EXCLUSIVE NEWS

পুজোয় বয়স্করা কীভাবে আটকাবেন মারণ-রোগকে? শ্রীরামপুর আইএমএ দিল তারই হদিশ!

 

আসন্ন পুজো উপলক্ষ্যে বয়স্করা করোনা সংক্রমণকে আটকানোর জন্য কী করবেন সেই বিষয়েই আলোকপাত করলেন আইএমএ শ্রীরামপুর শাখার বিশিষ্ট চিকিৎসকরা। গত শনিবার বিকেলে এরকমই একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের শ্রীরামপুর শাখা। গোটা অনুষ্ঠানটি হয় আইসিএমআর এবং কেন্দ্রীয় সরকারের করোনা বিধি মেনেই।

 

ষাটোর্ধ্ব বয়স্করা দুর্গা পুজো কেমনভাবে কাটাবেন সেই নিয়ে বক্তব্য রাখেন শাখার সভাপতি চিকিৎসক প্রদীপ কুমার দাস। তার ভাষায় সারা বিশ্বজুড়ে নভেল করোনা ভাইরাসের দাপট এখনও অব্যাহত। মানুষ আজ বড় অসহায়, ভীত-সন্ত্রস্ত, হতচকিত, অবসাদগ্রস্ত। আট -নয়মাস ধরে ওই অজানা শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করার কোনও শাণিত অস্ত্র এখনও বের হয় নি। কাজেই যতক্ষণ না ওষুধ বা টিকা হাতে আসছে ততক্ষণ সাবধানতা অবলম্বন করাই শ্রেয়। নাক-মুখ মাস্ক দিয়ে ঢেকে রাখা, ঘন ঘন সাবান জলে হাত ধোওয়া এবং ছয় ফুট শারিরীক দূরত্বের সীমা বজায় রেখে চলা। পুজোয় আনন্দে মাততে মন চাইবে ঠিকই কিন্তু করোনা প্রতিরোধী স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চললে সমূহ বিপদে পড়তে হবে মানুষকে।

 

তিনি আরও বলেন, মানুষকে বিশেষ করে বয়স্কদের বাইরে যেতে গেলে দলবদ্ধভাবে যাওয়া চলবে না। পাঁচজনের বেশি দলে সদস্য থাকবে না। মাথায় আচ্ছাদন, হাতে স্যানিটাইজার, নাকে মুখে মাস্ক পরতে হবে। বাইরের কোন খাবার খাওয়া চলবে না, খেতে ইচ্ছে করলে এমনকি ঠাকুরের ভোগ খেতে হলে মন্ডপে নয়, বরং বাড়িতে এনে খাওয়া দরকার। কাটা ফল খাওয়া চলবে না। খোটা ফল বাড়িতে এনে ভাল করে ধুয়ে নিয়ে খাওয়া দরকার। যাঁরা ক্রনিক অসুখে ভুগছেন তাদের নিয়মিত ওষুধ খেয়ে যেতে হবে, তাঁরা ঠাকুর দেখতে বেরোলে লোকের জমায়েত এড়িয়ে যাবেন। গুরুপাক খাওয়া ও বেশি খেয়ে নেওয়া নৈব নৈব চ। এসময়ে ঋতু পরিবর্তনের জন্য ও বয়সকালীন দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় বয়স্ক-বয়স্কাদের অসুখের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সামান্য উপসর্গ দেখা দিলে অমান্য করা চলবে না, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। খাবারের মেনুতে আহামরি রকমারি খাবারের কোন প্রয়োজন নেই। ভাত, ডাল, শাক-সবজি, মাছ, দুধ, ফল ও জল হলেই চলবে। মনের উত্তেজনাকে দমন করার জন্যে প্রাণায়াম ও কিছুটা কায়িক শ্রম এবং ছয় ঘন্টার নিটোল ঘুম অনেক বেশি তরতাজা রাখতে সাহায্য করবে উৎসবের মরশুমে। ডাক্তারবাবুর কথায়, একযোগে সজাগ ও সচেতন হলে ও প্রতিরোধী স্বাস্হ্যবিধিগুলো নিয়ম করে পালন করলে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। যার ফলে আমরা করোনাকে জয় করতে পারবো অতি সহজেই।

Promotion