মরসুমী ফুল

বাহার আলি গাজীরা এভাবেই ভ্যান চালিয়ে প্রতিমা পৌঁছে দেন মণ্ডপে!

কলমে অরিত্র

খাড়ুপাতালিয়া গ্রাম। শহর থেকে একটু দূরে। সাউথ গড়িয়া সংলগ্ন। এই গ্রামেরই একটি পাড়া হল গাজী পাড়া। এখানে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায় একসঙ্গে বাস করে। শুধু বসবাস করে বলা ভুল, একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে চলে আমাদের দেশ ভারতবর্ষকে। এগিয়ে নিয়ে চলে আমাদের সংস্কৃতিকে। আর তাই জন্যেই হয়তো এই পাড়াটা অন্যান্য পাড়ার তুলনায় খানিক আলাদা।

 

এখনো অনেক মানুষ আছেন, যারা অন্য ধর্মের মানুষের বাড়ি গিয়ে খেতে হয়তো দু’বার ভাববেন। কিন্তু এই পাড়াতে সেসবের কোনো বালাই নেই। লোকে দিব্যি অন্য ধর্মের মানুষের বাড়ি গিয়ে ভাত খেয়ে আসে। ভাগ করে নেয় নিজেদের সুখ-দুঃখ। আর তাইতো ঈদ, পুজো মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় মানুষের তৈরি এই স্বর্গে। তৎকালীন অন্নপূর্ণা বাড়ির জমিদার শ্রদ্ধেয় অতুলকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের সময় থেকেই এমন চলে আসছে। আর তাই  রহমান চাচা দিব্যি হয়ে যান রহমান কাকা।

 

চতুর্থী ইতিমধ্যেই পড়ে গিয়েছে। পুজোর আর বাকি বলতে মাত্র কয়েকটি ঘন্টা। বিভিন্ন পুজো প্যান্ডেলে, বাড়িতে প্রতিমা আসার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। অনেক মানুষই এই প্রতিমা নিয়ে আসার কাজ করেন। আর কাজের কি কোনো ধর্ম হয়? বাহার আলি গাজী। গাজী পাড়া গ্রামেরই এক বাসিন্দা। প্রতিমার সামনে বসে ভ্যান চালিয়ে প্রতিমাকে পৌঁছে দিচ্ছেন গন্তব্যস্থলে। মুখে আনন্দের এক হাসি। এই হাসি ভীষণ স্বচ্ছ। আসলে আনন্দের কোনো ধর্ম হয় না। এই মানুষগুলোই এগিয়ে যায় আমাদের দেশ ‘ভারতবর্ষকে’।

চিত্র ঋণ ও তথ্যসূত্র – সুখেন্দু মুখার্জী

Promotion