুও নিয়ম নীতি তো সকলকেই মানতে হয়। তাই হয়তো আগামী বছরের প্রতীক্ষায় থাকা ফরাসডাঙ্গাবাসীর মনে সবশেষে হয়তো একটি কবিতাই আসে। “দিন তো দিনের মতোই যায়, উৎসবের রাত বাড়ে দীর্ঘ হয় ছায়া, মানুষ তো আসলে স্বপ্নে বাঁচে, উৎসবের স্বপ্ন নিয়ে ফিরে আসে বিজয়া।”
চিত্র ঋণ – শুভ দে, সন্তু দাস, পায়েল ঘোষ

Promotion