EXCLUSIVE NEWS

স্বাধীনতা দিবসে এক অন্য স্বপ্নের সন্ধান পেল বারুইপুর

তারা হলেন বারুইপুর নড়িদানা স্বপ্নসন্ধান! দেশের স্বাধীন হওয়ার দিনটি একটু না হয় আলাদা ভাবেই উদযাপন করলেন তারা। নাহ, তারা বক্স বাজান নি, ব্যান্ড বাজিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাও বের করেন নি! যাহ, তাহলে এতো বড় একটা গৌরবের দিনে তারা করলেনটা কী? যদিও তারা করেছেন  কিছু। অসহায়,অসুস্থ যারা এখনও রক্তের ফোঁটায় জীবনের আশ্বাস দেখেন তাদের জন্যই একটি সামান্য ‘রক্তদান শিবির’। নড়িদানা স্বপ্নসন্ধান একদিনের ঠেস দেওয়া দেশপ্রেমে মাতেন নি ঠিকই। তবে রক্তদানের মধ্যেই হয়তো খুঁজে পেয়েছেন বিপ্লবীদের রক্তের রং, রক্তের দাম।

সকাল থেকেই বৃষ্টির জন্য তাদের মনে জমেছিল আশঙ্কার কালো মেঘ। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের আগ্রহ সব চিন্তা দূর করে দেয়। এরই পাশাপাশি কিছু নক্ষত্রসম লক্ষ্য নিয়ে চলা মানুষেরও সান্নিধ্য লাভ করে বারুইপুর নড়িদানা স্বপ্নসন্ধান। তাদের জীবন যুদ্ধের গল্প, সমাজের প্রতি তাদের ভালোবাসার গল্প জীবনের শিক্ষা দিয়ে যায়। বলা বাহুল্য, স্বাধীনতা দিবসে স্বপ্ন দেখানো মানুষগুলির উপস্থিতিতে রক্তদান শিবির যেন আম্বানির মেয়ের বিয়ের রিসেপশন পার্টির থেকেও ঝলমলে হয়ে ওঠে। আপনি ভাবছেন এ কোন অতিথি রে বাবা!

 

প্রথম অতিথির নাম রিকশাচালক সত্যেন দাস। ইনি অসম্ভব মানসিক স্পিরিট নিয়ে পায়ে টানা  রিকশা চালিয়ে ভারত ভ্রমণ তথা লাদাখ ঘুরে আসেন। লাদাখ ভ্রমণের পথেই তিনি ছড়িয়েছেন পাঁচ হাজার খেজুরের বীজ। এখন তিনি স্বপ্ন দেখছেন সেই পায়ে টানা রিকশা সম্বল করেই কাঁটাতার অতিক্রম করে ভালোবাসা ও শান্তির বার্তা নিয়ে হাজির হবেন পাকিস্তানে। গতিপথে তিনি আবারও ছড়াতে চান বিশ হাজার খেজুর-বীজ।

দ্বিতীয় জন প্রসেনজিৎ মিস্ত্রী, যার পথ চলা শূন্য থেকে। এখন তিনি পৌঁছেছেন শিখরে।আমরা অনেকেই জানি দেশ থেকে বিদেশ তার খ্যাতি। কিন্তু তিনি সমাজকে নিয়ে কতোটা অনুভূতিপ্রবণ বা কতো বড় মনের মানুষ সেটা হয়তো অনেকেই জানার চেষ্টা করেন নি। তিনি প্রমান করেছেন সাফল্যই শেষ কথা নয়, শেষ কথা হলো মানুষের জন্য এমন কিছু করে যাওয়া যা মানুষ আজীবন মনে রাখবে। এনারই কান্ডারী হওয়ার ফল সত্যেন দাসের রিকশা টেনে ভারত তথা পুরী যাত্রা।

শহিদুল লস্কর সুব্যবস্থার অভাবে বোনের চিকিৎসা করাতে পারেননি,অকালেই বোনকে হারিয়েছেন। গল্পটা ঠিক সেখানেই শুরু। সেদিন তিনি শপথ নিয়েছিলেন আর কোন দাদাকে যেন তার বোন হারাতে না হয়, কোনো মা যেন চিকিৎসার অভাবে সন্তানহারা না হন। পাহাড় প্রমাণ ইচ্ছেশক্তির উপর ভর করে, কেবল ট্যাক্সি চালিয়ে নিজের উদ্যোগে গ্রামে খুলে ফেলেছেন একটি আস্ত হাসপাতাল।

সম্রাট মৌলিকের সান্নিধ্য সত্যিই আমাদের অনেকটাই অনুপ্রেরণা দান করেছে। নদীকে ভালোবেসে তার ই আকর্ষণে করে ফেলেন বিশ্ব রেকর্ড। সাইকেল নিয়ে গঙ্গার গতিপথ ধরে সিয়াচেন থেকে কন্যাকুমারিকা যাত্রা। মানুষ তো আসলে চায় একটি নিশ্চিত জীবন, একটি চাকরি, একটি সুন্দর পরিবার। কিন্তু ইনি তো প্রথা ভেঙে প্রথা গড়তে এসেছেন। তাই তার নিশ্চিত কর্মজীবনকে রেখে এক অনিশ্চিত স্বপ্নের পিছনে দৌড় শুরু করেন। আসক্ত হয়ে পড়েন প্রকৃতির নেশায়। আজ একটা বড় সমস্যা জল সংকট। ইনি সেই জল তথা নদীর ওপরই গবেষণা করে মানুষকে সচেতন করার কাজ শুরু করেন। আজ তিনি সেই অধরা অনিশ্চিত স্বপ্নকে পিছনে ফেলে দৌড়ে জয়ী।

এই মানুষদের সান্নিধ্যে, এনাদের জীবন জয়ের গল্প শুনেই কাটলো বারুইপুরবাসীর দিনটি। এভাবেই নিজেরা স্বপ্ন দেখে এবং বাকিদের স্বপ্ন দেখিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্য আরও এক ধাপ এগোলো বারুইপুর নড়িদানা স্বপ্নসন্ধান।

Promotion