EXCLUSIVE NEWS

গ্রামে নেই কোনও মুসলিম, হিন্দুরা আগলাচ্ছেন মসজিদ!

একটি হিন্দুদের গ্রাম, যেখানে একটিও মুসলিম পরিবার নেই। অথচ সেই গ্রামেই রয়েছে একটি ১৫০ বছরের প্রাচীন মসজিদ। প্রতিদিন সকালে মসজিদটি পরিষ্কার করা হয়। পাঁচ ওয়াক্ত মুখরিত হতে থাকে আজানের ধ্বনি। কারণ গ্রামের হিন্দুরাই বুকে করে আগলাচ্ছেন এই ধর্মস্থান। ভাবছেন কোন সিনেমার চিত্রনাট্য? ভেবে লাভ নেই, কারণ এটি কোনও স্ক্রিপ্টের অংশ নয়। এটিই আসলে বাস্তব। খুব বেশিদূর যেতে হবেনা। বিহারের নালন্দা
জেলার মারীগাঁওতে গেলেই দেখতে পাবেন সম্প্রীতির এই আশ্চর্য নিদর্শন।

বারোটি উঁচু মিনার এবং তিনটি বিশাল গম্বুজ নিয়ে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে বিরানি মসজিদ। কোনো এক সময় হিন্দু-মুসলমান মিলেমিশে বাস করতেন এই গ্রামে। দেশভাগের সময় বহু সংখ্যালঘু পরিবার চলে যান গ্রাম ছেড়ে। অবশিষ্ট যারা ছিলেন তাঁরাও রুটি-রুজির খোঁজে শহরে চলে গিয়েছেন। তারপর থেকেই গ্রামের হিন্দুরা বিরানি মসজিদের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। ইতিমধ্যেই গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে বয়সের ভারে জীর্ণ মসজিদটির মেরামতির কাজ শুরু করেছেন।

যদিও সমস্যা হল গ্রামের সকলেই হিন্দু হওয়ায় কেউ আজান দিতে পারেন না। বাইরে থেকে ভাড়া করে একজন মৌলবী আনা হয়েছিল। কিন্তু গ্রামে কোনও মুসলিম না থাকায় মৌলবী বেশিদিন থাকেন নি। কাজেই পেন-ড্রাইভ অথবা মোবাইলে আজান বাজিয়ে দেওয়া হয় যথা সময়ে। গ্রামের যে কোনও উৎসবে মন্দিরের সঙ্গে মসজিদকেও আলোর মালায় সাজিয়ে তোলা হয়। এমনকি গ্রামে কোনও বিয়ে হলে আজও মসজিদে গিয়ে আশীর্বাদ নেওয়ার
রীতি প্রচলিত রয়েছে। তাছাড়া শবদেহও মসজিদের পাশ থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে তারপর স্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবেই গ্রামবাসীরা শুধু বিরান মসজিদকেই বাঁচিয়ে রাখেন নি, ধর্মনিরপেক্ষ দেশের আত্মাকেও প্রাণবন্ত রেখেছেন।

প্রতিবেদক – অ্যান্থনি গঞ্জালভেস

Promotion