মরসুমী ফুল

পাঁচ হাজার টাকা হাতে না নিয়ে মকর-সংক্রান্তির এই মাছের মেলায় যাবেন না!

 

প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তিতে মৌলভীবাজারের শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর তীরে হয় এক আজব মাছের মেলা। প্রায় দু’শো বছর ধরে চলে আসছে মাছের মেলাটি। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকা ও দূর-দূরান্ত থেকে মেলায় আসে সব নামী দামী মাছ। মেছুয়ারা ব্যস্ত থাকেন কে কত দুর্লভ মাছ সংগ্রহ করতে পারবেন তাই নিয়ে! সেরা মাছের জন্যও বরাদ্দ থাকে টিভি, ফ্রিজ আর মোটরবাইকের মতো পুরস্কার!

 

মাছের মেলায় পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের কমে চাহিদার মাছ কেনা যায় না। কারণ মাছের মেলা বলে কথা! বড় ব্যবসায়ীরা সপ্তাহখানেক আগে থেকে বড় বড় মাছ সংগ্রহ করতে থাকেন। সেই অনুযায়ী মাছের দর হাঁকা হয়।  সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে আড়ত থেকে ছোট বড় অনেক জাতের মাছ নিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েন।

 

হাজার মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয় জনপথ। চারপাশের ডালায় সাজানো অগণিত নানা জাতের মাছ। শীতের মিঠেকড়া রোদে চকচক করছে রূপোলি শস্য। এখানে শুধু মাছ কিনতেই সবাই আসেন এরকমটি নয় মোটেই। অনেকে আসেন মাছ দেখতেও। মেলায় এক দল লোক গান গেয়ে মেলাকে জমিয়ে দিচ্ছে। আশপাশের লোকজন গভীর আগ্রহ নিয়ে তাদের গান শুনছে। কিছুদূর হাঁটলেই দেখতে পাবেন সিরাজ ভাইয়ের আচারের দোকান। মেলায় হাজির আগুন পানও, যা বিশেষ কিছু মশলা আর বাহারি রংয়ের জর্দা মিশিয়ে এক প্রকার জেল সহযোগে আগুন ধরিয়ে মুখে পুরে দেওয়া হয়।

 

মূল মেলায় প্রবেশ করার পরেই দেখতে পেলাম রুই, কাতলা, চিতল, বোয়াল, আইড়, বাঘাইড়, বরফ দেওয়া ইলিশ, আরও নাম না জানা কতশত মাছ। তবে কীভাবে মেলা শুরু হয়েছিল তার সঠিক ইতিহাস জানে না কেউ। আগে এই মাছের মেলায় স্থানীয় বিভিন্ন হাওর-বাওরের, নদ-নদীর মাছ নিয়ে আসত জেলেরা। সিলেটের কুশিয়ারা, সুরমা, মনু নদী এবং হাকালুকি, টাঙ্গুয়া, কাওয়াদীঘি, হাইল হাওরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মৎস্য ব্যবসায়ীরা বাঘাইল, রুই, কাতলা, বোয়াল, গজার, আইড় সহ বিশাল বিশাল মাছ নিয়ে আসেন।

 

 

 

 

Promotion