Notice: Undefined index: status in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/plugins/easy-facebook-likebox/easy-facebook-likebox.php on line 69

Warning: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/dailynew7/public_html/exclusiveadhirath.com/wp-content/themes/herald/functions.php on line 73
ইভ টিজিংয়ের শিকার হয়েও মানবিকতা এই ট্রান্স-কন্যার, ছোট্ট সাক্ষাৎকার!
মেঘে ঢাকা তারা

ইভ টিজিংয়ের শিকার হয়েও মানবিকতা এই ট্রান্স-কন্যার, ছোট্ট সাক্ষাৎকার!

 

গত ৩১ অক্টোবর পেশায় শিক্ষিকা ট্রান্স-কন্যা অত্রি কর তার সঙ্গে হওয়া অভব্য আচরণের অভিযোগ দায়ের করেন। আমরা শেষ খবর পেয়েছিলাম, মগরা থানায় পুলিশ অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে।
সমাজে যে চোখে এই ‘অত্রি’দের দেখে দেখা তা কারোরই অজানা নয়। হিজড়ে, ছক্কা অনেক নামেই ডাকা হয়। এদের কথা ভাবলেই চেখের সামনে ফুটে ওঠে কিছু দৃশ্য। আমাদের ধারণা ট্রাফিক সিগনালে, ট্রেনে-বাসে ভিক্ষা করে এবং নাচ করে বেঁচে থাকাই তাদের ভবিতব্য। আমরা ভুলে যাই তারাও মানুষ, সমাজে সমান অধিকার তারাও দাবী করতেই পারেন। সমাজের এই ধারণারই ফলশ্রুতি, বছর পঁয়তাল্লিশের এক ব্যক্তির কার্যকলাপ। কটূক্তি তামাশা করে অসভ্য আচরণ করা হল এই ট্রান্স-কন্যার সঙ্গে। ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ফোন করি তাকে। তিনি যা বললেন, তাতে মুগ্ধ হয়েছি আমরা। তার সামান্য অংশই শুনুন ওনার বয়ানে।

 

নমস্কার, আমরা যতটুকু জানি পুলিশ অভিযুক্তকে গেফতার করেছে। আগামী পদক্ষেপ কি? পুলিশ কতোটা সহযোগিতা করেছিল?

অত্রিঃ  দেখুন পুলিশ যথেষ্টই সহযোগিতা করেছে। ওনাকে ধরেও নিয়ে আসে। যদিও তিনি তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। পরদিন সকালে তার হুঁশ ফেরে। উনি কান্নাকাটি করেন, ক্ষমা চান। জানা যায় ওনার বাড়িতে বৃদ্ধ মা রয়েছেন। স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। ওনার বাড়ির লোক আমার স্কুলে এসে অনুরোধ করেন, কান্নাকাটিও করেন। তাই মানবিকতার খাতিরে আমি এফআইআর তুলে নিয়েছি।

(অবাক হয়ে) তাহলে এখন কী অবস্থা?

অত্রিঃ  ওনাকে দু-দিন থানায় রেখে আজই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উনিও বাড়ি ফিরে আমাকে আবার ফোন করেন। অনেকবার ক্ষমা চান। আমি ওনাকে নতুন ভাবে শুরু করতে বলি। আর কীই বা বলতে পারি?

এমন সিদ্ধান্ত কেন?

অত্রিঃ  আমি পরে ভেবে দেখলাম উনি কেন এমনটা করলেন? কারণ মানুষের মধ্যে লিঙ্গ বৈষম্য নিয়ে সচেতনতা নেই। উনি যে পরিবেশ থেকে এসেছেন সেখানে আমাদের মতো মানুষকে খুব নিচু চোখেই দেখা হয়। উনি হয়তো ভাবতেই পারতেন না যে আমরাও সমাজে অন্য কিছু করতে পারি। আমরাও সম্মানের যোগ্য। উনি যখন নিজের ভুল বুঝতে পারলেন, ওনার পরিবারের কথা ভেবেই অভিযোগ তুলে নিই।  উনি বুঝলেন, শিখলেন এটাই বড় কথা। একজন মানুষকে তো অন্ততঃ সচেতন করতে পারলাম।

এরপর সত্যিই আলাদা করে কিছু বলার থাকে না। অত্রিরা শাস্তি চায়না, সম্মান চায়, চায় সচেতনতা। আর অবশ্যই চায় মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার। অত্রি করকে ‘এক্সক্লুসিভ অধিরথ মিডিয়া’র তরফে অসংখ্য কুর্নিশ।

 

Promotion